এক
আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। সিগারেটটা বন্ধ করুন, অসহ্য গন্ধ!
ক্যানভাসের ওপর আশিস মগ্ন হয়ে ছবি আঁকছে একমনে স্রোতের প্রতিক‚লে পাল তুলে একটা নৌকার তীব্র গতিবেগ। এক মুহূর্ত ফিরে তাকানোর সময় নেই। চারদিন ধরে ছবিটার পেছনে সময় দিয়ে প্রায় শেষ করে এনেছে। শরীরের মধ্যে নৃত্যের প্রস্তুতি চলছে ক্যানভাসের ওপর রংতুলির শেষ টাচ দেওয়ার মুহূর্তে। ছবিটা অনেক অনেক দিন মনের ভেতরে আঁকছিল, কিন্তু ক্যানভাসে আঁকা হচ্ছিল না। ছবিটা আঁকা শেষ হওয়ায় শরীর ও মনে এক ধরনের তৃপ্তির ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।
আশিস পেছনে ফিরে তাকায়। রুমে প্রবেশ করেছে অন্বেষা জামিল। সঙ্গে আঠার মতো লেগে আছে অন্বেষার সেক্রেটারি লায়লা রব্বানী।
বললাম না সিগারেটটা ফেলে দিন। রুমের মধ্যে গন্ধে টেকা যায় না! প্রচণ্ড বিরক্তি অন্বেষার কণ্ঠে। অন্বেষা পরেছে জিনসের প্যান্ট, হাফ শার্ট, গলার কাছে ঝুলছে ঝালর লাগানো স্কার্ফ। খাটো কালো চুল নেমে এসেছে মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্ত। ফর্সা টকটকে গোলাকার মুখের অন্বেষাকে বিস্ময়কর সুন্দর লাগছে।
আমার সিগারেট আমি খাই, আপনার কী! তির্যক গলায় উত্তর দেয় আশিস সৈকত। মুখে সিগারেট, ফক ফক ধোঁয়া বেরুচ্ছে। আশিসের বলিষ্ঠ গড়ন। দশাসই শরীর। লম্বা পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চি। মাথায় ঝাঁকড়া চুল, অনেকটা সিংহপুরুষ নজরুলের মতো। শরীর বেজায় কালো, চোখ দুটো আরো গভীর কালো, কালো চোখের মধ্যে থেকে মণি দুটো ভেসে বেড়ায়, অদ্ভুত মনোহর লাগে ওকে। গোটা শরীর কাঠামোয় ওকে অনেকটা দুর্বিনীত দুর্বৃত্ত মনে হয়।
আপনি কার সঙ্গে কী বলছেন, জানেন? দুজনার মাঝখানে এগিয়ে এসে দাঁড়ায় লায়লা রব্বানী।
অবাক কাণ্ড! না জানার কি আছে? উনি মিস অন্বেষা জামিল। জামিল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জামিলউদ্দিনের মেয়ে। দীর্ঘদিন ব্রিটেনে পড়াশোনা শেষ করে এসে বাবার প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া শুরু করেছেন। বাবার অবর্তমানে এই বিশাল 888sport live chat প্রতিষ্ঠান যাতে চালাতে পারেন, সেজন্য হাতে-কলমে শিখছেন, আমি ঠিক বলেছি মিসেস লায়লা রব্বানী?
সবই জানেন যখন, তখন ওনাকে সম্মান করছেন না কেন? এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলে নিয়ম মানতে হবে আপনাকে। 888sport live chatী বলে মাথা কিনে নেননি আপনি। সিগারেটের গন্ধ অন্বেষা দিদি সহ্য করতে পারেন না, আপনি সিগারেটটা ফেলে দিন …
ছবির ওপর রঙের টাচ দিতে দিতে জবাব দেয় আশিস, দুঃখিত। ছবি আঁকার সময় আমাকে সিগারেট টানতে হয়। নইলে আমি আঁকতে পারি না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আর আমার ছবি আঁকার সময় ওনাকে আসতে বলেছি? উনি কেন এসেছেন?
