ফুয়েন্তেসের টেরা নোস্ত্রা – একটি মার্কসবাদী পাঠ

মাসুদুজ্জামান

কার্লোস ফুয়েন্তেসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য 888sport alternative link টেরা নোস্ত্রা (১৯৭৫)। মধ্য-ষাটে রচিত এ-888sport alternative linkেই ফুয়েন্তেসের আধুনিক, এমনকি উত্তর-আধুনিক ভাবনার চমকপ্রদ সৃজনশীল প্রকাশ ঘটেছে বলে অনেকের ধারণা। আমেরিকার – যে-আমেরিকার প্রধান অংশ হচ্ছে লাতিন আমেরিকা – সেই ভূখন্ডের সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রিক, ঐতিহাসিক বিবর্তনধারা এই 888sport alternative linkের প্রধান উপজীব্য বিষয়। টেরা নোস্ত্রাতেই মধ্যযুগের পুনর্লিখন ঘটেছে ফুয়েন্তেসের হাতে, পশ্চিমি নবজাগরণ বা রেনেসাঁসকে পুনর্বিচার করে দেখেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ফুয়েন্তেস এ-888sport alternative linkে মার্কসবাদী ও প্রত্যক্ষবাদী (positivism) দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে আধুনিক আমেরিকা ও পশ্চিমি সভ্যতার উত্থান ঘটেছে – রচনা করেছেন সে-আখ্যান। রোম সাম্রাজ্য থেকে বিশ শতকের অন্তিম পর্যন্ত প্রসারিত পশ্চিমি সভ্যতাকে তাই তিনি ইতিহাস আর মতাদর্শের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছেন। লক্ষ্য, লাতিন আমেরিকার অভিনব, নিজস্ব আত্মপরিচয়ের সূত্রগুলো নির্দেশ করা। 888sport alternative linkটির শেষে ফুয়েন্তেস এমন এক পৃথিবীর সন্ধান দেন, যাকে উল্লেখ করা যায় ‘নতুন পৃথিবী’ (new world) হিসেবে। এই পৃথিবী বা পৃথিবীর বিন্যাস গত কয়েক দশক ধরে পাশ্চাত্যের লেখক-ভাবুকদের প্রায় যাবতীয় ভাবনার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। নাইন-ইলেভেনের ঘটনা বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পর আমাদের পৃথিবীর বিন্যাসও পেয়ে গেছে আরেক নতুন চেহারা (স্লাভো জিজেক, ‘ওয়েলকাম টু দ্য ডেজার্ট অফ দ্য রিয়াল! ফাইভ এসেজ অন সেপ্টেম্বর ইলেভেন অ্যান্ড রিলেটেড ডেটস’)।
ফুয়েন্তেস টেরা নোস্ত্রার কাহিনি গড়ে তুলেছেন ‘ইতিহাসের দার্শনিক’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই দার্শনিক ভাবনার কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে মার্কসবাদ। প্রত্যক্ষবাদের ছোঁয়াও তাতে লেগেছে। মার্কসবাদ, আমাদের অজানা নেই যে, বুর্জোয়া অর্থনৈতিক বিকাশের ব্যাখ্যা দেয় যা ঐতিহাসিক বিবর্তনধারার সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক পশ্চিমি সমাজের উত্থান ও বিকাশও ঘটেছে এ-পথে। টেরা নোস্ত্রায় এই মার্কসবাদী প্রেক্ষাপটটি বেশ স্পষ্ট; বেশ কঠোর ও গভীরভাবে এই পশ্চিমি সমাজ ও রাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন ফুয়েন্তেস।
মানবেতিহাস, ফুয়েন্তেস মনে করেন, অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে, টেরা নোস্ত্রা 888sport alternative linkের ন্যারেটিভের কাঠামোটি মার্কসবাদী সামাজিক-রাজনৈতিক বিবর্তনবাদী তত্ত্বের ওপর ভর করে গড়ে তোলা হয়েছে। মার্কসবাদ সামাজিক বিবর্তনকে মূলত চার ভাগে বিভক্ত বলে মনে করে : আদিম সাম্যবাদী সমাজ, দাসপ্রথা, সামন্ত সমাজ ও পুঁজিবাদ। ঠিক এভাবেই পশ্চিমি সমাজ বিবর্তিত হতে হতে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে এসে পৌঁছেছে বলে ফুয়েন্তেস মনে করেন। টেরা নোস্ত্রা 888sport alternative linkের কাহিনির পটভূমিও এরকমই।
