অফিসে বসে সারাক্ষণই মনখারাপ করছিল অলীকের। এই বছর বিয়াল্লিশ বয়েসে এই মনখারাপ অনেকটা অসুখের মতো। বাড়িতে স্ত্রী সুরমা আছে, ছেলে রৌম্য আছে। বাড়িটিও নিজের তৈরি। বছর তিনেক হলো বানিয়েছে। মফস্বল শহরে সে থাকে। ডোমজুড়ে। অফিস কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে। সাততলা অফিসে, তার বসার চেয়ারটি জানালামুখো। শহরের বাড়ি আর অনেকটা আকাশ দেখতে পাওয়া যায়। এখন জুলাইয়ের 888sport cricket BPL rate, ঘনমেঘে ছায়াময় হয়ে আছে আকাশ সারাক্ষণই। মাঝে মাঝে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে।
এই মনখারাপের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। খুঁজেও পায় না। মনে হয় যেন কিছু নেই, কেউ নেই তার। মনে হয় এমন কোনো নিজস্ব মহিলা বান্ধবী থাকত, যার মুখোমুখি বসে কথা বলে অসুখ মুছে ফেলতে পারত। তেমন কি আছে কেউ? নেই। কেউ নেই। কেন মনে হয়? জানে না। কিছুই জানে না।
তো ছুটির খানিকটা আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েছিল অলীক। সিঁড়ির নিচে নজর করল এক মাঝবয়সী মহিলাকে, যেন কার জন্য অপেক্ষা করছেন। একমুহূর্ত চোখাচোখি হলো অলীকের সঙ্গে। দেখে ভালোও লাগল অলীকের। কথা বলতে ইচ্ছে করল। কিন্তু অচেনা, অপরিচয় – কীভাবে কথা বলবে সে? পাশ ফিরে ততক্ষণে অলীক রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে। হেঁটে হেঁটে যাবে রবীন্দ্রসদন পর্যন্ত। তারপর কোথায় যাবে এখনো স্থির করেনি। গত্যন্তর নেই যখন, হয়তো অনেক পরে বাড়ি যাবে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর অলীক পেছন ফিরে দেখল সিঁড়ির নিচে দাঁড়ানো সেই মহিলা তার পেছনেই হেঁটে আসছেন একই অভিমুখে। মহিলা তার পেছনে আসছেন জেনে ভালোও লাগল।
রবীন্দ্রসদনের ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে হাঁটছিল যখন অলীক, তখন হঠাৎ খেয়াল করল সেই মহিলা তখনো তার পেছনে হেঁটে আসছেন। একই অভিমুখ যখন, একদিকে হেঁটে যেতেই পারে।
অলীক ঢুকে পড়ে নন্দনচত্বরে। একটা চা খাবে কিনা? না। একটা সিগারেট খাওয়া যেতে পারে। একটি গাছের বেদিতে বসে পড়ে, যার উলটোদিকে দুজোড়া যুবক-যুবতী ঘনিষ্ঠ বসে আছে। অলীক সিগারেট ধরায়। সিগারেট ধরাতে নিচু হয়েছিল, একটু মুখ নামিয়েছিল। মুখ তুলে দেখল, তাকাল সামনের দিকে। সামনে সেই মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার মুখে পরিচয়ের ভঙ্গি এনে হাসছেন।
মহিলার মুখে সেই হাসি। ‘কি হলো, চিনতে পারছেন না?’
অলীক বলল, ‘কই না তো। কোথায় দেখেছি -’
‘খানিকটা দেখুন, দেখে চিনতে পারেন কিনা দেখুন।’
কিংকর্তব্যবিমূঢ় অলীক তাকিয়ে থাকে মহিলার দিকে।
‘আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম, আপনার অফিসে।’
‘তা গেলেন না কেন?’
‘আপনি আগে আগে বেরিয়ে পড়েছেন কিনা! সিঁড়ির সামনে দেখলেন, চিনতে পারলেন না। তারপর আপনার পিছু পিছু চলে এলাম।’
‘সত্যি, আপনাকে আমি চিনতে পারছি না।’
‘এখনো চিনতে পারলেন না? অথচ আগে আমাকে অনেক দেখেছেন।’
‘আপনার নাম?’
