ফুলেরা একাকী কাঁদে

আমি তো ভ্রমর কিংবা প্রজাপতি নই যে,

ফুল ফোটাবার জন্যে আমার অতো তাড়া থাকবে।

কাজটা যতোই কঠিন হোক, তুমি তাকে

মেনে নিয়েছো ভাগ্যলিখন বলে;

গভীর তৃষ্ণা নিয়ে প্রতি পলে পান করছো

নিজেরই স্বপ্নের মধ্যে গড়ে তোলা ফুলেদের আশ্চর্য মদিরা।

একটুও বিস্মিত নই আমি তাতে।

একা একা চিরকাল এই দৃশ্য দেখে দেখে

ভ্রমরকে সঙ্গী করে উড়ে যাই দূর কোনো দেশে।

প্রজাপতি উড়ে আসে সাথে সাথে – কামনামদির কোনো

ফুলে তবু বসে না সে – বর্ণিল পাখায় শুধু জ্বলে ওঠে

কোটি কোটি নক্ষত্রের আলো;

সে-আলোতে পথ দেখি আমি,

করুণায় ভরে ওঠে দু’চোখ আমার।

শুধু ওষ্ঠ নয়, মাঝে-মাঝে বিষণ্ন চোখের তৃষ্ণা

অনায়াসে গ্রাস করে ফুলেদের আশ্চর্য বেদনা।

মধ্যরাতে আমি তার সঙ্গী হই, সমব্যথী হই

বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি : ফুলেরাও হৃদয়ের আকুলতা বোঝে;

ফুলেরা একাকী কাঁদে – লাঞ্ছিত পাপড়ির পরতে পরতে

   লেগে থাকে শিশিরবিন্দুর মতো

       শত শত অশ্রুর কণা।৪.৭.২০০৪

Published :


Comments

Leave a Reply