আইভরি ড্যান্সার

888sport app download apk latest version : সম্পদ বড়ুয়া

বাজারে স্টলের টেবিলের ওপর আড়াআড়িভাবে একটা ছায়া এসে পড়েছে। সারি সারি মোমবাতি, দেশলাইয়ের বাক্স আর যেসব টিনজাত খাবার সামগ্রী সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে তার পেছনে দাঁড়িয়ে মেয়েটি চোখ তুলে তাকালো। কাছেই মোটর পার্কের এপাশ থেকে ওপাশে এক যুবক দ্রুত লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটছে। যুবকটার নাম চিবো। মদের হকারদের ডেলিভারি অর্ডার দেওয়া আর মটরশুঁটি বিক্রেতাদের ওপর নজর রাখার জন্য সে ড্রাইভারদের সঙ্গে অনেকটা বিরতিহীন কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। তার আগমনের মধ্যে একটা তাড়াহুড়ার ভাব পরিলক্ষিত হলো। সে মেয়েটার স্টলের দিকে পা বাড়াল।

এই চমৎকার স্থানীয় যুবকটার দিকে মেয়েটা কোনো প্রকার অপরাধবোধ বা অনুশোচনা ছাড়া কেন যেন তাকাতে পারছে না। যুবকটার পরনে সাধারণ হলদে হাতকাটা জামা আর লাল টকটকে কটিবস্ত্র। প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে এমন পুরুষোচিত আর সচ্চরিত্র দেখাচ্ছে, যে-কোনো মেয়ে তাকে কামনা করতে পারে। মেয়েটার মা-বাবার পছন্দটা ভালোই ছিল – সে অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু তার এখন ভাবতে খারাপই লাগছে, পনেরো বছর পর সবকিছু কেমন অন্যরকম হয়ে গেছে। যুবকটার সঙ্গে তার বিয়েটা এখন সে আর অনিবার্য বলে মনে করে না।

চিবোর মুখে হাসি সেই। টেবিল থেকে কয়েক গজ দূরে একটু থেমে সে অধৈর্যের মতো নিজের কটিবস্ত্রটা ধরে হ্যাঁচকা টান মারল। ‘এই আকুনমা, গ্রামপ্রধান তোমাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য আমাকে বলেছেন।’

‘হেই চিবো! একটুও তো হাসলে না! প্রধান কীজন্য ডাকছেন, কোনো কিছু আছে নাকি? কিংবা ওটা কি শুধু যে …।’

‘না’, চিবো বলল, ‘কী আর থাকতে পারে? আমাকে পাঠিয়েছে তোমাকে বলার জন্য আর আমি তাই করলাম।’ তার চোখ দুটো বেশ শক্ত হয়ে আছে।

‘ওম!’ আকুনমা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘আমি অবাক হয়ে ভাবছি প্রধান কেন আমাকে খুঁজছেন?’

‘আমি জানি না’, চিবো বলল, ‘তিনি আমাকে তাঁর সামনে দিয়ে যেতে দেখে বললেন, তুমি একটু বাজারে যাও আর আইভরি ড্যান্সারকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলো। আর তাই আমি চলে এসেছি। তুমি কি সেই আইভরি ড্যান্সার নও, নানকো গ্রামের সবচেয়ে ভালো নর্তকী?’

 আকুনমার চোখ দুটো লজ্জায় রাঙা হয়। ‘সবাই তো সেভাবেই বলে … কিন্তু যদি ওটা নাচের বিষয় হয়ে থাকে … তবে … আমি একজনকে কথা দিয়েছি …।’

‘তুমি পিটার্সের কথা বলতে চাইছো?’ চিবো হেসে ওঠে। তার হাসিতে কোনো আনন্দ নেই। ‘কিন্তু সে তো চলে গেছে, তাই না?’

‘যখন ফিরে আসবে সে সব জানতে পারবে। তুমি জানো নানকোর মেয়েরা কীভাবে তার পিছু নিয়েছে … ওকে পাওয়ার জন্য তারা যে-কোনো কিছু করতে পারে।’

‘ঠিক আছে।’ চিবো বলল, ‘তুমি কি ওই মেয়েদের দোষ দাও? পিটার্স তো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে এসেছে, সে তার গলার চারপাশে একটা কাপড় পরে থাকে আর ভাঙা বোতলের টুকরোর ভেতর দিয়ে তাকায়। তার বাবা তাকে ইংল্যান্ড পাঠানোর কথা বলছে। ওহে আমার প্রিয়তমা, তুমিসহ সব মেয়ে কেন তার পিছু নিচ্ছো না?’

