2018

  • দেখা হবে পাঁচ পাহাড়ের পরে

    হাফিজ রশিদ খান   তোমার সঙ্গে দেখা হবে পাঁচ পাহাড়ের পরে টুকটুকে লাল ঘাড় কাঁপানো মোরগ চিকন চালের সঙ্গে রবে পেঁয়াজ-রসুন থলে ভরে তুমি মোটে ভয় পেয়ো না আমি ঠিকই আসবো চলে ঝোপঝাড় আর সচল জলের ঝিরি বেয়ে বিরহের গান গেয়ো না আসবো আমি পিদিম হয়ে চাঁদের আদরে   যা দেখেছি যা শুনেছি ওই পথের…

  • লালমিয়া তারামিয়া

    ইকবাল আজিজ লালমিয়া তারামিয়া বসেছিল আমার দুপাশে একদিন – বাংলা একাডেমির সাতাশির বইমেলা – স্বপ্নাচ্ছন্ন আজব দুনিয়া বসেছিল আমার দুপাশে লালমিয়া তারামিয়া। পুরনো 888sport appর সব কথামালা তাদের হৃদয়ে; নবাবপুর রোডের শেষে রথখোলা ঘেঁষে সুপ্রাচীন মোহাম্মদীয়া প্রেস। নাদুসনুদুস চেহারার প্রকাশক দাঁত বের করে হাসে; অন্ধকার ঘরে অতি মিষ্টি চা আসে ঘণ্টায় ঘণ্টায় – ভৌতিক কম্পোজিটর হাত…

  • পর্দা উৎসবে

    শিহাব সরকার   ছাতার আড়ালে মুখ ঢেকে কারা যায় বড় পথ থেকে ছোট পথে কলিযুগে উল্কি-আঁকা জাদুমুখ সব, মুখ ঢেকে আছে মুখোশে, মায়াবাস্তবে   বাহারি পর্দা ঝোলে না আর জানালায় কে বলে বাইজিরা না খেয়ে আছে, যাও, শহরের বারোতলা ঘুরে এসো ওরা সুরা দেবে, দ্রাক্ষা দেবে, আরো কিছু…   কাউক্কেই তোয়াক্কা না ক’রে গাড়লেরা যত্রতত্র…

  • যন্ত্র তো উদ্বাস্ত

    বায়তুল্লাহ্ কাদেরী   যন্ত্র তো উদ্বাস্ত্ত যন্ত্র হকচকিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়! যন্ত্র আসে… যন্ত্র তার হরিৎ ডিমটুকু পেড়ে যায় তোমার-আমার বাসনার কুঁজোজলে! যন্ত্র অবিরাম তার মাথাটা টেকো করতে থাকে – জলাভূমি ছেড়ে আমরা যখন একটুখানি তেষ্টায় রেলক্রসিং পার হয়ে যখন সন্ধ্যা অতি নিরীহ মুরুবিব ছাড়া আর কিছুই নয়, তখন যন্ত্র আসে অবুঝ ঝড়ের রাতে মেয়েলোকের কোমর-ধরা আলুথালু…

  • স্বাক্ষর

    মারুফুল ইসলাম   স্তনে তার রেখেছ স্বাক্ষর কপালে আবির ভিন্ন কোনো নক্ষত্রের সঙ্গে মিশে যেতে সূর্যের কামুক যাত্রা অন্তহীন তবে কি শেষবিচারে গায়ত্রীমন্ত্রই সেরা   অমন নিবিড় চোখ কতকাল আঁকেনি পৃথিবী, বলতো অগ্নিজা সৃজনোন্মুখ পুরুষকুল প্রলুব্ধ প্রথমাবধি অথচ তোমার পক্ষপাত পরাজয়ে চিবুকের প্রান্ত বেয়ে ক্লান্ত রাত নেমে এলে স্পর্শের তখন আর কোনো জিজ্ঞাসা থাকে না…

  • ওপেনটি বায়োস্কোপ

    হাবীবুল্লাহ সিরাজী   হাওয়া ও বুদ্বুদের মধ্যে ঘুরেফিরে ঘণ্টা দুই সাঁতরানো মানে সিনেমা হ’তে পারত ঘন নিঃশ্বাস পাশে ব’সিয়ে শ্যাওলার ভেতর খোঁজা যেত চুম্বনের মিহি দাগ আগলিয়ে নেয়া ঝিনুকের ঠোঁটে তখন হয়তো গরম হবে জল, হাওয়ায় হাইফেন   সিনেমা মানে যদি আলোর আহ্ললাদে পর্দাজুড়ে চুয়িংগাম সামলানো ছায়া চল হয় তবে, বন্দুকের মাছিতে বসা মৌমাছি নিয়ে…

