ধারাবাহিক 888sport alternative link
-
সেবার যখন মৌসুমি বায়ু এসেছিল
দেবেশ রায় দুই নতুন জলে মরণ সব জায়গাতেই ঘটতে পারে যেখানে বছরের দুটো-একটা ঋতু জুড়ে নতুন জলই নামতে থাকে, ঝরতে থাকে, পুরনো চেনাজলে ঘটে যায় নতুন বদল আর স্থলদেশ ও জলদেশের চোখ-সওয়া অবস্থান শুধু বদলায়ই তা নয়, বদলাতেই থাকে, একটা দেশের (স্পেস) ভিতর থেকে দেশমালা গুঁতিয়ে ওঠে, তলিয়ে যায়, ছিঁড়ে যায়, ভেসে যায়। আমাদের, বাঙালিদের,…
-
সেবার যখন মৌসুমি বায়ু এসেছিল
দেবেশ রায় সামান্য অপ্রাসঙ্গিক [এক-একটা লেখার সঙ্গে লেখকের এক-এক রকম সম্পর্ক তৈরি হয়। কখনো একটি বড় লেখা শুরু হওয়ার আগে দশ-বিশ বছর ধরে লেখকের সঙ্গে থেকে যায়, খায়দায়, ঘুমোয়, ঘোরেফেরে, ভুলে থাকে, চলে যায়, ফিরে আসে। তারপর কোনো একসময় আসে যখন গল্পটাকে নিজের ভিতর থেকে বের করে না-দিলে নিস্তার জোটে না। তখন শাদা কাগজ কালো…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক \ ২৬ \ আমরা এতদূর এসে অবধি ধারাবাহিক একটি গল্পের জন্যে যদি এখনো অপেক্ষা করে থাকি তাহলে স্মিতমুখ হয়ে উঠব। দেখাই কি যাচ্ছে না যে, আমরা এখন গল্পের ভেতরেই বাস করছি? আমাদের চারদিকেই এখন গল্পের অণু, কণা ও পর্বত এবং সমুদ্র। সৃষ্টির আদিতে যেমন – জল, বিশাল জল, পরে সংক্ষুব্ধ সেই জল,…
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ \ ২৭ \ রবি ব্যানার্জি সন্ধ্যার আগেই সেঁজুতিকে পৌঁছে দিলো আমরি হাসপাতালে। হাসপাতালে পৌঁছতেই সেঁজুতি কেমন হারিয়ে গেল রবি ব্যানার্জির কাছ থেকে। রবি ব্যানার্জি কাছে নেই, দৃষ্টির সীমায় নেই। মানুষের ভিড় আছে। তার মধ্যে হারিয়ে গেছে। সেঁজুতিও যেন হারিয়ে গেছে। শ্লথপায়ে ওয়েটিং রুমের ভিড়ে চলাচল করল কিছুক্ষণ। যেন তার চোখের দৃষ্টি নেই। এক…
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ ॥ ২৬ ॥ ফ্ল্যাটের গেটে ঢোকার মুখে সেঁজুতির দেখা রবি ব্যানার্জির সঙ্গে। রবি ব্যানার্জি থমকে দাঁড়ায়। ‘কী ব্যাপার, তুমি এতদিন পরে, কোথায় ছিলে?’ ‘এই কলকাতার বাইরে কিছুদিন কাটিয়ে এলাম।’ ‘এখনই ফিরছ?’ ‘এখনই, হাওড়া স্টেশন থেকে ট্যাক্সি ধরে এই নামলাম। – তো বউদি, হৃদয় আছে তো?’ ‘না, ওরা তো নেই। আমার সঙ্গে আর থাকতে…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক ॥ ২৫ ॥ মানুষের মন এমন, ভেতরের সব শক্তি দিয়ে শূন্যের ভেতরে সত্য ছবি তৈরি করতে চায়, এমন ছবি যা হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যাবে। নদীর বুকে নৌকো। নৌকোয় পা রাখবেন দেবী। মানবীর ছদ্মবেশে দেবী আজ। এভাবেই দেবী দেখা দেন মানুষের কাছে। তার ভেজা পায়ের ছাপ পড়ে নৌকোর পাটাতনে। পাটাতন তো নয়, জীবন!…