আপনার সাহস তো কম নয়? যার অফিস, তাকেই বলছেন কেন এসেছেন? ক্রোধে কাঁপছে লায়লা রব্বানী।
এখন পর্যন্ত অফিস ওনার মানে মিস অন্বেষা জামিলের নয়, অফিসটা মি. জামিলউদ্দিনের। হ্যাঁ, তিনি জামিলউদ্দিনের মেয়ে হলেও আমি ওনার চাকরি করি না। করি জামিলউদ্দিনের চাকরি। সুতরাং … সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মৃদু হাসে আশিস সৈকত। আমার ছবি আঁকায় সমস্যা হচ্ছে, মনঃসংযোগ করতে পারছি না। দয়া করে এখন চলে যান।
অন্বেষাকেই চলে যেতে বলছেন অন্বেষার অফিস থেকে? চিৎকার করে লায়লা রব্বানী। আপনার সাহস … উত্তেজনায় শেষ করতে পারে না মুখের বাক্য।
আবারো ভুল করলেন লায়লা, ধীরস্থির গলায় বলে আশিস, আমি যতটুকু জানি অফিসটা এখনো জামিলউদ্দিনের। আমি চাকরি করি জামিলউদ্দিনের। এটা আমার কাজের কক্ষ। ছবি আঁকার জন্য রুমটা আমাকে দিয়েছেন তিনি। তিনি, মানে মি. জামিল যদি আমাকে চলে যেতে বলেন, নিশ্চয়ই আমি চলে যাবো সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু আপনার হুমকিতে কিংবা ওনার ধমকে আমি এই কক্ষ ছেড়ে যাবো না। পরিষ্কার বোঝা গেছে?
আশিস সৈকতের দিকে রক্তচোখে তাকিয়ে অন্বেষা। লোকটা ওকে পাকা পেঁপের মতো টুকুরো টুকরো করে কাটছে অথচ কিছু করতে পারছে না। এই মুহূর্তে যদি ঘাড় ধরে বের করে দিতে পারতো, ক্রোধ কিছুটা কমতো; কিন্তু বাবাই সকল সর্বনাশের মূল। লোকটাকে আশকারা দিয়ে মাথায় তুলেছে …
সিগারেটে সুখটান দিয়ে পাশের অ্যাশট্রেতে অবশিষ্টাংশ রেখে তাকায় নির্মল দুটি চোখ তুলে আশিস, আসুন এখন। আমাকে কাজ করতে দিন। আর দুই মাস পর আমার প্রথম সলো এক্সিবিশন। হাতে সময় নেই …। অনুগ্রহ করে কাজ করতে দিন আমাকে।
বলে কী লোকটা! কথার শব্দে অফিসের কয়েকজন কর্মী এসে দাঁড়িয়েছে রুমের মধ্যে। ওদের চোখের সামনে অবিশ্বাস্য ঘটনা, অফিসের দ্বিতীয় সুপার বসকে বলছে রুম থেকে চলে যেতে একজন কর্মী! যে অফিসের কোনো কাজ করে না। কেবল ছবি আঁকে। ঠিক সময়ে অফিসে আসেও না।
দুই-একদিন পর এসে রুমে বসে থাকে, গান শোনে নয়তো সুপার বস জামিলউদ্দিনের সঙ্গে আড্ডা মারে। বেতন নেয় এক লাখ টাকা। বেতন নিতে দেরি হলে জামিল স্যার নিজে গিয়ে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসেন। হোক না জামিল স্যারের খুব প্রিয় কেউ, সেই জামিল স্যারের মেয়েকে বলতে পারে, রুম থেকে চলে যেতে!
আমি যদি আপনাকে চলে যেতে বলি? চোখে চোখ রাখে লায়লা।
বলতে পারেন আপনি, কিন্তু আমি মানতে বাধ্য নই, খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলে আশিস সৈকত।
অন্বেষা! তুই চুপ করে আছিস? লায়লা তুরুপের শেষ তাস চালার চেষ্টা করে, কিন্তু অন্বেষা জানে কিছুই করার নেই আপাতত।
হাত ধরে লায়লার, চলে আয়। আমি দেখাচ্ছি মজা।
দুজনে রুম থেকে বের হয়ে যায়। উপস্থিত কর্মীরা অনেকটা অবাক চোখে দেখে আশিসকে। অন্বেষা আর লায়লা বের হয়ে যাওয়ার পর আশিস আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে তুলি নিয়ে ছবি আঁকায় মন দেয়। রুমের মধ্যে কেউ আছে কি নেই, খেয়াল করার সময় নেই। মিনিটখানেক ছবি আঁকা দেখে কর্মীরা চলে যায়। আশিস নিজের মনে ছবি আঁকে।
দুই
বাবা, আমি আশিসকে অফিসে আসতে না করে দিয়েছি।
রাতে নিজের রুমে বসে আয়েশ করে টিভি দেখছেন জামিলউদ্দিন। টিভিতে তিনি খবর দেখেন না, দেখেন অ্যানিমেল প্ল্যানেটের বিচিত্র দৃশ্য, জীবজন্তুর লড়াই আর সাগর-মহাসাগরের অবাক রহস্য। দেখেন ক্যামেরাম্যানদের ধৈর্য আর সাহস। কী বিপদসংকুল পথে থেকে এসব দৃশ্য ধারণ করেন পেছনের মানুষগুলো! তিনি দেখছিলেন আটলান্টিক সাগরের গভীরে জাহাজ থেকে কীভাবে তিমির সাঁতারের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, একেবারে বুঁদ হয়ে ছিলেন সমুদ্রের অথই জলের সঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে রুমে ঢুকে মেয়ে অন্বেষার বাক্যে একটু থমকে গেলেন তিনি। টিভির তিমির দৃশ্য থেকে চোখ ফেরালেন মেয়ের দিকে, কী বলছিস তুই?
