888sport app download apk

  • কালবেলা

    (৬৬ বছর আগে খুব কষ্ট পেয়ে চলে গিয়েছিলেন জীবননান্দ দাশ) মেয়েকে একটা চিঠি লিখছেন জীবনানন্দ দাশ কুয়াশার স্রোতে ভেসে গেছে তাঁর দিনরাত-বারোমাস। ‘চাকরি হারিয়ে বুঝেছি জীবনে টাকা কত দরকার’; অভাবে অভাবে ভেঙে গেল তাঁর ধুলোমাখা সংসার। বালির ওপর জ্যোৎস্নার মতো প্রেম দূরে, বহুদূূরে – কাজ খুঁজছেন তিনি সকলের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে। শরীর ভালো না, প্রেসিডেন্সির…

  • তিন পা দিয়ে

    তিন পা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে          বেলা হলো অনেক বেলা এখন আমি গানের মাঝে          হেঁটে যাবো গভীর সাঁঝে কিন্তু আমার তিনটি পা যে! এক পা গেছে অনেক দূরে মামার বাড়ি দ্বিতীয় পা একলা আছে দাঁড়িয়ে আছে            সকাল থেকে; তৃতীয় পা দ্বন্দ্বমুখর হাঁটতে হাঁটতে            যুদ্ধে গেছে। পা হারিয়ে এখন আমি কোথায়…

  • ভাষা : বুকের বসন্তখোলা পাখি

    প্রথম ভোরের রোদে জ্যোতির্ময়-ভাষা পৃথিবীর প্রথম আলোর পাঠ বুকের বসন্তখোলা পাখি জানালায় যুবতী চোখের স্নিগ্ধ দ্যুতি স্বপ্নভূমি তোমার আলোয় অমানিশার যন্ত্রণা ঢেকে রাখি ভুলে থাকি যত দীর্ঘ হোক পথপ্রান্ত মাঠ-ঘাট তুমি আমার অনন্ত নদীভাষা সুবর্ণ ঠিকানা তুমি আমার গোপন ছায়া তুমি আমার ভালোবাসার স্বপ্ন অশেষ 888sport app download apk তুমি রাত্রিখোলা নির্জন অক্ষরলেখা মুগ্ধ খাতা জোছনা ফোটার বিরল…

  • সামুদ্রিক অভিবাদন

    আমার বর্ণমালা কালাপানির গর্র্ভজাত আলোকসন্তান   যারা প্রত্যুষের লাল হয়ে, ঝলমলে আলো হয়ে মুহূর্তে দখল নেয় পৃথিবীর সমস্ত ভূভাগ  সালাম জব্বার আর ফাগুনের সহজাত ভাই কি না লাল প্রিয়, প্রিয় তার রক্তাভ দরবারি পোশাক প্রাণদানে প্রাণজয়ী – চিরদিনের অব্যয়ীকুসুম। জাতিসংঘের বিস্তৃত হলঘরে জনকের তর্জনীর মতো যখন আমার বর্ণমালার রাজসিক উপস্থিতি ঘটে মনে হয়, এই বুঝি লালকেল্লার…

  • সূচক

    আমা‌দের জীবন এখন সূচ‌কের মান নির্ণ‌য়ে টা‌র্গেট ফিলা‌পের আঙটায় ঝু‌লে আছে। নদী ও জ‌লের সারল্য বোঝে না যেজন সে নিতান্তই  কসাই। অসম‌য়ে ধারাপাত খু‌লে ব‌সে‌ছে ভণ্ড না‌বিক। দিগন্ত অব‌ধি কেবলই অপছায়া শস্যহীন বিরানভূমি, রক্তাক্ত না‌ভিমূল। মূর্খ‌দের নগ্ন উল্লা‌সে আঁধার নে‌মে আসে। ভাষাজ্ঞানহীন  কর্কশ দিনরা‌ত্রির কা‌ছে জ্ঞা‌নের কো‌নো মূল্য নেই। স্মৃ‌তি-বিস্মৃ‌তির আয়নায় যেটুকু দেখা যায় অস্থির…

  • মারাদোনা

    রাজবিরোধী আমরা কজন তোমাকে রাজপুত্র ভাবে পক্ষীরাজ বা রথ না থাকুক, পদাতিকের পায়ের দাপে সবুজ ঘাসে ছন্দ জাগে, সে ছন্দে তো ছন্দ ভাঙা তোমার পায়ে বিদ্রোহ তার খুঁজল ভাষা আগুন-রাঙা রাজপুত্তুর স্বপ্নে থাকে, তাকে যখন ডেকেছে মাঠ স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এসে পেরিয়ে এসে ঘাট-বেঘাট জিয়নকাঠি ছুঁইয়ে দিয়ে প্রাণ জাগাল কী স্পর্ধায় একটা গোলক বর্শা হয়ে…

