June
-

শান্তা, শাড়ি আর সালমার কথা …
হঠাৎ আমাদের কথাগুলো খইয়ের দানার মতো ফুটতে লাগলো। উৎসাহের আতিশয্যে সেগুলো দুজনের উষ্ণ মুখগহবরের ভেতর থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকলো টেবিলের দুপাশে। অনেকটা ফটফট ফটাশ আওয়াজ তুলে। আমাদের মনের ওপর কথাগুলোর প্রভাব ছিল এমনই সশব্দ, দারুণ উত্তেজনাকর। আমরা দুজন টেবিলের দুদিকে বসে ছিলাম। অনেকদিন পর এমন অন্তরঙ্গ আলাপের সুযোগ পেয়ে আমরা উভয়েই বেশ প্রগলভ হয়ে উঠলাম।…
-

হরিপদর দোকানে বিকেল নামার সময়
বহু পুরনো জংধরা টিনের বাক্সে বাঁশ কিংবা গজারি কাঠের চেলা দিয়ে বাড়ি মারলে যেরকম পুরনো আমলের মতো একটা আওয়াজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফইজুলের গলার স্বরটাও অবিকল সেরকম। ফইজুল যখন অপরিচিত জায়গায় গিয়ে কথা বলে তখন সবাই ওর দিকে যতটা না আগ্রহ নিয়ে তাকায় তারচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনে তার কথা। ফইজুলের এই কথা বলার ধরন-ধারণের…
-

অমানুষ
সিঁড়ি দিয়ে দ্রুতবেগে নামছে ও, এগারো ধাপের একটা সিঁড়িতে দুবার পা। দশতলা থেকে নামতে বড়জোর এক মিনিট। হাতের মুঠোয় শুধু দুটো ফোন নম্বর, বাঁশপাতা কাগজে লেখা। পালাতে হবে তাকে, এক্ষুনি! পেছনে ধাবমান-গিন্নি দুই সিঁড়ি দ্রুততার সঙ্গেই নেমেছিল, এককালে সেও কম খেলোয়াড় ছিল না যে! কিন্তু সাম্প্রতিক হার্টের ব্যামো, কোমরের হাড় ক্ষয় তাকে থামাল। মাথাটা কাজ…
-

বগি নম্বর ৮৩০৫
বেঁচে থাকা মানে দুর্ভোগ পোহানো। টিকে থাকা মানে ওই দুর্ভোগের কোনো তাৎপর্য বুঝতে পারা। – নিট্শে ট্রেন এক রহস্যময় বাহন। কত চড়েছে সাজু! তবু এর রহস্যের তল পায়নি। রহস্যময় আসলে ট্রেন নয়। লোহালক্কড়ের মধ্যে কী এমন রহস্য? সেই শতাব্দীকাল প্রাচীন ইঞ্জিন কলুর বলদের মতো বগিগুলোকে টানে, আঠারো শতকের নিগ্রো ক্রীতদাসদের মতো বগির চাকাগুলো গড়িয়ে…
-

বৈশাখ, এসো হে
সুমিত চলে যাওয়ার পর, সেই মার্চেই বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু কুইন্সের জ্যামাইকায় পথঘাট ছিল বৃষ্টির পানিতে ভেজা আর স্যাঁতসেঁতে। পারসন্স বুলেভার্ড থেকে জ্যামাইকা অ্যাভিনিউ বা উঁচুতে উঠে হিলসাইড সবখানের ফুটপাতগুলো যেন কালো আর চকচকে হয়ে উঠল। সেইসঙ্গে দুই-এক বস্নক পরপর জেব্রাক্রসিংয়ের ঢালগুলোতে জমাট পানি। বৃষ্টিতে আমার খুব একটা অসুবিধা হয় না। বরং ভালোই…
-

জ্যাকপট
ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিকে বলা যেতে পারে 888sport app শহরের গুলশান। এখানে প্রযুক্তিবিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির হেড অফিস, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন গজিয়ে উঠছে ছানাপোনা আরো অনেক নাম-না-জানা অফিস। যে-কোনো মুহূর্তে এই এলাকার কোনো একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপেস্নক্স ধরে ঝাঁকি দিলে শয়ে শয়ে প্রকৌশলী আর কম্পিউটার প্রোগ্রামার বের হয়ে আসবে – অনেকটা ভরা মৌসুমে বরই গাছ ঝাঁকি…
-

