April
-
বোধ
আনন্দনিকেতনে ভীষণ ব্যস্ত সবাই ঘর গোছাতে আর ভোজনবিলাসে কেউ বিশ্বাস করে না জীবন ঠুনকো আমোদ-আহ্লাদ আর ফ্যাশনে মশগুল। ভুলে যায় আপন পর ভুলে যায় ঈশ্বর। নির্বিবাদে রক্ত ঝরায় রক্তের সম্পর্কে মন কি বলে সে খোঁজ রাখে না কোনোদিন বিত্তবৈভবে নিজেকে শক্তিশালী করে। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অবারিত উল্লাস পৃথিবী কত সহ্য করবে আর অপলক নয়নে পলক পড়ল…
-
আমার কথাগুলো
জানি, তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না বজ্রবিদ্যুৎভরা মেঘেদের কানে – একটি ফণাতোলা গোখরার কাছে কতটা প্রার্থিত ছিল মধু অথবা ফণিমনসার কাছে চেয়েছিলাম তরতাজা রক্তগোলাপ – সবই অনুক্ত থেকে যাবে – আমি তাই আমার কথাগুলো রেখে যাব পাখিদের ঠোঁটে – নদীটারও কথা ছিল – রোদ্দুর ছড়ানো দিনে উগরে দিয়েছিল তাই কথার বুদবুদ – ধুলোর…
-
কথা হবে আশি-আটাত্তরে
জেগে থেকো, শুধুমাত্র পলক ফেলার অনুমতি দিলাম, হেসে নাও, শেষ কথা পরে হবে, একেবারে শেষে – হতে পারে সংলাপের শেষে অথবা 888sport app download apkর, হতে পারে দিনের শেষে নয়তোবা জীবনের, বিগত চল্লিশ প্রহরে আত্মার যারা আত্মীয়, রাজসাক্ষী তারা, এছাড়া গোটা পরিচিত আয়তনে জানিয়ে দেবো – মাটির পথ, চৌচালা ঘর, যত্নহীন বেড়ে-ওঠা তালচাড়া, পুকুরের পাড়, হিন্দুবাড়ি, মসজিদের মাঠ,…
-
ফ্যাসিজম
কুয়াশায় বেরিয়ে যায় মিলিটারি ট্রাক পড়ে থাকে ডাইনোসর পড়ে থাকে নৌকোর হাড় অদূরে ঘণ্টা বাজে নতুন ইশকুলে কিন্তু দূরে অনেক দূরে তেজদৃপ্ত ষাঁড়টির শিং কামানো হচ্ছে
-
গরিবিয়ানা
অনুপম মুখোপাধ্যায় গরিবের নাকি অতীত থাকতে নেই গরিবের নেই 888sport sign up bonusর অধিকার এমন কোনো নদীও বোধহয় নেই পুরনো দিন ঘর বাঁধে যার চরে একতলা থেকে খোলা জানালার হাওয়া দোতলায় এসে দরজা ধাক্কা দেয় গরিবের নাকি দোতলা থাকতে নেই মাটির হলেও বাড়ি হবে একতলা
-
মেয়ে ভারতবর্ষ
মেয়ে ভারতবর্ষ জানে আগুনের কোনো দোষ নেই ওদের কয়লাজন্ম পিঠে সারি সারি শলাকায় বয়ে নিয়ে বেড়ায় আগুন মেয়েভারতের গুহাপথ ইন্ডিয়ান রেলওয়ে মালগাড়ি, লোকাল, এক্সপ্রেস সবার অবাধ যাতায়াত যোনিদেশ ছিঁড়ে গেলেও রক্ত ঝরে না মুষলধারে ঝরতে থাকে অন্ধকার মেয়ে ভারতবর্ষের কয়লাজন্ম আগুনের কোনো দোষ থাকতে পারে না।
-
বাজনা