  • হাবা

    কোথাও যাব না বলে স্থির বসে আছি একা একা, গঞ্জনার তীরে বসে বসে পেছনের প্রতিও তাকাই দূর থেকে ঘাড় নাড়ে বেগানা হিজল  তবু মনে হয়, তার পাশে, আড়ঠারে  সর্প পাখি কীটেরাও মন্দভাবে ডাকে যেন আর যাবই না আমি   বেতের জঙ্গলখানি সাফ করে দিয়ে  পেছনের ঘুরপথও দশমুখে ডাকে খরাজীর্ণ প্রত্নমেলা সামনে নিয়ে  যাব না ফিরব তার কিছুই…

  • শীতপত্র

    এ শীত আছড়ে পড়ে অরণ্যের গানে – জঙ্গলের ডালপালা চিরে হাওয়া শীতল প্রাণে! এ শীত ছিটকে পড়ে হিম জলযানে – ভোরের নৈঃশব্দ্য ফুঁড়ে কুয়াশার ক্যারাভানে! শীতের গহিন ঘ্রাণে পরিযায়ী হিমেল ডানায় – আমি ছুটে যাই জঙ্গলের সবুজ মাচানে জেগে ওঠা দূরের ভাসানে – কুয়াশা মোড়ানো কোনো নিঝুম জংশনে! এ শীতে মুদ্রিত হয় ফেলে দেয়া পুরনো…

  • কুয়াশা-কবুতর

    গোধূলিঘেরা গ্রহের গন্তব্যে বয়ে গেছে তোমার নিশ্বাসের রূপরাস্তা আঁধার টলমল, তারা-টইটম্বুর। উৎসবের দিন, গন্ধ ম-ম হাঁড়িতে হাঁড়িতে রান্না হচ্ছে কান্না সন্ত্রাসের অভিমুখে শতশত শান্তি-হামলা তবু কথা মানেই কাঁটা সাইলেন্স সাইলেন্স, গোল্ডেন সাইলেন্স ওই তো শাড়িপল্লি, জনমভর বুনে চলি প্রয়াণের জামদানি। মোগল-ময়ূরের কেকায় ভেসে যাচ্ছি আজকের আমি-তুমি ধ্বংসের রাজতোরণ স্বাগত করছে সাবধান হুঁশিয়ার, সব চুপচাপ; নয়তো…

  • হাঁক

    রাজবাড়ির রাজার অন্দরমহলে রাজনটীর নূপুরের নিক্কণ চিৎকার – ঝিকিমিকি তারার মরীচিকা বাতাস গলে গলে আগুনফুল ফোটে,  এখানে মাতালের উদ্যাপন; বোবার বোধ জুড়ে যা কিছু ওড়ে – রঙিলা জলের অভিমুখে গ্রীবাঘেরা মখমল মনের সবই নিমগ্নতা … চন্দ্রকরোটি বোবাঘুমে গেছে বলেই – কেঁপে উঠেছে প্রাসাদের ভিত; রাজনটীর কানঘরে হিমশীতল লোহার দরজা; জ্যোতির্ময় চাপাকান্না। জল্লাদের জলজরক্ত পদ্মকলি গন্ধহীন…

  • চাকার উপহাস

    গুইসাপের পেট চিড়ে যে-শব্দ পালিয়ে গেছে তার পিছু পিছু এতদূর এসেছি, এসে দেখি ঝরা শিউলির গন্ধ চুরি করে আকাশে ভেসেছে নির্জন-মেঘ, শতাব্দীর কার্নিশ চুঁইয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে আমার হাতের তালুতে আর জঙ্গলপথের খোলস ছিঁড়ে হারিয়ে যাওয়া হরিণের বিহ্বল চোখের থকথকে ভয়ের ভেতর নিজেকে দাঁড় করিয়ে মাথা নিচু করে তোমাদের অধীনে গেছি, হে কোমল…

  • সুন্দরবন

    পৃথিবী এখানে ঘুমিয়ে থাকে – জেগে থাকে একটি নদী – ঝরনার ভাষায় সে-কথা বলে, পাখিরা এখানে বৃক্ষের মমতায় ডানা মেলে – জেগে থাকে একটি অরণ্য – পাতার বাঁশিতে সে সুর তোলে, প্রসব কাতর মাছেরা এখানে আশ্রয় খোঁজে – জেগে থাকে একটি জলঘুঘু – ক্ষুধার চোখে সে রোদ পান করে; এখানে বাতাসের সাথে জলের কণারা কথা…