ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্টের 888sport sign up bonusকথা

একজনের হাতে প্রথম খণ্ড, Angela’s Ashes পাঠিয়ে দিয়ে বইটি পড়তে বলেছিল আমার মেয়ে। নাম শুনে আমার মনে প্রশ্ন

উঠেছিল, কে এই ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট? এঁর 888sport sign up bonusকথা, তা সে দুখণ্ডেই হোক আর দশ খণ্ডেই হোক, তা পড়তে হবে কেন ? পৃথিবীতে মানুষের হাতে সময় কম, আর সে তুলনায় নিত্যনতুন বইয়ের 888sport free bet অজস্র। কাজেই একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির জীবনী পড়ে সময় নষ্ট করা কেন? শুধু তাই নয়, লেখকের নাম যখন Frank McCourt তখন বইটির নামই বা অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ হলো কেন? কিন্তু বইটি হাতে নিয়ে একটু অবাক হলাম। বইটি শুধু সর্বজন প্রশংসিতই হয়নি, পুলিৎজার 888sport app download bdও জিতে নিয়েছে ১৯৯৭ সালে। ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কল অ্যাওয়ার্ড, রয়াল সোসাইটি অব লিটারেচার অ্যাওয়ার্ড, লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি পেয়েছে। লেখকের সহজ সরল ভাষা এবং বলতে গেলে প্রায় নিজের অজান্তে সৃষ্ট সরস lungs into bacterial স্টাইলেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা sponges’i করেছেন কেউ কেউ। এত প্রশংসার কারণটি খুঁজতে বেশিদূর যেতে হলো না। অজ্ঞাত এই লেখক তাঁর বইয়ের প্রথম পাতাতেই লিখেছেন, ‘শৈশবের কথা বলতে গেলে আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবি কীভাবে আমি বেঁচে রইলাম? আমার তো বেঁচে থাকার কথা নয়। বলা বাহুল্য, আমার ছেলেবেলাটা ছিল একেবারে শোচনীয়’ (‘The happy childhood is hardly worth your while, টিপ্পনি কেটেছেন লেখক)। তাঁর মতে, * Worse than the ordinary miserable childhood is the miserable Irish childhood, and worse yet is the miser- able Irish Catholic child- hood.’ তিনি ছিলেন এই শেষটির অধিকারী।

ফ্র্যাঙ্কের ভাষায় বলতে গেলে, অনেকেই নিজের ছেলেবেলার দুরবস্থার কথা খুব ‘বাহাদুরি’ করে বলে থাকে। কিন্তু আইরিশ ছেলেবেলার কাছে সেসব কিছুই নয়। দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, সর্বক্ষণ ভেজা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার একটি ঘর, একসারি বাড়ির পর সকলের জন্য একটি খাটা পায়খানা যার আশেপাশে বিষ্ঠা-পুরীষের গাদা, বাসায় অনবরত বকবক করতে থাকা মা, মাতাল অপদার্থ বাবা, গির্জায় বাক্যবাগীশ পাদরি, স্কুলে নিষ্ঠুর মাস্টার, সর্বদা খিদের জ্বালা, সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় জীবন। আর সবার উপরে ছিল বৃষ্টি! ফ্র্যাঙ্ক লিখছেন, ‘Above all-we were wet’ – বছরের প্রায় পুরো সময়টাই লিমেরিক শহরে ওদের ঘরটি ভিজে থাকত। সর্দি, কাশি, হাঁপানির নিশ্বাসের শব্দ‍ই ছিল জীবনের একমাত্র সত্য। ‘It turned noses into fountains, lungs into bacterial sponges’ ।

ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্টের জন্ম তিরিশের দশকের প্রথমদিকে নিউইয়র্ক শহরে। হতদরিদ্র এক পরিবার থেকে ভাগ্যের খোঁজে আয়ারল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে এসে হাজির হয়েছিলেন তাঁর মা অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় আর এক আইরিশ যুবকের সঙ্গে। বিশ্ব-মন্দার সেই দিনগুলোতে সেই যুবকও আয়ারল্যান্ড থেকে ব্রিটিশ পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে এসেছিল নিউইয়র্ক শহরে। তবে, যুবকটির কাজকর্মের দিকে যত মন না ছিল, তার চেয়ে বেশি মন ছিল নিউইয়র্ক শহরের চোরাই দোকানগুলোর দিকে। সেখান সেখানে তখন চলছে প্রহিবিশনের দিন। প্রকাশ্যে মদ বিক্রি বন্ধ। ফলে অলিতে-গলিতে চোরাই মদের দোকান। এক আইরিশ পরিবারের বাসায় দুজনের পরিচয়। যুবক ম্যালাশি (Malachy McCourt) তখন সদ্য তিনমাস জেল খেটে বেরিয়েছেন। নিজে দুঃখিনী বলেই কিনা কে জানে, ম্যালাশির জেল- খাটা দুঃখী চেহারা নিঃসঙ্গ অ্যাঞ্জেলার চোখে ভালো লেগে গিয়েছিল। তারপর দুজনের দেখা- সাক্ষাৎ শহরের স্পিকইজিগুলোতে (চোরাই মদের দোকান)। ফলে যা হবার তা-ই হয়েছিল। অচিরেই. ফ্র্যাঙ্কের ভাষায় অ্যাঞ্জেলার ইন্টারেস্টিং কন্ডিশন’ হয়ে গিয়েছিল। জানতে পেরে আইরিশ কমিউনিটির কয়েকজন জোর করে ওদের দুজনের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে, যাকে বলে গানশট ম্যারেজ। ম্যালাশি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ওদের বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় ফ্র্যাঙ্কের জন্ম।

বাধ্য হয়ে রুজি-রোজগারের পথ খুঁজতে হলো বাবা ম্যালাশিকে। কারখানায় শ্রমিকের কাজ পাওয়া গেলেও রাখা মুশকিল ছিল। প্রথম দু’তিন সপ্তাহের শেষে মাইনে নিয়ে যথারীতি বাসায় ফেরেন বাবা। খাওয়া-দাওয়া হয়, ঘর গরম করার কয়লা কেনা হয়। রবিবার দিন ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে বের হন। গল্প শোনান, সত্যিকারের এবং কল্পনার বীর আইরিশদের বীরত্বগাথার। মুগ্ধ হয়ে শোনে ছেলে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন কাটে না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেখা গেল মা সপ্তাহশেষে বসে রয়েছেন বাবার ফেরার আশায়, অনেক রাত গড়িয়ে দিয়ে অবশেষে মধ্যরাতে একসময়ে যখন ফিরে আসেন বাবা, তখন পাড়াপড়শিরা টের পায় তার উচ্চৈঃস্বরে গাওয়া আইরিশ গানের আওয়াজে। সম্পূর্ণ মাতাল হয়ে, সব টাকা-পয়সা উড়িয়ে দিয়ে, বাবা ফেরেন বাসায়। মার গালমন্দ শোনেন মুখ বুজে।

কেটে যায় চারটি বছর। এর মধ্যেই পাঁচটি ভাইবোনের জন্ম হয়েছে ফ্র্যাঙ্কের। ফ্র্যাঙ্কের পর এক ভাই, তারপর যমজ দুটি ভাই এবং সবশেষে একটি ছোট বোন। একদিন বাবা উধাও হয়ে গেলেন। মা দুই ছেলের হাত ধরে শহরের সব স্পিকইজিতে খুঁজেও হদিস করতে পারলেন না তাঁর। পাড়াপড়শিদের দয়ায় আর আইরিশ কমিউনিটির কারো কারো সাহায্যে কোনোমতে দিন যেতে লাগল। এভাবে আর কয়দিন? অবশেষে ওদের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মীয়স্বজন আর নিউইয়র্কের আইরিশ কমিউনিটির লোকজন ধরে বেঁধে একদিন জাহাজে তুলে দিল ওদের। বাবা, মা. ফ্র্যাঙ্ক, ছোটভাই এবং যমজ দুই ভাই ফিরে এল লিমেরিকে। সবচেয়ে ছোটবোনটি আসার আগেই মারা গিয়েছিল নিউইয়র্কে।

