888sport app download apk

  • এই তো সেদিন… এখন আর

    আশিস সান্যাল এখন আর তোমার কথা ভাবি না। তোমার কথা ভাবতে গেলেই আমার শরীরে একটা অবসাদ দাপাদাপি করতে থাকে। অথচ তোমার জন্যেই একদিন আমি নির্মাণ করেছিলাম এই আশ্চর্য তোরণ আসলে এর মধ্যেই তুমি পালটে ফেলেছ তোমার খোলস। তাই চকচক করছে মেরুদ-হীন তোমার শরীর। লোভ আর হিংসায় এখন বিষাক্ত করতে চাইছ আমাকেও। এখন তোমার কথা ভাবতে…

  • এই তো সেদিন

    মোহাম্মদ রফিক এই তো সেদিন, মা ডাকেন, দাওয়ার ওপর থেকে, খোকা, এই খোকা, বাইরে শীত, জামা গায়ে দিয়ে যাও; এই তো সেদিন, দাদি কন, পাটিটা বিছিয়ে নিয়ে ভালো করে দুধে কলা, এবার মাখিয়ে নেও, সোনামণি; এই তো সেদিন এই বাবার সাইকেলে পিছে চেপে বৈটপুর সাইনবোর্ড বাদাল বনগাঁ তারপর কত দূর কত তেপান্তর, মরা খালে নদী…

  • ফাউ অর্থাৎ কনজুমার্স সারপ্লাস

    আসাদ চৌধুরী টিকা-টিপ্পনী-বিহীন জ্বলে-ওঠা আড্ডা-লাইব্রেরি (প্রকাশনা-সন-তারিখের নাম গন্ধ নেই)। তাত্ত্বিক এবং অ্যাকটিভিস্ট সিগারেট ভাগাভাগি করে, বাক্যে গরম হরফ নেই, তাদের আস্তিন যথাস্থানে, হয়নি গোটাতে। আমার নিজস্ব জ্ঞান-চর্চা এই মতো, বাপ-চাচাদের কাছ থেকে পাওয়া, (প্লিজ, আমাকে না দেখাবেন এথেন্স শহর, না হাইকোর্ট)। মনে-মনে আরো একবার হেমন্তের ইয়াব্বড়ো চাঁদটিকে শশি বলে ডেকে উঠলাম। এই নামে নবাগতা এক…

  • চড়াইভাতি

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী শীতকালে দু-দুটো দিন ছুটি পাওয়া যায়। পঁচিশে ডিসেম্বরের বড়দিন আর পয়লা জানুয়ারি। তারই মধ্যে ওরা একদিন দল বেঁধে এই অজ পাড়াগাঁয়ে পিকনিক করতে এসেছিল। ওরা মানে মাইল পঁচিশেক দূরবর্তী এক শহরের এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে। যে মিনিবাসে ওরা এসেছিল, তা থেকে সেদ্ধ ডিম, কলা, পাউরুটি, সবজি ও মাছ-মাংসে ভর্তি গোটাকয় প্ল্যাস্টিকের থলিও নামে আর…

  • হয়তো

    পার্থ রায়   একদিন – পৃথিবীর সব ঘড়িগুলো থেমে যাবে, সব কোলাহল থমকে থাকবে নিথর দিশেহারায়; জেনে নিও – সমাজের কানুনি কিতাব খেই হারিয়ে গ্রন্থাগারের নীরবতাকে মেনে নেবে; তখন – তুমি মাথা রেখ আমার প্রাচীন কাঁধে, হয়তো – নিশুতি শীতের রাতে ঝরা পাতাদের সাথে একটা ছেঁড়া 888sport app download apkর পাতা দূত হবে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে।

  • জলিধান

    মাসুদ পথিক   আগাছার বিপরীতে যে হারানো শস্যের বিহবল মুখ তার নাম জলি, জলি চাষার মেজো মেয়ে   আমি চুপিচুপি দেখেছি তার মনোলোভা বুক পুষেছি তার গোপন অসুখ   ওগো ধান, ওরে জলি তুই মাঠের শেষ গান তবে কে আঙিনা মাড়িয়ে নিয়ে যায় তোর সোনা রূপ   আমি আজ মূক, আমি নয়তো মাঠের বিষণ্ণ মুখ