বাপের গা-ঘেঁষে দাঁড়ায়, ওকে অফিসে বলেছি না আসার জন্য।
কেন?
ওর খুব অহংকার বাবা, আর আমাকে পর্যন্ত অপমান করে – অভিমানী গলা অন্বেষার।
আশিস কী করেছে শুনি!
বললাম না অহংকারী মানুষ আমি পছন্দ করি না।
মারে, 888sport live chatীদের একটু-আধটু অহংকার থাকেই। ওইটুকু না থাকলে কিসের 888sport live chatী! আর 888sport live chatীর অহংকারকে দেখতে হয় পরম 888sport apk download apk latest versionর চোখে। তাহলেই 888sport live chatের রং ফুটবে, তুলিতে ক্যানভাসে 888sport live chatী তুলে আনবেন রাশি রাশি সৌন্দর্য। মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেন জামিলউদ্দিন।
তোমার 888sport live chatপতি না হয়ে 888sport live chatী হওয়া উচিত ছিল বাবা।
তুই ঠিকই বলেছিস অন্বেষা, টিভির সুইচ অফ করে তাকান মেয়ের দিকে জামিলউদ্দিন, আমার 888sport live chatী হওয়ারই খুব ইচ্ছে ছিল। আমি 888sport appয় এসেছিলাম চারুকলায় ভর্তি হওয়ার জন্য 888sport apps স্বাধীন হওয়ার পরের বছর, ১৯৭২ সালে। তখন এত ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। কোথায় কার কাছে যেতে হবে জানতাম না। আমার এক ফুফু ছিলেন, আম্বিয়া খাতুন। থাকতেন ঝিগাতলার এক গলিতে। উঠলাম সেই বাসায়। বাসা না তো মুরগির খাঁচা। ফুফু, ফুফা, তিনটে ছেলেমেয়ে, দুটি ছোট ছোট রুম …। 888sport sign up bonusর বাজারে ঢুকে পড়েন জামিলউদ্দিন, আমার ফুফা ছিলেন একটা বেসরকারি অফিসের কেরানি। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন চারুকলায় জয়নুল আবেদিনের কাছে। জয়নুল আবেদিন বললেন, ভর্তির সময় শেষ হয়ে গেছে তিন মাস আগে। আমি মেসে উঠলাম। টিউশনি করি, বেশ চলে যাচ্ছে। খোঁজ রাখছি চারুকলার ভর্তির তারিখের। ছয়-সাত মাস পর ভর্তির তারিখ এলো, আমি ফরম কিনে পূরণ করে জমা দিলাম। লিখিত পরীক্ষা খুবই ভালো হলো আমার কিন্তু ভাইভাতে …
থামলে কেন? তোমার জীবনের এই ঘটনা তো জানা ছিল না বাবা, অন্বেষা পিতার 888sport live chatালোক জেনে বিস্মিত। হাসেন জামিলউদ্দিন, কিন্তু আমাকে আটকে দেওয়া হলো ভাইভাতে।
কেন আটকে দেওয়া হলো?
চেয়ারে হেলান দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন জামিলউদ্দিন, অন্বেষা! মানুষের চোখ বড় বিচিত্র। চোখে অনেক সময় সুন্দরকে কদর্য মনে হয়। আবার চোখে প্রতিফলিত অসুন্দরকে ইচ্ছে করলেই গ্রহণ করা যায় না। বোর্ডে তিনজনই ছিলেন চারুকলার শিক্ষক। সিনিয়র একজন শিক্ষক, খুবই নামকরা, ভদ্রলোক ভাইভা কক্ষে ঢোকার পরই আমার দিকে বিষদৃষ্টিতে তাকান।
কেন? তুমি কি অন্যায় করেছিলে? বিস্মিত অন্বেষা।
ওই যে বললাম, চোখের দৃষ্টি! তিনি আমাকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে একেবারে নাজেহাল করে দিলেন। আমি ডিসকোয়ালিফাইড হলাম। শৈশব থেকে 888sport live chatী হওয়ার যে অদম্য স্বপ্ন আমার ছিল, একজন মানুষ ইচ্ছের ইরেজার দিয়ে মুছে ফেললো। খুব ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু আমার পেছনে এসে দাঁড়ায় মিস আয়েশা আখতার।
হাসে অন্বেষা, আমার মা?