‘জয়তী। পাশে বসতে দিন, আরো দেখুন, মনে পড়বে।’
‘আরে বসুন বসুন। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, আমার খেয়ালই ছিল না।’
অলীক একটু ডানদিকে সরে যায়, জয়তীকে বসতে সাহায্য করে।
জয়তী বসে। তারই বয়সী। মাঝারি গড়ন। মুখে এখনো লাবণ্য ধরে রেখেছেন। তাকিয়ে দেখতে দেখতে মনে হয় কোথায় যেন দেখেছিল। একজন মহিলাকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতে থাকা বেশ অস্বস্তিকর। তাছাড়া উপায়ও নেই। চিনতে গেলে দেখতে তো হবেই।
জয়তী বললেন, ‘কি হলো পারলেন?’
‘না।’
‘আপনি তখন হায়ার সেকেন্ডারি পড়তেন।’
‘নন্দদার স্ত্রী না আপনি? দুর্গাপুরে থাকতেন। আমরাও থাকতাম। স্টিল প্ল্যান্টে বাবা চাকরি করতেন।’
‘মনে তাহলে পড়েছে?’ হাসেন জয়তী।
অলীক হাসবে কী, সমস্ত আনন্দ আশরীর বন্যার তোড়ের মতো বহে যায়। হায়ার সেকেন্ডারি মানে বছর আঠারো-উনিশ বয়েস তখন। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় সদ্যবিবাহিত জয়তী বৌদির দিকে তাকিয়ে সময় কাটত অলীকের। অলীক জানালার পাশে বসে পড়াশোনা করত, বিছানা থেকেও জানালা পেত। জানালা থেকে জয়তী বৌদিকে সারাক্ষণই দেখে কাটাত সে। দেখতে ভালো লাগত। তারই বয়সী একজন বউ দালানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিছু কাজ করছে, অনেকরকম ভঙ্গিতে তাকে দেখছে। দেখছে ঘরের ভেতর। দেখছে ছাদে। রান্না করছে। ভিজে শাড়ি শুকোতে দিচ্ছে। দেখে দেখে দেখা ফুরোতো না অলীকের। রাতে স্বপ্নেও দেখত। একটু-আধটু কথাও হতো।
অলীক বিস্ময়-বিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকে জয়তীর দিকে। ‘তুমি সেই জয়তী বৌদি? এতদিন পরে তোমার সঙ্গে দেখা হলো?’
‘রাস্তায় তোমাকে দেখে চেনা মনে হয়েছিল। তারপর একদিন আবিষ্কার করি তোমাকে। আমার অফিস মিন্টো পার্কে। তোমাদের বিল্ডিংয়েও অফিসসংক্রান্ত ব্যাপারে যাতায়াত আছে। তোমাকে একদিন দেখলাম লিফ্ট থেকে নেমে যেতে। লিফ্টম্যানকে শুধিয়ে তোমার অফিসের হদিস পাই। আজ যাচ্ছিলাম তোমার কাছে। তুমি বেরিয়ে আসছ, তাই পিছু পিছু চলে এলাম।’
‘তুমি চাকরি কর নাকি? নন্দদা?’
‘অত কথার কী দরকার? তোমার সঙ্গে দেখা হচ্ছে আমার, এটাই বড় কথা নয়?
‘সত্যি আমার ভালো লাগছে জয়তী, তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে।’ জয়তীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় অলীক। জয়তী হাত ধরে। এক উষ্ণতা, এক ভালোলাগা তৈরি হয়। জয়তীর দিকে তাকিয়ে থাকে অলীক। মনে হয় যেন অনন্তকাল তাকিয়ে থাকবে। মনখারাপের অসুখটা কেমন সরে সরে যাচ্ছে। ওইভাবে তাকিয়ে থেকে অলীক বলল, ‘তোমাকে সত্যি দেখছি না স্বপ্ন দেখছি?’
জয়তী কিছু বলে না। বন্ধুত্বের হাসি লেগে থাকে তার ঠোঁটে।
‘তুমি কোথায় থাকো?’
