April
-
দুঁহু
শুভাশিস সিনহা একদা দুজনে মনে আছে শৈলবালা, হিমনগরীর পথে কেবল চক্ষক্ষর দীপ জ্বেলে ঘুরেছি, নিরন্ন প্রেমতরাসের গান কণ্ঠে নিয়ে জলসায় মজেছে চৌধারে, অভিসারিকারা, কেন চন্দ্রমা গলেছে দুধে, কেন জোনাকি পাহারা দিয়ে অগ্নিফুলে সাজালো বিরহশয্যা, পথান্তর-সংলগ্ন যুগল দেহাতি হারানো মন্দির, প্রত্নবেদনার হৃৎদুর্গ, ভাঙনপ্রস্তর দেখিনি দেখেও তবু, একদা শৈলের ভাবে, হিমনির্ঝরিণী আঙুলে আঙুলে জড়ানো প্রণয়-পত্রাবলি, ভাসে, ওড়ে,…
-
মাধুকরী
শুভাশিস সিনহা তুমি কাঙালিনী, আমিও কাঙাল, অন্তরীক্ষ-মদিরার ফুল কামনার পরশনে কেঁপে ওঠে আমাদের রুদ্ধস্নায়ুমূলে প্রস্ফুটিত বসমেত্মর দিন, সেই কবে গৃহহারা যে আমরা ফেরার রাস্তায় ঝঞ্ঝা, বিজুলি কি ঊনবর্ষা, বন্দুক, বারুদ শোণিত-আলতা পরে নাচো তুমি, আমি করি গান হাওয়াশিসে আমাদের সংবেদনার ত্বক কবে যেন বৃক্ষক্ষর বাকল, খররোদে পুড়ে পুড়ে যেচেছিল ভালোবাসা-ওষ্ঠ-ছোঁয়া সৌম্যপথিকের ঊর্ধ্বমুখী ক্ষক্ষপ্র তৃষা, নিজেতে…
-
ছায়াসখা
(উৎসর্গ – স্বর্গত দ্বিজেন শর্মা) আলোময় বিশ্বাস যে-বৃক্ষ রেখেছিলে সুরের বিস্তারে আকাশের ভাঁজে গোপনে, নীলে, সবুজে শীতলে – সে এক পুরনো অরণ্য। সে তো স্বপ্নবৃষ্টি হতে নেমে আসা প্রাণ ফুলে ফলে সুশোভিত। কথা বলে, এইসব প্রবাহিত সুষমা লতা তারা জেগে থাকে সময়ের ধমনি তরলে গান গায় নাচে। তবু তো হেঁটে চলা থামায়েছো…
-
আমলকী
তুষার কবির বৃষ্টির দোতারা বাজে – জলে ভেজা কিশোরী কদম ফুটে ওঠে মুগ্ধ দ্যোতনায়! রক্তহিজলের ঝাঁকে সুরের সরোদ বাজে – দুই পায়ে হেঁটে যায় অলীক ডাকপিয়ন – উড়ে যায় জমা চিঠি দূরের এক আমলকীবনে! প্রেমের ক্বাসিদা বাজে ভুলে থাকা সান্ধ্যগানে – অশ্রম্ননদীর কিনারে – সেই সুরে ঘোরে এক কুমারী রাধিকা! এসো, হারিয়ে…
-
কুকুর এবং
ঊষসী ভট্টাচার্য ‘ঘেয়োকুত্তা, শালা ফোট’ ঘুম ভাঙতেই, ঘেউ শব্দে ফেটে পড়ল স্বপ্নেরা। অথচ ঝর্ণায় দুটি কুকুর, আজ চরম ভিজেছে। জলাতঙ্ক ঝেড়ে ফেলে, ওরা তুমুল চেটেছে ঘর, দেয়াল, খাট। রাস্তায় ভেজা চোখে একলা, ড্রেনের জল, মাংসলাগা হাড় – ছেঁড়া রাস্তা, ধোয়া নর্দমা জিভ দিয়ে ভেতরে ঢুকছে না কিছুই গলি বেঁকে যাচ্ছে সঙ্গ দিচ্ছে না।…
-
বিষাদরেণুতে ঢেকে আছে পাখা
