একশ দিন নিয়েছি আকাশের সাক্ষাৎকার

(সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর গোধূলিস্বরে আকাশ বলেছিল, ‘ছাপাবার আগে দেখিয়ে নিতে হবে।’

শীতার্ত স্বরের নির্দেশনা : ‘নীল কাগজে স্তম্ভিত সাদা মেঘ, পাশে প্রথম সকালের সূর্য, মাঝখানে

স্বাধীনতাস্তম্ভে উড়ন্ত ডানা, আর নক্ষত্রের সামাজিকতার ইম্প্রেশন হবে।’ ক’দিন পর হাতে নিতেই

ধ্রুবতারা জানালো, মহাকাশ প্রশ্ন ও উত্তরের সিংহভাগ কালপুরুষের আর্কাইভে রেখে দিয়েছে।)

চল্লিশ শ্রাবণ গেছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে।

গিয়েছি কবেকার নদীবৃষ্টিজলজন্যশস্যপালিত দেশ থেকে।

কখনো দিগন্তে আলেয়াসফল বারান্দায় বসে,

কখনো-বা নীল অন্ধকারের গোলকে ভাসমান,

মিল্কওয়ে গ্যালাক্সির নক্ষত্রের কৃষ্ণগহ্বরে যেতে যেতে,

বিচিত্র জলবায়ু আর স্তব্ধতার হৃদিঢেউ বুঝে ছিলাম প্রশ্নঢেউ।

মানুষ বল্লমপ্রিয়। ঘুণপোষা আনন্দবাহার।

শরীরী-দাসত্বে অতৃপ্তি ঘরানা।

ঘরে বাইরে স্বপ্নে পানশালায় সারাক্ষণ নতুন প্রকাশনা।

তৃণের সামনে অস্থির শিশুপাঠক।

বায়নাক্কার একশ বাসি উঠোন।

সমুদ্র ঘুমহীন ঢেউয়ের এলিজি।

তীরে যায় জাহাজ খোঁজা নিঃসঙ্গ জাতক।

মেঘেরা বসতহীন।

কে নয় প্রান্তরে, গৃহে, নিজের ভিতরে অন্য সিঁড়ি খোঁজা?

সব নভোচারী শেকল পরা শূন্যতাপীড়িত সর্বনাম।

শান্তি জেগে থাকে মৃতদের চোখের শহরে।

সময়ের ঢেউ কখনো ভাঙে না আকাশের পাড়।

ক্ষয় নেই ঊর্ধ্বজাত মায়াবী শূন্যতার।

প্রেম নামের একটা রক্তিম শব্দ

রাত্রিদিন যায় কুসুমচয়নে,

আরোগ্যনিকেতনে।

নক্ষত্রের শব থেকে নীরবে দৌড়াচ্ছে আলো।

দুই চোখ পেতে সংগ্রহ করো।

ধারণ করেছি রাত্রি। আর সূর্যের গণনা।

পৃথিবীর আর্তনাদ শুনছে প্রতিদিন।

মানবের সভ্যতায় সবুজ পাতা, শুকনো পাতা নিয়মীপ্রহর।

আমি শুধু নই ছয় ঋতুর সংগীত। 

আমাকে 888sport app download apkর পৃথিবী ক’রে,

অনাথ মেঘ আর একঝাঁক উড়ন্ত পাখির সঙ্গে দেয়ালে ঝুলিয়ে

গানের ভিতরে সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার ব্যবহৃত সুরধ্বনি তুলে

বলো মানুষ, কী অর্জন হলো তোমার?

ছিলাম নির্বাক। ল্যাপটপ হাতে কথা বলা সমকালের মূর্খ।

কৃত্রিম বুদ্ধির সহযোগিতায় কি পাওয়া যাবে মানবিক যাপন?

‘আবার কবে দেখা হবে জ্যোতির্মণ্ডলের কোনো এক উপত্যকায়?’

একটা ‘হয়তো’ ঘুরে ঘুরে নিঃশব্দে উড়ে গেল নক্ষত্রের পাড়ায়।

আন্তরিক ধন্যবাদ।

দুঃখিত, বলতেই হচ্ছে :

তোমরা আত্মঘাতী। রক্তে ডোবা পয়ঃপ্রণালি নির্মাতা।

পূর্বপুরুষেরা দেখেছিল সমবায়ী এক স্বপ্ন।

নদী আর পাখিদের পাঠশালা কিছুই শেখোনি।

কী হবে সংজ্ঞা বিশৃঙ্খল মানুষের?

সব অতীত জীবন্ত আমার অসীমে। কবে আর মানুষ

আবাদ করেছে আকাশ, নক্ষত্র, সূর্যবোধ নিজের গভীরে?

তোমাকেও। 

 (সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক ভাষার কিছু শব্দ বলেছিল।

‘ওই শব্দের অর্থ কী?’ ‘ভালোবাসা’। ‘আবার কী বললে?’ ‘সঙ্গবিড়ম্বিত’। ‘ঈশপালালা?’, ‘ঈশ্বরের বীজবপন’।

না শোনা, না পড়া শব্দ শুনে অবাক হতেই বললো, ‘শাখাযুক্ত দীপাধার’। ফেরার সময় অনন্তের

গভীর থেকে আসা একটা ধ্বনিমধুর অচেনা শব্দ কানে এলো। আগ্রহে তাকালাম। ‘ভূমিপুত্র হও’।)