March

  • বর্ষণকাল

    বর্ষণকাল

    হারাধন ও তারাভূষণের মতো অনাদি দত্ত হয়তো অখিলের শোকও চাপা দিতে পারতেন। দিয়েছিলেনও। সমস্ত ভূসম্পত্তি বিক্রি করে হলেও কালাগাজির দৌড়ের শেষ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মনটা ভেঙে গেল বন্যার পর। এক বছর বিরতি দিয়ে নীলাক্ষিতে আবার বান ডাকল। বান প্রতিবছরই ডাকে। মা যেমন সন্তানকে স্নান করায়, নীলাক্ষিও তেমনি করায় দু-পারের জনপদ। বছরে একবার, কখনোবা দুবার। প্রতি…

  • লাকডাউন

    লাকডাউন

    ‘কি গো তোমার কাছে নারকেল হবে?’ ফলমূলের পসরা সাজিয়ে বসা মোটাসোটা দোকানি। তার দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন সেই অধৈর্য ভদ্রমহিলা। ক্যারিব্যাগভর্তি বাগদা চিংড়ি। কেজিখানেক তো হবেই। মুখের গোমইটা আর একটু শক্ত করে ধরে আবার সেই একই প্রশ্ন –    ‘নারকেল হবে নারকেল?’ গোমই! এখন সবার মুখে মুখে! বাবুরা অবশ্য মাস্কো না কী সব বলেন!…

  • বৃশ্চিক বীজ

    বৃশ্চিক বীজ

    এসব খাপছাড়া ঘুমের বিশৃঙ্খল অসুখ তাকে বিপর্যস্ত করে প্রায় প্রতিরাতে। অজাগতিক সেই অচেতনার জগতেও তার মগজে টনটন করে বাজে, ‘জেগে ওঠো ফ্লোরা, জেগে ওঠো।’ সে জানে না কেন তাকে হুড়মুড় করে জেগে উঠতে হবে, কেন ঘুমের আরাম-সুখ তার জন্য প্রযোজ্য নয় – তবু সে জেগে ওঠে। এক তীব্র ভয়ংকর শোঁ শোঁ শব্দসহযোগ হল্কা আগুন তার…

  • বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অংশুমানের গান

    বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অংশুমানের গান

    সংগীতের আবেদন যে-কত গভীর ও মর্মস্পর্শী এবং লোকরঞ্জনের অনন্য উপকরণ হতে পারে, তার সাক্ষ্য মেলে নিচের এই পঙ্্ক্তি-ক’টিতে : ‘… উপস্থিত হয়ে দেখলাম … আব্বাসউদ্দিন সাহেবকে দেখবার জন্য হাজার হাজার লোক সমাগম হয়েছে। বাংলার গ্রামে গ্রামে আব্বাসউদ্দিন সাহেব জনপ্রিয় ছিলেন। জনসাধারণ তাঁর গান শুনবার জন্য পাগল হয়ে যেত। তাঁর গান ছিল বাংলার জনগণের প্রাণের গান।…

  • এখনো ভালোবাসা

    সুই আঁকা লাল আর সুতো খোলা ততো কালো ছবিটিতে আর কিছু নেই যা ফুটতে পারে যতোই কেন রঙের মধ্যে হাঁটা ভালো জানতেন মুর্তজা বশীর আত্মহত্যা কী জাপানি ছাতার বাঁট চট্টগ্রামের পাহাড় কিন্তু ওষ্ঠ জানে ভালো তুলির মাথায় বর্ষা এলে জোর এলোমেলো মনোহর কাছের একটা নকশা চোখে পড়ে দূর অতীতে কোন 888sport app download apkর ছলে পাখি এবং আয়না…

  • নেই

    কথা বলা দূরে থাক দেখাই হলো না।         আমাকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে নিতো কি না জানি না,         দেখা হলে বলতাম,         আর যেন         কোথাও দেখা না হয় আমাদের। দেখাই যখন হলো না, তখন বলাও হলো না তাকে।         পোড়া চোখ নিয়ে         প্রতীক্ষায় আছি         অপেক্ষায় নেই।