তমিজ উদ্দীন লোদী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে তারা। নৈঃশব্দ্য ও বিষাদের ভেতর, কথোপকথনহীন। ঠান্ডা হিম বাতাস বইছে চাবুকের মতো। সেন্সরারোপিত কাগজের পৃষ্ঠায় বীভৎস মুখ। গ্রহণলাগা চাঁদ থেকে ছিটেফোঁটা জ্যোৎস্না এসে নেমেছে খোলা পাতায়। অদূরে নড়ছে বিষকাঁটালির ঝোপ। ওখানে হামা দিয়ে বসে আছে মুক্তির সৌরভ, গেরিলা সৈনিক। রক্তাপস্নুত আকাশ ও মাটির সংরাগে বুঁদ হয়ে…
-
জিজ্ঞাসা
দেবাশিস লাহা এই যে এত এত লেখ, বিনিময়ে কী পাও? হাঁসের ডানার মতো কেঁপে ওঠা ঠোঁটে পুনরাবৃত্তির কোনো মেঘ লেগে নেই, অথচ মেসোপটেমিয়া, মিশর থেকে সিন্ধু, টাইগ্রিস, সক্রেটিস, পেস্নটো থেকে গোর্কি, কাফকা – পৃথিবীর সমুদয় সারসের দিকে আবহমান এই জিজ্ঞাসাই উড়ে গিয়েছিল, এই যে এত এত ওড়ো, বিনিময়ে কী পাও? এথেন্সের পথে তখন সন্ধে নেমেছে,…
-
অজস্র ঝর্ণার গান
মেহেদী ইকবাল যখন আকাশ মেঘে মেঘে ঢেকে যায় আর বজ্রপাত কেঁপে ওঠে গৃহস্থের মন! তুমুল বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে সার্কাসের হাতি জননী হাতির সাথে হেঁটে যায় শৈশব ওই তো দেখা যায় চাঁদ, নাকি ঝুলে থাকা স্বপ্ন? পাহাড়ের ওপরে অবাক করা অশ্বারোহী, অব্যর্থ নিশানা তিরের। এখন এই অন্ধকারে দেখি নিদ্রামগ্ন মৎস্যকুল যখন নিমগ্ন ঢেউ কিছু উচ্ছ্বাস…
-
উটের প্রহর
হারিসুল হক ১. শূন্যমঞ্চ। দর্শকহীন নাটসভা। আমি একা সব আলো জ্বেলে সেজেছি রাজাধিরাজ; পেছনে ময়ূর-আসন মস্তকে মণিরত্ন-বিভূষিত দর্পিত উষ্ণীষ চমকায় এরই মধ্যে বিবেকের ত্রস্ত প্রবেশ উলুবনে মুক্তো ছড়াতে এসেছো কে নিখাদ মাতাল? ২. নগর সভ্যতার চাপে ভেঙে গেছে জীবনের চাবি সময় হিমায়িত মাছ ভোঁতা চোখ জমে থাকা কালচে-নীল নাভি …
-
দুটি সনেট
বায়তুল্লাহ্ কাদেরী নাইয়র-সীমানা (সদ্যপ্রয়াত জননীকে) মুহম্মদ ইউনুস সাহেবের কনিষ্ঠ আত্মজ বায়তুল্লাহ্ কাদেরীকে কেউ কি চেনেন ঠিক তার দুঃখের মতন? মাতা রফিকুন্নেসা চৌধুরী আর খবর রাখে না তার, মহীয়সী এখন সহজ অমিত্মমের মুখোমুখি, ভুলে যান পুত্রের জলজ বৈশিষ্ট্যাবলির কিছু অংশ; 888sport app download apkপাগল বলে নাড়িছেঁড়া দুঃখবতী প্রশ্রয় দিতেন, তলে-তলে প্রজ্ঞাবতী বুঝতেন, এ-সন্তান বহু দুঃখপ্রজ। সেই…
-
একান্তই ব্যক্তিগত
রবিউল হুসাইন নিশ্চিত হওয়ার কী প্রয়োজন এখন যেখানে অনিশ্চয়তার এত আয়োজন বরং এই বিপদসঙ্কুলতায় দুলে দুলে ভেসে ভেসে উৎপাটিত হই সমূলে কোথাও স্থিরতা নেই নেই কোনো নিজস্বতা নদীতে নৌকো ভাসে জলের কী স্বাধীনতা কুলুকুলু বয়ে চলে যেদিকে ঢালুভূমি দুই দিকে সারি সারি বিবর্তনের উষর জমি পূর্ণ সতেজ সর্বংসহা দুঃখ-কষ্ট বহমান মাঝে মাঝে কিছু আনন্দ-সুখ…

