2004
-

একাদশ দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনী এশীয়চারুকলা : চিরায়তওএইদাহকাল
দেশের সীমানা আছে। সংস্কৃতি সেই সীমানা মানে না। এক দেশের মানুষের ভাবনার সঙ্গে অন্য দেশের মানুষের চিন্তা মিশে যাচ্ছে। এ ঘটনা কতকাল ধরে চলছে তা বুঝতে হলে জানা ইতিহাসেরও আগের সময়ের কর্মকান্ডের কথা অনুমান করতে হবে। সংস্কৃতি মানুষ রচনা করে। মানুষ চিরকাল সুদূরের পিয়াসী। মানুষ মূলত একা নয়। মানুষ আরো মানুষের সাথে মিশতে চায়। মানুষের…
-

মুঠোফোনের গদ্য
বংলাদেশে কতকগুলো জায়গার নাম আছে, সাধুভাষায়, ক্রিয়াপদ, অতীতকাল। যেমন: টাঙ্গাইল। কে যে কী সেখানে টাঙ্গাইলেন জানি না, তবে টাঙ্গাইলেন যে বটে, তা না হয়েই যায় না। না হলে জায়গার নাম টাঙ্গাইল হবে কেন! এমনিভাবে নড়াতে নড়াতে নড়াইল, সরাতে সরাতে সরাইল। এখন এদেশে এসেছে এক নতুন জিনিস – মোবাইল। কে-যে কাকে কবে এদেশে প্রথম মোবাইয়াছিলেন, জানা…
-