না, আমার কোনো ক্ষোভ নেই যথাস্থানে হয়েছে প্রবিষ্ট রাতের পেরেক জোনাকির গান তবু দেখি উড়ছে যথারীতি কেন এই বিষাক্ত তীর? আমি ব্যথা পাই ঘাসের শরীরে নিষ্পলক ঘড়ি না, আমার কোনো ক্ষোভ নেই! আমার শরীরে হাড় আর নুন আর কিছু উদ্ভিদ জলজ প্লাংকটন কালো হলে আমি ঘ্রাণ নিয়েছি মাটির। এখন একটা তরুণ গাছ আমার সঙ্গী হয়েছে…
-
তোমাকে দেখেছি একদিন
তোমাকে দেখেছি একদিন অষ্টাদশী আনমনে ব্যাকুল বাতাসে সৌরভ-বকুল হেসে তুমি করেছো রুক্ষ ধরণিরে স্নিগ্ধ-আকুল সজীব দুপুরে এখনো তোমার জন্য জেগে থাকে রাতের পূর্ণশশী তোমাকে দেখেছি একদিন অষ্টাদশী অনন্ত সম্ভাবনার অনন্য উষসী ভোরের আলোয় ধানের বুকে শিশিরবিন্দু ঝলমলে জ্যোতিতে তুমি ঢালো স্বপ্নের সিন্ধু তখনো নিঃসঙ্গ প্রান্তর জুড়ে সারস ডাকে উপোসী। তোমাকে একদিন দেখেছি অষ্টাদশী শান্ত পুকুর…
-
স্বৈরিণী
আমাকে স্বৈরিণী বললেও বলতে পারো কারণ গোপন প্রেমের কোনো ইঙ্গিত দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে দিইনি তোমাকে অগ্নিশপথ মেনে চলতে পারিনি আমি দুঃখের বিফলতার অপ্রাপ্তির ক্ষতগুলি ঠিকমতো ভাগ করে নিইনি তোমার সঙ্গে কেঁদেছি, বলেছি অভিমান করেছি সবই সেই ছন্দ-ছন্দহীনতার কাছে আজো যার সঙ্গে দেখা না হলে টনটন করে বুক আজো যার আলিঙ্গনের জন্য সহবাসের পরও আমি উন্মুখ
-
ইশতাহার : নতুন প্রেমের
১. বলেছি এসো না; শোনো, এতো কম শীতে ততোখানি জমবে না প্রেম; যদি না কঠোর হিমে হৃদয়ের ত্রসরেণু বরফে কঠিন হয়ে ওঠে। তাহলে অপেক্ষা করি চলো পথ ক্রমে ঢেকে যাক অবিরাম তুষারে তুষারে। যাতে, অবাধে চালাতে পারি স্লেজ ২ আজো যদি প্রেম কিছু বেঁচে থাকে, অবশিষ্ট থাকে নিজেদের ঘাড় মটকে, হৃৎপিণ্ড খুবলে খেয়ে বেঁচে থাকতে…
-
দরিয়া-গল্প
এই দরিয়া ওই দরিয়া মধ্যিখানে তুমি চারদিকেতে অকূল পাথার নাই পালানোর ভূমি জলের তলে অল্প আঁধার ডুবলে উপায় কি! নাই রে উপায় নাই রে পাগল বনে যাই রে এক দরিয়া তোমার যদি অন্য সাগর আমি কোনখানেতে থামি কোনখানে জল ঘূর্ণিমায়া কুহকভরা পাতালচুমুক সেচতে সেচতে থামি সাগর তুমি সাগর প্রকৃতিলীন বসুন্ধরার আর্তনাদেই জাগর রাত পোহালে একাকিত্বের…
-
আরো কিছুদিন
আরো কিছুদিন, আরো … টোটো চড়ে এসেছেন মৎস্য মহারাজ আমাদের নিভৃত নিবাসে, আনন্দ প্রদানে। প্রতিবেশী কৌতূহলী, তার সুখ কম কুঁচো চিংড়িতে দিন যায় তবু দ্যাখে, কে ওড়াচ্ছে ঘুড়ি, কোন বারান্দায়। এ-ওকে কাটছে আকাশে ওই আকারে সাকারে ফোটাচ্ছে খই, নিচে রেখা বক্র ও সরল। এখন তৃতীয় স্তর; নিভৃত নিবাসে আনন্দ ছটফট করে বড় শ্বাসকষ্ট তার।