আয়েশার ছোট ভাই ইমুকে প্রাইভেট পড়াতাম। ইমুরা থাকতো ঝিগাতলার মুখেই, নিজেদের বাড়িতে। খুব বড় না আবার ছোটও না। ইমু পড়ে এইটে, আর আয়েশা ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে কলেজে ঢুকবে। ওর সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক হয়ে গেল। আয়েশা সময়ের আগে এগিয়েছিল বুদ্ধিতে। আমাকে বললো, একটা দরজা বন্ধ হলে হাজার দরজা খুলে যায়। চারুকলায় না পড়ে অন্য যে-কোনো সাবজেক্টে পড়ো। মাত্র 888sport apps স্বাধীন হয়েছে, তোমাদের মতো ছেলেদের খুব প্রয়োজন হবে দেশটার। আমি ওর পরামর্শে 888sport app বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ভর্তি হয়ে গেলাম। এতদিন পর গল্প মনে হচ্ছে …।
বাবাকে জড়িয়ে ধরে অন্বেষা, জীবন তো গল্পের বাইরে কিছু না বাবা। বলো, আমি শুনছি আর অবাক হচ্ছি।
তখন উত্তাল সময়। নতুন দেশ, প্রতিদিন নতুন নতুন সিদ্ধান্ত হচ্ছে। মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েই একটা প্রাইভেট ফার্মে ঢুকলাম। আমদানি-রফতানির অফিস। আয়েশাকে বিয়ে করলাম। চাকরি করছি, অফিস করছি, বাসায় আসছি, বিকেলে নাটক বা সিনেমা দেখছি তোর মাকে নিয়ে। তোর বড় ভাই পেটে, সেই সময়ে বুদ্ধি দেয় ব্যবসার। তোর নানাও সঙ্গে ছিলেন, আমিও সাহস পেলাম। চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামলাম। তখন আমি ইন্দোনেশিয়া থেকে সিমেন্ট আমদানি করতাম। প্রচুর আয় আমার। শেষে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে সিমেন্ট আমদানি না করে নিজেদের দেশে উৎপাদন করার। শুরুতে অনেকেই আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিল কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। দেশে প্রথম ব্যক্তি খাতে অন্বেষা গ্রুপ সিমেন্ট তৈরির কারখানা করলো। আমার চারদিকে এত সাফল্য কিন্তু যে সাফল্যের চাবি, সে-ই হারিয়ে গেল! গলা ধরে আসে জামিলউদ্দিনের। আয়েশা বেঁচে থাকলে …
একটু সময় নিয়ে অন্বেষা প্রশ্ন করে, তুমি 888sport live chatপতি হলেও রঙের 888sport live chat তোমার মধ্যে এখনো আছে বাবা।
রাইট, শুরুতে খুব কষ্ট পেলেও এখন নেই। আর সেই কারণে আমি আশিষকে নিয়ে এসেছি।
সেই চারুকলা থেকে আনলে?
আরে না, সে এক মজার ঘটনা। তুই চলে গেলি ব্রিটেনে লেখাপড়ার জন্য। আমি একা মানুষ। অফিসের পর মাঝে মাঝে চলে যেতাম তুরাগ নদীর পাড়ে, মিরপুরের দিকে। তখনো এত দখল শুরু হয়নি। ভরাট হয়নি। কাশবন আর ঝোপঝাড়ে ভরা ছিল এলাকাটা, বিশাল এলাকা। তো এক বিকেলে দেখি একটা ছেলে ছবি আঁকছে বিরাট ক্যানভাসে। আমি পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। ওর ছবি আঁকা দেখছি আর নিজেকে ফিরে ফিরে দেখছি। 888sport live chatী আমার দিকে একটা বার তাকায় না। মগ্ন হয়ে ছবি আঁকছে। প্রায় সন্ধ্যার দিকে ছবি আঁকা শেষ করলো। আমি দাঁড়িয়েই আছি। হঠাৎ আমাকে দেখে অবাক হলো, আপনি?
হ্যাঁ, আমি আপনার ছবি আঁকা দেখছিলাম। অনেক সুন্দর ছবি আঁকেন আপনি, আমি বললাম।
তাই? খুশি হলো 888sport live chatী।
ছবিটা বিক্রি করবেন?
