ছোট গল্প
-

জিনিস
মাঝরাতের ঝগড়া, আস্তে আস্তে নয়, আবার তুমুলও বলা যাবে না। জহিরউদ্দিনেরই গলা শোনা যায়, ঝগড়ায় চন্দ্রার সংগত আছে বোঝা যায়, গলা তেমন শোনা না গেলেও। উঠান পেরিয়ে বড় ছেলে তমিজের ঘর। তমিজের বউ ছেলের মুখ থেকে দুধটা সরিয়ে নিতে নিতে গজগজ করে, রাইতদুফুরে কী শুরু করলো তোমার বাপে! কাইল সন্ধ্যায় সতেরো দিন পর হাসপাতাল ছাইড়া…
-

কালাপীর
লঞ্চ তখনো ছাড়েনি। কেবিনে শুয়ে জোসেফ ক্যাম্পবেলের পাওয়ার অব মিথ পড়ছিল নেহাল। অর্ধেকের বেশি পড়া হয়ে গেছে, এ-888sport slot gameেই পুরোটা শেষ করার ইচ্ছা। বই বন্ধ করে মোবাইলটা হাতে নিল। ফেসবুক ওপেন করে দেখল সমরকান্তির মেসেজ। লঞ্চে উঠেই চর কুকরী-মুকরী যাত্রার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল। সেটা দেখে সমরকান্তি লিখেছে, ভোলা হয়ে যাস। লঞ্চঘাটে আমি…
-

অন্যরকম ক্যারল
মানুষটি আপনমনে হেঁটে যেতে থাকেন। তাঁর ঝাঁকড়া সফেদ চুল হাওয়ায় ওড়ে। নিউজার্সির এই মধ্যরাত তাঁর কাছে অলৌকিক অথচ মায়াময় বলে মনে হতে থাকে। একটু দূরে ছড়ানো গমক্ষেত, অনুচ্চ পাঁচিলঘেরা কবরের জায়গাটিতে পাথরের পরি আর ক্রসচিহ্নগুলো চাঁদের আবছা আলোয় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। মালির সযত্ন পরিচর্যায় চারাগাছের ফুলগুলো ডিসেম্বরের হিমেল হাওয়ায় মাথা নাড়ছে। কী অপূর্ব সুন্দর রাতের…
-

বানেসা পরীর সন্ধানে
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপারে হরিপুর বহুদিন ছিল একটি আশ্চর্য সুন্দর গ্রাম। যন্ত্রের ছোঁয়া এখানে কতকাল লাগেনি। কুষ্টিয়া শহরের এত কাছে এই গ্রামজুড়ে ছিল আশ্চর্য রহস্যের হাতছানি। এই গাঁয়েরই আবদুল আজিজকে নিয়ে এগিয়ে গেছে এ-গল্প বহুদূরে। গড়াই ও পদ্মা নদীর মাঝখানে মাত্র তিন মাইল চওড়া এই ভূখণ্ড। কিন্তু লম্বায় অনেক বড় – শিলাইদহ, কুমারখালী ও খোকসাজুড়ে…
-

নোরার ক্যাসল অব ক্যাসাব্লাঙ্কা
কাতার থেকে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের বিমানটা জাহিনকে ক্যাসাব্লাঙ্কা এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলো। এখানে এগারো ঘণ্টার জন্য ওর যাত্রাবিরতি। ক্যাসাব্লাঙ্কার বিমানবন্দরে জটলা কম হয়। ভালো লাগে তার বিমানবন্দরের ভূমির সমান্তরালের ওয়েটিং লাউঞ্জটা। জাহিনের ইচ্ছা ছিল কোনো একটা বেঞ্চ একাই দখল করে লম্বা একটা ঘুম দেওয়ার। কিন্তু আজ ওয়েটিং লাউঞ্জে যাত্রী গিজগিজ করছে। কোথাও বসার জায়গাটুকুও নেই। ঘড়ি দেখল…
-

জিন্দেগির বায়োস্কোপ
ফাল্গুন চৈতের এই উদাইসা দুপ্ফর আসিয়ার ভালা লাগে না। কলিজাটা খা খা করে। ঠান্ডা শেষ অহনের লগে লগে আতখা দিন বড় হয়া যায়। নাইড়া গাছে নয়া পাতা ফুচকি দেয়। তাবিবি দেইখা আসিয়ার শান্তি লাগে না। দুপ্ফরের ভাত খাওনের বাদে পান মুখে দিয়ে আসিয়া একজেসি (একটু) বিছানায় কাইত অহনের লগে লগেই চোখে ঝিপকি আয়া পড়ছে। ছোট…
-

