July
-
‘তোমার ঘরে বসত করে ক’জনা, তুমি জানো না’
হা স না ত আ ব দু ল হা ই আগে শুধু ভোরবেলায় ছিল, এখন বেশ কিছুদিন হলো বিকেলেও একসঙ্গে বের হচ্ছেন তাঁরা। ভোরবেলা একসঙ্গে বের হন প্রাতঃ888sport slot gameের জন্য, ধানম– লেকের পার ধরে চলে যান ৩২ নম্বর রোড থেকে ৮ নম্বরের কাছে রবীন্দ্র সরোবরে। সেখানে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে, যখন যা সুবিধা পান সেই অনুযায়ী, কিছুক্ষণ…
-
তার নাম কি বাণী
বো র হা ন উ দ্দি ন খা ন জা হা ঙ্গী র আর্মি গলফ ক্লাবের ভিতর আমি তোমাকে নিয়ে হাঁটছিলাম। গলফ ক্লাবের মাঠ তৈরির আগে জায়গাটা ছিল পাহাড়িয়া : উঁচু-নিচু বড়ো বড়ো গাছপালায় ছাওয়া, শাল গজারি জাম জারুল গাছের অরণ্য, এই অরণ্য যেখানে শেষ সেখানে নদী ঢেউ তুলে তুলে ধলেশ্বরীতে মিশেছে। আমার গ্রাম আর…
-
সম্পাদকীয়
সূচনাকাল থেকেই বাংলা ছোটগল্প জীবনের বহুকৌণিক দিকের উন্মোচন করে চলেছে। বিসত্মৃত পরিসর ও পটভূমি নিয়ে জীবনের নানা অনুষঙ্গ ছোটগল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর রচিত ছোটগল্পে মননধর্মিতার সঙ্গে সাধারণ লোকজীবন-উপলব্ধিকে যে প্রসারিত চেতনায় বিসত্মৃত করেছিলেন, তা বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। তিনি বাংলা ছোটগল্পে প্রকরণ ও শৈলী নির্মাণেরও প্রধান পুরুষ। তাঁর মতো করে জীবনের…
-
সূ চি প ত্র
তার নাম কি বাণী l বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ‘তোমার ঘরে বসত করে ক’জনা, তুমি জানো না’ l হাসনাত আবদুল হাই রূপকথা l বুলবন ওসমান সুখ-দুঃখের সুতো l সেলিনা হোসেন বৃক্ষজীবন l মাহবুব তালুকদার রাজপথ রাজার l রেজাউর রহমান জানালা l ওয়াসি আহমেদ অদ্ভুত এক রাতের গল্প l ইমদাদুল হক মিলন স্পর্শ l পূরবী বসু দেয়াল l সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ভিটেমাটির খরচ l সুশান্ত মজুমদার আমার মৃতদেহ…
-
বেলি কেড্সের 888sport sign up bonus
প্রশান্ত মৃধা পুব-পশ্চিমে টানা খানজাহান আলী রোড, মেইন রোডে মিশে যেখানে শেষ, সেই নাগেরবাজারের আগে বামে ঢুকে যাওয়া রাস্তাটার নাম কাজী নজরুল ইসলাম রোড। শহরের পুরনো বাসিন্দারা কেউ বলে, এই রাস্তার কাজিবাড়িতে একদিন এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি, তাই এই নামকরণ। কেউ বলে, ওসব কিছুই না, এমনিতেই কাজী নজরুল ইসলামের নামে নাম, ওই কাজিরা কাজী নজরুলের কিছু…
-
বেহুলার দ্বিতীয় বাসর
জাকির তালুকদার চাঁদ সদাগরের সাতমহলা বাড়িতে আজ সাজ-সাজ রব। যমলোক থেকে বেহুলা ফিরে এসেছে প্রাণাধিক পতি লখিন্দরকে সঙ্গে নিয়ে। ইন্দ্রের সভায় যখন পা দিয়েছিল বেহুলা, তার কোলে ছিল লখিন্দরের কঙ্কাল। আজ লখিন্দর ফিরে পেয়েছে তার জীবন, তার কন্দর্পকান্তি। লোহার বাসরঘরে যাকে একবার চোখের দেখা দেখেই মনপ্রাণ যার পায়ে সঁপে দিয়েছিল বেহুলা সুন্দরী, সেই সোয়ামির সঙ্গে…
-
জনৈক স্তন্যপায়ী যিনি গল্প লেখেন