ঘাড় নাড়ে 888sport live chatী, নগদ টাকা দেবেন?
দেবো। দাম বলুন।
পাঁচ হাজার টাকা।
ঠিক আছে, আমি আপনার ছবিটা নিলাম। আমি পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে বললাম, আপনি কি চাকরি করেন?
নাহ, ছবি আঁকি আর ঘুমাই, অনেকটা উদাস মনে হলো আমার। জিজ্ঞেস করলাম, সব সময় ছবি বিক্রি হয়?
না, যখন হয় না, তখন না খেয়ে থাকি। ঘুমাই আর গালাগাল করি।
কাকে গালাগাল করেন?
মধুর হাসলো 888sport live chatী, কাকে আবার? আমি আমাকে গালি দিই। নিজেকে গালি দিয়েছেন কখনো? নিজেকে গালি দিয়ে দেখবেন, খুব সুখ পাবেন।
আমি খুব রোমাঞ্চিত হলাম। বললাম, আপনি আমাকে ছবি আঁকা শেখাবেন?
খুব কঠোরভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ছবি আঁকা কোনো রোমাঞ্চকর বিষয় নয়। অসম্ভব বেদনা না থাকলে ছবি আঁকা যায় না। ছবিটা আমাকে দিয়ে ক্যানভাস রং তুলি গুছিয়ে চলে যেতে লাগলো। আমি দৌড়ে ওর হাত ধরলাম, আমার সঙ্গে গাড়ি আছে। আপনি যাবেন কোথায়?
ঝিগাতলা।
আমি শিউরে উঠলাম অন্বেষা, সেই ঝিগাতলা! এখন সেখানে যাওয়া হয় না আমার। আমার জন্য ঝিগাতলার ফুটপাতে অপেক্ষা করতো আয়েশা আখতার, শ্যামলা রঙের হালকা-পাতলা মেয়েটি। ঝিগাতলার রাস্তায় হেঁটে হেঁেট আমি কত টিউশনি করিয়েছি। আমি 888sport live chatীর হাত ধরে বললাম, আসুন। আপনাকে পৌঁছে দিই। সেই থেকে শুরু ওর সঙ্গে আমার 888sport live chatের সম্পর্ক। আমি জানি, আমার ছবি আঁকা হয় না কিন্তু ওর কাছে এলে আমি একটা শক্তি পাই। আশিষ সৈকত একটু বন্য ধরনের মানুষ; কিন্তু ওর ভেতরে 888sport live chatীসত্তা ষোলো আনা। ও আমার একটা আশ্রয়। এই যুগে একটা মানুষ ঘড়ি ব্যবহার করে না। মোবাইল নেই। জন্ম কোথায়, বাড়ি কোথায়, কিচ্ছু বলে না। নিজের মনে আছে, কত পত্রিকা ইন্টারভিউ নিতে আসে, দেয় না। 888sport live chatী হিসেবে দেশে-বিদেশে ওর কত খ্যাতি, তুই জানিস না। আমার জন্য তুই ওকে …
ঠিক আছে বাবা, অন্বেষা জানায় – 888sport live chatী থাকুক ওর মতো। আমি আর কিছু বলবো না।
তিন
ব্রিটেন থেকে এসে জয়েন করেই জেনেছে একজন 888sport live chatী আছেন অফিসে, অবাক হয়েছে অন্বেষা। এই অফিসে 888sport live chatীর কী কাজ! যা দরকার, সবই করবে কম্পিউটার গ্রাফিক্স বিভাগ। বাবা জামিলউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ওটা আমার ব্যক্তিগত জগৎ। তোর মাথা না ঘামালেও চলবে। অন্বেষা সত্যি সত্যি আর মাথা ঘামায়নি। কিন্তু মাথায় আইডিয়াটা দেয় লায়লা, আপা রুমে আপনার একটা পোর্ট্রেট থাকলে খুব ভালো হতো। অনেক বড় রুম। আর 888sport live chatী তো আছেই …
গুড আইডিয়া! ডাকতো 888sport live chatীকে।
পিয়ন এসে জানায়, 888sport live chatী ঘুমাচ্ছে। বিরক্ত করতে না করছে।
রাগে দাঁড়ায় অন্বেষা, চলতো দেখি কত বড় 888sport live chatী!