আদিম সাম্যবাদী সমাজের কোনো প্রত্যক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি টেরা নোস্ত্রায় নেই। কিন্তু নানা ধরনের উল্লেখ ও ভবিষ্যৎ ইউটোপীয় ভাবনার সূত্র ধরে এই সামাজিক স্তরের কথা পেয়ে যাই আমরা। বিশেষ করে মানবিক বাসনা, যে-বাসনার মূল কথা হলো ভবিষ্যতে কোনো একসময় হয়তো সুন্দর এক পৃথিবীর অধিকারী হবে মানুষ, সে-ভাবনার পথ ধরে এই সমাজের কথা বলেছেন ফুয়েন্তেস। ফুয়েন্তেস দেখিয়েছেন, হারিয়ে গেছে সে-ভুবন, অর্জন করা যায়নি কখনই; অথবা হয়তো ঠাঁই নিয়েছে কেবল 888sport sign up bonusতে, স্বর্গের সেই 888sport sign up bonusকাতরতা ছাড়া যেন এখন আর কিছুই অবিশিষ্ট নেই। পেদ্রো – অন্যতম দ্রোহী এ-চরিত্রটি অন্য এক মুক্ত পৃথিবীর জন্য মহাসাগর অতিক্রম করেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজের প্রতিধ্বনি ঘটেছে এই পেদ্রোকে ঘিরেই। নতুন পৃথিবীর বীক্ষণটি কখনো ইউটোপীয় স্বপ্নকল্পনা, কখনো সমাজতান্ত্রিক সমাজের ভাবনাকে কেন্দ্র করে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছে টেরা নোস্ত্রায়। এ-888sport alternative linkের আরেকটি চরিত্র জুলিয়ান যে-সমাজ সংস্কারের কথা বলে, সে-সমাজের সাজুয্য খুঁজে পাওয়া যাবে ওই আদিম সাম্যবাদী সমাজের সঙ্গেই। জুলিয়ানের ভাবনায় যেন প্রোথিত হয়ে আছে সেই সমাজের 888sport sign up bonus, চরিত্রটিকে সেভাবেই নির্মাণ করেছেন ফুয়েন্তেস। তবে আদিম সাম্যবাদী সমাজের কথাটি টেরা নোস্ত্রায় খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। কেননা, এ-প্রসঙ্গটি এ-888sport alternative linkের প্রধান উপজীব্য বিষয় নয়, বরং টেরা নোস্ত্রার মূল বিষয় হচ্ছে সমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত সেই সমাজের সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক নানা অনুষঙ্গ পুঁজিবাদের প্রভাবে কীভাবে নষ্ট হয়ে গেল, তারই আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকতাবাদী এক বয়ান। পূর্বে, আদিম যুগে সমাজ ছিল সমতাবাদী, কিন্তু পরে – ফুয়েন্তেস দেখিয়েছেন, সমাজ নানাভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উদ্ভব ঘটে দাসপ্রথা আর সামন্তবাদী ও পুঁজিবাদী সমাজের। রোম সাম্রাজ্য আর মধ্যযুগের হিস্পানি সমাজকে কেন্দ্র করে এরকম ঘটেছে। ফুয়েন্তেস মনে করেন, এই দুই সভ্যতা একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠা লাভ করে, কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল একেবারেই বিপরীতধর্মী, পৃথক।
টেরা নোস্ত্রায় উল্লিখিত কল্পিত সময়ক্রমের একটা পর্বে রোম সাম্রাজ্য দাসত্বের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। এ-888sport alternative linkের তিবেরিও চরিত্রের ভাবনায় সিজারের উপস্থিতি এমন যে, সে-ই হচ্ছে রোমের বিশেষ মালিক। সিজারের কাছে তাঁর নিজের অস্তিত্বের বাইরে রোমের তাই কোনো আলাদা অস্তিত্ব নেই। সিজারই রোম, রোমই সিজার। ব্যক্তি-অস্তিত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এভাবেই