‘সন্তোষপুরে। একটি ফ্ল্যাটে। কোনো পুরুষ থাকে না। একা থাকি।’
‘মনখারাপ করে না?’
‘খুব। আজ খুব মনখারাপ।’
কিছুক্ষণ পরে জয়তী বলল, ‘তুমি কেমন আছ?’
‘ভালো নেই।’
‘আমার ফ্ল্যাটে যাবে?’
‘যেতেই পারি।’‘আমার মন ভালো হবে তুমি গেলে।’
‘না থাক।’
‘কেন?’
‘জানি না। তোমাকে দেখে যদি শুধু ভালো থাকা মেটে, দেখি শুধু আজ।’
‘দেখতে তখনো।’
‘তখন তো দেখেই ভালো থাকতাম।’
‘কেন এমন হতো বল তো?’
‘কীসের?’
‘তোমার আর আমার জীবনে বেঁচে থাকার দৈন্য, অন্ধকারতা?’
কিছু বলতে পারে না অলীক। হাতে হাত নিয়ে বসে থাকে। ভালো লাগে। ভালো থাকা নিয়ে থাকে। ভাবতে ইচ্ছে করে না। কিছুই ভাবতে চাইছে না সে। শুধু ভালো থাকতে চাইছে। সেই প্রথম যৌবনের স্বপ্ন খুঁজছে সে। ভালোলাগা খুঁজছে। এ এক পরমপ্রাপ্তি। এর জন্য কি মনখারাপ করেছিল আজ তার? প্রথম যৌবনে যাকে দেখে দেখে দেখা ফুরোতো না, ভালোলাগা নিয়ে থাকা যেত, আজ চল্লিশ-উত্তর বয়েসে পৌঁছে তাকে পেয়েছে, যেন উনিশ বছর বয়েস ফিরে পেয়েছে সে। সে জানে, তার মাঝে তেইশটি বছর বহে গেছে। এই তেইশ বছরের যাপনের অভিজ্ঞতার ভেতরও জয়তীকে দেখছে সে। চমৎকার এক অনুভূতি। জয়তীও জানত তাকে দেখত সে। হাসি দিত, মাঝে মাঝে কথা বলত। কিন্তু আজ দেখা হওয়ার নন্দন যেন অভিজ্ঞতা খুঁড়ে দেখা হওয়া। সেই সময়ের নানা বলা কথা যেন বলতে চাইছে জয়তী। অলীকও বলতে চাইছে, শুনতে চাইছে। আজকের কথা বলা, হাত ধরা দিয়ে বুঝছে, তারা সেদিন কত ঘনিষ্ঠতা চেয়েছিল। আর আজ যে হাত ধরেছে, আজকের আকাক্সক্ষাও খুঁজে পেয়েছে।
কেন এমনটি হয়? জানে না অলীক। যাপনের ক্লান্তিগুলো খসে পড়ছে। আগতসন্ধ্যার আকাশ ছায়ামাখা। হয়তো মেঘ করেছে। জয়তীকে ভালোলাগা তার নতুন করে জোটে। জয়তী এখন একা থাকে। নন্দদার সঙ্গে সম্পর্কের অন্ধকারতা নিয়ে কথা বলছে না। জয়তীও চাইছে না। তারা তুমি দিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। আগে শুধু জয়তী বলত তুমি। বিবাহিতা হওয়ার এক সম্মাননায় আপনি ডাকত, বৌদি বলত। এখন তুমি বলছে, তুমি বলতেই চাইত তখন। হাত ধরছে, হাত ধরতে চাইত তখন। পাশের বাড়ির সমবয়সী বৌদি, যাকে দেখত সে, দেখে ভালো লাগত, স্বপ্নে দেখত, তাকে আজ খুঁজে পেয়ে মুহূর্তের আলো অধিকার করছে সে। জীবনে আলোহীনতা বড় একঘেয়ে লাগে। কিছু না থাকার অনুভূতি যেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সগোত্র। আলো, শুধু আলো নিয়েই থাকতে চেয়েছে সে। একগুচ্ছ আলো নিয়ে জয়তী দেখা দিল। এই অভাববোধের কথা জয়তীও বলছে। মনখারাপের কথা বলছে। কত মনখারাপ নিয়ে থাকা যায়।
জয়তী বলল, ‘চল, চা খাই।’
জয়তী ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সত্যি চা খেতে ইচ্ছে করছে অলীকের। অলীক বলল, ‘কোথায় যাওয়া যেতে পারে বল তো?’
