ধারাবাহিক 888sport alternative link
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ১২ ঋভু আর অবন্তি চলে যাওয়ার পর কেমন যেন খালি খালি লাগছিল বাসাটা, এই অসময়ে কী যে করা যায় বুঝতে পারছিল না অংশু। সাধারণত এরকম ভরসন্ধ্যায় বাসায় ফেরে না সে, ফেরে একটু দেরি করে। আর বৃহস্পতিবার রাত হলে তো কথাই নেই। এখন অবশ্য আবার বেরিয়ে পড়া যায়, অপলাকে নিয়ে রাতের বেলা বের হওয়া…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ১১ অবন্তিকে বিদায় দিয়ে ফের বেডরুমে এলো ঋভু। বিছানাটা এলোমেলো হয়ে আছে। মুচকি একটু হাসলো সে, অনেক ঝড় বয়ে গেছে বেচারা বিছানার ওপর দিয়ে, বহুদিন পর। থাকুক, ওভাবেই থাকুক আজকে। ঘর জুড়ে একটা সুগন্ধ, অবন্তির শরীরের গন্ধ, থাকুক ওটাও। সে এলোমেলো বিছানাতেই সুগন্ধির ভেতরে ঘুমাবে আজ। কিন্তু এখন তো ঘুম আসবে না, কী…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ১০ আড্ডা আর তেমন জমলো না। হাসি-ঠাট্টা-তামাশা-দুষ্টুমি সবই হলো, কিন্তু ঋভু ঠিক অংশ নিতে পারলো না। সেও হাসলো বটে, কথার পিঠে কথাও বললো, কিন্তু বারবার মনে হতে লাগলো, এসবের কোনো মানে নেই। অবশ্য কিসেরই বা মানে আছে? এই প্রশ্ন মনে এলে কোনো উত্তর খুঁজে পেল না নিজের ভেতরে। সে বরাবরই বলে কম, শোনে…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৯ বাড়ির সামনে নেমে অবাক হয়ে গেল অবন্তি। এখানে সে অনেকবার এসেছে, কিন্তু এই বাড়িতে নয়। অনেক বছর আগে যখন এখানে আসতো সে, অংশু কিংবা ঋভুর সঙ্গে, তখন এটা ছিল একটা পুরনো দোতলা বাড়ি। দোতলায় বাড়িওয়ালা থাকতেন, নিচতলায় অংশুরা। একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ছিল ওদের বাসাটায়, ততটা খোলামেলাও ছিল না। ছোট সেই বাসায় অনেক…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৮ সকালে ঘুম ভাঙতেই অবন্তির মনে হলো, আজ সে কোথাও যাবে না। অবশ্য অংশু আর ঋভুর সঙ্গে আড্ডায় যাওয়া ছাড়া গত কয়েক দিনে অন্য কোথাও যায়ওনি সে। আজ ওদের কাছেও যাবে না। ঘুম ভাঙার পর প্রথম অনুভূতিটা এরকম হলো কেন, এ নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলো অবন্তি। রাতের কথা মনে পড়লো। ঋভুর বাসায় আড্ডা, আকস্মিক…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৭ অবন্তি আর অংশু চলে যাওয়ার পরও ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রইলো ঋভু। এখান থেকে রাস্তার বেশ খানিকটা দেখা যায়। ওদের গাড়িটা চোখের আড়াল হয়ে যাওয়ার পর কেমন এক শূন্যতাবোধ গ্রাস করলো ঋভুকে। নিজেকে একা আর নিরালম্ব মনে হলো। এরকম হওয়ার কথা নয়। একা থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সে। সত্যি বলতে কী, এরকম নিঃসঙ্গ…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৬ অবন্তিকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় অংশুর ইচ্ছে করছিল আরো কিছুক্ষণ পথে পথে ঘুরে বেড়াতে। শহরের নানা প্রান্তে তার নকশায় নানা স্থাপনা তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে সে একাই বেরোয় সেসব দেখতে, সাধারণত মাঝরাতে, যখন কেউ থাকে না আশেপাশে। কখনো-বা অপলাও সঙ্গে থাকে। একেকটা ভবন বা স্থাপনা সে অনেকক্ষণ ধরে দেখে। ভাবে, যা সে…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৫ ডিনারের পর অবন্তি যখন গভীর মনোযোগ দিয়ে ঋভুর সংগ্রহ করা ছবিগুলো দেখছিল আর ঋভু গিয়ে ওর পাশে দাঁড়িয়েছিল, অংশু দূরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্যটির দিকে কতক্ষণ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল। ঋভু ফিসফিস করে কথা বলছিল আর অবন্তি কান নামিয়ে এনেছিল ওর কাছে। কী সুন্দর একটা দৃশ্য, কী দারুণ মানানসই একটা জুটি! কেন যে…
-

জলের অক্ষরে লেখা
যদি এই চিঠি তোমার কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে দয়া করে একটু জানাও। তোমার যে ভুলোমন, এখনই জানাও প্লিজ, নইলে ভুলে যাবে। – এই কথা লেখা ছিল চিঠিতে। নিচে নাম লেখা লুসিয়া। এই নামের কাউকে ঋভু চেনে না, যদিও তারই ঠিকানায় এসেছে চিঠিটি। অবশ্য একে চিঠি বলা যায় না, অন্তত কেউ আর চিঠি শব্দটি ব্যবহার করে…
-

অ্যামেলিয়া
॥ ২৩ ॥ চারিদিকে অন্তহীন সবুজ। যতদূর চোখ যায় কেবল ভুট্টা, বিন, পালং, সেলেরি ক্ষেত। তার মধ্যে দিয়ে মসৃণ পথ। ক্ষেতখামার ভরা স্থানমাত্র যদি গ্রামাঞ্চল হয়, তবে, অমলিনী ভাবছে, আমেরিকা দেশটির কুর্নিশ প্রাপ্য। গ্রাম এখানে অবহেলিত নয়। সম্ভবত সকলেই নিজের দেশের গ্রামাঞ্চলের কথা ভাবছে, কারণ এই দিগন্তব্যাপী উৎকৃষ্ট ফসলের সম্ভার সবাইকে চুপ করিয়ে রেখেছে।…
-

অ্যামেলিয়া
॥ ২২ ॥ ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার … পথ মসৃণ, তবু রক্ত লেগে থাকে, ভাবি স্বর্গে আছি, কিন্তু ছিলাম নরকে। এক মাস পূর্ণ হলো রাইটাররা আইওয়ায় এসেছে। আজ সব শিকাগো গেল। সূর্যোদয়ের আগেই লম্বা এক বিলাসবহুল বাস এসে দাঁড়াল পার্কিংয়ে। ইয়াপের প্রতিনিধিরা তাড়া লাগলেন রাইটারদের। অমলিনী হাসিমুখে এসে দাঁড়াল তার ঘরের দরজায়। চোখে-মুখে ঘুমের আল্পনা।…
-

অ্যামেলিয়া
॥ ২১ ॥ জেরেমিস : কেন নয়? এমন মাঠ, এমন নীল আকাশ, রোদ্দুরে শুতে ইচ্ছে করে না? অমলিনী : [শুয়ে পড়ল দু’জনের মাঝে, গায়ে গা না লাগিয়ে] জানো, ছোটবেলায় আমরা এমন মাঠে শুয়ে পড়তাম। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা একটা ছোট গঞ্জে আমি বড় হয়েছি। কত বন্ধু! ছেলেমেয়ে কোনো তফাত করিনি। বন্ধু বন্ধুই। সকলে এটা বোঝে…