একীভূত হয়ে গেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজ থেকে দাসপ্রথায় রূপান্তরের ইতিবৃত্তটি এ-888sport alternative linkে এভাবেই স্থান করে নিয়েছে, আর সেই সূত্রে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত ধারণার উদ্ভব কীভাবে ঘটল – তারও উল্লেখ আছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রভাবেই যে পরবর্তীকালে আবার উৎপাদন-পদ্ধতি বদলে গিয়েছিল, সে-কথাও বলা হয়েছে টেরা নোস্ত্রায়। এভাবে লক্ষ করলে সামন্ত সমাজ থেকে পুঁজিবাদী সমাজে রূপান্তরের ছবিটি এ-888sport alternative linkের কল্পিত সময়ক্রমের উল্লেখযোগ্য দিক। মানবসমাজ যে এভাবেই একদিন সামন্তবাদী সমাজ থেকে পুঁজিবাদী সমাজে রূপান্তরিত হয়েছিল, টেরা নোস্ত্রায় সে-কথা বেশ স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে। সামন্ত সমাজের প্রভাবশালী সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক গাঁটছড়া কীভাবে দৃঢ় হলো, তাদের মধ্যকার ক্ষমতার সম্পর্ক কীভাবে জটিল হতে থাকল, তারও উল্লেখ আছে টেরা নোস্ত্রার ন্যারেটিভে। ফুয়েন্তেস দেখিয়েছেন, সামন্তবাদী অর্থনীতি জমি দখল আর তার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল ছিল। হিস্পানি সমাজে এরকমটাই ঘটেছিল। অস্ট্রীয় রাজাদের আদলে নির্মিত চরিত্র ফেলিপের ডান হাত গুজমানের মাধ্যমে স্পেনে কীভাবে এই মধ্যযুগীয় প্রথা কার্যকর হয়েছিল, তার ছবি পাই টেরা নোস্ত্রায়।
রাজতন্ত্রের পরবর্তী ধাপটিও চমকপ্রদ। ফুয়েন্তেস দেখিয়েছেন, এরপর উত্থান ঘটে শহুরে নাগরিক আর ব্যবসায়ী শ্রেণির। রাজতন্ত্রের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়। এসবই ছিল সামন্তবাদী অর্থনীতির ভিত্তি। কিন্তু একসময় এই অর্থনীতি মুদ্রাব্যবস্থার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, জমির ওপর নির্ভরশীলতা কমে যেতে থাকে। অর্থনীতি ভূমি নির্ভরতা থেকে সরে এসে মুদ্রানির্ভর হয়ে পড়ে। ভূমিদাস – যাদের বসবাস ছিল গ্রামে, জমিজমা ত্যাগ করে পাড়ি জমায় শহরে, গড়ে তোলে শহরকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বা দল। গুজমান ও তার পরিবারও এভাবেই হারায় তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি। হিস্পানি সামন্ত সমাজের এভাবেই পতন ঘটে। লক্ষণীয়, ফুয়েন্তেস এভাবেই মার্কসীয় ঐতিহাসিক সমাজবিবর্তনের দ্বান্দ্বিক তত্ত্বকে তাঁর 888sport alternative linkের মূল উপজীব্য বিষয় করে তুলেছেন। মার্কসের ব্যাখ্যা অনুসারে সমাজ ভিত্তি আর অধিকাঠামো – এই দুই স্তরে বিভক্ত। এই দুইয়ের আন্তঃসম্পর্ক আর দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই ঘটে সমাজ বিবর্তন। মধ্যযুগের পশ্চিমি সমাজে ভূমি থেকে আসা শ্রমিকেরা যখন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলো, তখন এর অর্থনৈতিক ভিত্তিও আমূল বদলে গেল। কৃষিভিত্তিক অভিজাত অর্থনীতি বাণিজ্যিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হলো। বাণিজ্যিক পণ্যের জন্যে এরপরই প্রয়োজন দেখা দিলো বাজারের, আর এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ভব ঘটে নতুন নতুন উপনিবেশের। মূলত এভাবেই উত্থান ঘটেছে বিশ্ব-উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের। আধুনিক বুর্জোয়া শ্রেণিরও বিকাশ ঘটেছে এই পথে।