এভাবেই শুরু হয়েছে ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্টের 888sport sign up bonusকথার প্রথম খণ্ড অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ। দেশে ফিরে শুরু হলো মায়ের জীবন-সংগ্রাম। বাবা কখনো কখনো রোজগার করেন। তখন দু’বেলা কোনোমতে খাওয়া জোটে। তবে একনাগাড়ে কখনোই বেশিদিন কাজ করেন না, কদিন পরেই বাবার মাথায় ভূত চাপে। মদের দোকানে সপ্তাহের বেতন শেষ করে গভীর রাতে আইরিশ বীরত্বের গান গাইতে গাইতে ফিরে এসে ছেলেমেয়েদের ঘুম থেকে উঠিয়ে হাতে একটি করে পয়সা ধরিয়ে দেন। খুবই স্বাভাবিক যে, চাকরিটা কদিন পরেই চলে যায়। বড় ছেলে ফ্র্যাঙ্ক রাস্তা থেকে কয়লার টুকরো কুড়িয়ে এনে মাকে দেয়। মা নানাধরনের সাহায্যসংস্থা থেকে রুটি, দু-এক টুকরো মাংস নিয়ে আসেন। বাবাও মাঝে মাঝে “ডোলে’র লাইনে দাঁড়িয়ে এক প্যাকেট চিনি, একটা রুটি এসব নিয়ে আসেন। তা-ই দিয়ে পেট চলে পরিবারটির।

এর মধ্যেই দেশের আইন- অনুযায়ী স্কুলে ভর্তি হতে হয় ফ্র্যাঙ্ককে। সেখানে শিক্ষকদের বিরক্তিকর কচকচানি শুনতে মোটেই ভালো লাগে না। আরো এক যন্ত্রণা সেখানে। ফ্র্যাঙ্কের কথাতেই শোনা যাক: ‘One master will hit you if you don’t know that Eamon De Valera is the greatest man that ever lived.

Mr. Benson hates America and you have to remember to hate America or he’ll hit you. Mr. O’Dea hates England and you have to remember to hate England or he’ll hit you. If you ever say anything good about Oliver Cromwell they’ll all hit you.’ শুধু যখন শেক্সপিয়রের বা 888sport live footballের অন্য কোনো গল্প পড়ানো হয় তখন তা শোনে ফ্র্যাঙ্ক। সেসব গল্প আর বাবার মুখে শোনা গল্পের জগৎটা মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

এরই মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে যমজ ভাই দুটি মারা যায়। কিন্তু আবার আরেকটি ভাইয়েরও জন্ম হয়। রুটি, কাপড় আর বাচ্চার দুধের সন্ধানে পাগলের মতো আত্মীয়-স্বজন সকলের কাছে ঘোরাঘুরি করেন মা। অনেকেরই সহানুভূতি আছে কষ্টে থাকা এই মেয়েটি আর চার-পাঁচটি উপোসি শিশুর এই পরিবারটির ওপর। কিন্তু” তাদের সাধ্যই বা কতখানি? বাবা ছোটখাট একটা কাজ পেলে দু- একদিন ভরপেট খাওয়া হয়। কিন্তু কদিন পরেই তিনি আবার উধাও হয়ে যান। যখন ফিরে আসেন তখন চাকরি-বাকরি খুইয়ে আবার বেকার। স্কুল পালিয়ে এদিকে ওদিকে ঘোরে ফ্র্যাঙ্ক। কোনোদিন রাস্তা থেকে এক টুকরো কয়লা কুড়িয়ে আনে। কোনোদিন চুরি করে আনে একটা রুটি বা এক বোতল দুধ। দুরারোগ্য টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে একদিন প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় মা ওকে পৌঁছে দেন শহরের একটি ক্যাথলিক হাসপাতালে। ডাক্তার- নার্সরা কোনো আশাই দিতে পারে না জীবনের। তবু বেঁচে ওঠে ফ্র্যাঙ্ক। তবে চোখে একধরনের ক্রনিক ইনফেকশন দেখা দেয়।

