888sport app download apk
-
কৃতঘ্নের জয়োল্লাস
ফেলে আসা সেই কৈশোরক-কালে সন্ধ্যাবাতি জ্বেলেই মা ডাক দিতো – এখন পড়তে বসো। মায়ের হাতে থাকতো রামসুন্দর বসাকের ‘বাল্যশিক্ষা’, কখনো-বা সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শলিপি’। ভোরে উঠে আবার সেই একই পাঠ। দশটা বাজতেই পৌঁছে যেতাম কালাচাঁদ পণ্ডিতের পাঠশালায় – কখনো হাতে থাকতো ‘বাল্যশিক্ষা’, কখনো ‘আদর্শলিপি’, কখনো-বা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘শিশুশিক্ষা’। ‘প্রভাত বর্ণনা’য় মদনমোহন যখন আবৃত্তি করতেন – ‘পাখিসব…
-
নেই, কেউ নেই
দুপুরে খালের জল থির, জোয়ারেও হাঁটুতক, শীতের শোষণে এতো কম! তদুপরি মাছ ধরে গেছে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার অপরূপে মনভোলা, যার ছায়া ফাঁকা পড়ে ঘোলা – শীতল বাতাসে তা-ই কাঁপে রৌদ্রহীন শোকে। হাঁড়ির শুকনো মুখে শিমের সালুন টেলে লাল মরিচের সাথে মেয়ে সেও দ্রুত এই শাড়ি গুটিয়েছে পায়ের গোছায়, এক প্যাঁচে বুকে দোফলা জমিন চেপে। নুয়েছে, করেছে…
-
এক দুই তিন
নতুন বউয়ের গুণে হাঁড়ি চড়ে গুনে-গুনে একদিন, দুইদিন। তৃতীয় দিনেই চুলো ফের হিম, কালো মুখে তার ফোটে না তো আর আলোক-উত্তাপ রঙিন।
-
অন্তর্লীন
নতুন রুটিনের ছাঁচে ফেলে নিয়ে নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছি, আমাকে আমি তুলে দিচ্ছি – রুটিন মালিকের হাতে! পাতে যা পাচ্ছি – তাই খাচ্ছি! যাচ্ছি বিউটি পার্লারে নিজেকে টেনে নিয়ে নিচ্ছি নতুন কোনো লুক! তাদের আগ্রহে স্মার্ট হতে হবে – নিজের সত্তা হারানোর বেদনায় যতই কাঁপুক বুক! হোগলা বা বাঁশের চটা দিয়ে…
-
অলকানন্দার তীরে
আমার কোনো দুঃখ নেই কতবার বলব কষ্টও নেই আমার সুখগুলো হাওয়ায় ওড়ে অহর্নিশ। হিজল গাছটার কথা মনে পড়লে মন বলে, কেন বড় হলি তুই? আমি তো বিশ্বাস করো বড় হতে চাইনি। শৈশব আমাকে বড় করে দিলো আচমকা – একদিন লাল নানু এসে বললেন, এই নে এখন থেকে সালোয়ার কামিজ ওড়না পরতে হবে – ফ্রক পরা…
-
আবুল হাসনাত : কালের স্বপ্নজন
আবুল হাসনাত ছিলেন প্রগতিচিন্তার নিরলস বাহক – কেউ কেউ বলেন প্রজ্ঞাবানের পাঠরুচির নির্মাতা। কবিদের ভাবনা বলে – স্বরূপের অনুসন্ধান ও মনোগঠনের পরিচ্ছন্ন এক ভাবধারা, আবুল হাসনাত জীবনজিজ্ঞাসার তাগিদে তৎপর ছিলেন। হাসনাত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত করে, গতি সচল চরিত্র মাধুর্যের নানান ‘উচ্চতা’ নিজস্ব উৎসাহে বিরতিহীনভাবে অব্যাহত রেখেছিলেন। সৃষ্টির মানবিক বোধের মর্মবাণী প্রতিফলিত। 888sport live chat-সাধনায় আবুল হাসনাত স্থির প্রত্যয়ের…
-
একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে
ঠিকমতো কিছুই হয় না বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় দরোজার মুখে কুলুপ আঁটা হয় না জামার একটা বোতাম সাবানে খাওয়া প্যান্টের ভেতর থেকে শার্টের বিদ্রোহ জুতোর ফিতে ক্ষুধার্ত বলে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারে না চশমার জানালায় মেয়াদোত্তীর্ণ কাচ দ্বিখণ্ডিত শ্বাসকষ্টে ঘড়ির কাঁটার নিশ্বাস নিভে আসছে সূর্য স্থির বলে কতদিন প্রিয়জনের সাথে দেখা হয় না তাই বলে পৃথিবীর…
-
রুবী রায়
আপনি আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালে শীত শীত অনুভব করি। আপনার জলপাই রঙের জ্যাকেট, খোলা চুল, চোখে চোখ রেখে দাবি নিয়ে কথা বলা দেখে আমি থতমত খেয়ে যাই। আপনি আমাকে অবাক করেই হাতে ধরিয়ে দেন গরম চায়ের কাপ। তারপর নদী আর 888sport promo codeর সৌন্দর্য নিয়ে আমার ভাবনা জানতে চান। আপনি আমার খোঁজ রাখছেন। এ-কথা ভাবলে আমি মোহাচ্ছন্ন…
-
উচাটন
দুর্নিবার বেদনার পাশে রৌদ্র-আক্রান্ত অপেক্ষা বৃহস্পতির দিকে মুখ করে বসে আছে উচাটন! প্রেম অপ্রেমের মগডালে ঝুলে আছে তাবৎ ঐশ্বর্য! যদিও আজকাল সবকিছু অন্যরকম গভীর ক্ষত আর মৃত্যুর মতো! আদিগন্ত গমক্ষেত, দলবদ্ধ ভেড়ার কৌতূহল পেছনে ফেলে চলো যাই পৃথিবীর শেষ লগ্নে। যেখানে নিখুঁত বিস্ময় থেকে হৃদয়ের ওপর গড়িয়ে পড়ে মার্বেলঘুড়ি। কালো মেঘের ভেতর দিয়ে উড়ে আসে…
-
স্বপ্নঘর
চুন-সুরকির পুরনো গাঁথুনির মতো ঝুপঝুপ খসে পড়ল আমার স্বপ্নঘর সেখানে কে হাত রেখেছিল নাকি দিয়েছিল ঝাঁকি থরে থরে সাজানো বাসন্তী ভালোবাসাগুলো চাপা পড়ে গেল থেঁতলে গেল প্রসন্ন মন আর তছনছ হয়ে গেল সঞ্চিত সকল সুখ তাকে ধরতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছি চিরুনি অভিযানে শুধু গোছা গোছা লোম ছাড়া কারো টিকিটিও মেলেনি সর্বনাশের মূলহোতাকে সন্ধান করতে করতে…
-
ক্লাবঘর
বৃষ্টি এলেই ক্লাবঘরে যাই – হালকা ভেজা, পুরো ভেজা সবাইকে সবাই পাই – কেউ আসে মাথলা মাথায়, কেউ আসে কলাপাতায়, কেউ বা আবার শিকভাঙা ছাতা। শালিক একটা ভিজে জবুথবু, বসেছে কাছেই কাঠের কার্নিশে টানা বারান্দায়। ছাগল ঢুকেছে বাচ্চাসহ এখনো পান চিবোয় – একটু বাদে চৌকাঠ ঘেঁষে বুকে পিঠে তারা শোয়। আছিয়া-আমেনা লুডু নিয়ে বসে যায়…
-
দখল
অঋব যেখানে যেখানে যেত, আমি এখন যাইবাবা যেখানে যেখানে যেত, আমি ঘুরে আসি সব অনায়াসে ঘুরে আসা যায় শূন্যস্থানপায়ে হাঁটা লাগে না চাইলেই ঘুরে আসা যায় বিষণ্নতা গুলিও বাবা যেসব জমিতে চাষ দিতেনবাবা যেসব জমিতে আঁচড়া ও নিড়ানি দিতেনআমিও তাই তাই করি মনকৃষিতে আমার ছেলে অঋব যেসব অবিশ^াস্য কাজ করতবা দুষ্টুমি করত, এখন আমিও করিএকা…