‘চিবো’, রাগে মেয়েটার চোখ জ্বলজ্বল করে। তবে যেহেতু তখন সে মাথার বন্ধনীটা সাজাতে যাচ্ছিল, তার নড়বড়ে আঙুলগুলো তাকে প্রতারণা করলো। ‘তুমি সত্যিই ঈর্ষায় মরছো। এটাই ঠিক। দয়া করে আমার স্টলটা দেখে রাখো। আমরা কি এখনো শত্রু আছি?’ আকুনমা চিবোর কব্জিতে চিমটি কাটে, ‘আমার দেরি হবে না।’

‘মনে রেখো, খামারে আমার কাজ আছে। আমি কলেজের ছাত্র নই। কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করি। চশমা আর টাই পরে থাকি না!’

গ্রামপ্রধান অনেকক্ষণ আকুনমাকে বসিয়ে রেখেছে। সে বসে বসে ছাদে কাঠের বরগার 888sport free bet গুনছে। রুমটা বিচিত্র পশুর শিং আর চামড়া দিয়ে সাজানো, যেখানে সম্ভবত মুরব্বিগোছের লোকজন এসে দেখাসাক্ষাৎ করে। রুমটাতে অনেক পুরনো ঘড়িও আছে। তবে কিছু কিছু ঘড়ির টিক টিক শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে পুরনো ঘড়িটার অলসভাবে আন্দোলিত পেন্ডুলামের দিকে আকুনমা তাকিয়ে থাকে আর তখনই হঠাৎ দরজাটা খুলে গেল।

 দরজার সামনে ফ্রেমের গড়নে একজন বিশালদেহী মানুষ ঝুলে থাকা কাপড় পরে দাঁড়িয়ে আছে। নেশাগ্রস্তের মতো তার চোখ মেয়েটার দিকে স্থির। মেয়েটি বলল, ‘আপনি দীর্ঘজীবী হোন।’ এই বলে সে তাঁর সামনে সসম্মানে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে আর লোকটা ‘আমার মেয়ে’ বলে তাকে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

‘ওঠো, মেয়ে আমার’, রুমটার মাঝখানে হাঁটতে হাঁটতে লোকটা বললেন। ‘আমি তোমাকে আনার জন্য লোক পাঠিয়েছিলাম কারণ আমি চাই আজ রাতে তুমি নৃত্য পরিবেশন করো।’

 ‘কিন্তু গ্রামপ্রধান …’

‘এটা কী হলো? তুমি আমার মুখের থেকে কথা কেড়ে নিচ্ছো? এমন শিক্ষাই কি তুমি পেয়েছো?’

‘ক্ষমা করবেন প্রধান।’

গ্রামপ্রধান এমনভাবে কথা চালিয়ে নিলেন যেন কোনো কিছুই ঘটেনি। তবে মেয়েটি দেখল কথার মাঝখানে তার বাধা প্রদান ভদ্রলোককে বিব্রত করেছে। তাঁর মতো একজন প্রধান নানকার সঙ্গে এরকম কিছু করা একটা বড় ভুল হয়ে গেছে।

‘আজ রাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুজন লোক এ-গ্রামে আসছেন’, তিনি বলতে থাকেন, ‘এদেশে সর্বোচ্চ সরকারি কাউন্সিল সিনেটে আমাদের প্রতিনিধি স্যার আজুমোবি পরিদর্শনের জন্য আজ আসছেন। গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে আমি চাপ দিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো কিছু হয়নি। আজ আমি আমাদের
এ-মাটির এক সন্তানের হৃদয়ে প্রবেশ করতে চাই যিনি পিটাকোয়ায় পনেরো বছর আগে একজন ধনী আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ার পর আর এ-এলাকায় আসেননি। আজ তোমার নাচ দেখিয়ে তাঁকে চমক লাগাতে চাই আর চাই তাঁর মাধ্যমে মন্ত্রীকে দিয়ে এ-গ্রামে পানির ব্যবস্থা করতে। এ-অঞ্চলে তোমার নাচ সবচেয়ে ভালো আর আমার প্রস্তাব যেন তিনি শোনেন এজন্য তাঁকে খোশমেজাজে রাখতে হবে। তাছাড়া স্যার আজুমোবি তাঁর কোনো এক আমেরিকান বন্ধুকেও সঙ্গে নিয়ে আসছেন। আমি তাঁর সম্পর্কে ঠিক জানি না … এখানে আসার পর তিনি ওই বন্ধু সম্পর্কে আমাদের আরো বেশি কিছু বলতে পারবেন। আমার জন্য কিংবা এই গ্রামের স্বার্থে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তুমি সবচেয়ে ভালো নাচ করো। আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? এখন যাও আর তোমার নাচের গ্রুপকে একত্র করার কাজে লেগে পড়ো।’

 আকুনমা এখনো উঠে দাঁড়ায়নি। ‘প্রধান, আমরা কি এ ব্যাপারে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না?’

