2012

  • পশমিনা

    বসন্ত লস্কর নীলের ওপর লাল গোলাপ ফুল অাঁকা টিনের তোরঙ, শাশুড়ির। বিয়ের কনের সঙ্গে এ-বাড়িতে ঢুকেছিল। গত বছর শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর, দু-তিন মাস পরে ছোট ননদ লফট থেকে নামিয়েছিল। মরা মানুষের তোরঙ খুলে কেউ হাটকাচ্ছে, সে হোক না মানুষটির নিজের মেয়ে, দেখে রুমেলির ভালো লাগেনি। ননদকে বলতেই ননদ মুখঝামটা দিয়েছিল, ‘থামো তো তুমি, আমার…

  • কাকতালীয়

    বিকাশ কান্তি মিদ্যা কাকতালীয় ব্যাপারটা কেবল মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে, এমনটা ভাবার কোনো যুক্তি নেই। যদি কেবল মানুষের ক্ষেত্রে ঘটবে, তাহলে কাকতালীয় হবে কেন, বলুন? নিশ্চয়ই কাকের ক্ষেত্রে ঘটার সম্ভাবনা আছে, আছে বলেই নাকি, কাকিটা সেদিন সকাল সকাল উঠে, হাতের কাছে কিছু না পেয়ে, যখন কী খাই, কী খাই ডাকছিল, রতিকান্ত তরফদারের বাচ্চা মেয়েটা তখন টলমল…

  • মুখোমুখি

    মালেকা পারভীন বেডরুমের খাটের এক কোনায় বসে আছে সালমা। মুখটা কাঠিন্যের মুখোশে আটকে ফেলেছে সে। এতে করে তার অসচেতন অনিচ্ছায় যা ঘটেছে, তা হলো তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের বলতে গেলে পুরোটাই 888sport app পড়ে গেছে। যদি সে এখন আয়নায় তার আচমকা বদলে যাওয়া মুখের অাঁকাবাঁকা রেখাচিত্র দেখতে পেত, ঠিকঠিক সে নিজেই লজ্জা পেয়ে কাউকে কিছু বুঝে ওঠার…

  • কিচ্ছুই ভুলিনি

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ভুলব কেন, সবকিছু এখনও দুই চক্ষে লেগে আছে, কিচ্ছুই ভুলিনি। এটা তো গেরস্তপাড়া, মধ্যবিত্ত মানুষজনের একতলা দোতলা ঘরবাড়ি এখানে ছিল পরপর সাজানো। সব বাড়ি কি পাকা ছিল? না, তাও ছিল না। ইটে-গাঁথা বাড়ির পাশেই এখানে ওখানে ঢেউ-খেলানো টিনের চালের কিছু কাঠের বাড়িও দেখেছি তা পষ্ট মনে পড়ে। প্রতিটি বাড়ির সামনে একটুখানি করে ফাঁকা…

  • দুটি 888sport app download apk

    শঙ্খ ঘোষ বাস্ত্ত ঘরের দখল নিতে আসিনি তোমার কাছে আজ মাটির দখল নিতে নয়। আমি শুধু আগন্তুক। আমি শুধু নিমেষের দৃষ্টি মেখে চলে যাব ভেবে এসেছি ভিটের কাছে শতাব্দী পেরিয়ে। তুমি আছো, তাই আমি এসে বসি এখানে এ-সিঁড়ির কোনায় চা খাই মাটির ভাঁড়ে, দেয়ালে বুলিয়ে নিই হাত, সামনেই শুকোতে-দেওয়া হলুদ সুপুরিগুলি থেকে দুটো-একটা তুলে নিই।…

  • শুদ্ধসত্ত্ব

    আবুবকর সিদ্দিক কামে ও প্রেমে ক্ষারকাচা হতে হতে সেই কবিমানুষটা দেখো ফৌত হয়ে এসেছে শেষটা। জহুরিরা চিরকাল নির্বিকার তার জীবনভর আত্মব্রতী লেখালেখি নিয়ে। পাঠকেরা ভুলো উদাসীন। পথে তার বিছিয়ে দেয়নি কেউ গোলাপপাপড়ি। প্রিয় 888sport promo code ক্লীবের অধিক তাকে পোছেনি কখনো। এমনকি পড়শিরা কেউ তাকে নিয়ে ঘামায়নি মাথা। পৃথিবী ঘুমের ঘোরে সংজ্ঞালুপ্ত হলে জেগে উঠত গোক্ষুরফণা। আগ্নেয়…

