2015
-
জনৈক স্তন্যপায়ী যিনি গল্প লেখেন
শাহাদুজ্জামান স্তন্যপায়ীদের জন্য খেলা একটি জরুরি কর্মকান্ড। শরীরতত্ত্ববিদরা জানাচ্ছেন, বিবর্তনের ইতিহাসে খেলা স্তন্যপায়ীদের সারভাইভালের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। যাবতীয় স্তন্যপায়ীর জন্য শৈশবে খেলা বেঁচে থাকার, বেঁচে ওঠার একটা অপরিহার্য শর্ত। বাস্তবের নকল করে একটা কপট বাস্তব নিয়ে খেলা। বাঘ-শাবকরা একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কপট কামড় দেয়, যেন একে অন্যের শত্রু, যেন সে শত্রুর মোকাবেলা করছে। এ…
-
তাবিজনামা
রাশেদ রহমান আমাদের বয়স কম, গ্রামে কতকিছু ঘটে; দিনেও ঘটে, রাতেও ঘটে; আমরা ওসব দেখেও দেখি না, কানেও তুলি না। ওসব দেখার বা শোনার সময় কই আমাদের! আমরা সাঁঝবেলা মা কিংবা দাদির বকুনি খেয়ে ঘরে না-ফেরা পর্যন্ত, সারাদিনমান ভীষণ ব্যস্ত থাকি। ডাংগুলি খেলা, বনে-বাদাড়ে রাজঘুঘুর বাসা খুঁজে বেড়ানো কিংবা দিগম্বর হয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া; সাঁতার…
-
শহর অথবা একটি গতানুগতিক গল্প
নাসরীন জাহান দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের জীবনে যাকে কোনোদিন মনে রাখার মতো একবিন্দু অসুস্থতা স্পর্শ করেনি, সে একদিন সন্ধ্যায় বাইরে থেকে ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়ল। তার স্ত্রী উঠোনটাকে ধোঁয়ার আখড়া বানিয়ে খড় দিয়ে ভাত জ্বাল দিচ্ছিল। চুলোর তিনটে ইটের একটা ঈষৎ নিচ হওয়াতে কাত হয়ে ছিল ডেকচি। সেটা সোজা করে বসানোর প্রচেষ্টা করতে করতেই চোখ গেল…
-
কবি
আনিসুল হক কীরকম বৃষ্টি পড়ছে! চিলেকোঠার ঘরের জানালাটার ওপরে কোনো শেড নাই আর পাল্লার একটা কাচ ভাঙা। সেখানে সে লাগিয়ে রেখেছে একটা শক্ত কাগজের বোর্ড। কাগজটা ভিজে বাদামি হয়ে গেল। জানালা খোলাই ছিল। যা গরম পড়েছিল রাতে। এখন বৃষ্টির ছাঁট এসে তার বিছানায় পড়ছে। তার পায়ের কাছটায় লাগছে জলের ছিটে। পা জোড়া টেনে নিল। হাঁটু…
-
আর খিদে থাকার কথা না
সুশান্ত মজুমদার হাড্ডি ঠাটে চামড়ার পাতলা খোসা প্যাঁচানো না থাকলে বুড়োকে কিছুতেই প্রাণী মনে হতো না। কোলবাঁকা এই কাঠোমোর চোয়াল চিমসে, মাতায় চুলের নামে আছে উস্কোখুস্কো আগাছা, দুই চোখের কোয়া ঘোলা, তক্ষকের পেটের মতো খরখরে ছবি মিলিয়ে বুড়োকে ইতর জন্তু বলেও শনাক্ত করা যায়। আশ্চর্য! বুড়োর সামর্থ্যের সব শাঁস ফুরালেও কানে সে কম শোনে না।…
-
চিত্তরঞ্জন অথবা যযাতির বৃত্তান্ত
হরিশংকর জলদাস ‘খেয়াল করেছ?’ ‘কী?’ ‘ছেলেটা কেমন করে দিন দিন বদলে যাচ্ছে।’ চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। স্ত্রীর কথায় চোখ তুলে তাকালেন। কিছুটা আন্দাজ করেছেন তিনি। তারপরও বললেন, ‘কার কথা বলছ?’ ‘তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, ছেলে আমাদের ডজনখানেক।’ একটু করে হাসলেন সুপ্রভা দেবী। বললেন, ‘ছেলে তো আমাদের ওই একটাই, অর্ণব। তার কথাই তো…
-
ব্রিফকেস