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ ॥ ২৫ ॥ একদল সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে সে চলেছে সমাজসেবা করতে গ্রাম-গ্রামান্তর পেরিয়ে। একইরকম শাড়ি পরেছে তারা। কণ্ঠে সুন্দর একটা গান গাইছে। পথশ্রমে ক্লান্ত হচ্ছে না। খালি পা, িস্নগ্ধ নিসর্গ। মানবসেবার গান। কে যেন তাকে বিরক্ত করে। তার সঙ্গে কথা বলতে চায়। গা ধরে নাড়ায়। ‘দিদি, দিদি।’ বুঝতে পারে সেঁজুতি, সে ঘুমিয়ে আছে। কে…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক ॥ ২৪ ॥ চা আনতে কন্ট্রাক্টর সাইদুর রহমানের সমুখ থেকে উঠে যায় কুসমি। – আপনে বইসেন খানিক, চা নিয়া আসি। বিস্কুট কি দেমো? তিনি হাত নেড়ে অস্পষ্ট একটা ভঙ্গি করেন, যার অর্থ দিতেও পারো, নাও পারো। সাইদুর রহমানকে আজ গল্পে পেয়েছে। কুসমি তাঁর দিকে খানিক নজর ফেলে দেখে নেয়। মনে হয় অনেকক্ষণ…
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ ॥ ২৪ ॥ কালং-এ বাসটি ঠিকঠাক নামিয়ে দিলো। এবার তমোঘœর বাসস্থান খুঁজতে হবে। সামনেই ছিল একটা পান-গুটকার দোকান। সে দোকানের পাটায় স্থানীয় এক মাঝবয়সী মহিলা বসেছিলেন। রাস্তাটা উঁচুতে, বাড়ি-ঘরদোর অনেকটা নিচু পর্যন্ত। তারপর নদী। বস্তির মতো চেহারা। হয়তো এটাকে গ্রাম বলে। মহিলার কাছে এগিয়ে যায় সেঁজুতি। ‘তমোঘœ কোথায় থাকে বলতে পারেন?’ মহিলা বাংলা…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক ॥ ২২ ॥ ইতিহাস শুধু মানুষকেই হত্যা করে না, ঘোড়াও ইতিহাসের হাতে নিহত হয়! হ্যাঁ, ঘোড়াও বাদ যায় না ইতিহাসের ধারালো খড়্গ থেকে, কিংবা বন্দুকের গুলি থেকেই। আমরা মানিকগঞ্জের সেই জমিদারবাড়িতে না হয় যাই, সেখানে সেই তিনটি ঘোড়া আমরা একবার এই সুবাদে দেখে লই। বড় শৌখিন নাম ছিল ঘোড়া তিনটির – ঝড়,…
-
একটি মেয়ে
আফসার আমেদ \ ২২ \ মা-বাবা বিছানা ছেড়ে কখন উঠে গেছে। কখন সকাল হয়েছে। সেঁজুতি ঘুম থেকে উঠছে না। আচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। কতদিন পর গ্রামের বাড়িতে এসেছে, সেই আনন্দে বিছানায় শুয়ে আরাম খাচ্ছে। সহজে উঠবে না। শুয়ে-শুয়েই বাড়ির হালচাল সব বুঝতে পারছে। দাদা নবকুমার আজ কোর্টে যায়নি। রূপ বারবার এসে পিসিকে দেখে গেছে। পুকুরে…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক \ ২১ \ আজ থেকে নদী তবে আর আমার নয়! এই আধকোশা এতকাল পরে তবে পর হয়ে গেলো। এখন সে সীমান্তের ওপারে! আর, সীমান্তই কাকে বলে? কোনো রেখা তো দৃষ্টিপথে নাই। আছে! র্যা ডক্লিফ সাহেবের টেবিলে বিছানো বাংলার মানচিত্রের বুকে লাল পেন্সিলের দাগ! যেন রক্তধারা! রক্তের রেখার ওপারে এখন আধকোশা। ওপারের ওই…