ইউরোপে তখন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যে ব্রিটেনের প্রতি বাবার এত ঘৃণা একদিন সেখানে কাজের জন্য দেশ ছাড়েন বাবা। আশেপাশের অনেকেই গিয়েছে সেখানে। প্রতি শনিবার তাদের পাঠানো মনিঅর্ডার চেনাজানা অনেকের জীবনের মোড় ফিরিয়ে দিয়েছে। একদিন স্বামীকে স্টেশনে গাড়িতে তুলে দিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধেন অ্যাঞ্জেলা। কিন্তু আশা আর অভিজ্ঞতার দ্বন্দ্বে অভিজ্ঞতাই জয়ী হয়। যথারীতি, শনিবার পাড়ার সব বাড়ি হাসি আর গানে ভরে উঠলেও ফ্র্যাঙ্কদের বাসায় সে আনন্দ পৌঁছায় না। মা পথ চেয়ে থাকেন পোস্টম্যানের। পোস্টম্যান তাদের সামনে দিয়েই অন্য বাড়িতে চলে যায়। আশপাশের সবাই জানে যে পোস্টম্যান ওদের বাসায় থামেনি।

বাড়িভাড়া না দিতে পারায় এই বাড়ি ছেড়ে দূরসম্পর্কের এক মামার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। একটিমাত্র ঘরে সবাই মিলে থাকা এবং একপাশে গৃহকর্তার অবস্থান। ফলে গভীর রাতে মাকে যেতে হয় মামার বিছানায়। ফ্র্যাঙ্ক অস্পষ্টভাবে বুঝতে শুরু করে সব।

বয়স বাড়তে থাকে ফ্র্যাঙ্কের। নানাভাবে দুটো পয়সা উপার্জনের পথ খোঁজে সে। নিঃসঙ্গ এক বুড়োকে খবরের কাগজ আর বই পড়ে শুনিয়ে দু-চার পাউন্ড রোজগার করে কখনো। মহাজনি ব্যবসায়ী এক মহিলার পাওনা “টাকার তাগিদপত্র লিখে কিছু পয়সা আসে। খবরের কাগজের আইনসংক্রান্ত রিপোর্ট ঘেঁটে বের করা কঠিন সব আইনি শব্দ চিঠিতে ব্যবহার করে দেনাদারদের ভয় পাইয়ে দেয় সেসব চিঠি, মহিলার টাকা আদায়ের হার দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ফলে ওর আয়ও বাড়ে। কখনো রুটির কারখানায় ময়দার বস্তা পৌঁছাতে সাহায্য করে পাড়ার গাড়িওয়ালাকে। পোস্টঅফিসে টেলিগ্রাম বিলি করার চাকরি পায় এক সময়ে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয় চিঠি বিলি করতে গিয়ে। জীবনের প্রথম যৌন অভিজ্ঞতাও আসে এক যক্ষ্মাক্রান্ত মেয়ের কাছ থেকে। একদিকে যক্ষ্মার মতো রোগের ভয়, অন্যদিকে কড়া ক্যাথলিক পরিবারের আবহাওয়ায় বড় হতে থাকা ফ্র্যাঙ্কের মধ্যে নানারকম অপরাধবোধের জন্ম হয় মেয়েটির অকালমৃত্যুতে। এদিকে তার মনে তখন নতুন স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছে। এই অভিশপ্ত শহর আর অসুস্থ পরিবেশে থাকলে জীবন এমনিভাবেই শেষ হবে। তাই, যেমন করেই হোক, আবার ফিরে যেতে হবে আমেরিকায়। মাঝে মাঝে পয়সা জমিয়ে শহরের সিনেমা হাউসে আমেরিকান ছবি দেখে সে। সে জানে, এক সময়ে সেখানেই ছিল সে। সেখানেই জন্ম তার। কাজেই জন্মসূত্রে সে নাগরিক সেদেশের।

অবশেষে একদিন জমে তার হাতে জাহাজের টিকিটের দাম। ছোটভাইটিও তখন কিছু কিছু রোজগার করছে। তাই মাকে বলে একদিন নিউইয়র্কের জাহাজে চড়ে বসে। সম্বল সামান্য কিছু জমা টাকা, কিছু পুরনো কাপড়চোপড়, আর একখণ্ড কমপ্লিট ওয়ার্কস অব শেক্সপিয়র। জাহাজের লাইব্রেরিতে দস্তয়ভস্কির ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট দেখে সেটাকে ডিটেকটিভ 888sport alternative link ভেবে পড়তে শুরু করে দেয়। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর আগের দিন সন্ধ্যায় এক বিচিত্র যৌন অভিজ্ঞতা হয় ফ্র্যাঙ্কের। পরদিন নিঃসঙ্গ উনিশ বছরের এক তরুণ এসে নামে নিউইয়র্ক বন্দরে। জীবনের এই পর্বের কাহিনীর বিবরণ রয়েছে দ্বিতীয় খণ্ডে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘টিজ’, পরিপূরক নাম ‘এ মেমোয়ার’ (‘Tis, a memoir)\

