January

  • মেঘের মতো কোমল

    মেঘের মতো কোমল

    ‘মানুষ এমুন  ক্যানে লালু?’ চোখভরা জল নিয়ে হিল্লি প্রশ্নটা করে ওকে।  উত্তরটা লালুর জানা নেই। সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে হিল্লির দিকে। নারকীয় দৃশ্যগুলো এ-সময় চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। সেদিকে মুহ্যমান লালুর হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। মনে মনে সে-ও হিল্লির মতো কাকে যেন অসহায়ের মতো একই প্রশ্ন করে, ‘মানুষ…

  • স্বাধিকার

    স্বাধিকার

    অগ্রহায়ণের শুরু। মাঠের ফসল উঁচু খামারে উঠতে শুরু করেছে। ঝাড়া-মাড়াইয়ের পরে সেই সম্পদ কয়েকদিন গেলেই গোলায় উঠবে। মুন্না ছোটখাটো চাকরি করে। সকালে বের হলে ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যায়। তাই বিঘেদুই জমি থাকলেও মাঠে যাওয়ার সুযোগ পায় না, যদিও জীবনের মূলস্রোতে সে চাষিবাড়ির ছেলে। তাই কি অগ্রহায়ণ এলেই মনের পরতে পরতে এতো বেশি খুশির আমেজে…

  • তর্জনীটি বাতাসে দুলে উঠলে

    তর্জনীটি বাতাসে দুলে উঠলে

    গলিপথে স্লোগান শুনে রান্নাঘরের জানালা থেকে উঁকি দিলো রাত্রি। মিছিল যাচ্ছে। খুব ইচ্ছে করল বারান্দায় গিয়ে গলির সেই শেষ মাথা পর্যন্ত লম্বা মিছিলটা দেখে। ‘জেলের তালা ভেঙেছি, শেখ মুজিবকে এনেছি’ বলতে বলতে হাঁটছে মিছিল। সেøাগানের আওয়াজে পাড়ার গলিটা যেন গমগম করছে। কালকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ রেসকোর্স ময়দানে…

  • সমাজের আবর্তে

    সমাজের আবর্তে

    এ-গলি সে-গলি ঘুরিয়ে কামালকে নিয়ে বিধান গেল বিরাট একটা দোতলা বাড়ির সামনে। ওপরে-নিচে কটা ঘর এক নিমেষে গোনা যায় না। একরাশ ভয় এসে জুটল কামালের মনে। বুকটা দুরুদুরু করে কেঁপে উঠল। এমন জায়গায় সে এসে পড়েছে, এখানে যদি হাড়কাঠে ফেলে কাউকে বলি দেয়, তাহলে কেউ টেরই পাবে না। লোকজন যে একেবারে নেই, তা নয়, দু-চারজন…

  • সমাধি

    (সুমনা ইসলামকে) যুদ্ধক্ষেত্রে যাব না আমি কিন্তু তোমার পায়ের কাছেই শহিদ হব। দেখো ডান পাশে ডান পা দেখো বাঁ পাশে বাঁ পা একখানে ধড় একখানে মুণ্ডু ছত্রখান হয়ে আছে মাংস ছত্রখান হয়ে আছে হাড়গোড় রক্তাক্ত হৃদ্পিণ্ড শুধু কথা বলে … যদি বুঝে থাকো সেই ভাষা যদি দাও শহিদের মর্যাদা আর অর্পিত ফুলের সাথে হৃদয়ের রং…

  • 888sport app download for androidসভা

    অভিভূত শব্দমালা পাশে সামনে ভবিতব্য, রুমঝুম ট্রাম পিছনে –                         ওহ! শোক মুখ থুবড়ে ছিন্নভিন্ন; স্রোতের মতন শুধু শোকার্ত 888sport app download apk – শুদ্ধতম হাহুতাশ। নিরুপায় ঈশ্বরী, দুহাতে রত্নখচিত সেসব দুঃখিত কৌতুক – প্রত্যক্ষদর্শীরা এর কিছুই জানে না দ্যাখে, শব্দ ও চিত্রের গহন শোকের সভা বক্তা, নিরীহ ঘাসফুল।