শাহাদুজ্জামান স্তন্যপায়ীদের জন্য খেলা একটি জরুরি কর্মকান্ড। শরীরতত্ত্ববিদরা জানাচ্ছেন, বিবর্তনের ইতিহাসে খেলা স্তন্যপায়ীদের সারভাইভালের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। যাবতীয় স্তন্যপায়ীর জন্য শৈশবে খেলা বেঁচে থাকার, বেঁচে ওঠার একটা অপরিহার্য শর্ত। বাস্তবের নকল করে একটা কপট বাস্তব নিয়ে খেলা। বাঘ-শাবকরা একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কপট কামড় দেয়, যেন একে অন্যের শত্রু, যেন সে শত্রুর মোকাবেলা করছে। এ…
-
তাবিজনামা
রাশেদ রহমান আমাদের বয়স কম, গ্রামে কতকিছু ঘটে; দিনেও ঘটে, রাতেও ঘটে; আমরা ওসব দেখেও দেখি না, কানেও তুলি না। ওসব দেখার বা শোনার সময় কই আমাদের! আমরা সাঁঝবেলা মা কিংবা দাদির বকুনি খেয়ে ঘরে না-ফেরা পর্যন্ত, সারাদিনমান ভীষণ ব্যস্ত থাকি। ডাংগুলি খেলা, বনে-বাদাড়ে রাজঘুঘুর বাসা খুঁজে বেড়ানো কিংবা দিগম্বর হয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া; সাঁতার…
-
শহর অথবা একটি গতানুগতিক গল্প
নাসরীন জাহান দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের জীবনে যাকে কোনোদিন মনে রাখার মতো একবিন্দু অসুস্থতা স্পর্শ করেনি, সে একদিন সন্ধ্যায় বাইরে থেকে ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়ল। তার স্ত্রী উঠোনটাকে ধোঁয়ার আখড়া বানিয়ে খড় দিয়ে ভাত জ্বাল দিচ্ছিল। চুলোর তিনটে ইটের একটা ঈষৎ নিচ হওয়াতে কাত হয়ে ছিল ডেকচি। সেটা সোজা করে বসানোর প্রচেষ্টা করতে করতেই চোখ গেল…
-
কবি
আনিসুল হক কীরকম বৃষ্টি পড়ছে! চিলেকোঠার ঘরের জানালাটার ওপরে কোনো শেড নাই আর পাল্লার একটা কাচ ভাঙা। সেখানে সে লাগিয়ে রেখেছে একটা শক্ত কাগজের বোর্ড। কাগজটা ভিজে বাদামি হয়ে গেল। জানালা খোলাই ছিল। যা গরম পড়েছিল রাতে। এখন বৃষ্টির ছাঁট এসে তার বিছানায় পড়ছে। তার পায়ের কাছটায় লাগছে জলের ছিটে। পা জোড়া টেনে নিল। হাঁটু…
-
আর খিদে থাকার কথা না
সুশান্ত মজুমদার হাড্ডি ঠাটে চামড়ার পাতলা খোসা প্যাঁচানো না থাকলে বুড়োকে কিছুতেই প্রাণী মনে হতো না। কোলবাঁকা এই কাঠোমোর চোয়াল চিমসে, মাতায় চুলের নামে আছে উস্কোখুস্কো আগাছা, দুই চোখের কোয়া ঘোলা, তক্ষকের পেটের মতো খরখরে ছবি মিলিয়ে বুড়োকে ইতর জন্তু বলেও শনাক্ত করা যায়। আশ্চর্য! বুড়োর সামর্থ্যের সব শাঁস ফুরালেও কানে সে কম শোনে না।…
-
চিত্তরঞ্জন অথবা যযাতির বৃত্তান্ত
হরিশংকর জলদাস ‘খেয়াল করেছ?’ ‘কী?’ ‘ছেলেটা কেমন করে দিন দিন বদলে যাচ্ছে।’ চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। স্ত্রীর কথায় চোখ তুলে তাকালেন। কিছুটা আন্দাজ করেছেন তিনি। তারপরও বললেন, ‘কার কথা বলছ?’ ‘তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, ছেলে আমাদের ডজনখানেক।’ একটু করে হাসলেন সুপ্রভা দেবী। বললেন, ‘ছেলে তো আমাদের ওই একটাই, অর্ণব। তার কথাই তো…