ফুয়েন্তেস টেরা নোস্ত্রার ন্যারেটিভে পুঁজিবাদের আরেকটি দিকের কথা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিতে বিনিময়প্রথার বিলুপ্তি ঘটে গেলে সূত্রপাত হয় মুদ্রাব্যবস্থার। এই মুদ্রার সূত্র ধরেই সম্পদের ঘটে পুঞ্জিভবন আর পুঁজির সঞ্চয়ন – পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশে এই মুদ্রাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে টেরা নোস্ত্রার কাহিনিতে উল্লেখ করেছেন ফুয়েন্তেস। মুদ্রা বা পুঁজিই এর পর থেকে হয়ে ওঠে হেজিমনি বা আধিপত্যের ভিত্তি। ফুয়েন্তেস তাঁর ন্যারেটিভে দেখিয়েছেন, হ্যাপ্সবার্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হিস্পানি পুঁজিবাদ স্পেনের উপনিবেশবাদী নতুন বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। যুক্ত হয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকা আবিষ্কারের সঙ্গেও। কিন্তু এই আবিষ্কার স্পেনের জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং এই অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপনের পর স্পেন দেউলিয়া হয়ে পড়ে। ফুয়েন্তেসের ধারণা ছিল এরকমই।
মার্কসীয় ব্যাখ্যা অনুসারে সোনাকে মূল্যবান ধাতু হিসেবে বিবেচনা করায় বাণিজ্যের আরো প্রসার ঘটতে থাকে, ভবিষ্যৎ 888sport live chatায়নের পথ খুলে যায়। পুঁজিবাদে ধাতুর প্রতি এভাবেই উন্মাদনা দেখা দেয় বলে মনে করেছেন ফুয়েন্তেস। লাতিন আমেরিকার অবশ্য তাতে তেমন কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। আধুনিককালের মুদ্রাব্যবস্থাকে ফুয়েন্তেস তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন, টেরা নোস্ত্রার ন্যারেটিভে এর প্রতিফলন ঘটেছে। মার্কসের সূত্রে বিশ শতকের পুঁজিবাদী ব্যবস্থারও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন পুঁজিবাদী সমাজের নীতি-নৈতিকতা নিয়েও।
এভাবে বিবেচনা করলে টেরা নোস্ত্রা প্রগতির পক্ষ নিয়েছে। প্রতীক, উপমা, ন্যারেটিভের মধ্যে দিয়ে এই প্রগতি-ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে টেরা নোস্ত্রায়। এর ন্যারেটিভ ও কাহিনিতে পুঁজিবাদের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের তুলনা করে সমাজতন্ত্রের পক্ষাবলম্বন করেছেন তিনি। নানাভাবে দেখিয়েছেন, সমাজতান্ত্রিক সমাজের সদস্যরা ঐক্য আর সমগ্রতার সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। প্রকৃতির সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক থাকে গভীর। মানুষের সঙ্গে মানুষের এই যে সম্পর্ক, সংহতি, প্রকৃতি-সংলগ্নতা, এসবই ফুয়েন্তেসের 888sport alternative linkের মূলকথা। সোনালি যুগের একটা স্বপ্ন ছিল তাঁর, এ হচ্ছে সে-যুগের মানুষের কথা। ফুয়েন্তেসের আগ্রহ ছিল বিবর্তিত ইতিহাস সম্পর্কে। তিনি মনে করতেন, এই ইতিহাস কল্যাণকামী আদিম সমতাবাদী সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ নিজের কাছ থেকে, প্রকৃতির কাছ থেকে হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন। এমনটা ঘটেছে, ফুয়েন্তেস মনে