বাঁশরি ও রণতূর্য
আচার্য নন্দলাল গাছের মধ্যে শক্তির প্রকাশ | দেখতে পেতেন। একে বলা যায় উত্থানের শক্তি—মাটি ফুঁড়ে গগনস্পর্ধী প্রকাশ। তাঁর 888sport live chatীজীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে শান্তিনিকেতনে, যেখানে দীর্ঘকাণ্ড উন্নতশির শালের ছড়াছড়ি। তিনি প্রচুর এঁকেছেন শালগাছ, প্রচলিত নিয়মে উপর থেকে নিচের দিকে না টেনে কাণ্ডের রেখা টানতেন উল্টো, নিচের থেকে ওপরের দিকে। তাতে আচার্য নন্দলালের মতে, গাছের upward thrust…
-
অর্ফিয়ুসের মতো
বড় মন্থর গতিতে কেটে যায় বন্ধ্যা সময়, দিন আর রাত্রির প্রভেদ বুঝি না আমি। জানি না কীভাবে কেটে যায় দ্বিপ্রাহরিক অলস বেলা অথবা মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধ সময়। শুধু মনে হয় নষ্ট-পচা সময় জুড়ে ব্যর্থতার বিপুল আরতি বেজে চলে শ্রান্ত মেধায়; শুধু অপেক্ষার বদে ভরিয়ে রাখি ভারাক্রান্ত মন। এতো নয় যত্নে গড়া পুতুলের সাজানো সংসার! অসম্ভব বাসনায়…
-
প্রতিসাম্য
মানুষ ঘোড়ার গল্প শুনে-শুনে আর সব প্রাণীর চেহারা ভুলে যায় স্নায়ুর পরিধি জুড়ে হ্রেষাধ্বনি শুধু যুদ্ধের মাঠে, দুর্গের চারদিকে কেবল ঘুরতে থাকে, আস্তাবলে ফিরে তারা বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে ঘুমায় ঘোড়াও শুনেছে গল্প মানুষের বুঝেছে লাগামখানি কত ভয়াবহ, চেপে বসা আরোহীর অপরাধ কীরকম ক্ষমাহীন, তার সিংহাসন আর স্বপ্ন মুছে যাওয়া নিরীহ বুদবুদ বাকি থাকে হ্রেষাধ্বনি। মনুষ্যগল্পের নিচে…
-
মেঘবতী
শেষপর্যন্ত মানুষই মানুষকে নিয়ে যায় দুঃসময় থেকে সুসময়ে সর্বাঙ্গে সন্ধের রং মেখে নিশিপক্ষী নিজস্ব নীড়ে ফিরে আসে দিনান্তে কোথায় তুমি যাও, মেঘবতী বিকাশ-উন্মুখ গতির চাঞ্চল্যে শূন্য সময়ের গর্ভ থেকে শুরু হয় তোমার নিয়তিবিদ্ধ যাত্রা এবং আমার মর্মমূল সেতো তোমার অস্তিত্বের শিকড়ের নামান্তর মাত্র পড়ন্ত হেমন্তের প্রান্তরের আদিগন্ত রুক্ষতা অন্তর্গত অক্লান্ত তৃষ্ণা তীব্রতর করে তোলে আর…
-
ফসিল
এবার থেকে শুধু মাঠের গল্প লিখব ভেবেছি। কীভাবে খুব চওড়া মাঠের এক প্রান্তে বসলে তার মধ্যে অনেকগুলো স্তর টের পাওয়া যায় যে কোনও পুরনো সভ্যতার মতো কোনও এক স্তরে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছিল হাফপ্যান্ট পরা দুটো বাচ্চা শীতের দুপুর জুড়ে সেই ছুটোছুটি কী শান্ত রোদ্দুর হয়ে আছে! ওই রোদ্দুরে কেউ খুলে রেখেছিল তার বাদামি বুটজুতো আর…
-
বয়েসকাল
ছেলেটিকে পেরিয়ে হেঁটে যেতে যেতে মেয়েটি বারবার আলতো হাতে খোঁপা বাঁধছে, আর বারবার খুলে যাচ্ছে তার হালকা, খয়েরি, ফাঁপানো চুল। খুলে, এঁকেবেঁকে পড়ছে পিঠের মাঝবরাবর। এই পুরো ঘটনাটার মধ্যে একটা আহ্বান আছে একটা চাপা যৌন উত্তেজনা কেননা মেয়েটির শিরদাঁড়া বরাবর গভীর খাঁজ আর ছেলেটি তার পরিচিত নয়।
-
বালক, তুমি একদিন
দূরপ্রান্ত বালক, আমি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি, একদিন কবি হবে তুমি। বাইচের নৌকোর টান তোমার শরীরে এখন তরতর করে উঠছে, বীজতলার সবুজ তোমার চুলে এখনই, তোমার শাপলা এখনি লাল, সরল স্বচ্ছ জল এখন নালার ওপর দিয়ে বহে যাচ্ছে, তুমি পা ডুবিয়ে, মাছের বা নক্ষত্রের ঝাঁক চঞ্চলতাই যেন এখন তোমার করোটিতে, গুঞ্জন করছে অরুণ পতাকা হাতে ভোর…
-
মৌন
কখনও কখনও মৌনই হতে পারে মানুষের প্রকৃত আশ্রয়, তার যোগ্য পথ হতে পারে সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যাওয়া; যদি হয়ে যেতে পারো থেমে-যাওয়া বাঁশির সংগীত হতে পারো নিস্তরঙ্গ সমুদ্রের ঢেউ, নৃত্য থেমে যাওয়া প্রশান্ত ঘুঙুর, শুধু তাহলে করতে পারো সব দুঃখ ভোলার প্রার্থনা। মানুষ বোঝে না, কখনও কখনও তার মৌনই হতে পারে একমাত্র ভাষা এই নিঃশব্দ…
-
ঘড়ির বাইরে, চিরদিন
চিরদিন ঘড়ির বাইরে থাকতে তো চেয়েছি, বন্ধু, হঠাৎ এমন কী হলো ঘড়ির ভেতরেই ঢুকে যেতে হবে এই আমাকেই এখন! বুঝি না জীবনাচার এমনটি হবে এই ক্ষুদ্র জীবের জীবনে, আর ধরো যদি এমনটি হয় ঘড়ি স্তব্ধ হয়ে যাবে— যেতে পারে, কারু পক্ষে সম্ভব হবে না এর ব্যতিক্রম করা!- জন্মাবধি ঘড়িকে অবজ্ঞা করে এসে আজ এই এতোটা…
-
ইচ্ছে হয় চাঁদটিকে ছিঁড়ে আনি
যে যায় তোমাকে ছেড়ে দূরে, বহুদূরে, প্রকৃতই সে কি চলে যায়? না, সে যায় না তোমাকে ছেড়ে অন্য কোনওখানে। সে-তো কখনো হঠাৎ ভোরবেলা সহস্র মাইল থেকে তোমার শয্যার পাশে এসে দাঁড়ায় প্রসন্ন মুখে এক লহমায়, 888sport sign up bonusময় কথা বলে। যদি বলো কাউকে এ-কথা, নিশ্চিত সে গাঁজাখুরি গল্প ভেবে হেসেই উড়িয়ে দেবে, জানি। এ-ঘটনা বান্ধব মহলে রটে…