  • ওমরান দাকশিনের জন্য

    জোবায়ের মিলন   অবনত হও পৃথিবী দাম্ভিক অহমিকা থেকে নেমে এসে মিশে যাও পায়ের স্যান্ডেলে, ঝরা পাতার ধূলিকণায়, নগণ্য ভাগাড়ে। প্যাগোডা, গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে মানায় না তোমায়। শিশুরক্তে রঞ্জিত তোমার হাত, দাঁত, লালসান্বিত চোখ।   ‘ভদ্র বিশ্ব’ বলে যাকে তুমি দাও সন্তান স্বীকৃতি তোমার সে-সন্তান বিকৃত লোভে বিনষ্ট বীজ তার থেকে জন্ম নিচ্ছে অযুত নিযুত…

  • ভুবন বেদেনির পাড়া

    আহমেদ বাসার   এখনো নেভেনি আলো – আরো কিছুদূর হেঁটে যাও ভুবন বেদেনির পাড়া হতে কিছুটা পশ্চিমে হেলে যে-পথ চলে গেছে জীবন-মাঝির কুটির ঘেঁষে তার শেষপ্রান্তে ঝুলে আছে আদিম হারিকেন যদিও নিভুনিভু – হাতে তুলে নিয়ে কিছুটা উসকে দাও আলো, চড়া দামের কেরোসিন যদি সম্ভব হয় কিছুটা কিনে নিও প্রগতির দোকান থেকে সভ্যতার সমস্ত বাতি…

  • অজ্ঞেয়

    সাবিনা ইয়াসমিন   কে জানত শুকিয়ে যাবে এইসব বিসত্মীর্ণ নদী মরে যাবে লাল চাঁদ এমনকি টইভুইজুড়ে জ্বলদর্চির মতো জ্যোৎস্নায় অপেক্ষারত অনড় অহল্যার শরীরে জন্ম নেবে দীঘল শষ্প আর, শীতঘুম ভেঙে কোনো এক ঘোরলাগা ভোরে কবি ফিরবেন বলে ওমে চোখ মেলবে আদুরী রোদ?   এও কি জ্ঞেয় ছিল ভালোবাসার চেয়েও বেশি কিছু জঙ্গম আছে সঞ্চারণশীল, প্রাণ…

  • তিনটি 888sport app download apk

    জিনাত জাহান খান দ্বিধা   আসমান থেকে নেমে আসা মেঘ-সিঁড়ি দ্বিধা ভারাতুর পায়ে, সে কী ভেঙেছিল?   দিঘির শালুকে একা কাঁপছে সময় – কাঁপছে ক্ষনেক জল, চোখের পাতায়।   মনে নেই, হাতে হাত রেখেছিল কিনা রেখেছিল কিনা মন মনের ভেতরে।     হুইসেল   অদ্ভুত সুন্দর এক শাদা কাগজ! পৃষ্ঠা জুড়ে আঁকা অসংখ্য চুল্লি­, প্যারেড…

  • তাহলে আয়েশা, তোমাকে

    আলোময় বিশ্বাস   যে রাতে হাঁসগুলি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে সেই আঁধারেই পাখা মেলেছে আলোকসুন্দর পাখিরা। শোনা কথায় ঢুকে পড়েছে সৌভাগ্যের কপাল আর ঝাঁপি খুলে ধরেছে পঞ্চতন্ত্র হ্যাঁ একেই বলে ত্রাসের যজ্ঞ। সে-রাতে সব কাক একসাথে ডেকে উঠেছিল সে-আঁধারে নক্ষত্র জ্বলে উঠেছিল বনবাদাড়ে কালো ছায়ায় বট শেওড়ার আড়ালে লুকিয়ে কাঁপছিল বাড়ির বেড়াল-কুকুর ঘটিবাটি গলে যখন…

  • আরো গভীরে আরো ভিতরে

    শিউল মনজুর এখানেই শেষ নয়। সামনে রয়েছে আরো অসংখ্য রহস্যময় পথের বাঁক। রয়েছে সোনালি পথের ধূলি। বাঁকে বাঁকে শালিক, টিয়া, ময়না ও নানা রং পাখিদের মুখ রয়েছে লুকিয়ে। আর মনে রেখো পথের ধূলিতে উড়ছে দশকে দশকে হারানো ডাক পিয়নের চিঠি অথবা মার্বেল খেলার দিন। অথবা কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে আছে নক্ষত্র বেদনার পাঠশালা। এখানেই শেষ নয়।…