‘যাও, বড়দের কথায় কথায় জবাব দেওয়া বন্ধ করো!’

‘প্রধান, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমার কথা শুনুন। আমি আমার … আমার বাগদানকারীর সঙ্গে … একটা প্রতিজ্ঞা করেছি, কখনো জনসমক্ষে আর নাচবো না -।’

‘কে? চিবো?’ ক্রুদ্ধ গর্জনে গ্রামপ্রধান বললেন।

‘না, সে নয়, আমি বোঝাতে চাচ্ছি … পিটার্স, কলেজের সেই ছেলেটা. আপনি তাঁকে চেনেন …।’

 ‘সেই ছেলেটা যে সবসময় টাই পরে থাকে, … তাকে বোঝানোর ব্যাপারটা তুমি আমার ওপর ছেড়ে দাও।’

‘আপনি জানেন সে বর্তমানে এখানে ছুটি কাটাচ্ছে।’

‘আমি জানি না, এ-গ্রামের কোনো লোকও তা জানে না। কেবল তোমরা মেয়েরা জানো! এখন যাও, আমার কী ক্ষমতা তা দেখানোর আগেই তোমার দলের ছোট ছোট মেয়েকে জড়ো করো।’

‘প্রধান, যখন পিটার্স এখানে আসে, সে লরিগুলোর একটার মেকানিক হিসেবে কাজ নেয় … যে লরিগুলো নাইজার নদীর ওপর ভাসমান স্টিমারগুলোতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন কয়লা-নগরী থেকে কয়লা নিয়ে আসে …। সে যে একজন ভালো ছেলে এটা আমাকে দেখানোর জন্য এ-কাজ করত। এখন সে কয়লা-নগরীতে ফিরে গেছে। তার আত্মীয়রা সেখানে বসবাস করে আর সে তাদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য গেছে। আজ রাতে তারা ফিরে আসবে আর সে আমার মায়ের কাছে আমার সম্মতির ব্যাপারটা জানতে চাইবে। প্রধান! আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, যেখানে সবকিছু নির্ধারিত হয়ে আছে সেখানে আমাকে অবশ্যই ভদ্র আর সম্মানজনক অবস্থায় থাকবে হবে?’

 ‘তুমি পাগল হয়ে গেছো! এখানে নানকোতে কেউ পিটার্সকে চেনে না। চিবোকে আমরা জানি যার সঙ্গে তোমার বাগদান … তুমি এখানে তাকে ছুড়ে একপাশে ফেলে দিতে পারো না। মুরুব্বিরা অবশ্যই সব জানে। ওহে মেয়ে, তুমি সময় নষ্ট করছো। পুরো ব্যাপারটা তুমি তোমার মা আর আমার ওপর ছেড়ে দাও। এখন যাও! সন্ধ্যা হতে আর বেশি দেরি নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের অতিথি ও তাঁর বন্ধু চলে আসবেন।’

 ‘প্রধান, আমি এ-কাজ করব না! আমি নাচব না!’ আকুনমা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকে। রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে গ্রামপ্রধান একটুক্ষণের জন্য তার দিকে ক্রূর দৃষ্টিতে তাকান। স্ত্রীদের সঙ্গে তিনি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে কথা বলছেন যা মেয়েটার কানে এলো। সে ভয় পেয়ে গেল। প্রধান লোকটা তাঁর নীতিবহির্ভূত কাজের জন্য সুপরিচিত। এক্ষেত্রে সে কী করতে পারে? এখন সে কী করবে? এরই মধ্যে কিছু সময় পার হয়ে গেছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে, তথাপি ভেতরে ভেতরে সে একটা অদ্ভুত অস্থিরতার গন্ধ পাচ্ছে।