জয়তী বলল, ‘এখন এখানে কাটাই। একসঙ্গে থাকা ভালো লাগলে আমার ফ্ল্যাটে যাওয়া যেতে পারে।’
অলীক বলল, ‘কী দারুণ বলেছ, একসঙ্গে থাকা ভালো লাগলে -’
জয়তী তাকায় অলীকের দিকে। বলল, ‘তোমার চাহনির মধ্যে ছায়াস্নিগ্ধ ব্যাপার আছে, যাতে আমার অন্ধকারগুলোকে লুকোতে পারি। তোমার ভালো লাগছে আমাকে?’
‘স্বার্থপরের মতো নিজেকে লাগছে – ভালো লাগছে।’
জয়তী হাসল। চা নেওয়া গেল। চা খেতে লাগল। বলল, ‘বেশ।’
শেষ-মেষ যাওয়া হলো জয়তীর ফ্ল্যাটে। তখন রাত আটটা। ততক্ষণে জয়তীর সঙ্গে দেখা হওয়া বেশ খানিকটা পুরনো হয়ে গেছে। জয়তী বলল, আজ আর ফেরা হবে না তার। জয়তী রান্না করবে। কথা বলে কাটাবে। মোবাইলে সুরমা ফোন করেছিল। জানতে চেয়েছিল ফিরতে রাত হবে কিনা। মোবাইল থেকে অলীক অদ্রীশকে ফোন করেছিল, বলেছিল তোর বাড়িতে আছি এটা তুই জেনে রাখ। সুরমাকে একটু পরে ফোন করে জানাব অদ্রীশের বাড়িতে থাকছি। অদ্রীশ বলল, ‘কোন হাঙরের পেটে আজ যাচ্ছিস?’ অলীক বলল, ‘বলব না। তোকে সুরমা ফোন করে যাচাই করতে পারে আমি তোর বাড়িতে আছি কিনা। তুই বলবি, এখানেই আছে।’ অদ্রীশ বলল, ‘তোর সঙ্গে যদি কথা বলতে চায়?’ ‘বলবি বাথরুমে গেছে।’ অদ্রীশ বলল, ‘ব্যাপারটা কি? কোথায় তুই? সত্যিকারের তোর সঙ্গ পেলে ভালোই কাটত আমার।’ অদ্রীশের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি আর অলীক। মোবাইল অফ করে দেয়।
জয়তী চা করে নিয়ে আসে। মুখোমুখি বসা হয়। সোফায় গা এলিয়ে কিছুক্ষণ থাকার পর কিছু ক্লান্তি মোছে। সুরমাকে ফোন করে। জানিয়ে দেয় আজ আর ফিরছে না। অদ্রীশের বাড়ি থাকছে। অদ্রীশের বাড়িতে মাঝে মাঝেই থাকে সে। বাস না চললে। অথবা নাটক দেখতে রাত হলে। স্রেফ আড্ডা জুটলেও।
জয়তী বলল, ‘তোমার বউকে ফোন করলে?’
‘হ্যাঁ।’
‘বুঝেছি। বেশিক্ষণ কথা বললে না।’
‘বলারও কিছু ছিল না। প্রায়ই ফিরি, আজ ফিরছি না। একথা বলার ছিল, বলেছি।’
‘তোমার এই অন্ধকার, বউ ভালোই চেনে বলো।’
অলীক হাসল।
জয়তী বলল, ‘তোমাকে দেখতে ভালো লাগছে।’
‘সত্যি?’
‘একশো ভাগ সত্যি।’
‘আমার সঙ্গে আজ তোমার দেখা হবে জানতে?’
‘দেখা হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। আমিই উদ্যোগী হয়েছিলাম, তোমার অফিসে তোমার সঙ্গে দেখা করতে। আগেই বুঝেছিলাম, তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে।’
অলীক বলল, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।’
‘কেমন লাগছে?’