জাহাজে পরিচিত এক পাদরি ওকে নিউইয়র্ক শহরের এক হোটেলে নিয়ে তোলে। তারপর পৌঁছে দেয় আইরিশ কমিউনিটির সমর্থক এক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীর অফিসে। নিউইয়র্ক শহরের একটি বড় হোটেলের মালিক ভদ্রলোক। তার কথায় সেই হোটেলে ঝাড়ুদারের চাকরি পায় ফ্র্যাঙ্ক। সপ্তাহে ছয় ডলার ভাড়ায় একটি ঘর নিয়ে শুরু হয় নতুন জীবন।

নিউইয়র্কের পথে হাঁটতে হাঁটতে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে তা হচ্ছে, আইরিশ নামের সাইনবোর্ড লাগানো অজস্র বার। তারই একটিতে একদিন ঢুকে পড়ে ফ্র্যাঙ্ক। বারম্যান নিজেও আইরিশ। ওর দিকে কটমট করে তাকিয়ে জানতে চায় ওর বয়স আঠারো হয়েছে কিনা। পাসপোর্ট দেখায় ফ্র্যাঙ্ক। পাসপোর্ট দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, তার আমেরিকান পাসপোর্ট কেন? ওর জবাব শুনে এক ক্যান বিয়র এগিয়ে দেয় বটে, তবে পরামর্শ দেয় যে আর দশটা নতুন আসা আইরিশের মতো জাহাজ থেকে নেমেই বাকি জীবনটা শুঁড়িখানায় শেষ না করে দিয়ে যেন এই বার থেকে বেরিয়েই বরাবর সোজা গিয়ে ফিফথ অ্যাভিনিউতে যে লাইব্রেরি বিল্ডিং দেখবে, সোজা তাতে ঢুকে একটি কার্ড করে নেয় এবং পড়তে শুরু করবে। কী বই দিয়ে পড়া শুরু করবে, তাও বলে দেয় সেই আইরিশ বারটেন্ডার, ‘লাইভস অব দি পোয়েটস’ পড়ো সবার আগে। তা-ই করে ফ্র্যাঙ্ক। শুরু হয় ওর বইয়ের জগৎ দেখা।

অপরিচিত নিউইয়র্ক শহরে সারাদিন হোটেলের কাজ করে ঘরে ফিরে গিয়ে ল্যান্ডলেডির নানারকম বাধানিষেধের মধ্যেও অনেক রাত জেগে পড়ে ফ্র্যাঙ্ক। হোটেলের মাইনে থেকে প্রতিদিন নিজের খরচের পর যা বাঁচে তা দিয়ে মায়ের কাছে প্রতি সপ্তাহে দশ ডলার পাঠায়। রাস্তায় স্যার লরেন্স অলিভিয়েরের অভিনীত হ্যামলেটের পোস্টার দেখে একদিন নাটকটা দেখতে যায়। হ্যামলেট নিয়ে কত রকমের চিন্তা ওর মাথায়। ‘I could understand Hamlet raging at his mother the way I did with my mother the night I had my first pint and went home and slapped her face. I will be sorry for that till the day I die … কিন্তু সেই মামাকে কোনোদিন ক্ষমা করা সম্ভব হবে না। ‘No, even if our Lord came back on earth and ordered me to forgive Laman Griffin on pain of being cast into the sea with a milestone around my neck, … I’d have to say, sorry, our Lord. I could never forgive that man, for what he did to my mother and my family. Hamlet didn’t wander around Elsinore forgiving people in a made up story, so why should I in real life.’

সিনেমাহলে চকলেট বার হাতে নিয়ে খেতে খেতে ঢুকতে বাধা দেয় গেটকিপার। খাবার নিয়ে হলে ঢোকা নিষেধ। ‘I’d have to con- sume it outside. Consume. He couldn’t say eat, and that’s one of the things that bothers me in the world the way ushers and people in uniforms in general always like to use big words.”