 রুমের বাইরের দরজাটা এবার খুলে গেল। মুখোশ পরা দুজন লোক ভেতরে প্রবেশ করলো। তারা আকুনমাকে তার কব্জি ধরে যতটুকু পারল আলতো করে বাড়ির পেছনে টেনে নিয়ে গেল। ভেতরে একটা উঠোনের মতো জায়গা আছে, এর একপাশে সারি সারি কক্ষ আর প্রতিটি কক্ষ থেকে একজন মহিলা উৎসুক দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছে। এটাই হলো গ্রামপ্রধানের হারেম।

 মুখোশধারী লোকদুটো মেয়েটাকে একটা কক্ষে ধাক্কা মেরে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে গেল। ওটাকে খুব একটা রুচিহীন কক্ষ বলা যাবে না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো ছিল, এক কোনায় দেখতে দামি চাঁদোয়া টানানোর জন্য চার খুঁটিওয়ালা একটা খাট আর অন্য কোনায় সারিবদ্ধভাবে বই দিয়ে ভর্তি একটা টেবিল। দেয়ালে পেরেক থেকে যে-ফ্রকগুলো ঝুলছিল সেগুলো সুন্দরভাবে কেটে বানানো হয়েছে। আকুনমা অবাক হয়ে ভাবে, এ-কক্ষটি কার হতে পারে? দরজা খুলে গেলে স্মার্ট ফ্রক পরা একজন যুবতী এসে ঢুকল। সে গ্রামপ্রধানের সবচেয়ে কম বয়সী স্ত্রী। মেয়েটি হাসতে থাকে।

‘হুম’, বউটি বলল, ‘তুমিই তাহলে সেই মেয়ে! আমি কত কি ভেবেছি! তোমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য গ্রামপ্রধান আমাকে পাঠিয়েছেন। পিটার্সের জন্য আনুগত্য প্রকাশের চেষ্টা শুধু সময় নষ্ট করা! সে তেমন ভালো ছেলে নয়। সে শুধু তোমার সঙ্গে প্রতারণাই করছে। এইটুকুই একটু ভাবো, যে ছেলে শিগগির দেশের অন্যতম নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে … সে তোমার সঙ্গে থাকবে – এ-কথা তুমি ভাবলে কী করে?’

‘আমি জানি তার জন্য আপনি হলেন সঠিক মহিলা!’ আকুনমা বলল, ‘কারণ সেন্ট অ্যানস কনভেন্টে আপনি পড়াশোনা করেছেন। এটা ঠিক বলছি না? কিন্তু গ্রামপ্রধান তো ঠিকমতো পড়তে বা লিখতে পারেন না। তথাপি তিনি আপনাকে বিয়ে করেছেন!’

‘আমি তোমাকে সাহায্য করার জন্য এখানে এসেছি।’ বউটা বলল, ‘যদিও তাঁর 888sport app স্ত্রী আমাকে পছন্দ করে না। এতে আমার কোনো দুঃখ নেই।’

‘আপনি স্বার্থপর আর পাজি।’ আকুনমা বলল, ‘এজন্যই এটা আপনাদের দুজনের জন্যে ভালোই হলো। কিন্তু আমি জানি আপনি প্রধানকে ধোঁকা দিচ্ছেন। একদিন যখনই আপনি অনেক টাকা জমিয়ে ফেলবেন, আপনি সকল জিনিসপত্র বেঁধেছেদে নেবেন এবং পালিয়ে যাবেন!’

‘বাজে কথা! আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবে না!’

‘আপনি কী করতে এসেছেন?’

প্রধানের স্ত্রী বিছানায় বসে পড়ল। ‘এটা আমার রুম’, বউটা বলল, ‘তবে আমি তোমাকে বলতে এসেছি তুমি যদি আজ না নাচো তাহলে গ্রামপ্রধান তোমার মায়ের খামারটা কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। তুমি জানো তোমার মা কত গরিব! খামারটা ছাড়া তার কিছুই নেই! অবশ্য সেইসব ইরোকো বৃক্ষ যা তোমার বাবা রেখে গেছে … ওই ব্যাপারটা এখনো কিন্তু বিতর্কিত অবস্থায় রয়ে গেছে। প্রধান এখনো তোমার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে এসব বলে লাভ কী? যতদিন পিটার্স তোমার সঙ্গে আছে তুমি পালিয়ে যেতে পারো আর তোমার মাকে না খেয়ে মরার জন্য রেখে যেতে পারো।’

আকুনমার মাথা নুইয়ে আছে। ‘খারাপ … আপনারা দুজনেই খুব খারাপ।’