করেন, সমাজে উঁচু-নিচু শ্রেণি সৃষ্টির অভিঘাত আর শ্রেণিকাঠামোর কারণে। সামান্য কিছু সাদৃশ্যের সূত্রে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হয় না, হয় সমসংলগ্নতা আর কাজের সূত্রে। কিন্তু শ্রমবিভাজন ও শ্রেণিবিভাজনের কারণে মানুষের সঙ্গে মানুষের একাত্মতা বোধ আর সমানাধিকারের বিষয়টি নষ্ট হয়ে গেছে। লুপ্ত হয়ে গেছে আত্মপরিচয়ের দিকটিও। ফলে মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। এ-প্রসঙ্গে টেরা নোস্ত্রার সেলেস্তিনার গল্পটির উল্লেখ করা যায়।
সেলেস্তিনার গল্পকে দুই স্তরের ন্যারেটিভে সাজিয়েছেন ফুয়েন্তেস : আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান ও নৈঃসঙ্গ্যের মধ্য দিয়ে চলে তার জীবন। সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদের দুই প্রান্তে তার অবস্থান। সেলেস্তিনার শৈশব কাটে বনে। তার গল্পাংশে পাওয়া যায় রূপকথার আমেজ। এরপরই ফুয়েন্তেস তাকে নিয়ে যান আদিম সময় আর স্থানে। অন্যদিকে আরেকবার তাকে স্থাপন করা হয় শহরে। এখানেই সে মুখোমুখি হয় এক শ্রেণিবিভক্ত সমাজের। বৃত্তিজীবী, ব্যবসায়ী, অভিজাত শ্রেণি, এমনকি একই ধর্মাবলম্বী খ্রিষ্টীয় মানুষেরাও এখানে নানাভাবে বিভক্ত, বিচ্ছিন্ন। দরিদ্রদের অবস্থা এখানে আরো করুণ। সেলেস্তিনার এই গল্পটি, বোঝাই যায়, রূপকধর্মী। সেলেস্তিনাই যেন হয়ে উঠেছে আধুনিক দুঃশাসিত রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতীক। সামন্ত সমাজ ও পুঁজিবাদের দুঃসহ ছবি এখানে স্পষ্ট।
টেরা নোস্ত্রার ন্যারেটিভে অব্যাহতভাবে পশ্চিমি জাতিগুলোর সামাজিক-রাজনৈতিক ভাবনা ও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। মার্কসবাদের প্রেক্ষাপটে এই সমাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফুয়েন্তেস। ইতিহাস হয়ে উঠেছে এই 888sport alternative linkে মার্কসবাদী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের উৎস। তবে ইতিহাসের সরল ব্যাখ্যা নয়, মার্কসবাদী দ্বান্দ্বিকতাকে সূত্র হিসেবে গ্রহণ করে ফুয়েন্তেস পশ্চিমি সভ্যতার পুনর্লিখন করেছেন। তবে শুধু মার্কসবাদ নয়, টেরা নোস্ত্রায় পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে প্রত্যক্ষবাদ ও মার্কসবাদ উভয়েরই প্রতিফলন লক্ষ করা যাবে। আধুনিক বুর্জোয়া কালের বা বিন্যাসের ছবিটি নিঃসন্দেহে টেরা নোস্ত্রার উল্লেখযোগ্য দিক। এরই ওপর ভর করে প্রবর্তন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং মেহিকোর মতো লাতিন আমেরিকার পশ্চিমি সরকারগুলোর। এ-দেশগুলোর সাংস্কৃতিক ভিত্তি নির্মাণ করে দিয়েছে প্রত্যক্ষবাদ – এই ছিল ফুয়েন্তেসের ধারণা। কিন্তু যে আলোকনপর্বের (enlightenment) ওপর ভর করে পশ্চিমি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল বলে মনে করা হয়, তা আর অক্ষুণ্ণ থাকেনি। ফুয়েন্তেস বলেছেন, এ-আলোকন পর্বের অবসান ঘটে গেছে পশ্চিমে।