লুব্ধক
আত্মহত্যা তাহলে এরকম! নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর শেষ বিন্দু দেখতে পায় মোজাফফর হোসেন; ষোলোতলা বারান্দা থেকে এক লাফে মৃত্যু হবে তার! দশ সেকেন্ড আগেও বোঝেনি মোজাফফর – কথা শুনছিল আর হাসছিল, মাসুদ সাহেবের লাগাতার রসিকতায় না হেসে থাকা যায় না; যদিও সে এসেছে মাসুদ সাহেব মানে ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমানের কাছে একান্ত প্রয়োজনে। মোজাফফর মন্ত্রণালয়ের সেকশন…
-

আগুন
যমজ কন্যাদ্বয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অস্ফুট স্বরে তাদের বয়সী বাবা শুধু আওড়াতে শিখলেন – ‘আগুন’, ‘আগুন’। একসময় তার মুখে কোনোদিন আর কেউ ‘আগুন’ শব্দ ছাড়া অন্য কোনোই শব্দ উচ্চারিত হতে শুনল না। ‘আগুন’ ছাড়া পৃথিবীতে আর যত শব্দ আছে তার সবকিছু তিনি ভুলেও গেলেন; কিন্তু সব কথা ভুলে গেলেও তার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা…
-

কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি
‘তোমার কোথায় দেশ? কিবা পরমাত্মা-পরিচয়? তুমি ছোট ঘরে বসে আজীবন পড়াশুনা করো তোমার সামান্য আয়, তুমি স্ফীতোদর।’ (‘অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি অন্ধকারে’, শক্তি চট্টোপাধ্যায়) বুকসেলফ … একবার খুব টানাটানির মধ্যে পড়ে গেলাম। ২০০৯ সালের কথা। সুজলার বয়স তিন আর স্বননের সাত-আট মাস হবে। চট্টগ্রামের যে-দৈনিকটাতে কাজ করতাম সেখানে নিয়মিত বেতন হতো না। বকেয়া পড়ত…
-

বনমানুষীর খোঁজে
দুই হাজার চৌদ্দোয় পৌঁছে শিকদার হাসান ফেরদৌস উনিশশো একাত্তরে ফিরে এলো। স্ত্রীকে চড়-গুঁতা মেরে, টেনে-ধাক্কিয়ে বাসা থেকে বের করে গলিতে ঠেলে দিতে দিতে চরম উৎকণ্ঠা কিংবা কামজ বিগারে ও চিল্লায় – সহেলি, সহেলি … এমন এক সিনে শিকদার সাহেবকে আশপাশের বাসাবাড়ি-দোকানপাটের লোকজনের ভারি অশোভন ঠেকে, তারা তার এমন জ্বলে ওঠার কারণ যেমন বুঝে উঠতে পারে…
-

কাআ তরুবর
এই চওড়া সড়ক ধরে হাঁটার সময় বহুদিন ডান-বাম পাশে তরুসারির নাম মনে করতে আমরা প্রায়ই ঝগড়ার মতো করে বসি; অনিন্দ্য কোনো গাছের নাম ঠিক বলতে পারে না, তবু সে স্বরচিত নাম দেয় গাছের : আমরা বড়জোর মেহগনি চিনতে পারি, দেবদারু চিনতে পারি তবে তার পাশে বড় বড় পাতার শাল কিংবা কদমগাছ চিনতে পারি না। সৈকত…
-

সন্দেহ
এখন কি দিন না রাত কিছুই বুঝতে পারছি না, সকাল বিকেল দুপুর সন্ধ্যার ভেদ ধরা তো দূরের কথা, একটা দরজা-জানালাহীন ঘুটঘুটে অন্ধকার-ঘরে আমাকে বন্দি করে রেখেছে ওরা! কত মাস, কত সপ্তাহ, কত দিন, কত ঘণ্টা, কত মিনিট ধরে আছি কোনো হিসাব নেই আমার। এই অন্ধকার মনে হচ্ছে কবরের মতো নিরেট, জমাটবাঁধা। হাত বাড়ালেই অন্ধকারের মোটা…