  • পারিপার্শ্বিক

    উৎপলকুমার বসু ভ্রমেরই পারাবত 888sport slot gameে এসেছে। বৃক্ষহীন, ছায়াহীন এই লোকালয় শুধু মানচিত্রে লেখা, শুধু কাগজে চিহ্নিত – মিথ্যা ও অবাস্তব। দিলো কি আশ্রয় সৃষ্টিছাড়া তোমাদের মতো দু-চারজন কবি ও চিত্রীকে – যারা ভুল করেছিল আত্মনির্বাসনে এই দেশে ঢুকে পড়ে? মৌচাকে মধু চায় প্রাণপাখি – ওই ভ্রম-পারাবত – ছায়া চায়, জল চায়, সে কোথায় পাবে? বেলা…

  • হয়, হতে পারে

    আসাদ চৌধুরী ব্যাঙ ডাকুক বা না-ডাকুক, কদম ফুটলে ফুটবে, না-ফুটলেই বা কী? এক ধরনের বৃষ্টি হাত ধ’রে ছাদে নিয়ে যায় নিজের ছায়ার সঙ্গে আরও একটি ছায়ার কাঁপন। আর কোনো কোনো বৃষ্টি বাঘের মতো ধমকায়। কাকুতি-মিনতি করে ওগো আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।

  • জীবন এরকমই

    রবিউল হুসাইন চারিদিকে হইচই নিঃশব্দতা দরকার প্রচন্ড শব্দ করে চুপ্ বলতেই পলকে হুড়মুড় করে সুনসান অলক্ষে নির্জনতা এসে দেখা দেয় যদিও সবাই উপস্থিত ছিল তখনো অদূরে দূরত্ব দাঁড়িয়ে ছিল নৈকট্য বহু দূরে ঝাপসা চোখে কাছে ডাকে দূরত্ব কাছে আসে নিকট নিকটে আসে না কখনো দূরই কাছে নিকট ধরা দেয় না দুটি চোখ পাশাপাশি মিলেমিশে একটি…

  • কাইয়ুম চৌধুরীর তিনটি 888sport app download apk

    মৃগনাভি কী সুগন্ধি মেখেছো আজ – মৃগনাভি? তৃষ্ণার্ত কাতর শরীরী গন্ধে মাতাল সর্বব্যাপী। কর্ণকুহরে ভেসে আসে তিলক কামোদ কী যে সুমধুর – জল টলটল আকাশে জাগে অগুনতি তারা রাত্রি দ্বিপ্রহর। দু্ই চোখে ঘুম নেই সুগন্ধির উৎসমুখে – অবিরাম ওড়াউড়ি কী ভীষণ সুখে – নামিয়ে এনেছি দুকূলপ্লাবী স্বপ্নলোকের চাবি। কী সুগন্ধি মেখেছো আজ মৃগনাভি? সংলাপ হাতে…

  • দরিয়ায় কবি ডুবে যায়

    মুহম্মদ নূরুল হুদা কবি মূর্খ থেকে গেলে কী ক্ষতি তোমার? তুমি তো শিখছো সব শব্দকলা, ভাষিক ছলনা, মাতৃভাষা রপ্ত করে লুটে নিচ্ছো মৃত-বা-জীবিত সব ভাষার গহনা, জগতের তাবৎ দর্শনশাস্ত্র, অর্থনীতি, আইনি ও বেআইনি বাহাস, তুমিও কি হতে চাও স্বর্গ-ও-নরকত্যাগী জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ জেদি ফসটাস? কবি যদি মূর্খ থাকে কী ক্ষতি তোমার? তুমি তো রেখেছো খুলে জগতের আদি-অন্ত,…

  • দুটি 888sport app download apk

    ভূমেন্দ্র গুহ বাবা এক কাল রাতের বেলা বাবা এসে দাঁড়িয়েছিলেন দরজার চৌকাঠে, আমাদের ডেকেছিলেন। কোথাও গিয়েছিলেন, আটকে পড়েছিলেন। জামা-কাপড় পালটাতে আমাদের দেরি হল কেন-যে জানতুম না। হি-হি শীতের হাওয়া ছিল সারা-রাত। রাস্তাগুলি লম্বা, কালো, অন্ধকার। শেষ-অব্দি সেই ছোটো শহরটায় আমরা পৌঁছুলুম – ভিজে স্যাঁতসেঁতে। রাস্তার গা ঘেঁষে তিনি ল্যাম্প-পোস্টটা জড়িয়ে নিয়ে দাঁড়ালেন। রাস্তার পাশে শীত,…