মেহিকোর ইতিহাস বিচার-পুনর্বিচার করতে গিয়েও ফুয়েন্তেস প্রত্যক্ষবাদের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, মেহিকোর ইতিহাস এক ট্র্যাজিক ইতিহাস। রাজনৈতিকভাবে এর ইতিহাসকে ধ্বংস করার চেষ্টা যেমন হয়েছে, তেমনি এর ইতিহাস-ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধারেও সচেষ্ট ছিলেন কেউ কেউ। মেহিকোর আধুনিক ঔপন্যাসিকেরা তাঁদের 888sport alternative linkে এমন এক মেহিকোর কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন যে-রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হবে রাজনৈতিক আর সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা। কিন্ত এই জাতিগত আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও মেহিকোকে যুক্ত করা হয়েছে অকার্যকর প্রাচীন ভাবনা আর পৃথিবীর সঙ্গে।
টেরা নোস্ত্রায় ফুয়েন্তেস মেহিকোর ইতিহাসের এই প্রত্যক্ষবাদী ব্যাখ্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন। মেহিকোর ইতিহাসকে, ফুয়েন্তেস মনে করেন, নিয়ন্ত্রণ করেছেন যাজক আর সামরিক রাজনৈতিক শাসকেরা। উনিশ শতকে প্রত্যক্ষবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল লাতিন আমেরিকা। দার্শনিক উদারনৈতিকতার দ্বারা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসকে সেই থেকে ব্যাখ্যা করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। এখনো কেউ কেউ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেহিকোর ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করে থাকেন। নির্মাণ করতে চান এর রাষ্ট্রদর্শন। ফুয়েন্তেসের এই উদারনৈতিকতার প্রতি সমর্থন ছিল, টেরা নোস্ত্রায় এই ভাবনার প্রতিফলন আছে। কিন্তু ফুয়েন্তেস স্বপ্ন দেখেছিলেন সমানাধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটা সমাজ ও রাষ্ট্রের। কেননা, টেরা নোস্ত্রায় তিনি লক্ষ করেছেন, লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে নতুন করে জেঁকে বসেছে দাসপ্রথা, দিয়াজের স্বৈরশাসনে জর্জরিত মানুষ। ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে অনুসরণ করার যে-প্রবণতা শাসকদের পেয়ে বসেছে, তাঁর মতে সেটা ছিল অর্থহীন।
টেরা নোস্ত্রায় প্রত্যক্ষবাদী ভাবনার পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক উপস্থিতি লক্ষ করি আমরা। এরই সূত্রে মানবজাতি ও সমাজকে পুনর্বিচার করে দেখেছেন ফুয়েন্তেস। তিনি ভেবেছেন, আধুনিক সমাজে পুঁজিবাদের সূচনা যেমন হয়েছে, তেমনি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে তা তুঙ্গে ওঠে। মার্কসবাদ তীব্রভাবে পুঁজিবাদের সমালোচনা করে, কিন্তু প্রত্যক্ষবাদ আধুনিকতাকে দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিতে। টেরা নোস্ত্রায় ফুয়েন্তেসের দৃষ্টিভঙ্গি যেমন ইতিবাচক, তেমনি এর ধ্বংস বা পতনকেও তিনি পাঠককে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। টেরা নোস্ত্রায় তিনি গুরুত্ব দিয়েই উল্লেখ করেছেন, রেনেসাঁসের কালেই 888sport apkধর্মী আধিপত্যবাদী ভাবনা বা হেজিমনির সূত্রপাত ঘটে। যুক্তিবাদ এভাবেই ইউরোপীয় ভাবনার কেন্দ্রে চলে আসে। কিন্তু এই 888sport apkের দ্বারা মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে পশ্চিমের মানুষ। বাণিজ্যিক যুক্তিবাদের মধ্যে আটকে যায় তারা। মানবিক কাজকে গুরুত্বহীন করে তোলার ফলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কৃত্রিম আর সীমিত হয়ে পড়ে, মানবমুক্তির