দুজনে রুমে ঢুকে অবাক। 888sport live chatী চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর দুই পা দিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে। রুমে এসি চলছে আবার মাথার ওপর ফ্যানও ঘুরছে। রুমের দেয়ালে বেশ কয়েকটা ক্যানভাস দাঁড়িয়ে আছে, কোনোটা আঁকা শেষ হয়েছে, কোনোটার কাজ চলছে। রং, তুলিতে গোটা রুম একাকার।
কাছে গিয়ে দাঁড়ায় লায়লা, এই যে শুনছেন? দুই-তিনবার বলার পর চোখ মেলে তাকায় আশিষ, একবার দেখেই আবার অন্যদিকে ফিরে ঘুমাতে থাকে। টেবিলের ওপর থাপ্পড় মারে লায়লা, এই 888sport live chatী! উঠুন দেখুন কে এসেছে?
ঘুমের মধ্যে মশা তাড়ানোর মতো করে হাত নাড়িয়ে উত্তর দেয়, যেই আসুক এখন আমি ঘুমুচ্ছি। ডিস্টার্ব করবেন না। সন্ধ্যার পরে আসুন, যান …।
তুই আয়, বুঝতে পেরেছে অন্বেষা জামিল, যদিও নিজেদের মালিকানাধীন অফিস কিন্তু এই রুম, রুমের আপাতত মালিক 888sport live chatীকে কিছুই করার সাধ্য নেই। চুপচাপ চলে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, সেই কাজটাই করে অন্বেষা। পেছনে পেছনে যায় লায়লা রব্বানী।
রুমে এসে দুজনে নানা পরিকল্পনা করে কীভাবে 888sport live chatীকে জব্দ করা যায় অথবা বের করে দেওয়া যায়, যাতে এমডি জামিলউদ্দিন কোনো কষ্ট না পায়। অন্বেষা আর লায়লা মিলে অনেক ভাবে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। পরের দিন দুপুরের দিকে 888sport live chatী নিজেই আসে অন্বেষার রুমে। ঢুকেই কোনো কিছু না বলে চেয়ার টেনে বসে তাকায় অন্বেষার দিকে, গতকাল আমাকে ডেকেছিলেন আপনি কিন্তু আমি ঘুমিয়েছিলাম। দুদিন দু-রাত ধরে ছবি এঁকেছি তো, ঘুমে আর দাঁড়াতে পারছিলাম না। ছবি আঁকার ঘোর এলে না এঁকে পারি না। তখন জগতের কোনো কিছুই আমার মনে থাকে না। বলুন, কী করতে পারি আমি!
আশিসের দিকে অন্বেষা বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, গল্পে-888sport alternative linkে-ইতিহাসে কত 888sport live chatীর ঘটনা পড়েছে, জেনেছে, 888sport live chatী আসলেই এই রকম! কোনো দ্বিধা নেই, সংকোচ নেই, সাবলীল নিজের কথায়। 888sport live chatীর চওড়া কাঁধের ওপর ঝাঁকড়া চুলের বাহারি বাবড়ির মধ্যে আয়ত চোখের তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে ভেসে যায় অন্বেষা। মুগ্ধচোখে তাকিয়ে থাকে 888sport live chatীর দিকে।
লায়লা! চা দিতে বল।
বলছি, কলিংবেল টেপে লায়লা।
আমি চাই আপনি আমার একটা ছবি এঁকে দেবেন, খুব বিনয়ের সঙ্গে বলে লায়লা। রুমের ডান পাশের দেয়াল দেখায় হাতের ইঙ্গিতে, ওখানে টানাবো। খুব বড় করে তৈরি করবেন। সিটিং কয়টা লাগবে? দিনে না হলে সন্ধ্যার দিকে আমি সময় দিতে পারবো।
চা এসে যায়। আশিস চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চুমুক দেয়, আমি কোনো 888sport promo code পোর্ট্রেট আঁকি না।
মানে? হতবাক অন্বেষা।
খুব সহজ, আমি কোনো 888sport promo codeর ছবি বা পোর্ট্রেট আঁকি না।
চোখে বিস্ময় নিয়ে তাকায় অন্বেষা, আপনি 888sport live chatী না!
আপনার সন্দেহ আছে?
সন্দেহ নেই কিন্তু আমার ধারণা এই প্রথম কোনো চিত্রকর বা 888sport live chatী বললেন, আমি 888sport promo codeর ছবি আঁকি না। আমি যেটুকু জানি জগতের সকল 888sport live chatের সারাৎসার 888sport promo code। কেবল চিত্রকলায় নয়, গানে 888sport app download apkয় গল্পে 888sport alternative linkে নৃত্যে … জীবনের সকল 888sport live chatের শ্রেষ্ঠ প্রণোদনা 888sport promo code। আর আপনি সেই 888sport promo codeর ছবি আঁকেন না! নাকি আপনি আমার পোর্ট্রেট আঁকতে চান না?
