September 2021

  • রায়পুরা থেকে ময়মনসিংহ

    রায়পুরা থেকে ময়মনসিংহ

    এগারো ১৯৬৮ সালে বিএ পাশ করার পর আমি আনন্দ মোহন কলেজে এমএ ক্লাসে ভর্তি হই। আমার বিষয় ছিল বাংলা। আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহের একটি নামকরা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক আনন্দ মোহন বসুর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ১৯০৮ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য তার আগে ১৮৮৩ সালে তিনি প্রথমে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আনন্দ…

  • আমার যত আঁকিবুঁকি

    কাজী রোজী সময়কালের ধারাপাতে    পঁচাত্তর পেরিয়ে গেলাম … পেছনে তাকিয়ে দেখি     নেই কিছু নেই – যা কিছু আমার ছিল     সবটাই নেই। কত নদী জল গেল ডুবসাঁতার হলো না আমার, কত কেচ্ছা গান হলো কোনোটাই রইলো না আমার এখন সময় কাল জানি দারুণ করোনার স্বেচ্ছাচার জানি না আর কতকাল থাকবে এ অস্থিরতা সেখানেই…

  • প্রেমিক না সন্তান

    সময় স্থির হয়ে গেছে তোমার উন্মুক্ত বক্ষের সামনে এসে। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে না বাতাসের প্রাবল্য দোলাতে পারে না কিছুতেই। পৃথিবী ঘোরে না সূর্যের চারিদিকে, গ্রহ-তারা নিজ কক্ষপথে, নদীতে গতি নেই, সমুদ্র পর্বতের মতো মৌন –                                      সময় স্থির হয়ে গেছে। এইসব সকাল বিকাল সন্ধ্যা সংগীতহারা কে নিল গান, কে নিল – কে নিল সুর, কে…

  • হৃদয়ের আগুন

    কীভাবে নেভাবো হৃদয়ের আগুন যখন দহন তীব্র হয়ে যাবে, বন্ধু তখন তো আমার একমাত্র ভরসা –                               এই চোখের পানি।

  • শেষ শিরালী

    তানভীর মোকাম্মেল শেষ শিরালীর মতো টেনে বজ্রাঘাত আপন  শরীরে  বাঁচাবে তুমি কিষানের চৈতন্য ধান সাধনায়  পাবে লুপ্ত সরস্বতী নদী তুমি ব্যর্থ হলে কবি নিভে যাবে প্রমিথিউসের মশাল আদমের জন্ম বৃথা যাবে শুরু হবে চরাচরে মড়কমারি ধ্বংস অকাল; চাঁদ তুমি এই বার্তা পৌঁছে দিও বেহুলার কাছে একজন আজো কী এক মাথুর মায়ায় ঊষার আলোয় আর কালো জোৎস্নায়    নদীপারে ঘুরে ঘুরে কেবলই…

  • ভাঙাপোড়া জোড়া পঙ্ক্তি

    হাসান হাফিজ ১. ডুবে যাচ্ছি 888sport app download apk-শব্দের খনি, কাব্যলক্ষ্মী পাতালে তোমার জানি না সামনে আছে কী প্রচণ্ড বাধাবিঘ্ন শত্রু পারাবার ২. শব্দের পিপাসা তীব্র, এত ঘন, আগে তা জানিনি কোনোদিন বিলম্বে জেনেছি, তবু স্বীকার করছি তার মাদকতা সুদমুক্ত                                                           ঋণ ৩. যেতে সে চেয়েছে যাক, গিয়ে যদি সুখী হয় আপত্তি কিসের আমার সান্নিধ্য হয়তো ওর কাছে…

  • ফেলে আসা দিন

    সুজিত বসু গলির মোড়ে প্রথম দেখি তাকে নরম ভোরে পথে পটের ছবি সর্বনাশই হাতছানিতে ডাকে দু-চোখ হলো প্রতীক্ষাতে লোভী গলির মোড়ে বাগানওলা বাড়ি গোলাপ গাঁদা মল্লিকা মালতী ফুলকে দিত মৃদু জলের ঝারি আর আমাকে লাগামছাড়া ক্ষতি বুকে তখন কচি ঘাসের ঝোপ গলার স্বরও ভাঙতে থাকে রোজ তার দু-গালে লজ্জাগাঢ় ছোপ না চাইতেই নয়নসুখী ভোজ অতীতে…

  • পিতলের ঘুঘু

    পিতলের ঘুঘু আমি, খুঁটে খাচ্ছি নিকেলের কণা ডানায় কালের চিহ্ন – 888sport live chatীর নিখুঁত কারুকাজ; তুলির রহস্য-মায়া, সাধনার অধরা কম্পন আমার গম্ভীর ডাকে প্রযুুক্তির বন ভারি আজ  দ্বিপ্রহর বাজায় নূপুর নাকি অদৃশ্য মর্মর অরণ্যের বুক জুড়ে নিরন্তর বহে ছেলেবেলা পড়ন্ত বিকেল ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস, হাওয়ার ঘর্ঘর  কণ্ঠে ঝুলে আছে তীব্র তৃষ্ণা, ঘু-ঘু ডাকছি কেবল

  • গল্পবৃত্ত

    সময় তোমাকে-আমাকে টোনাটুনির গল্পের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে আমি চাল আনি, তেল আনি, নুন আনি তুমি কোটনা কোট, বাটনা বাট আর অনন্তের চুল্লিতে জ্বেলে দাও অন্তরের আগুন সে-আগুনে রান্না হয় সুস্বাদু খাবার আমাদের চারচোখে বিভোর বিস্ময়

  • সংযোগটি বিচ্ছিন্ন আছে

    সুমী সিকানদার আত্মহননের সময়ে একমাত্র নেশা মৃত্যুকে সফল করা। যে আত্মাকে বিনাশ করছে বলে ভাবছে সে মূলত দেহকে বিচ্ছিন্ন করছে, পৃথিবীর সংযোগ থেকে পরিচিতদের সংযোগ থেকে সর্বোপরি নিজের সংযোগ থেকে। এখন সিলিংয়ের শান্ত পাখার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ সে মনে মনে মাপজোখ করে নিল দ্রুত সিøপিং পিল গিলে নিল নিশ্চিন্তে তারপর খুব কটকটে রঙের ওড়না নিজের…

  • প্রতিটি সহবাস

    প্রতিটি আশ্রয় আজ বাতিহীন গুমঘর হয়ে নিবিড় অন্ধকার ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি বিকেল এখন অসফল দিনের শেষ পথ খুঁজে না পাওয়ার যন্ত্রণা গুমরে কাঁদে। প্রতিটি রূপকথার মধ্যে ছদ্মবেশী সন্ত্রাস অসম্ভব রক্তচাপে থাকে সন্ধ্যার কলকাতা। প্রতিটি সহবাস এখন পাথুরে কোনারক শিথিল বাহুবন্ধে সরে যায় রাত্রির সোহাগ।

  • ঘুম

    পৃথিবীতে ঘুমের চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই সাদা ধবধবে জায়নামাজের মতো তীর্থ এক নাও বিছানা পেতে একবার ঘুমিয়ে গেলে – সহজেই মানুষ আর ফেরেশতার দূরত্ব ঘুচে যায়। ঘুম এক অমোঘ প্রার্থনা, নত হও জান্নাতুল ফেরদাউস – খোলা দরোজা গলে হাসে গোলাপ বাহার ফুল পাখি শারাবান তহুরা চঞ্চল শৈশব মাধবীলতা নিজেরই ছায়ায় বসে পাঠমশগুল আমছিপাড়া। হানাহানি…