বোধ অনেকাংশেই অপসৃত হয়ে যায়। টেরা নোস্ত্রার তোরিবিওর মাধ্যমে ফুয়েন্তেসীয় এ-ভাবনারই প্রতিফলন লক্ষ করি আমরা। হিস্পানিবিশ্ব বা লাতিন আমেরিকা এভাবেই হারিয়েছে সমালোচনার দৃষ্টি, ভুলে গেছে সবকিছুই যে পরম বা প্রশ্নহীন নয়, তাকে অগ্রাহ্য করতে। সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে, ফুয়েন্তেসের মতে, নাগরিক জীবনের চাপে মানুষের জীবন রুদ্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষবাদী 888sport apkমনস্কতা আর পুঁজিবাদের চাপে অমঙ্গলবোধ বা দুষ্টচক্রেরই এখন জয়জয়কার। সেলেস্তিনাকে এই 888sport alternative linkেই দেখি, যুক্তিবাদের জালে আটকে গেছে তার জীবন। তৃতীয় বিশ্বের সংস্কৃতি সরে গিয়ে সেখানে জেঁকে বসেছে প্রত্যক্ষবাদী তথাকথিত কল্যাণধর্মী মার্কিন সংস্কৃতি। এরকম পরিস্থিতিতে সর্বজনীন প্রত্যক্ষবাদী সমাজের কথা বলা আজ অর্থহীন। প্রত্যক্ষবাদ কখনই মার্কসবাদের প্রতিস্পর্ধী হতে পারে না, পরিপূরক তো নয়ই। অথচ এই প্রত্যক্ষবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেহিকো অন্ধভাবে ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রকে অনুকরণ করে চলেছে। ফল হচ্ছে মারাত্মক। মেহিকোর বুর্জোয়া শ্রেণি হিস্পানি অতীত আর সংস্কৃতি থেকে নিজেদের বিযুক্ত করে ভুল পথে চলতে গিয়ে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমি দুনিয়া যে ভোগ্যপণ্যবাদী সমাজে রূপান্তরিত হচ্ছে, ফুয়েন্তেস মনে করেছেন মেহিকোর পথ সেটা নয়। ফলে টেরা নোস্ত্রায় এই পণ্যজীবী সমাজের অবসান চেয়েছেন ফুয়েন্তেস।
টেরা নোস্ত্রার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হচ্ছে, ফুয়েন্তেসের ভাবনায়, প্রগতিবাদী 888sport apkচিন্তা অসার, অর্থহীন। পুঁজিবাদী ভোগ্যপণ্য এখন বাণিজ্য ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বুর্জোয়ারা একে আয়ত্ত করেছে, এই ভোগ্যপণ্যের প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এর ফলে পতন ঘটেছে মধ্যবিত্তের। কসমোপলিটান ব্যয়বহুল জীবনযাপন করতে গিয়ে বা অনুসরণ করতে গিয়ে তারা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। ফুয়েন্তেস এভাবেই টেরা নোস্ত্রায় বিশ্বব্যাপী যে হতাশা, পতন, নৈরাজ্যের সূচনা ঘটেছে, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ধসিয়ে দিয়েছেন তথাকথিত প্রগতির মিথকে। ভেঙে-পড়া পৃথিবীর ছবি খুবই স্পষ্ট তাঁর লেখায়।
ফুয়েন্তেস ছিলেন প্রকৃতপক্ষে লাতিন আমেরিকার সেই প্রজন্মের লেখক, যাঁর লেখায় মূর্ত হয়ে উঠেছে হিস্পানি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যের কথা। এই মহাদেশকে ঘিরেই তিনি ভেবেছেন এমন এক বিশ্বব্যবস্থা আর মানব সম্প্রদায়ের কথা, যাদের উদ্ভব ঘটেছিল সেই প্রতীকী আদি সাম্যবাদী যুগে, কিন্তু বিকাশ যথাযথভাবে ঘটেনি। এর কারণ, ইতিহাস পুঁজিবাদের ভুল পথে অগ্রসর হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই টেরা নোস্ত্রায় পুঁজিবাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফুয়েন্তেস। একজন আধুনিক ঔপন্যাসিক হিসেবে এই মতাদর্শকে তিনি নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলকভাবে উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, কেমন করে আমাদের সেই যথাযথ, সংগতিপূর্ণ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেল। উদ্ভব ঘটলো ভুল পৃথিবীর। তবে শুধু এই পৃথিবী নয়, স্বপ্নকল্পনাময় ভবিষ্যত সুন্দর আরেক পৃথিবীর জন্যেও উন্মুখ ছিলেন তিনি। তাঁর লেখায় সেই স্বপ্নকল্পনাময়, ইউটোপীয় জগতের কথা আছে। আছে কামনা-বাসনা বিজড়িত মানবিক প্রেমের উজ্জ্বল ছবি। এই প্রেম, ফুয়েন্তেসের ভাবনা অনুসারে তৈরি করে দেয় এমন এক মানবিক ঐক্যের অভূতপূর্ব বীক্ষণ, সার্বিকভাবে মানুষের উচিত তা অর্জন করা।
স্বপ্নকল্পনার এই পৃথিবী আর ভবিষ্যতের সোনালি যুগ – এই দুইয়ের বিমিশ্রণে গড়ে উঠেছে টেরা নোস্ত্রার আখ্যানপট। এরই দ্বারা প্রাণিত হয়ে মানুষ নিজের সঙ্গে, প্রতিবেশীর সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে যাপন করবে সংগতিপূর্ণ এক জীবন। এরকম প্রতিবেশে পণ্যের গুরুত্ব অনস্বীকার্য, কিন্তু ওই পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রম, উৎপাদন আর শ্রেণিবিভাজনের নানা অনুষঙ্গ। টেরা নোস্ত্রার ন্যারেটিভ রীতিটি তাই ভাষার দিক থেকে বহুমাত্রিক। বর্ণনার নানা তলে, নানা আবেগ-অনুভবের বুনটে গড়ে তোলা হয়েছে এর আখ্যানাংশ। এর বহুমাত্রিক বয়ানের নানা প্রান্তকে লক্ষ করলে দেখা যাবে, মানুষ হয়তো একসময়ে ভাবছে, সে সংগতিপূর্ণ এক জীবন খুঁজে পেয়েছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের জীবন ও সময় বিচূর্ণ, খন্ডিত, বিচ্ছিন্ন। এখানে ভালোবাসার পাত্র-পাত্রীদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন বৃত্তে। 888sport alternative linkের শেষ অধ্যায়ে এই প্রেমিক যুগলের, অর্থাৎ পোলো ফেবো আর সেলেস্তিনার মিলন ঘটে ঠিকই, কিন্তু এই স্তরে পৌঁছেই যেন পূর্ণ হয় বিচ্ছিন্নতা, নৈঃসঙ্গ্য আর একাকিত্বের চক্র। ফুয়েন্তেস এভাবেই ইতিহাসের ধ্বংসকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। মার্কস যে শ্রেণিহীন সমাজের কথা কল্পনা করেছিলেন, এ-সমাজের অবস্থিতি তা থেকে যোজন যোজন দূরে। ফুয়েন্তেস জৈবিক নির্ধারণবাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, আধুনিক 888sport promo codeবাদের প্রেক্ষাপটে তিনি এই সনাতন পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে অস্বীকার করতে চেয়েছেন। টেরা নোস্ত্রা 888sport alternative linkটি সেদিক থেকেও উজ্জ্বল।
তবে ফুয়েন্তেসীয় ভাবনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি মার্কসীয় সমাজদর্শনে আস্থা জ্ঞাপন করেছিলেন। মার্কসবাদই হতে পারে, ফুয়েন্তেস মনে করতেন, আধুনিককালের নৈতিক ভাবনা ও মতাদর্শের ভিত্তি। আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক পদ্ধতি এই মার্কসবাদের আদলেই গড়ে নেওয়া জরুরি। মার্কসবাদেই ঘটতে পারে মানবমুক্তি। সমকালীন রাজনীতি ও সামাজিক ব্যাখ্যার সূত্রও আমরা খুঁজে পাই মার্কসবাদে। ফুয়েন্তেস মানবেতিহাসকে তাই মার্কসবাদের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন – টেরা নোস্ত্রা ন্যারেটিভের এটাই হচ্ছে মূল কথা। লাতিন আমেরিকায় ‘বুম’-পর্বের 888sport app ঔপন্যাসিকের তুলনায় কার্লোস ফুয়েন্তেসের অনন্যতা এখানেই। 