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামপ্রধানের স্ত্রী পুরো বিষয়টাকে এমন এক শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, আকুনমা এক কোনায় নীরব অসহায় কারাবন্দির মতো জড়োসড়ো হয়ে পড়ে থাকল। একটা ছোট্ট মেয়ে মাঝেমধ্যে ফুলের মালা নিয়ে ঘরে ঢোকে। আকুনমার নাচের দলে বিশজন মেয়ে আছে – পাঁচ থেকে তেরো বছরের মেয়েগুলো জমকালো আর সাবলীল। সবচেয়ে জটিল বিন্যাসেও তারা জানে তাদের পদচারণা কী হবে। নাচ তাদের কাছে অসীম আনন্দের উৎস। তাদের একজনকে আসতে দেখলো যার পায়ের নূপুর ঝুনঝুন করে বাজছে। তার শরীর ক্যামউড কাঠের লালচে রং দিয়ে শোভিত। আকুনমা জানে, সিনেটরকে এ-নৃত্যপ্রদর্শনী দেখানোর জন্য গ্রামপ্রধান কোনো কষ্টকেই ছাড় দেবে না। দুরাত্মার কি দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত! নাচের অনুষ্ঠানের আনন্দপূর্ণ দর্শকদের প্রভাবে সে প্রত্যাশিত ফল লাভ করবে, নানকোর জন্য একটা ভালো পানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। অথচ মেয়েটা তার জীবনের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা হারাবে।

সন্ধ্যার প্রাক্কালে গ্রামপ্রধান এসে হাজির। ‘কখন তুমি নাচের মহড়া শুরু করবে? তোমার নাচের মেয়েরা এখনো প্রস্তুত হয়নি? আজ কোন নাচটা তুমি করবে ঠিক করেছো? হাতির নৃত্যটা হতে পারে যা দেখিয়ে তুমি আইভরি ড্যান্সার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছো। ওটাই সব নাচের সেরা। তোমার গজদন্ত চুড়িগুলো এখনো পোলিশ করে রাখোনি?’

‘মেয়েটা রুমের এক কোনায় বসে আছে আর মনমরা হয়ে আছে!’ প্রধানের স্ত্রী বলল।

আকুনমা রাগে ফেটে পড়ে, ‘আমাকে ছেড়ে দিন! ওহ, এভাবে সবকিছু আমার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে কেন? এ-গ্রামে সবাই ভাবে আমি খুবই তীক্ষèবোধসম্পন্ন। কেউ আমাকে স্ত্রী হিসেবে চায় না। এমনকি চিবোও আমাকে ভয় পায়। যখন একজন ভদ্রলোক এগিয়ে এলো …।’

গ্রামপ্রধান তাকে থামিয়ে দিলেন, ‘তোমার মুখ বন্ধ করো! অনেক হয়েছে! তুমি অবাধ্য একগুঁয়ে। আমি যা করতে চাই না তা করতে বাধ্য করো না। সিনেটর এখানে এলে আমি তাঁকে বলব, কয়লা-নগরীতে যাওয়ার পথে তোমার পিটার্স একটা লোককে হত্যা করেছে। এখন এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।’

‘সে হত্যা করেছে … একটা লোককে?’ আকুনমা থেমে থেমে বলে। মহিলা দুজনকে তাদের নিজেদের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে গ্রামপ্রধান চলে গেলেন।

‘তাহলে তুমি আসল কথাটা শুনতে পাওনি?’ প্রধানের স্ত্রী জিজ্ঞেস করে, ‘যা জেনেছো অবশ্যই সব চাপা দেওয়া গোপন তথ্য। তোমার পিটার্স আসলে গাড়ি চালাচ্ছিল, তবে তাকে বাঁচানোর জন্য লরির মালিক দোষটা নিজের ঘাড়ে নিয়ে জরিমানা দিলো। মালিক খুবই ভালো একজন মানুষ। সে তাদের বুঝতে দিতে চায়নি যে, পিটার্সের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।’

‘আপনি কি তাহলে বলতে চাইছেন … পিটার্সই শুধু দায়ী আর অন্য লোকটির কোনো দায় নেই? দুর্ঘটনার খবরটা আমি মাসখানেক আগে শুনেছিলাম। নানকোতে পিটার্স আসার পরপরই।’

‘তুমি সত্যটা শুনতে পাওনি।’