  • সম্পর্কের বিবর্তন

    দেখা হচ্ছে সকালবিকাল, সব দেখা বাসি   দুপুরে সন্ধ্যায়।  চোখ ঘুমহীন শীতলতা, আর প্রয়োজনস্বাদের অংকউঠোন।   ইচিংবিচিং খেলা পরিচয় প্রযুক্তির ধাবমান বেলা।       বলেছি কুশলকথা, কবে যেন আমরা হেসেছি ভাঙনের পাশে? স্পর্শগুলি প্রতিদ্বন্দ্ব, সম্পর্কের পর্যটন অতিথি বহিরাগত,    হৃদয় ত্রিপত্র বালিঘর। বদলে যেতে যেতে  তুমি কখন ব্যক্তিগত অরণ্যে গেছো? পরিচয় উপরটপকা, সম্পর্ক ওষুধ কেনে আজো।    ওপেনটি বায়োস্কোপ তুমি বিবিয়ানা,…

  • শহিদ টিলা থেকে উড়ে যায় বিষণ্ন পাখিরা

    শহিদ টিলা থেকে উড়ে যায় বিষণ্ন পাখিরা আর লাল মাটি থেকে ওঠে ফসিলের ঘ্রাণ পিচ থেকে কালো ভাপ ওঠে কয়লার গুঁড়োগুলো ছড়িয়ে যায় ঠান্ডা বাতাসে উত্তরাধুনিক কবি খোঁজে জাদুবাস্তবতার তুষ আগুন দেবে বলে বিদুর সুদূর হয়ে বসে থাকে পান্থজনেরা রক্ত-ঘাম পড়ে থাকে পারদখসা আয়নার ভেতর বিদুষক ভাঁড়ের মতো তবু যাচ্ছে দিন যতোই জমা হোক আত্মত্যাগের…

  • চন্দ্রপল্লি পূর্ণদশায় প্রকাশিত

    চাঁদ দেখা যায় না, আড়ালে থাকে মুখ চন্দ্রপল্লি পূর্ণদশায় প্রকাশিত তার কিছুটা আঁচ করা যায় কার্তিকের গ্রামে। তবুও চাঁদ, মুগ্ধতা ছড়ানো হাসি দিয়ে বিলিয়ে দিলো রূপ ও রঙের মদিরা! আমাদের কাহিনি মোটে স্বল্পদৈর্ঘ্যরে গজফিতায় তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ পরিমাপের নয়। একটি কাহিনি শেষ না হতেই অন্য এক দৃশ্যে চাঁদ দেখা গেল আলিঙ্গনের শুভ রাত্রিতে।

  • পঞ্চাশে পা দিয়েছো

    পঞ্চাশে পা দিয়েছো তুমি – কালের বিচারে বাল্য, কৈশোর ও যৌবন অতিক্রম করে আজ তুমি প্রবীণা, সেই তুমি তোমাকে প্রশ্ন করে দেখো – কতটুকু পরিপক্বতা অর্জন করে শরীর ও মনে আলোকিত তুমি – কতটুকু ঐশ্বর্যমণ্ডিত তোমার হৃদয়, তোমার অস্তিত্ব, দু-ডানা কতটা নক্ষত্রখচিত চিত্রল বন হরিণী কিংবা দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতির মতো পুষ্পমুগ্ধ? কতটা মুক্তিযুদ্ধসম্মত – ক্রমাগত স্বপ্নালোকিত…

  • চাওয়া

    মৃত্যুহীন সমুদ্রের কাছে বসে অমরত্ব দাবী করার মতো সাহস আমার নেই। অরণ্যের দিনরাত্রির পায়ের তলায় বসে মহাসাধক হওয়ার ইচ্ছে আমার কোনোকালেই                                       ছিল না। অন্তহীন পথের পথপ্রান্তে নির্ঘুম বসে জীবনের হিসেবটা করে ফেলতে কখনোই চায়নি। যান্ত্রিক ঘর সংসারের রক্তিম সূর্যাস্তে জীবনকে চিনতে চেয়েছি জীবনের মধ্যে।

  • মায়াবাস্তব

    তুমি নেই, তোমার না-থাকাগুলো আছে তারা আছে কায়ার মায়ায় আমি তাদের পারি না ছাড়াতে, কখনো তার ভার বড় দুর্বহ – আমি জলের অতলে তলিয়ে যেতে                                                যেতে খুঁজি পরিত্রাণ – নেই, কখনো আবার তারা কী                                              নেশায় আমাকে আকাশে ওড়ায়, সাগরে ভাসায় আমাকে ঘিরে তারা এক live chat 888sport অবিরাম – দর্শনে-শ্রবণে-ঘ্রাণে-আশ্লেষে এক মায়াবাস্তব অথচ কী আশ্চর্য…