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্র একটা ব্রিফকেসের গল্প জুড়ে দিলো। তার গলা এমনিতে নিচু, তারপর তোতলামি আছে কিছুটা। আর গল্প যদি বলতেই হয় বাবা, মৌচাকের সামনের জলকাদা আর আবর্জনাময় রাস্তার কাঁধটা কেন বেছে নেওয়া? রাস্তা দিয়ে বাস ট্রাক রিকশা যাচ্ছে যে যার মতো সময় নিয়ে, আর মোহাম্মদ আলী ইনিয়ে-বিনিয়ে মুখ খিঁচিয়ে…
-
নির্বাসন
রেজাউর রহমান মে ১৯৭১। ট্রেনের যাত্রীরা কেউই রাজেন্দ্রপুর রেলস্টেশনে পৌঁছুতে কতটা সময় লেগেছে, তা এ মুহূর্তে আন্দাজ করতে পারবে না। পারার কথাও নয়। আর এখানকার সময়টাই-বা কত তাও-বা কে বলবে? ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের চোখ-মুখের অবস্থাও এতটা নিমগ্ন ও আতঙ্কিত যে, তাঁদের চেহারা-সুরত, ইঙ্গিত-ইশারার সময় বিবেচনা করার মতো মনের অবস্থা কারো ছিল না। আশপাশের বনজঙ্গলের…
-
ভালো লাগে না, কেবল মনে মনে!!!
মালেকা পারভীন ভালো লাগে না – এই শব্দজোড়া আমাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে, ভাবছি। ভালো যদি না-ই লাগে, কী করব তাহলে। বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়তে পারি অথবা কাগজ ছিঁড়ে কুটিকুটি। তাতে লাভ? জিরো। মাঝখান থেকে আমার চেহারার সর্বনাশ। চুলবিহীন মাথাটা কল্পনা করে একটু হাসার চেষ্টা নিষ্ফল হলো। বরং আবার সেই কিছুতেই কোনো কিছু ভালো…
-
কাচ ভাঙা আয়না
মুর্শিদা জামান রাজ্যের কাজ ঘাড়ে চেপে বসেছে। নিজের দিকে পর্যন্ত তাকানোর সময় নেই। দিনদুয়েক হলো লাগাতার বুকে ব্যথা করে চলছে। বাড়ির কাউকে জানায়নি আহসান কবির। ভাবছে আজ অফিস থেকে বেরিয়েই সোজা ডক্টরের কাছে যাবে। যেতেই হবে ওকে। টেলিফোনের দিকে হাত বাড়াল সে। মাকে জানিয়ে রাখতে হয় সবটা সময়। বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মায়ের শরীর খারাপ…
-
জ্বলে ওঠা বারুদ
স্বকৃত নোমান জেলা শহর থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে, যেটির নামের ওপর ‘জাতীয় দৈনিক’ এবং নিচে ‘সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন’ লেখা এবং যেটির সার্কুলেশন সাকল্যে দুশো কপি, কিন্তু সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা সর্বত্র দুই হাজার কপি বলে প্রচার করে থাকেন, বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর শহরের 888sport live footballবোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন তিনি। কবি খায়রুল বাশার প্রমুখ, ব্যতিক্রমী নামটাই…
-
উনার নাম আলাউদ্দিন
শাহ্নাজ মুন্নী আলাউদ্দিন জীবিত না মৃত সেটাই এখন নগরবাসীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শুধু বড় নয় বরং ঝুলন্ত ও জ্বলন্ত একটি প্রশ্ন। একেবারে গ্যাস, ডিজেল বা পেট্রোলের আগুনের মতো দাউ-দাউ করা জ্বলে উঠে, বাঁকা হয়ে ঝুলে থাকা বিরাট প্রশ্ন এটি। দগদগে ঘায়ের মতো প্রশ্নটা একটু একটু করে নগরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছিল, আর নগরজুড়ে সংক্রমণ, যন্ত্রণা…