‘ওহে প্রভু! আমি করজোড়ে প্রার্থনা করছি … আপনি কি বিষয়টা নিষ্পত্তি করে ফেলার জন্য গ্রামপ্রধানকে বলতে পারেন না? আপনি তো জানেন, তিনি আপনাকে কত ভালোবাসেন … বয়স্ক মহিলাদের ডিঙিয়ে আপনাকে তাদের সর্দারনী বানিয়েছেন। দয়া করে তাঁকে বলুন পুরনো বিষয় নিয়ে আর যেন খোঁড়াখুঁড়ি না করেন।’

‘আমার কোনো ক্ষমতা নেই’, প্রধানের স্ত্রী বলল, ‘তবে তুমি যদি নাচতে রাজি থাকো।’

‘না, অসম্ভব! আমার বরং মরে যাওয়াই ভালো!’

সূর্য পশ্চিমের গাছগাছালির পেছনে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এসময় পৌরসভা-প্রধান গাড়ি চালিয়ে শিস দেওয়া ছেলেদের নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করলেন। স্যার আজুমোবি একটা নিখুঁতভাবে বানানো কালো ধূসর ফ্লানেলের স্যুট পরে এসেছেন। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁর পাইপটা জ্বলছিল। তাঁর পেছনে হালকা গ্যাবার্ডিন স্যুট গায়ে সবুজ-সমান্তরাল লাইনযুক্ত হেলমেট পরা আমেরিকান লোকটা রয়েছে।

‘স্যাম বিলিংস, সিনেমার প্রযোজক’ – আজুমোবি বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাঁর উচ্ছল প্রসারমান অভিব্যক্তি যেন তালগাছ আর কলাবাগানের নিচে শুকনো খড়ের কুটিরগুলোকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। ‘তিনি আফ্রিকার ওপর একটা ছবির শুটিং শুরু করেছেন, যার একটা দৃশ্যে নাচের পর্ব রাখতে চান। মিস্টার প্রধান, সম্ভবত এখানে আপনার একটা জবাবের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।’

‘তাই মনে হচ্ছে!’ গ্রামপ্রধানের গলায় সংশয়ের ভাব, ‘এখন … ওই … রেস্ট হাউসটা ঠিকঠাক করা আছে। আমার মনে হয় দীর্ঘ 888sport slot game শেষে আপনার হাত-মুখ ধোয়া আর কাপড়-চোপড় বদলানোর দরকার হবে। আপনি বলছেন কাল সকালেই আপনারা চলে যাবেন, তাই আজ রাতে একটা নাচের অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করছি। তবে নর্তকীদের প্রস্তুতির জন্য সময়ের প্রয়োজন রয়েছে, তাই রাত ন’টার আগে নাচ শুরু করা যাবে না।’

রেস্ট হাউসের দিকে গাড়ি চলতে শুরু করেছে, গ্রামপ্রধান তখনই বাড়ির উঠোনের দিকে চলে এলে আকুনমাকে দেখতে পান। মেয়েটার কাছ থেকে একটাই উত্তর তিনি পেলেন – ‘আমি পিটার্সের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙতে পারবো না।’

‘রাত আটটার আগে পিটার্স যদি ফিরে না আসে তাহলে তোমাকে অবশ্যই নাচতে হবে। এখন সাতটা বাজে।’

আধঘণ্টা পরে চিবো মার্কেটের স্টলগুলোর চাবি নিয়ে আসে। এরই মধ্যে সে আকুনমার স্টল থেকে বিশ শিলিংয়ে এক টুকরো কাপড় বিক্রি করেছে। সে এরকমই, তাকে সবসময় নির্ভর করা যায়।

‘আকুনমা’, উদ্বেগের সঙ্গে চিবো বলে ওঠে, ‘নানকোতে সব শেষ হয়ে যাবে, যখন তুমি বলছো তুমি নাচবে না। এতবড় বোকামি কেন?’

