888sport app download apk
-
নদী যখন নদীকে চুমো খায়
একটা নদী আর একটা নদীর কাছে জল চাইতেই পারে, নদীর সাথে নদীর মৈত্রী আছে বলেই সে খরস্রোতা বহমান উত্তাল-ঊর্মিমুখর ও হিন্দোলিত। একটি নদীর উৎসধারা কোনখানে থাকে নদী তা ভালো করেই জানে! নদীতে নদীতে স্বাভাবিক সখ্য! নদীর হিংসে নেই-আকচাআকচি করে না ঈর্ষাপরায়ণ তো নয়! হিংসালু হবে কীভাবে? জলের ভেতরÑহিংসার আগুন জ¦লতে…
-
ওহে মঙ্গলময়
ওহে মঙ্গলময় – মঙ্গল করো অমঙ্গল নাশি, বিশ্ব জগৎময়। আছে যত দুঃখ জরা, ক্লেশ কলুষিত আশ। করুণাসাগরে ভাসায়ে সবারে, পাপ-তাপ করো নাশ। আঁধার মোচন করো গো প্রভু, দেখাও আলোর দিশা। সৎপথে চলার সৎকথা বলার, জাগাও মনে তৃষা। নাহি হিংসা ক্রোধ শুধু মমত্ববোধ, বিরাজে সবার মনে। হানাহানি আর বিদ্বেষ প্রভু, দূর করো জনে জনে। জীবে প্রেম…
-
যোগ-বিয়োগের খতিয়ান
ক. বাঁধাধরা ইচ্ছেগুলো জটিল রাতের ঠিকানাতে, ডুব মেরে নম্রতা ভাঙে ; ঘুরতে থাকে ইঙ্গিতবহভাবে। বিশেষ ধরনের সীমিত প্রকাশবাদ ভিজে যায় নতুন দর্শনে – প্রচলিত সূত্র সব ক্রমান্বয়ে ভুলে যাচ্ছে রোজ। দোলাচলের খোরাকে খতিয়ান – জোড়া দিচ্ছে আশানিরাশার। – রসবাদ অসুখী বুঝি। দ্যোতকতা ছাড়া মন্ময় – তন্ময় খুঁজে পায় না রীতির কোনো…
-
জলচৌকি
ঢেউয়েরা কানে কানে কী যেন বলছে বটগাছ উড়ে গিয়ে মাঝনদীতে শেকড় গেড়ে বসলো, বটফল যেন প্রজাপতি … জলচৌকি পায়ে হেঁটে এসে গাছের নিচে থামলো একতারা হাতে ভেসে ওঠে, সাঁইজি জলচৌকির ’পর বসলেন, ধরলেন গান … মঞ্চ থেকে তেড়ে-আসা উচ্ছ্বাসের ঝাঁজে গানের সুর পুড়ে মরলো তিনি ইশারায় ডাকলেন, রাজঘাটে ভিড়লো সোনার ভেলা ভেলায় উঠতে গিয়ে পা…
-
সিজদামিতি
এটি একটি প্রস্থান। ফেরার সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে খুব কাছ থেকে ধূলিময় বাতাসে রাত আরতির অনুপম হাতে কেউ দাঁড়াবে না আর উঠোনের বাগানে ভেজা ওঁশের পাতা ঝরার গন্ধে বৃষ্টির লিরিক মিশে গিয়ে উড়ে যাবে দূরের দিগন্তে; বিমূর্ত আকাশের রং আলো… টুপটুপ করে ঝরে পড়বে অদূর গাছের ঘন ছায়ায় কেউ দেখবে না – মাটির পৃথিবী ভেঙে…
-
অবনত চোখ জানে
অহ নওরোজ কী তোমাকে খুশি করে – মাথার নিকটে অথবা বিভাব রাখে – অথবা কখনো পেয়ারা গাছের পাশে নরম বিকেলে পড়ে থাকা মৃদু আওয়াজের ভেতর তোমাকে আমাকে বারবার নিয়ে যায় – অথবা কীভাবে চির হরিয়াল রঙে অগণন রোদে তরুণ পাতার ভেতর তোমাকে পাওয়া যায় নিবিড় মেজাজে – সেসবের ইতিহাস বহু দিন আগে হাওয়ার পিঠে চড়ে…
-
কেল্লা
যা কিছু মাটি ফুঁড়ে ওঠে তাই হলো পাথরের কেল্লা গাছ হোক টিলা হোক সুখী ঘরবাড়ি হোক ওপর থেকে ছুটে আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে তীর প্রাকার থেকে ঢেলে দেবে জ্বলন্ত তেল যদি তুমি কাছে যাও অস্ত্র হাতে নিয়ে যা কিছু আঘাত করে তাই হলো পাথরের কেল্লা প্রেম হোক ঘৃণা হোক সন্তানসন্ততি হোক হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসবে রাশিরাশি…
-
বর্ণাশ্রম
তুমি-আমি শুয়ে আছি হঠাৎ দেখে মনে হবে সেতুর ওপর চওড়া নদী উঠে এলো এখন সেতুর গাম্ভীর্য ভেঙে ছুটে যাচ্ছে জল এখন দূরে দিগন্ত খুব গম্ভীর হয়ে আছে দিগন্ত থেকে রেলিং ওঠে রেলিং পেরিয়ে গেলে বামুন আরো বেশি বামুন হয় কায়েত আরো কায়েত শরীরের একফোঁটা রক্ত না মিশিয়ে তুমি-আমি যথাসাধ্য প্রেম করে যাচ্ছি
-
বত্রিশের সিঁড়িটা সেই থেকে
পাড় ভাঙা নদী পেরিয়ে তিনি উঠে এলেন। তিনি উঠে এলেন মেঠো সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে তামাটে বাঙালির চিবুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে দাঁড়ালেন তিনি আকাশের চেয়েও উঁচু হয়ে। তারপর সব নদী রক্তাভ সমুদ্র হলো বত্রিশ নম্বরের শাদা বাড়িটা ভেতো বাঙালির নিঃশঙ্ক শয্যা হলো। কে ডাকে? কোন শকুনেরা ডাকে আগস্টের ভেজাঘুম ভোরে? তিনি ওম শয্যা ছেড়ে নেমে এলেন বত্রিশের…
-
শ্লোকসন্তাপ
এই অনুজ্জ্বল জীবনের অর্থ কী? বন্ধু; ঝড়ের রাতের বিপন্ন প্রদীপ আমি, এইটুকু আশা নিয়ে বাঁচি যে নিভে যাওয়ার আগে যদি একবার উজ্জ্বল হয়। একটা জীবন হাসি-কান্নায় কেটে গেল ভাবলাম মৃত্যুর পর অবসরে যাব কিন্তু আমি তো জানি না, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবার জন্য না জানি কত দিন অপেক্ষা করতে হয়। কাল সবকিছু গ্রাস করবে জানি তবে…
-
নয়া বছরের চিঠি
নয়া বছরের হাওয়া এসে লাগছে আমার এ-গতরে আমিও তো ভুলে যেতে চাচ্ছি ফেলে আসা সব গত রে কিন্তু পাচ্ছি কোনো পার কী কিছু সুখ ভাসছে যে মনে ভালোবাসামোড়া – তাতে অবশ্য কার কী কিন্তু ছুটে যেতে চাই সঙ্গ কারো পাই বা না-পাই উতলা বৈশাখ বিজু সাংগ্রাই বিষু চাংক্রান বেচইন করে টানছে আমার প্রাণ তবে…
