February
-
ভেবে নাও
উৎপলকুমার বসু জোনাকির কাছে আমি চকিতে ওড়ার শিক্ষা নিতে যাই সন্ধ্যা নামছে আর সারাদিন অনুসরণের পর আমিও কিছুটা ক্লান্ত, হয়ত কাতর; ওই যে আসছে ঝড়, বাতিদানে দীপশিখা কাঁপছে সংঘাতে, মেঘের আড়ালে বহু নরকের পাল্লা ও দর্পণ বাতাসে আছড়ে পড়ছে – হেথা মানুষেরই সমবেত মাথাঠোকা নির্দয় রাক্ষসীর পায়ে, কাকে ধন্যবাদ দেবে ভেবে দ্যাখো – অল্পবয়েসি ওই…
-
সাতাশিটা বছর পার ক’রে দিয়ে আমার বাবা
ভূমেন্দ্র গুহ সাতাশিটা বছর পার ক’রে দিয়ে সে-সব বছরের সকল সকালবেলাকে পাখির কিচির-মিচিরে ভরাট ক’রে তুলে আমার বাবা মাত্রই তাঁর সাতাশিটা বছরের সাতাশিটা শীতের ডালপালা রূপকথার সূর্যেরও চেয়ে পুরনো আর-এক রূপকথার দিকে এক্ষুনি বাড়িয়ে দিলেন। বড়ো উঠোনের সামনে সরু রাস্তা, তার পাশে ছোটো পুকুর তার বাঁ দিকের মুখোমুখি ঘন হিজল-বনের মন-কেমন-করার আড়ালে দাঁড়িয়ে তাঁর যে…
-
হেমন্তসন্ধ্যা
কাইয়ুম চৌধুরী হেমন্তছায়া ক্রমশ দীর্ঘায়িত হয় এখনো সর্ষেক্ষেতে উজ্জ্বল হলুদ এলানো রক্তরাঙা শাড়ির চারপাশে। কোলাহল ক্লান্ত মধুফুলের গুঞ্জন অস্পষ্ট অন্ধকারে বিলীয়মান। ক্যানভাসে রক্তøানের প্রস্তুতি কবে যে কোথায় অবগাহনের মধুর আলাপন সোনালি জলে ভাসমান। দীর্ঘসময়ে খণ্ডিত ছবির নানারং যেন আনন্দ জাগায় বেজে ওঠে ইমনের মৃদুতান নির্মীয়মাণ নিশীথ যাম। কিছু কি দেবার না নেবার ছিল সেই হিসেবের…
-
দুটি 888sport app download apk
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত সুদীপ্তের একতারাটা সুদীপ্ত বিদায় নিতেই আমার আবাসন ভেঙে পড়তে থাকে। ইংল্যান্ডে কোন্ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়বিদ্যা পড়ায়। বার্লিন থেকে লালন ফকির নিয়ে কাজ করার জন্যে ডাক পড়েছিল। যাবার মুখে এসে হাজির আমার শহরতলির ডেরায়। এসেই জুড়ে দিলো একটার পর একটা লালন, বাড়িটা তখন থৈ থৈ কান্নার সমুদ্র। ফেরার সময় পুঁথিপত্তরের জন্য যতটা এক্সট্রা লাগেজ…
-
তিনটি 888sport app download apk
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ১. তোমার শরীর তোমার ঠোঁটের জন্য আমার তৃষ্ণা তোমার চিকন বুকের জন্য আমার হাহাকার তোমার শরীর আমাকেই গুছিয়ে দিতে হয়। ২. পুরাকালে যেমন হতো পুরাকালে যেমন হতো : তোমাকে আমার জন্য বিশেষভাবে রেখেছি যুদ্ধে আমার জয় হয়েছে একত্রে দুর্গ থেকে সূর্যাস্ত দেখি, দেখি পাহাড়গুলি তিনদিকে দৌড় দিচ্ছে। ৩. ঈশ্বর নিজেই একা ঈশ্বর…
-
রঙ্গ-বিভঙ্গ
আলোক সরকার আত্মনির্ভর দেশ-কাল তার মুক্তি সুপ্রাচীন সেই বটগাছ, যার ডালপালায় প্রবুদ্ধ ঝঞ্ঝার কৌতূহল; প্রবুদ্ধ যা তাই দ্বিতীয় প্রেক্ষিত বৃক্ষ অন্য তাৎপর্য, এমনকী আঘাত বিপন্নতায় অন্য মাঠ-প্রান্তর। আমরা আঞ্চলিক দেশ-কাল অস্বীকার করি। সবকিছু পিতৃপরিচয় সেই প্রবুদ্ধ, সেই ঝঞ্ঝার কৌতূহল। কৌতূহল নবনব রূপরূপান্তর – সবকিছুই সেই প্রবুদ্ধ, আমাদের কর্মনিয়তি রূপান্তরের কর্মনিয়তি, তাকে একটা ব্রতও বলতে পার।…
