January
-
প্রাণপুরুষ
তোমার বাড়ির কাছে প্রতিদিনই যাই আমি যাওয়া পড়ে নেহায়েতই জীবিকার তাগাদায় তবু কেন জানি অই সীমানা মাড়ালেই বিশেষ ধরনের এক টান বোধকরি প্রতিদিন প্রতিবার এ কী কোনো বোধ নাকি সত্তার গভীর ভিতরে জেগে থাকা কষ্টকাঁটা দুর্নিবার এ কী কোনো স্রোত অন্ধ-সুড়ঙ্গে এসে ঘাই মারা শতায়ু জিওল ক্ষুব্ধ-সংক্ষুব্ধ তিক্ত অভিঘাতে এ কী কোনো স্বপ্নচ্ছায়া অলৌকিক বৃক্ষের…
-
বত্রিশের রক্তমাখা সিঁড়ি
পঁচাত্তরের পর – একদিন আমি একা একা গিয়েছিলাম বত্রিশের রক্তমাখা সিঁড়ির কাছে দেখলাম – পিতার বুকের রক্ত আধো আলো আধো ছায়াঘেরা সিঁড়ির শরীরে ছোপ ছোপ পড়ে আছে … হত্যাকারীদের নির্মম বুলেটের আঘাতে যে-রক্ত ঝরেছিল পিতার পবিত্র শরীর থেকে যে-রক্ত পিতার পাঞ্জাবিকে করেছিল লাল বাতাসে শুকিয়ে সেই রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে বান্দরবান থেকে বাংলাবান্ধা … আমার যৌবনের…
-
অমরত্বের অন্য নাম
কোনো কোনো মৃত্যুকে আমার বরং অনির্বাণ অগ্নিশিখা মনে হয় কোনো কোনো হত্যাকাণ্ডকে মনে হয় আগ্নেয়গিরির অনর্গল অগ্ন্যুৎপাত ভালোবাসার চেয়ে যারা অস্ত্রকে অধিক শক্তিধর মনে করে আমার অস্তিত্ববান অবস্থান চিরকাল তাদের বিপরীত কাতারে ক্ষমাহীন সময়ের অভিঘাতে বিরুদ্ধ বুটের আওয়াজ ক্রমাগত হারিয়ে যায় নিসর্গের নির্মম প্রান্তরে পক্ষান্তরে রুদ্ধকণ্ঠ মানুষের মিছিল দীর্ঘতর হতে হতে অতিক্রম করে দিগন্তবৃত্ত বর্ণমালার…
-
বঙ্গবন্ধু এই সময়ে
সমুদ্রকে কি খণ্ড করা যায়? পর্বত কিংবা পাহাড়! এবং আপনাকে – ? আপনি খণ্ডিত নন, সকলের সর্বজনীন … আপনার অবিচল বিদ্যমানতা আমাদের চেতনায় এবং শোণিতে আপনি কখনো শৃঙ্খলিত নন কিন্তু শৃঙ্খলিত … বাণিজ্যপ্রভুরা আপনাকে গ্রাস করতে শিকল পরাতে চায়। তারাই খণ্ডিত করে আমাদের পরম পিতাকে। তিনি তো তিনি আর কেউ নন আমরা চাই শৃঙ্খলমুক্ত বঙ্গবন্ধু…
-
কেবল একটি তর্জনী
জগদ্দল পাথরটি যখন সমুদয় বাংলা বর্ণমালাসহ জঙ্গলখাইন ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের বাংলার শিক্ষক কসিমুদ্দিকে গিলে খাচ্ছিল, নবরত্নসভা তখনো তর্কে বিভোর। তর্কের বিষয়টি ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ : জনগণ ঘুমিয়েছিল, নাকি তাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল! পাথরটি যথার্থই ক্ষুধার্ত ছিল। তার ক্ষুধা ছিল ভারতসমান, অথচ তার জন্যে বরাদ্দ ছিল মাত্র পাঁচটি অপুষ্ট ভেড়া। স্বভাবতই তার লকলকে জিহ্বা প্রসারিত…
-
আমি আমার আঁতুড়ঘরে পথ হারালাম
সেই রাতেই প্রথম গুলির শব্দে আমার স্বপ্ন পোড়ে পায়রাগুলো পাথর প্রহর পাড়ি দিচ্ছে ভোরের আশায় রক্তধারায় হারায় আমার জন্মতিথি এখনও ভোর হয়নি, হয়নি সকাল খোকা তুই উঠলি না রে? মুয়াজ্জিনের আজানধ্বনি গড়িয়ে পড়ে রক্তরাগে শূন্যঘরে ফ্যানের ব্লেডে কাটছে বাতাস দীর্ঘশ্বাসে সেই সিঁড়িটিই বক্ষজুড়ে আমার স্বদেশ সেই সিঁড়িটিই ছুঁয়েছিলো অসীম আকাশ সেই সিঁড়িটিই, এই সিঁড়িটিই ……
