888sport app download apk
-
সোনালি স্বপ্ন
সবুজ আগুনের চারা মাঠে মাঠে, বাতাসে দোল খায়। মেঘের ডানা খসে পড়ে আগুন পাতায়, মাঠের বুকে সবুজের ঢেউ। বৃদ্ধদিনে সোনালি রং ঝরে পড়ে সবুজ দেহে। প্রাণোৎসবে মেতে ওঠে মাঠ। একদিন বাবার আঙুলে ঝরে পড়ে সোনালি আভা – স্বপ্নগুলো শুয়ে থাকে উঠোন জুড়ে, শুকায় রোদ্দুরে।
-
অভিমান
অভিমানেরও নিজস্ব বারান্দা আছে … অনুভব ক্রুদ্ধ হলে, মাশরুমের মতো মেলে ধরি অবুঝ ডানা ঠিক তখন মানস উপবন বেয়ে একদল দুর্বৃত্ত ছুটিয়ে যায় – হোর্ডিংয়ে আঁকা নীল ঘোড়া তারপর শহরটা নিকটস্থ হলে ডায়েরি থেকে তুলে আনি, ঈশ্বরকে লেখা যাবতীয় শব্দাবলি
-
মাছ
উতলা ঢেউ তুলে মিলিয়ে গিয়েছ জলে অতলে প্রবেশ করে কোনো একদিন; একটি মাছ হবার যুক্তি দিয়ে এ হৃদয়ে খুঁজেছিলে প্রবল আস্থা; সুস্থির যাপন। আকাশের শরীরে সঞ্চারিত বেদনা আমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ভেঙে পড়ে আছে ডানা অথচ জলে প্রতিটি মুহূর্ত অসীম আনন্দদায়ক তবু তেতে ওঠো; ঠোঁটে রাখো নিরর্গল কাঁপন। অমন গলাকাটা লাশ হয়ে ভেসে যেতে থাকি…
-
ঘড়ির সময়
এখন ঘড়িতে কটা বাজে? ঘড়িতে কি এখন সময় দেখে কেউ? আমার তো ঘড়ি ছাড়া অন্য কিছু নেই! ঘড়ি যেটা আছে, তাও নোংরা ধুলো ময়লায় সয়লাব। ঘড়িটাকে ধুয়ে সকালের সোনালি রোদে শুকোতে দিই। শুকোতে শুকোতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে অন্ধকার জলে ডুবে যায় ঘড়ি। এখন ঘড়িতে কটা বাজে? আমি কোথায় কেউ কি বলতে পারো? হ্যালো, কেউ…
-
যখন সে, আর, ও ছিলাম
মাকিদ হায়দার দেখা যখন হলো না তখন দাঁড়িয়ে না থেকে অফিসে যেতে দেখি সেই তিনি। সাথে নূতন পুরুষ রাগ অভিমান হলো না কিছুই পায়ে, পায়ে, অফিসে এসে দেখি আমার ঘরের চেয়ারে অচেনা একজন আছেন বসে। আগে তাকে চোখে পড়েনি আমার, এমনকি, কোথাও দেখা হয়েছিল কি না কিছুতেই পড়ল না মনে। হাসি দিয়ে সেই তরুণীর নিকট…
-
শ্রাবণ ধারা
সামান্য লবণ কণা, একটু জিরে বাটা, সহযোগে আদা; অনুপাত ঠিক আছে, দ্যাখো তো? চাঁদ উঠল কি থালার ওপর। ঋতু পার হয়ে দুধ আসে সে জানে গোপন পথ Ñ অপেক্ষায় ব্যাকুল ডালিয়া। শোনো কৃষকমোহন, উনুনে রমণ কাঠে ও আগুনে নিরন্তর, দেহ গলতে গলতে – তুমি তো সেচন জানো, মাটির সরসতা; এখন শ্রাবণ, বাটি ভরা…
-
এ বিষণ্নতা কাটবে কবে
পদ্মার তীরে কুমিরের রোদ পোহানো দেখি না বহুকাল। দক্ষিণ কমলাপুরে গোরস্তানে বাবার কবরে যাবো যাবো করে চল্লিশ বছর কাটিয়ে দিলাম নানা ব্যস্ততার অজুহাতে। নীল লাবণ্যের নেপথ্যে অদেখা তোমার শরীর ক্ষমতা দেখে শালিকের মতো সম্মোহিত হই। উতরোল উপত্যকা পেরিয়ে তোমাকে নিবিড় কন্দরে বসুন্ধরার মতো কফিন ভাবতে হলো না আর – দু-চোখে আমার কাশবন শাদা বিষণ্নতা। সমস্ত…
-
ওরা
ওরা পার্কে-পার্কে ঘুরত জোড়া পায়রা ওরা মাঠেঘাটে উড়ত জোড়া শালিক ওরা নৌকা বিহারে যেত মরালমরালি ওরা এ ওর পিছন ছুটত দুটি চড়াই। ওরা সরস্বতী পুজোর জোড়া পলাশ ওরা হোলির লাল-নীল আবির ওরা আকাশের সূর্য ও চাঁদ ওরা মাটির ঘাস ও শিশির। ওরা হাওয়ায় ভাসত জোড়া পালক ওরা রোদ্দুরে হাসত জোড়া মোতি ওরা বৃষ্টিতে ভিজত দুটি…
-
কবি মাহমুদ আল জামান : স্বপ্নের বাতিঘর
(১ নভেম্বর কবি মাহমুদ আল জামানের প্রয়াণ দিবসে) তোমার নাম প্রত্যহ নির্মম বিষাদে গান করে দীর্ঘশ্বাসগুলি নদীর প্রতিভা পায় ঢেউ ওড়ে, বালি ওড়ে – শূন্যতার ভিড়ে না-ফেরা প্রিয় পাখির আগুন-ছায়ায় জীবন কী ফুরিয়ে যায় নির্জনতার তুমুল আঁধারে মনপোড়া ওই কবর-চিতায় মাঝে মাঝে মাঝরাত গল্প করে নিঃস্ব বেদনার; জানালায় ‘মা’ – আকাশ দেখে, ‘দিঠি’র চোখ ভিজে…
-
মানুষ ও ইতরের গল্প
এক দোয়েল আর এক প্রজাপতি উড়ে যেতে যেতে বলে : বেশ তো জমেছে মেলা, এক হুতোম আর এক প্যাঁচা কোটরে লুকিয়ে মুখ, কুতকুতে চোখ তুলে ভাবে মজা করে দেখা যাবে খেলা, এক হাঙর আর এক কুমির জলতলে বসে দিব্যি আরামে করে হাঁ এদিকে বনের সম্রাট তুলতুলে গোঁফে দেয় তা, তাহলে এই বাংলায় এখন মৃগয়ার মৌসুম …
-
সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তি
মিছিলে চলে, মিছিলে চলি, সেøাগান তুলি ক্ষীণ মিছিলে বাড়ে ভিড়। বিশ্বাস কি বুকের মাঝে ছিলায় টানটান! হতাম তবে তির। বন্ধুরা নাক সিঁটকে খোঁচ-দু’চোখে আজ দেখুক দ্বিচারী কী যে লোক! পড়তে পারে নিজের বুকে হাতটি অকস্মাৎ – নিজেকে দেয়া স্তোক। সব বুঝি না, যেটুক বুঝি ভাবনা-গড়মিলে নিজের কথাগুলো সব কথা কি পাথর-চাপা বুকের নীল অতলে চূর্ণ…
