March
-
করতলে রঙিন ঝিনুক
রুগ্ণ রাতের দুঃস্বপ্ন থেকে পরিত্রাণ চেয়েছি শুধু গিয়েছি স্বপ্নের কাছে – দুঃখময় পরি888sport slot game শেষে যেমন যায় মেঘ দিনের পরিক্রমায় রাত্রিকে ছাড়িয়ে; আত্মতুষ্ট ছিলাম না কখনো – দুঃখময় দিনপঞ্জি মেলে দেখি খুলে দেখি জীবনের খেরোখাতা – মেলাই গুণ-ভাগ আমার আক্ষেপগুলো তুলে রাখি জীবনের গোপন পকেটে, যতদিন বেঁচে আছি – ছায়াময় দিনে চোখ বেঁধে খেলে যাই কানামাছি…
-
কতদূর ইথাকা
অনেকদূর হেঁটে এসে পেছনে তাকালে আর বাড়ি দেখা যায় না দৃষ্টির সূর্যপথ উঠে যায় মেঘবৃক্ষে পেছনে কার বাড়ি চণ্ডীদাসের নাকি কাহ্নপার জ্ঞানদাস একবার বিদ্যাপতির নিমন্ত্রণে এসে পথ হারিয়ে বহুদিন আলাউলের অতিথি ছিলেন আর কালিদাসের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও যেতে পারেননি মোহাম্মাদ সগীর সবকিছু অচেনা অপরিচিত গাছের দেহ সবুজ পাতারা কালো নদীর পানি হলুদ পাখির ডানা নীল আর…
-
নষ্ট শীতকাল…
দীর্ঘ সমতলের এই বনদেশ, কুয়াশায় সুস্নাত থেকেছে এতকাল – মুক্ত শিশির ঝরেছে, স্বপ্নসাধের পাখিদের দেশে, অজানা বিপুল – প্রবীণ বৃক্ষের ছায়া একাকী রেখেছে ঘিরে, ঘন আর্দ্র ভূমি … এখানে নৈঃশব্দ্যের বেলায় নেই আজ কোথাও চেনা যাপনের ভুল। ছিন্নমূল মানুষের সঠিক ঠিকানা থাকে না এখানে কখনো – আমি নই সমগোত্রীয় কেউ, দেহাতের এই সকরুণ ছায়ায় –…
-
এই রাত
এই রাত পড়ে যাবে, তোমার কিছুই থাকবে না মনে ! উঁচুনিচু পাহাড়-পর্বত, অন্ধকারের ঢাকনা খোলা গিরিখাত স্পষ্ট হবে না কিছুই, প্রত্যুষের আলোর অভাবে। যারা ছিল হামাগুড়ি দিয়ে, ফিরে পেতে আলোর উৎসব তাদের কপালে পরাজয়ের চিহ্ন দেখা যায়! এই রাত ঘাম ঝরায় খামোখা, দূরে নেই কোনো বাতিঘর।
-
কালবেলা
(৬৬ বছর আগে খুব কষ্ট পেয়ে চলে গিয়েছিলেন জীবননান্দ দাশ) মেয়েকে একটা চিঠি লিখছেন জীবনানন্দ দাশ কুয়াশার স্রোতে ভেসে গেছে তাঁর দিনরাত-বারোমাস। ‘চাকরি হারিয়ে বুঝেছি জীবনে টাকা কত দরকার’; অভাবে অভাবে ভেঙে গেল তাঁর ধুলোমাখা সংসার। বালির ওপর জ্যোৎস্নার মতো প্রেম দূরে, বহুদূূরে – কাজ খুঁজছেন তিনি সকলের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে। শরীর ভালো না, প্রেসিডেন্সির…
-
তিন পা দিয়ে
তিন পা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেলা হলো অনেক বেলা এখন আমি গানের মাঝে হেঁটে যাবো গভীর সাঁঝে কিন্তু আমার তিনটি পা যে! এক পা গেছে অনেক দূরে মামার বাড়ি দ্বিতীয় পা একলা আছে দাঁড়িয়ে আছে সকাল থেকে; তৃতীয় পা দ্বন্দ্বমুখর হাঁটতে হাঁটতে যুদ্ধে গেছে। পা হারিয়ে এখন আমি কোথায়…
-
ভাষা : বুকের বসন্তখোলা পাখি