-
বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়ি
এই বাড়িটা জাতির পিতার, এই বাড়িটা সবার এই বাড়িটা মুজিব নামে পলাশ, রক্তজবার এই বাড়িটা অশ্রুলেখা শোকের আগস্ট মাস এই বাড়িটা পিতৃভূমির কান্না, দীর্ঘশ্বাস। এই বাড়িটা পদ্মা-মেঘনা, মধুমতির জল এই বাড়িতে চিরকালের সাহস অবিচল মুক্তিদাতা উন্নত শির – দীর্ঘদেহী ভোর এই বাড়িটা অন্ধকারে তাড়ায় ঘুমঘোর এই বাড়িটা একাত্তরে মুক্ত নীলাকাশ হত্যাকারী, শত্রুসেনা, রাজাকারের ত্রাস এই…
-
এই বাংলা মুজিবময়
আকাশভরা আলোর ঢলে শাপলা ফুলে নদীর জলে জোনাকজ্বলা বাঁশবাগানে ভাটিয়ালির সুরের টানে নায়ের পালে মাঝির গানে ধানের ক্ষেতে তিল-তিসিতে শিশিরভেজা ঘাসের দেশে মায়ের কোলে মুজিব আসে। ভালোবাসায় ভরিয়ে তীর পদ্মা মেঘনা মধুমতির জনসাগর উছলে দিয়ে 888sport appsের বিজয় নিয়ে মুজিব আসে বীরের বেশে। সবুজ বনে পাখির গানে বাতাস ফেরে খুশির তানে তাকাও কাছে তাকাও দূরে পাহাড়…
-
সেঞ্চুরি ফুলের সৌরভে
ফুটিছে ফুল প্রতিদিন, মেলে দিচ্ছে রক্তলাল পাপড়ি সুদূর উনিশশো কুড়ি থেকে আমরা সবাই পতঙ্গ প্রজাপতি পোকামাকড় ঘিরে আছি ওই ফুলের চারদিক। ফুলদলে পড়েছিলো দৈত্যের থাবা তাতে কী? ফুলকলি ফুটবে অনাদিকাল 888sport apps নামের উদ্যানব্যাপী। তার সৌরভ ছড়িয়ে যায় মহাকালে, কম্পিত হাতে জল ঢেলেছি গাছের গোড়ায় ফুলঘ্রাণে আমাদের রক্তে অগ্নিকণা। এই ফুল ছুঁয়েছে শতাব্দীর সীমানা বাগানে আরো…
-
মুজিব মানবিক
স্বাধীন জাতির স্বাধীন পিতা মুজিব মানবিক 888sport appsের জাতিপিতা, দৃষ্টি দিগ্বিদিক। ব্যক্তিমানুষ, জাতিমানুষ, বিশ্বমানুষ যথা সব মানুষের মুগ্ধ কথা মুক্ত মানবতা। সকল কথার আসল কথা শুদ্ধ সদাচার ধর্মকর্ম সৃষ্টিকৃষ্টি অভেদ কর্মাচার। এক জাতিতে এলে তুমি সব জাতিতে গেলে, আপন বুকে জগৎজ্যোতির দেখা তুমি পেলে। লালনমানুষ আপন বুকে ধারণ করো জ্ঞান ব্যক্তিমানুষ জাতিমানুষ মানুষজ্ঞাতির ধ্যান। বাংলা মায়ের…
-
বঙ্গবন্ধু মুজিবুর
গভীরতা গ্রাহ্যে নেয় জলমগ্ন তীর অগ্নি তার ধরে প্রাণ গহনে উত্থিত মানে অহংকার নীল যেন বায়ুর সন্তান অবস্থান ও কল্যাণে যতো সূত্রসুর বঙ্গবন্ধু মুজিবুর … আপনার ভূমিস্বত্ব অন্ন ও আশ্রয় মিলেমিশে যদি জয় ক্ষেত্রফল জানে তবে নিত্য-পরিচয় পক্ষহীন আত্মীয় মধুর বঙ্গবন্ধু মুজিবুর দু-পায়ের শত দাগ দু-ঠোঁটের ভাগ রক্তস্নানে ভাষার অনল মুক্তমন্ত্রে হ’লে শুদ্ধ বল এসো…
-
যত্নে থাকুক জনক আমার
যত্নে থাকুক সূর্যোদয়, আমাদের রাজপথ, দুপুরের ভেজা রোদ, শ্রাবণের মেঘ, বসন্তের দিন, যত্নে থাকুক। যত্নে থাকুক আমাদের প্রেম ভালোবাসা, যাবতীয় কথা, ঝিলিমিলি আশা গৃহস্থের সুখ, গৃহিণীর মায়া ভোরের কুসুম, দুরন্ত রেলের গাড়ি, শীতে ভেজা দোহারপাড়া, গোয়ালঘর, পথের মানুষ। নদী ও নদের চেনাজানা। যত্নে থাকুক, মেঘেদের ঘরবাড়ি, পুতুলের সংসার বালকের ঘুড়ি, বালিকার খাতার পাতায়, আমাদের কথন…