‘ওটা কিছু না।’

‘তোমাকে অনুরোধ করছি আকুনমা। তুমি যাই করো, ভেবেচিন্তে সতর্কতার সঙ্গে করো। এর জন্য গ্রামপ্রধান কিন্তু খুবই ভয়ানক হতে পারে।’ বনের ভেতর খালি জায়গায় নাচের জন্য নির্ধারিত স্থানে যেসব পাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ময়লা-আবর্জনা হয়ে আছে ঝাড়ুদাররা সেগুলো পরিষ্কার করে দিচ্ছে। মহিলারা চেয়ারের ব্যবস্থা করছে, বাতিগুলো ঝেড়েমুছে রাখছে। গ্রামপ্রধানের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ স্ত্রীর কক্ষে বিশজন মাধুর্যময় যুবতী মেয়ে গায়ে সুবাস মাখল, সুন্দর করে সাজল, নূপুর আর চুড়ি পরল। পুরো গ্রামকে জাগ্রত করে রাখা এসব আনন্দমুখর উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকে আকুনমা নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখল। এখন ড্রামের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

গ্রামপ্রধানের স্ত্রীরা আকুনমার রুমের সামনে এসে ভিড় জমাচ্ছে আর অস্থিরভাবে কথাবার্তা বলছে। পিটার্স এখনো ফেরেনি। সময় দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। স্ত্রীরা বনের খোলা জায়গার দিকে দলবেঁধে চলে গেল, তাদের পোশাক খুবই জমকালো, তারা সত্যিই আবেগাপ্লুত।

একটা অচেনা শব্দ শুনতে পেয়ে আকুনমা দরজার দিকে তাকায়। তার শান্ত ভাব এখন উদ্বেগের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অদ্ভুত একটা ভীতির জন্যই এই দুশ্চিন্তা – সে যদি গ্রামপ্রধানের কথার খেলাপ করে, তাহলে তার কী হতে পারে। পথ দিয়ে বৃদ্ধ লোকদের একটা দল খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাঁটছে, তারা ডাকছে – ‘আকুনমা, তুমি কোথায়?’

এর কিছুক্ষণ পরেই একজন যুবকের সঙ্গে বৃদ্ধ লোকগুলো একটা কক্ষে ঢুকে পড়ল যেখানে আকুনমাকে কারাবন্দির মতো রাখা হয়েছে। যুবকটার পরনে জীর্ণ পোশাক, শরীরে আঘাতের চিহ্ন, কোথাও কোথাও ছিঁড়ে গেছে। যুবকটা পিটার্স।

‘ওহ!’ আকুনমা বিস্ময়ে বলে ওঠে। ‘কী হয়েছে? তোমার আত্মীয়স্বজন কই?’

‘একটা দুর্ঘটনা … আকুনমা, তুমি অবশ্যই নাচবে। … প্রধান একটা বাজে পরিকল্পনা করেছেন, তুমি নাচবে, শুনতে পাচ্ছো? আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি! তুমি অবশ্যই নাচবে আর আমাকে বাঁচাবে!’

‘কী হয়েছে … আমার দলবলকে দেখেই?’

‘ওটা পরে হবে! তোমার দলবল নাচের আসরে থাকবে। তোমার গজদন্তী চুড়ি পরে ফেলো; নাচতে হবে! দেরি করো না!’

পিটার্স খুব তাড়াহুড়া করছিল। আকুনমা কাঁপতে থাকে। সে কি এখন আর আগের মতো কোমল, নমনীয় আর সাবলীল হতে পারবে? গজদন্তী চুড়িগুলোকে তার কব্জিতে খুবই ভারী মনে হচ্ছে। তার ঘাড় এতো দুর্বল যে, তা নাচের আনন্দঘন উৎসবে পরা মুখোশ বহন করতে পারবে কি না বুঝতে পারছে না। তবে যখন সে নাচের মঞ্চে প্রবেশ করল, তার চোখ দুটো হাজার আলোয় আলোকিত হয়ে জ¦লছে। এই আলো তার পায়ে ফিরে এসেছে, যখন তারা একটা জটিল কারুকাজখচিত পরিচ্ছদ পরে মাটির ওপর নড়াচড়া করছে। অনেক উৎসুক চোখ তাকে অনুসরণ করছে। সে না দেখেই বুঝতে পারল গ্যাসবাতির নিচে গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা রয়েছেন, যেখানে গ্রামপ্রধান ঠিক মাঝখানে বসে আছেন। একপাশে স্যাম বিলিংস সিগারেট ফুঁকছেন। সিনেটর ঝুঁকে বাতাসের ঝাপটা থেকে আগুনের শিখাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

 পরদিন সকালে আকুনমার পা দুটো তখনো ব্যথা করছিল। ভয়ে তার বুক দুরুদুরু করছে। নূপুরগুলো এখনো তার কানে বেজে যাচ্ছে। স্যাম বিলিংসয়ের ক্রমাগত ‘চমৎকার’ ‘চমৎকার’ রবসহ বজ্রগম্ভীর প্রশংসা তার স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলছে, আবার পরক্ষণেই তাকে যেন পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