  • অতীত কাহন

    (কবি হায়াত সাইফ 888sport apk download apk latest versionভাজনেষু) মাকিদ হায়দার   মনের সুখে সেলাই করি মনের অসুখ।   মাঝে মাঝে পরের বাড়ির শাড়ির আঁচল।   সব শাড়িতে দহন দেখি দহনসহ সেলাই করি একটি, দুটি, তিনটি শাড়ির গোপন কথা।   শাজাদপুরের একটি শাড়ি কেঁদে আমায় বলেছিল, রবিঠাকুর কথা দিয়েও নেয়নি তাকে কলিকাতায়। জোড়াসাঁকোর লাল বাড়িতে। কবিরা সব কথা দিয়েও কেউ…

  • অন্ধকার নয়, আলোর দিকে যেতে চাই

    শাহজাহান হাফিজ   অন্ধকার নয়, আলোর দিকে যেতে চাই! একদিন সেই আদিকালে, ভুবন যখন ছিল অনন্ত অন্ধকারে আচ্ছন্ন : ছিল শুধু দিগ্দিগন্ত ছেয়ে সীমাহীন স্থির অবিচল জল, শুধু জল; বিধাতা বললেন, আলো হোক; অমনি আলো ফুটে উঠল; সময় প্রবাহিত হলো; সৃষ্টি-জগৎ হয়ে উঠল চঞ্চল!   সেই থেকে আলোর পিপাসা, জেগে উঠল চরাচরে! জেগে উঠল সৃষ্টি-পিপাসা…

  • কী করুণ একা!

    মাহবুব সাদিক   ভার হয়ে উঠেছে এই দিন – স্বপ্নছেঁড়া দিন যেন বুকজোড়া উত্তপ্ত গ্রানিট বিমর্ষ করুণ মুখ শুধু চেতনার অতল থেকে খুঁড়ে তোলে বিপুল বেদনা, উলটোপালটা হাওয়ায় পড়তি বেলার সূর্যকে দেখায় বাঁকাচোরা – যেন কমলা রঙের ক্লাউন, চারপাশটাও বিচিত্র, উদ্ভট – ফুল নেই পাখিরা উধাও আজ দৈগন্তিক রেখার ওপারে, মরুভূমি নয় – হাওয়া তবু…

  • মেনে নেওয়া

    রুবী রহমান   কী মেনে নিই নি!   যেদিন আমার একান্ত নিজের ঘর-সংসার নিখিল ভুবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হলো সেদিনও টুঁ-শব্দটি করিনি।   যখন একই রাতে আমার ছেলেকে আর ছেলের বাবাকে মেরে ফেলল না, কিছুই করিনি। পাথর হয়েছি। কিছুই করিনি।   দীপনকে, অভিজিতকে, রাজিবকে মেরে ফেলল একদিন মেনে নিলাম, গ্রেনেড হামলায় মেরে ফেলল আইভি রহমানকে কেবলই…

  • মুক্তির উপায়

    শ্যামলকান্তি দাশ ঘুমের মধ্যে আমি শেষবারের মতো নগ্ন হয়ে গেলাম। ভাবলাম এবার আমি সম্পূর্ণ চোখে আকাশ দেখব, আকাশে টানা লম্বা শরৎলেখা দেখব। কিন্তু তার আগে রাত্রি বারোটা চলিস্নশ মিনিটে ঘুমের পোশাকে নগ্নতার ছিটে লেগে গেল। খানিকটা আগুন আর কিছুটা অঙ্গার। চারপাশে রাস্তা। রাস্তার চারপাশে কিলবিল করছে মানুষের দীর্ঘ ঘুম। যাই কোথায় এবার! পাগলের মতো মুক্তির…

  • বৃত্ত

    কালীকৃষ্ণ গুহ   ‘অন্ধজনে দেহ আলো’ এই কথাটা ঘিরে অনেক যজ্ঞবেদি মশাল জ্বালা।   ‘অনেক দিনের শূন্যতা মোর ভরতে হবে’ এই কথাটায় হঠাৎ কেমন ফুটে উঠল রক্তজবা।   ‘দিন ফুরালো হে সংসারী’ শোনার পরেই ভেঙে পড়ল অনেক সাধের বসতবাড়ি।   ‘দিনের পরে দিন যে গেল’ এমন সরল উচ্চারণে কেঁপে উঠল সপ্তপাতাল।   ‘অশ্রম্ননদীর সুদূর পারে  …