-
দুটি 888sport app download apk
শঙ্খ ঘোষ শোক একবার থম্কে দাঁড়াই। তারপর ফিরে আসি সনাতন ঘরে। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। মাঝখানে কত একাঙ্কিকা কিংবা পূর্ণতার ভারে কলরোল চলে। জন্ম থেকে বিলয় অবধি গোটা প্রবাহের চলচ্ছবি চারপাশে ভাসে এলোমেলো। প্রত্যেকে সেখানে নিজেকেই খোঁজে – নিজেরই সংযোগে খোঁজে তাকে। এভাবে সে হয়ে ওঠে প্রায়শ নূতন ইতিহাস। ঘরের ভিতরে বসে দেখি তাকে,…
-
ফেলে আসা মাটি : জলপাইগুড়ি
সুরজিৎ দাশগুপ্ত মাটির সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক নাড়ির বন্ধনের মতো। যে-মাটি ফেলে এসেছি সেটা হলো জলপাইগুড়ির মাটি। এই মাটি আমি বংশগতভাবে পাইনি, পেয়েছি আমার গর্ভধারিণীর কাছ থেকে আর সে-মাটি আমি ফেলে এসেছি মায়ের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের সঙ্গেই। ব্যাপারটা খুলে বলি। জন্মেছিলাম কাশীপুরের রতনবাবুর ঘাটের কাছে কোনো বাসাতে। মা তখন ছিলেন কাশীপুরের নর্থ সুবারবন হাসপাতালের লেডি ডাক্তার।…
-
১৯৫৩
আনিসুল হক হেমন্তকাল। হাটখোলার সরুপথে রিকশায় চলেছেন মুজিব। সকালবেলা। রোদ উঠেছে মিষ্টি। রাস্তায় শিউলি ফুল ঝরে পড়ে আছে, পাঁচিল ডিঙিয়ে মাথা বের করা শিউলিঝাড়ে পড়েছে সকালবেলার রোদ। শেখ মুজিব যাচ্ছেন এ কে ফজলুল হকের কাছে। কেএম দাস লেনের বাড়িটির গেট খোলাই ছিল। তিনি ভেতরে ঢুকে বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করলেন, ‘নানা, আছেন নাকি।’ বিশালদেহী ৮১…
-
অনুরক্ত তমাশা
রেজাউর রহমান দিন-সপ্তাহ-মাস পেরিয়ে অন্তরা যখন হাসপাতালের পিঞ্জর থেকে বেরিয়ে আসে, তখন সান্ধ্য আকাশে চাঁদ ছিল না, তারা ছিল না, ছিল না কোনো রংও। আকাশে কোনো রং থাকে না, এমন দৃশ্য তার বিশ-বাইশ বছরের জীবনে কোনোদিন দেখেনি। তারপরও সে ভাবে, মানুষের ভুল-ভ্রান্তি হয় না? হতেও পারে। সে হয়তো এমনটা দেখে থাকবে কোনোদিন, যা আজ তার…
-
কলকাতার কাক
বুলবন ওসমান মৈত্রেয়ী অ্যাপার্টমেন্টের দোতলার ব্যালকনিতে বসে সুহাস অগ্রহায়ণের সকালের রোদ পোহাচ্ছিল। সামনে দৈনিক পত্রিকাগুলো শায়িত। দেখা প্রায় শেষ। এবার হয়তো এক কাপ চা পাঠাবে ভাদ্রবধূ বেলি। কলকাতার এই ট্যাংরা এলাকাটা বেশ পুরনো। চারদিকে এখনো গাছ-গাছালি ও ঝোপঝাড় আছে। জায়গাটা তেমন সরল-সমতল নয়। বেশ উঁচু-নিচু। মৈত্রেয়ী পার হয়ে সামান্য ডানে গেলে একতা অ্যাপার্টমেন্ট। বছর দুয়েক…
-
সালিশের মানুষ
হাসনাত আবদুল হাই জইতুনের স্বামী জব্বর যখন আর একটা বিয়ে করে অন্য গ্রামে গিয়ে নতুন সংসার পেতে বসলো তখন তার মাথায় বাজ পড়ার মতো হলো। তার স্বামী জব্বর যে সৎ মানুষ না সেটা জইতুন বিয়ের পরই বুঝতে পেরেছে। গঞ্জ থেকে দেরি করে বাড়ি ফেরে, হেরে গলায় গান গায়, কিছু বললে খিস্তি তোলে, এমনকি কুৎসিত গালও…