ঘরের সামনে কোথাও যেন সে চিবোর গলা শুনতে পেল। কোনো রকমে কষ্ট করে সে বিছানা থেকে উঠে এলো। খামার থেকে চিবো তার জন্য এক ঝুড়ি টাটকা কমলা আর কলা নিয়ে এসেছে। সে এমন উচ্চৈঃস্বরে আকুনমার প্রশংসা করছিল যে, পিটার্সকে না দেখার কারণে প্রারম্ভিক যে হতাশা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তা সযতনে গোপন করে রাখলো। ওর কথা জিজ্ঞেস করলে চিবো মনে কষ্ট পাবে – এটা ভেবে সে এ-কাজ থেকে বিরত থাকল।

তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পাম্পের জল পাওয়ার বিষয়ে সিনেটর কীভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, চিবো তা বিস্তারিত জানালো। তবে তার আশংকা হচ্ছে, লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ জলের দাম পরিশোধ নাও করতে পারে। সে আরো শুনেছে সেই সিনেমার প্রযোজক স্যাম বিলিংস আফ্রিকার ওপর যে-ছবিটা করছেন তাতে আইভরি ড্যান্সারকে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। গত রাতে আকুনমা যে-নৃত্য পরিবেশন করেছে তার কারণেই এসব হয়েছে।

‘কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কিছু লোক কীভাবে এ-ধরনের কাজ কাতে পারে’, চিবো বলল, ‘আমি বোঝাতে চাচ্ছি সেই ছেলেটা মানে পিটার্সের বিষয়টা।’

আকুনমা নিশ্বাস বন্ধ করে রাখে। তার মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে গেছে। ‘পিটার্স?’ সে প্রতিধ্বনির মতো উচ্চারণ করল। তার গলার বরফশীতল স্তব্ধতার জন্য শব্দটা ভালো করে শোনা যায়নি বললেই চলে।

‘হ্যাঁ …’

‘দেখো, তুমি অযথা সময় নষ্ট করছো! গত রাতে পিটার্সকে বাঁচানোর জন্য তুমি যখন নাচছিলে, তখন সে আর গ্রামপ্রধানের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ স্ত্রী একসঙ্গে পালিয়ে গেছে! না, না, তোমার চোখের জল শুধু শুধু নষ্ট করো না। এটা তাদেরই খুশি করবে … তুমি কি এর উজ্জ্বল দিকটা দেখতে পাচ্ছো না?’ 

‘আমাকে একটু সময়ের জন্য রেহাই দাও’, আইভরি ড্যান্সার বলল।

চোখের জল না মুছে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নাটাও না থামিয়ে সে ঘরের বিছানার দিকে পা বাড়ালো।

সেপ্রিয়ান একওয়েনসি : ঔপন্যাসিক, গল্পকার। জন্ম ১৯২১ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার মাননায়। নাইজেরিয়ার ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৫ সালে বন কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দফতরে কাজে যোগ দেন। সে-সময় থেকেই তাঁর লেখালেখি শুরু। উল্লেখযোগ্য রচনা হচ্ছে – When Love Whispers (1948), Peoples of the City (1954), Drummer Boy (1960), Jagua Nana (1961), Beautiful Feathers (1963), Lokotown and Others Stories (1966). তিনি শিশুদের জন্যও লিখেছেন, তাঁর গল্পের 888sport free bet প্রচুর। লোককাহিনিভিত্তিক গল্প আছে তাঁর। মূলত দুর্নীতি, স্বৈরশাসন, নগরজীবন এসব বারবার তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। আফ্রিকার নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন, নাগরিক জীবনের নানা টানাপড়েন তাঁর অধিকাংশ রচনায় নিপুণভাবে বিধৃত হয়েছে। এজন্য তাঁকে আধুনিক আফ্রিকান 888sport alternative linkের জনক বিবেচনা করা হয়। নাইজেরিয়ান 888sport live footballে তিনিই প্রথম দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকেছেন।

১৯৬৮ সালে তিনি Dag Hammarskjold’s International Prize For Literature 888sport app download bd পান। ২০০৬ সালে তিনি Nigerian Academy of Literature-এর ফেলো নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর তিনি মারা যান।

‘আইভরি ড্যান্সার’ গল্পটি একওয়েনসির Lokotown and Others Stories গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এর মূল শিরোনাম ‘The Ivory Dancer’।