‘দারুণ। আজ রাত জেগে কথা বলে কাটানো যেতে পারে।’
জয়তী হাসল।
‘হাসলে যে? কী ভেবে?’
‘বলব না। আমার কি ভাবনার গোপনতা থাকতে নেই?
‘নিশ্চয়। আলবাৎ আছে। যেদিন কলকাতার রাস্তায় দেখে আবিষ্কার করলে আমিই সেই দুর্গাপুরের পাশের বাড়ির ছেলেটি, তখন তোমার কী মনে হয়েছিল?’
জয়তী হাসল। বলল, ‘সমুদ্রের এক গর্জন বুকের মধ্যে বহে গিয়েছিল। তোমার কাছে নিজেকে খুঁজে দেওয়ার দ্বিধাচিত্ত হয়ে কয়েকদিন ভেবেছি। আজ কলকাতার সারা আকাশে মেঘ, কেমন যেন মনখারাপ বহে এলো। তোমাকে খুঁজতে ইচ্ছে করল। একটু আগে অফিস ছুটি করে তোমার অফিসে ছুটলাম। আর এখন তুমি আমার ফ্ল্যাটে, আমার মুখোমুখি। সন্ধ্যা গাঢ় হওয়ার পর রাত্রি এখন স্নিগ্ধ হয়ে উঠেছে।’ একটু চুপ করল জয়তী। তারপর কপালের বাঁ পাশ থেকে কিছু চুল সরিয়ে দিয়ে বলল, ‘আমার বয়েস দিয়ে তোমাকে খানিকটা চিনি?’
‘কী চেনো, বল?’
‘তুমি ছায়ার আঁধার খুঁজছ।’
অলীক কিছু বলে না। বলল, ‘তুমি গান জানতে না?’
‘তোমাকে আজ পেয়েছি, এটা কি গান নয়?’
‘তোমার বারান্দা আছে তো দেখছি। চল অন্ধকার বারান্দায় কিছুক্ষণ বসি।’
‘থাক এখানেই বোস। বরং ফ্ল্যাটের সব আলো নিবিয়ে দিই।’ জয়তী উঠে দাঁড়িয়ে আলোগুলো একটা একটা করে নেভাতে লাগে। ফ্ল্যাটটি পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। জয়তী হাতড়ে হাতড়ে মুখোমুখি সোফায় বসেছে। তার নিশ্বাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
জয়তী বলল, ‘এই অন্ধকার তোমার কেমন লাগছে?’
‘নিজেকে খোঁজার এক নৈকট্য আছে এই অন্ধকারের মধ্যে। প্রতিদিন বাঁচার ভেতর এই অন্ধকারে, যাপনের কিছু আলো আছে।’
‘তাহলে আমরা আরো কথা বলি এসো, আরো বাঁচি এসো।’
‘তোমার চিরুনি, বিছানা বালিশের গন্ধ শোঁকাবে?’
‘কেন?’
‘ওগুলোতে তুমি বাঁচো কিনা।’
জয়তী একটু জোরে হেসে ওঠে। ‘এই, আমি কিন্তু অন্ধকারে থাকতে পারছি না, আমার সঙ্গে আলো জ্বালাবে এসো।’
‘কেন, তুমি একা একা জ্বালাতে পারছ না?’
‘অন্ধকারে আমার ভীষণ ভয়!’পেছনে এসে অলীক জয়তীকে ধরে। জয়তী আলো জ্বালাতে যায়। জয়তীর পিঠ ছুঁয়ে সে-ও পিছু পিছু যায়। আলো জ্বলে। আলোকিত হয় সারা ফ্ল্যাট। জয়তীর হাসিমুখের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে মুখোমুখি হয় অলীক। তেইশ বছর আগের এ-ই সেই জয়তী বৌদি। যাকে দেখে, দেখার আনন্দ জুটত তার। আজ দেখা হলো, আর চলে এলো জয়তীর ফ্ল্যাটে। জয়তীর একা থাকার ফ্ল্যাট। নিজের বাসনাকে খুঁজে পেলে অলীকের মনে হয়, সে এত স্বার্থপর কেন? তার কি অসুখ করেছে? ৎ ১০/৮/০৪


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.