প্রথম ভোরের রোদে জ্যোতির্ময়-ভাষা পৃথিবীর প্রথম আলোর পাঠ বুকের বসন্তখোলা পাখি জানালায় যুবতী চোখের স্নিগ্ধ দ্যুতি স্বপ্নভূমি তোমার আলোয় অমানিশার যন্ত্রণা ঢেকে রাখি ভুলে থাকি যত দীর্ঘ হোক পথপ্রান্ত মাঠ-ঘাট তুমি আমার অনন্ত নদীভাষা সুবর্ণ ঠিকানা তুমি আমার গোপন ছায়া তুমি আমার ভালোবাসার স্বপ্ন অশেষ 888sport app download apk তুমি রাত্রিখোলা নির্জন অক্ষরলেখা মুগ্ধ খাতা জোছনা ফোটার বিরল…
-
সামুদ্রিক অভিবাদন
আমার বর্ণমালা কালাপানির গর্র্ভজাত আলোকসন্তান যারা প্রত্যুষের লাল হয়ে, ঝলমলে আলো হয়ে মুহূর্তে দখল নেয় পৃথিবীর সমস্ত ভূভাগ সালাম জব্বার আর ফাগুনের সহজাত ভাই কি না লাল প্রিয়, প্রিয় তার রক্তাভ দরবারি পোশাক প্রাণদানে প্রাণজয়ী – চিরদিনের অব্যয়ীকুসুম। জাতিসংঘের বিস্তৃত হলঘরে জনকের তর্জনীর মতো যখন আমার বর্ণমালার রাজসিক উপস্থিতি ঘটে মনে হয়, এই বুঝি লালকেল্লার…
-
সূচক
আমাদের জীবন এখন সূচকের মান নির্ণয়ে টার্গেট ফিলাপের আঙটায় ঝুলে আছে। নদী ও জলের সারল্য বোঝে না যেজন সে নিতান্তই কসাই। অসময়ে ধারাপাত খুলে বসেছে ভণ্ড নাবিক। দিগন্ত অবধি কেবলই অপছায়া শস্যহীন বিরানভূমি, রক্তাক্ত নাভিমূল। মূর্খদের নগ্ন উল্লাসে আঁধার নেমে আসে। ভাষাজ্ঞানহীন কর্কশ দিনরাত্রির কাছে জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই। স্মৃতি-বিস্মৃতির আয়নায় যেটুকু দেখা যায় অস্থির…
-
মারাদোনা
রাজবিরোধী আমরা কজন তোমাকে রাজপুত্র ভাবে পক্ষীরাজ বা রথ না থাকুক, পদাতিকের পায়ের দাপে সবুজ ঘাসে ছন্দ জাগে, সে ছন্দে তো ছন্দ ভাঙা তোমার পায়ে বিদ্রোহ তার খুঁজল ভাষা আগুন-রাঙা রাজপুত্তুর স্বপ্নে থাকে, তাকে যখন ডেকেছে মাঠ স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এসে পেরিয়ে এসে ঘাট-বেঘাট জিয়নকাঠি ছুঁইয়ে দিয়ে প্রাণ জাগাল কী স্পর্ধায় একটা গোলক বর্শা হয়ে…
-
হাবা
কোথাও যাব না বলে স্থির বসে আছি একা একা, গঞ্জনার তীরে বসে বসে পেছনের প্রতিও তাকাই দূর থেকে ঘাড় নাড়ে বেগানা হিজল তবু মনে হয়, তার পাশে, আড়ঠারে সর্প পাখি কীটেরাও মন্দভাবে ডাকে যেন আর যাবই না আমি বেতের জঙ্গলখানি সাফ করে দিয়ে পেছনের ঘুরপথও দশমুখে ডাকে খরাজীর্ণ প্রত্নমেলা সামনে নিয়ে যাব না ফিরব তার কিছুই…
-
শীতপত্র
এ শীত আছড়ে পড়ে অরণ্যের গানে – জঙ্গলের ডালপালা চিরে হাওয়া শীতল প্রাণে! এ শীত ছিটকে পড়ে হিম জলযানে – ভোরের নৈঃশব্দ্য ফুঁড়ে কুয়াশার ক্যারাভানে! শীতের গহিন ঘ্রাণে পরিযায়ী হিমেল ডানায় – আমি ছুটে যাই জঙ্গলের সবুজ মাচানে জেগে ওঠা দূরের ভাসানে – কুয়াশা মোড়ানো কোনো নিঝুম জংশনে! এ শীতে মুদ্রিত হয় ফেলে দেয়া পুরনো…