না, আপনি আমার শত্রু নন। জামিলউদ্দিনের মেয়ে আপনি এবং অস্বীকার করার উপায় নেই, আপনি যথেষ্ট সুন্দরী। আপনার ছবি আঁকতে পারলে আমারই ভালো লাগতো। আমি 888sport promo codeর ছবি আঁকি না। দুঃখিত …। চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই ডাক দেয় অন্বেষা, শুনুন।
ঘুরে দাঁড়ায় আশিস, বলুন।
888sport promo codeর প্রতি বিদ্বেষ থেকে কি 888sport promo codeর ছবি আঁকছেন না আপনি! একজন 888sport promo code হিসেবে কৌতুক বোধ করছি, পাশাপাশি ভীষণ অপমানবোধ করছি আমি। কী অপরাধ 888sport promo codeর, কেন একজন খ্যাতিমান 888sport live chatী 888sport promo codeর ছবি আঁকবেন না! আবেগ এবং ক্রোধে থিরথির কাঁপছে অন্বেষা।
আমার যা বলার আমি বলেছি …। নিস্পৃহ গলা আশিস সৈকতের।
চেয়ার ছেড়ে সামনে এসে দাঁড়ায় অন্বেষা, প্রায় মুখোমুখি – আপনি নিশ্চয়ই ভ্যানগঁঘ, সালভাদর দালি, পিকাসো, মাতিস, মকবুল ফিদা হুসেন, এই দেশের জয়নুল, কামরুল হাসান, মনিরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দীন আর তরুণতর শাহজাহান আহমেদ বিকাশের নাম জানেন, যারা 888sport promo codeর ছবি এঁকে ধন্য হয়েছেন, বিচিত্র ভঙ্গিমায়।
আমি যেতে চাই, নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে আশিস সৈকত।
যাবেনই তো কিন্তু আমাকে, সকল 888sport promo codeকে যে অপমান করে গেলেন, আমি ভুলতে পারবো মনে করছেন? কখনোই না।
আপনি যেভাবে নিয়েছেন, সেটা আপনার ব্যক্তিগত অভীপ্সা। কিন্তু আমার স্বপ্নবিলাস একেবারেই আলাদা। আমি আসি!
আমার ধারণা, আপনার মধ্যে কেনো বিকৃতি কাজ করছে 888sport promo codeদের ব্যাপারে।
চোখে চোখ রেখে বলে অন্বেষা, পাল্টা তাকিয়ে থাকে 888sport live chatী আশিষ সৈকত। দুজনার দিকে তাকিয়ে সেদ্ধ হচ্ছে লায়লা। অন্বেষা ভেবেছিল, বিকৃতি শব্দটা বললে রাগ করবে 888sport live chatী; কিন্তু অবাক কাণ্ড, 888sport live chatী আশিস সৈকতের চোখেমুখে এক ধরনের বিহ্বল আলো খেলা করছে। মুখে কৌতুকমাখা মৃদু হাসি দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়, কোনো শব্দ উচ্চারণের সুযোগ না দিয়ে।
চার
ঠিকানার দিকে অবাক তাকিয়ে অন্বেষা জামিল। ঠিকানা : ১৮ ঝিগাতলা, তিনতলা, 888sport app …। তাহলে আশিস সৈকত ঝিগাতলায় থাকে? নিজের মনে প্রশ্ন করে অন্বেষা। দুদিন আগে রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আশিস আর অফিসে আসেনি। যদি আর না আসে বাবা মাইন্ড করবেন। অন্যদিকে অন্বেষাকে পেয়েছে নেশায়। অফিসে বাসায়, যেখানেই যায়, খাবার টেবিলে, ঘুমে জাগরণে 888sport live chatী হানা দিচ্ছে চেতনের নাচমহলে। মেনে নিতেও পারছে না, ছেড়ে দিতেও পারছে না। নিজস্ব এই সংকটে অন্বেষার আগ্রহ জন্মে 888sport live chatীর ভেতরের রহস্যকূপ সম্পর্কে জানার। কিন্তু কোথায় 888sport live chatী? ফোন নেই, ঠিকানা কেউ জানে না।