রোহিঙ্গা জাতক
কোনো এক বর্ষণমুখর সকাল। শ্রাবন্তী নগরে ঋষি আনন্দের আশ্রমে তরুণ শ্রমণদের ভিড় ঠেলে একজন আগন্তুক সামনে এগিয়ে যেতে চাইল। তার পিঠে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটা সোলার প্যানেল, এক হাতে আরএফএল কোম্পানির একটা বালতি, তার ভেতরে কাপড়ে জড়ানো একটা রাজহাঁস। হাঁসটা ভাঙা গলায় গাঁক গাঁক করে উপস্থিতি জানান দিলে আনন্দ ধ্যান ভেঙে তাকান। চোখের ইশারায় শ্রমণদের…
-

রঘুদা
আমার নাম আরএনসি। লোকে আমাকে আরএনসিবাবু বলে ডাকে। – আরএনসি মানে? – রঘুনাথ চৌধুরী। পদবি জমিদারের, আসলে স্ট্রিট বেগার। একসময়ের জমিদারের উত্তরাধিকারীরা স্ট্রিট বেগার হবেন না? – কেন? স্ট্রিট বেগার হবেন কেন? – ওঁরা তো লুটেরা ছিলেন। পাপ ছিল অনেক। পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে না পরের জেনারেশন? – সব জমিদার তো লোভী-পাপী ছিলেন না! – অধিকাংশই…
-

কাজলা দিদি
স্বপন কথাটা মাঝেমধ্যেই বলে। বর্ষা থেকে হেমন্ত পর্যন্ত বলে না সাধারণত। আমাদের তো কখনো মনে পড়ে না। ওর পড়ে। বেশি পড়ে শুকনোর সময়। শীতকালে খালপাড়ের দিকে মুখ-করা বাড়ির পুব-দক্ষিণ কোনার ঘরখানার ভেতরে কি বারান্দায় বসে থাকলে স্বপনের মনে পড়ে। তখন একটানা বলে চলে সে। চোখ থাকে খালপাড়ের দিকে। তবে সবচেয়ে বেশি বলে দুপুরের খাওয়ার পরে…
-

সেইসব পলায়নের গল্প
দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে পান আপনি? – এরকম একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল আমাকে, ইন্টারভিউ বোর্ডে, অনেক বছর আগে। আমি তখন তরুণ ছিলাম, প্রথমবারের মতো চাকরির চেষ্টা করতে গিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলাম সেই ইন্টারভিউ বোর্ডের। সেখানে যারা ছিলেন সবাই মিলে যেন পণ করেছিলেন – কোনো অবস্থাতেই হাসবেন না। গম্ভীর-ভীতিকর সেই পরিবেশে প্রশ্নটি ছিল আমার কাছে…
-

মৃত্যুযাত্রা
চাঁদটাকে মাঠের ঠিক মাঝখানে এভাবে গা এলিয়ে শুয়ে থাকতে দেখে সে এতটাই ধাক্কা খায় যে, তার তেমন অবাক হওয়ার কথাও আর মনে থাকে না। এতক্ষণ সে আকাশে চাঁদের অবস্থান দেখে দেখে দিক ঠিক করে পথ চলছিল। এই তো মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে সিগারেট ধরানোর জন্য চাঁদ আর রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে দেশলাইয়ের জ্বলন্ত কাঠিটার দিকে…
-

পরগাছা, অথবা অগ্নিস্রোতের ঢেউ
দুপাশের ঝাঁক ঝাঁক প্রকৃতি উদ্ভ্রান্ত হয়ে পেছনদিকে পালাচ্ছে। গাড়িটা ছুটে চলছে। মুরাদের এই এক স্বভাব, নিজের মরদাঙ্গি দেখাতে প্রায়ই বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এই স্বভাব এমনই তার রক্তে-মাংসে মিশে থাকে, ওমরের মনে হয়, অন্ধকারে একা থাকলেও সে যে-কোনোভাবে বেপরোয়া হয়ে কিছু একটা করে দেয়ালের সঙ্গে কষে ধাক্কা খায়। নইলে প্রায়ই তার মাথা ফাটা, হাত ফাটা থাকে…