চোখটা ভোগায় অনবরত। লাল হয়ে থাকে, জ্বালা করে সর্বক্ষণ, পিচুটি পড়ে। তা-ই দেখে কথা হয় হোটেলে, রান্নাঘরে, খদ্দেরদের সামনে ওকে যেতে দেওয়া যাবে না। হোটেলেরই আর এক সহকর্মী ব্যবস্থা করে দেয় চোখের ডাক্তার দেখানোর।

একদিন ডাক আসে সেনাবাহিনী থেকে। সেটা ড্রাফটের যুগ, কোরিয়ায় যুদ্ধ চলছে। ফ্র্যাঙ্কের চোখ দেখে তখনি ডাক্তারের কাছে পাঠায় ওকে রিক্রুটিং অফিসার। চিকিৎসাশেষে যোগ দিতে হয় ট্রেনিংয়ে। ট্রেনিং শেষে ইউনিট কোরিয়ায় না গিয়ে উপস্থিত হয় জার্মানিতে। সেখানে চলছে তখন যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনের কাজ… ওর পড়ার বাতিক লক্ষ্য করেই এক্কে দেওয়া হয় নানারকম রিপোর্ট তৈরির আর সেসব টাইপ করার দায়িত্ব। যুদ্ধপরবর্তী জার্মানির কোনো কোনো অঞ্চলের মানুষের কষ্ট দেখতে পায় সে। চকলেট সিগারেট ইত্যাদি দান খয়রাত করে ইয়াংকি সৈনিক। পদোন্নতি পেয়ে কর্পোরাল হয় একসময়ে। সবচেয়ে পাঠিয়ে দিতে পারে লিমেরিকে। বড় কথা, মাইনের অর্ধেক টাকা.. একবার দু-সপ্তাহের ছুটি পেয়ে চলে যায় আয়ারল্যান্ডে। শহরের আরেকদিকে একটু ভালো এলাকায় ঘরভাড়া করে দেয় মা আর ভাইদের। মা একটা নতুন দিনের আভাস পান।

মিলিটারি ডিউটিশেষে আমেরি- কায় ফিরে গিয়ে নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনীর চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়ে ও আবার ফিরে আসে তার পুরনো জীবনে। তখন ওর মনে একটাই স্বপ্ন-কলেজে পড়বে, ডিগ্রি নেবে। বাসে মেট্রোতে বই হাতে কলেজ ছাত্রছাত্রীদের দেখে ওর আর কিছুতে মন লাগে না। জীবিকার জন্য কাজকর্মও করতে হয়। তবু একদিন গিয়ে হাজির হয় নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক পাশ না করায় ওকে নিতে অসুবিধেই হয় কর্তৃপক্ষের। তবে শেষ পর্যন্ত ওর সঙ্গে কথা বলে এবং ওর মিলিটারি সার্ভিসের খাতিরে ভর্তি করা হয় ওকে। নিজের আইরিশ উচ্চারণ আর ডিপ্লোমা না থাকার হীনম্মন্যতায় ক্লাসের আর সব স্মার্ট ছেলেদের মতো কথা বলতে লজ্জা পায়। তবু রাতে ক্লাস আর দিনে জীবিকার জন্য কাজ করে দিন যায়। বন্দর অঞ্চলের এক ওয়্যারহাউসে চাকরি করে ছুটিতে। জীবনবীমা কোম্পানির অফিসে কখনো কখনো পার্টটাইম কেরানির কাজ করে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ১৯৫৭ সালে সে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি শেখানোর ডিগ্রি পায় অবশেষে। পরের বছর যোগ দেয় একটি সেকেন্ডারি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে। সেখানেও বড় বড় ছেলেমেয়েদের ক্লাস নিতে গিয়ে নানারকম সমস্যায় পড়ে ছোটখাট চেহারার লাজুক ধরনের মানুষ ফ্র্যাঙ্ক।

ভাইদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই চলে এসেছে শুরু এ করেছে আমেরিকায়। সে বেশ নাম করতে টেলিভিশনের “নাপানের উঠতি 888sport live chatী হিসেবে। এক সময়ে ফ্র্যাঙ্ক নিয়ে আসে ওর বান্ধবীকে। অন্য ভাইবোনেরাও মাকে। বিয়ে করে স্কুলের এক আসে। বাবাওঁ এসে একদিন যোগ দেন আয়ারল্যান্ড থেকে এবং এসেই শুরু করেন আগের সেই অসেমতো জীবনযাপন। তবে এখন আর নিজের টাকায় নয়। ছেলের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে পয়সা নিয়ে বারে গিয়ে বসেন। অনেক রাতে বাড়ি ফিরে আসেন। একদিন মাতাল অবস্থায় জাহাজে চড়ে বসেন। ফিরে যান আয়ারল্যান্ডে। শোকে-তাপে এবং অবশেষে কিছুটা সুখের মুখ দেখে মায়েরও দিন ফুরিয়ে আসে ততদিনে। একদিন মারা যান তিনি। তাঁর মৃতদেহ চুল্লিতে পুড়িয়ে দেহভস্ম বাসায় নিয়ে আসে ফ্র্যাঙ্ক। কিছুদিন পরে দেশ থেকে বাবার মৃত্যুর খবর পায় একদিন। সব ভাইবোন মিলে আর একবার ফিরে যায় আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক শহরে। সে শহরও পালটে গেছে ততদিনে। রাস্তায় খালি পায়ে সর্দিকাশিতে জর্জর আধমরা শিশু আর বুড়োদের দেখা পাওয়া যায় না আর। পুরনো গলি আর টয়লেটহীন ঘরবাড়ির জায়গায় তৈরি হয়েছে বড়বড় অ্যাপার্টমেন্ট বাড়ি। পথের দু’পাশে সুন্দর আলোকিত ডিপার্টমেন্ট স্টোর আর রাস্তায় ঝকঝকে গাড়ির ভিড়। নর্দমার ক্লেদাক্ত দুর্গন্ধে আর সর্বক্ষণ ভরে থাকে না বাতাস। সেখানে, সেই লিমেরিক শহরেই, একদিন অ্যাঞ্জেলার দেহভস্ম বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে আমেরিকায় ফিরে যায় তাঁর সন্তানরা।

কী আছে অসীম দারিদ্র্য আর দুঃখের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা এই ছেলেটির এমন একটি সাদামাটা জীবনীতে? কেন এ বই দুটি পড়তে গিয়ে একেবারে শেষ না করা পর্যন্ত থামা যায় না? উত্তর দেওয়া সহজ নয়। বরং এই বই দুটিতে কী নেই তা-ই বলা যায় সহজে। কোনো ঘটনাকে সাজিয়ে সুন্দর করে বলার চেষ্টা নেই। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, আইরিশ ক্যাথলিকদের গোঁড়ামি এসবের কোনোটারই সমালোচনা করেননি। সরাসরি ব্যাকরণ আর বাক্যগঠনের কথা চিন্তা না করেই সব কথা বলে গেছেন। ঠিক যেভাবে সরাসরি বিশেষ কিছু চিন্তা-ভাবনা না করেই লিখেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক, কলেজে তাঁদের ইংলিশ কম্পোজিশনের ক্লাসে, তাঁদের লিমেরিকের ঘরের বিছানায়। এবং লিখে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘4’ পেয়ে গিয়েছিলেন মাস্টারমশাইয়ের কাছে। মনে হয়,

ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সাথে সুর মিলিয়ে বলা যায়, … the writes beautifully, in a distinct, conversational prose flow: he is direct, colloquial and very funny.’ শুনেছি সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী দেখে বোম্বাইয়ের এক বিখ্যাত নায়িকা নাকি এতে ভারতের দারিদ্র্য নিয়ে বাড়াবাড়ির অভিযোগ করেছিলেন। ফ্র্যাঙ্ক সম্পর্কেও হয়তো একই অভিযোগ ম্যাককোর্টের এই বই দুটি আনতে পারে আজকের আয়ারল্যান্ডের কেউ। তবু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, কোথাও কিছু বাড়িয়ে বলেননি লেখক, কমিয়েও না। যা বলা প্রয়োজন মনে করেছেন তা-ই বলেছেন, ততটুকুই বলেছেন। আর তার মধ্যেই পাঠক পেয়েছে অসামান্য উজ্জ্বল এক কাহিনী যা প্রতিটি লাইনে জীবনের প্রতি ভালোবাসায় আর সরসতায় ভরপুর।