  • স্বাধীনতা

    স্বাধীন তুমি স্বাধীন আমি পরাধীন কে হে বল, পরাধীন কে হে বল, পরাধীন কে হে বল, অন্যকে যে করেছে অধীন ধরতে তাকেই চল, ধরতে তাকেই  চল, ধরতে তাকেই চল।  জননী-ধরণি  স্বয়ংজন্ম, স্বয়ং জন্ম-স্বাধীন স্বয়ং জন্ম-স্বাধীন স্বয়ং জন্ম-স্বাধীন, ধরণিকে যে অধীন করেছে, কে সে অজেয় বীর কে সে অজেয় বীর কে সে অজেয় বীর? বাঘ বলো…

  • বাবার গল্প

    আমার বাবা নেই। চলে গেছেন। এক সময় তিনি কলকাতায় থাকতেন। পড়াশুনা করতেন ইসলামিয়া কলেজে। সাদা ফিনফিনে ধুতি পরতেন বাবা। আর বিকেলের দিকে হেঁটে হেঁটে গঙ্গার ধারে যেতেন। মানুষের স্নান দেখতেন – পুণ্যপ্রার্থী মানুষের পাপ কীভাবে ধুয়ে দিতে পারে গঙ্গার ঘোলা জল সেই দৃশ্য দেখতেন অপার বিস্ময়ে! কখনো কখনো জ্যোৎস্নামুখর রাতে গড়ের মাঠে বন্ধুদের সাথে শুয়ে…

  • সময়ের কাছ থেকে

    পালাতে পালাতে শেষে এইখানে বনের কিনারে – কালচে সবুজের ফাঁকে শেষ বিকেলের  অদ্ভুত আলো এসে ঢুকে পড়ছে তোমার চোখে এই আলো সত্যি অপার্থিব –    যেন তা কল্পনার স্বর্গ থেকে নেমে আসছে ধরাধামে, তবে বর্তমান বড়ো শত্রু ভয়ানক – বনের ছায়া-ছায়া অচেনা আলো-আঁধারি চমক  নৃশংসতা ভয় আতঙ্ক ধূসর-বিস্ময় – সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত আলাদা চরিত্রই যেন…

  • বেহুলা বাংলা – সনেট ১

    বাল্যে গড়ে    মাটির পুতুল   খেলেছি তোমায় নিয়ে দুরন্ত কৈশোরে   মুছেছি ঘাম   তোমার আঁচল দিয়ে যৌবনে   কাঁধে রাইফেল   ঘুরেছি নদীর পারে   পথে-প্রান্তরে ছুঁড়েছি গ্রেনেড   তোমার জন্যে   শত্রুর বাঙ্কারে প্রৌঢ়ে   স্বজন নিয়ে    গড়েছি   পুতুলের সংসার বৃদ্ধে তুমি    হয়েছ বেহুলা    আরো   আপন আমার তোমাকে ছাড়া   আর তো কোনো   স্বপ্ন দেখিনি তোমাতেই পেয়েছি খুঁজে   স্বরূপ  বিশ্বজননী; যখন ওরা বলেছে…

  • বেহুলা বাংলা – সনেট ২

    নদী বলে  স্বচ্ছতোয়া  জল দিই তোমায় জলের আরেক নাম   জীবন মধুময় বৃক্ষ বলে ছায়া দিই   চৈত্রের  নিদাঘ দুপুর আকাশ বলে বর্ষা দিই    সাজাই  তারার নূপুর বায়ু বলে    মৃদুমন্দ   বহি তোমার ঘর সূর্য বলে   আলোয় ভরাই   জগৎ চরাচর চাঁদ বলে   দিই তোমায়   অপরূপ  স্বপ্ন মায়াজাল তারারা বলে   সঙ্গী তোমার    আলোকবর্ষকাল; কেবল    বেহুলা   বলে না কিছু  নীরবে  …

  • ঠোকর

    একটা সাপ মানুষকে একটার পর একটা ঠোকর দেয় – একসাথে দশটি ঠোকর দিতে পারে না! একটা মানুষ          একটা মানুষকে দশ থেকে একশটা ঠোকর একসাথে দিতে পারে! সে-কারণে সে সাপের চেয়েও ভয়ংকর           সে গাণিতিক ও জ্যামিতিক জ্ঞান রাখে,                     সাপ শুধু যোগ-বিয়োগ জানে! সাপের লেজে পাড়া দিলে  –  সাপ কামড়ায়! মানুষ মানুষের হাতে হাত…