অফিসের হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট থেকে ফাইল আনে। ফাইল খুলে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না। অনেক আগের সাদাকালো একটা ছবি, খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলে আবছা একটা মিল পাওয়া যায় মুখের। মনে হয় পনেরো-ষোলো বছর বয়সের ছবি। হাতে লেখা বায়োডাটা। অদ্ভুত বায়োডাটা! নাম-ঠিকানার নিচে একটা ছবি আঁকা, বিশাল কোনো বৃক্ষের গোড়া। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অন্বেষা। তবু ঠিকানাটা পাওয়া গেল; কিন্তু এই ঠিকানায় আছে তো? ফাইল বন্ধ করে নিজের ভেতরে ডুব দেয় অন্বেষা, আমি কেন যাবো খোঁজে? বাবা জানলে কী ভাববে? মানুষটার দুর্বিনীত কিন্তু চঞ্চল মুখ, বিশেষ করে চোখ দুটো খুব টানছে। প্রবলভাবে জানতে ইচ্ছে করছে, কেন 888sport promo codeর ছবি আঁকে না! রহস্য কী? নিশ্চয়ই কোনো রহস্য আছে …।
নিজের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করে পরের দিন অন্বেষা জামিল দাঁড়ায় ঝিগাতলার আঠারো নম্বর বাড়ির সামনে। চারতলা বাড়ি। দুই পাশে দুই ফ্ল্যাট। গাড়ি থেকে নেমে ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে দেখার চেষ্টা করে, কোন জায়গায় মা আয়েশা আখতার অপেক্ষা করতো জামিলউদ্দিনের জন্য? মা নেই, আমাকে জন্ম দিয়ে হারিয়ে গেলেন অজানায়। কোনোদিন জানা হবে না …। এক ধরনের দ্বিধা আর চিনচিনে ব্যথা নিয়ে আঠারো নম্বর বাড়ির সিঁড়িতে পা রাখে অন্বেষা, দোতলা পার হয়ে তিন তলায় উঠতেই দেখতে পায়, দেয়াল জুড়ে নানা আকারের ছবি। ঠিক ছবি না পোর্ট্রেট – একজন 888sport promo codeর। দরজা খোলা, ভেতরের দেয়ালেও একই 888sport promo codeর ছবি। অগোছালো ড্রয়িংরুমে কেউ নেই। অন্বেষা পেছনের রুমে যায়, রুমের চারদিকে ছবি আর পোর্ট্রেট, একজন 888sport promo codeরই। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পায়, আপনমনে বড় একটা ক্যানভাসের ওপর ছবি আঁকছে 888sport live chatী আশিস সৈকত। দেখেই বুঝতে পারে, এটাও একই 888sport promo codeর ছবি। আঁকতে আঁকতে পেছনে রাখা সিগারেটের জন্য হাত বাড়ায়, শরীর বাঁকা হলে দেখতে পায় অন্বেষাকে। হতভম্ব আশিস সৈকত কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে দাঁড়ায়, আপনি?
আমাকে মিথ্যা বললেন কেন?
সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করতে করতে তাকায়, কী মিথ্যা বলেছি?
আপনি 888sport promo codeর পোর্ট্রেট আঁকেন না।
মুহূর্ত মাত্র, ধাক্কাটা সামলে নেয় আশিস সৈকত, আমি মিথ্যা বলিনি আপনাকে। একটু ঘুরিয়ে আপনাকে বলা উচিত ছিল, জগতে আমি একজন 888sport promo codeর ছবি আঁকি, অন্য কারো নয়। জানতাম না, আপনি আমার স্টুডিওতেই চলে আসবেন। তাহলে, ঘুরিয়ে সত্যিটাই বলতাম।
ছবির দিকে চোখ রেখে অন্বেষা বলে, কার ছবি আঁকছেন?
আমার সুখ ও সর্বনাশের।
মানে?
ভালোবেসেছিলাম কিন্তু জয় করতে পারিনি। জয় করতে না পারার ব্যর্থতা থেকে ওর ছবি আঁকছি, আমার শকুন্তলাকে ছড়িয়ে দিচ্ছি দিকে দিকে। আপনি জানেন না, কী ছিল সেইসব দিনরাত আমার! এক হাতে ক্যানভাস, রং আর তুলি, অন্য হাতে শকুন্তলার হাত। কত নদীর চরে, হাটে-বাজারে-বন্দরে গ্রামে-গ্রামে ঘুরেছি ওকে নিয়ে; কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছবি আঁকি, ছবি এঁকে শকুন্তলাকে নিয়ে সংসার করতে পারবো না, খাওয়াতে পারবো না দুবেলা দুমুঠো ভাত … এই অভিযোগে আমার কাছ থেকে ওকে ছিনিয়ে নেয় …। ওরা এসে দেখুক এক একটা ছবি বিক্রি করি আমি … পেছনে তাকায় আশিস সৈকত।
চলে গেছে অন্বেষা। তাকিয়ে থাকে শূন্যপথের দিকে। বুকের গভীর গহিনে বাজে রঙের নৃত্য … চলো রঙের বাড়ই চলো শূন্যেরই মাঝার …


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.