2019

  • স্বীকারোক্তি

    নগর-টোলের ছাত্র, আজ বসে আছি লু-নিবিড় অন্ধকারে একা – যেন চার প্রহরের এই রাত উদ্যাপন করতে যাচ্ছি অজপাড়াগাঁয়, যেন জোনাকবাতির নিচে পুথি পড়া যাবে সারারাত। আমি তো এসেছি ফিরে, তবু, নাগরিক পাঁজি হেন সিরিফ নাদান শিশু; ভয় লাগে হরফের ভিড় … বলো কে বলবে পই, ছিলক, ডিঠান? তবু তাতে নাগরিক চতুরালি থাকে; জারিতে ভরে না…

  • অলৌকিক পাখিকাব্য

    মানুষের জীবন এখন অর্ধসমাপ্ত ভুল নামতা গুনতিতে ভুল হলে বৃষ্টি ও আগুনের তারতম্য মিলেমিশে একাকার। জীবন এক রহস্যময় অগ্নি এখন চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়েছে প্রতিশ্রম্নতিহীন জল। অবশেষে তোমার সাথে আমার দেখা হবে তো? আমাদের না-দেখা-হওয়া দিনগুলিতে কী ভয়ানক আগুনের উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে শহরব্যাপী, তুমি বরাবর নিরাপদে থাকতে চাও, তুমিই আবার খুলে ফেলতে চাও রাজার…

  • তারারা ছড়াবে বিভা

    শাহেদ রহমান রোদ্রদগ্ধ জমিনে যখন রুপালি বৃষ্টির ফুল ঝরে, শিরায়-শিরায়                                                                                তার বাজে সঞ্জীবনী সুর, সে-সুরের মতো প্রেমিকার কাঁপা ঠোঁটে চুমু খাওয়ার তৃষ্ণার মতন, প্রাণপূর্ণ                                              একটি মধুর দিন একান্ত আমার হবে –             এমন স্বপ্নের সাম্পানে আজীবন বসে আছি ঝোড়ো                                                        খেয়াঘাটে। সে-দিনটি কাছে এলে বেশি দিয়ে সাজাবো তোমাকে,                                   পৃথিবীর সব অস্ত্রাগার পরিণত…

  • বেহুলা বাংলা-২

    তানভীর মোকাম্মেল           আমরা ভালো নেই    বেহুলা  শকুনক্রাস্তির এ-কালে    অদৃশ্য নাগপাশ এক যুগশ্রান্ত আমাদের    দেহমন    করে ফেলছে গ্রাস        চারিদিকে সবুজাভ বিষাক্ত নিশ্বাস       যা কিছু অর্জন ছিল    মানব করোটির  মারণশিষ্যেরা মনসার    কুরে কুরে করছে বিবশ      গাঙুরের দু’পারে    বেড়েই চলেছে শুধু              শরীর    ও চেতনার শব;           প্রস্তুত হও বেহুলা আবার ভাসাও তোমার     অলৌকিক…

  • বেহুলা বাংলা-১

    তানভীর মোকাম্মেল আমাদের     আজন্ম ব্যর্থতার দায়ভার      মায়ের মতো    রাখো আঁচলে নিভৃতে গোন দিন     কেরানি গিন্নিসম        সন্তানেরা হবে সফল ফলাবে ফসল   কালজয়ী   মাঠে ও শয্যায়;     মৃতপ্রায় পাবে ফের     সৃজনের ঘ্রাণ  নদীর বালুচরে উঠবে হেসে    স্বর্ণলতা ধান উষার জাগরণে    বাতাসে     আসবে ভেসে          বাংলার পাখিদের     অলৌকিক গান; আর দিনান্তে    মেঘবতী    গোধূলিবেলায়   পশ্চিম আকাশ   …

  • চোখ

    বিমল গুহ আগুন দগ্ধ করে – পৃথিবীর যাবতীয় ঘাম          শুষ্ককাঠ মরাদেহ          বস্ত্তব্যাধি জটিল হৃদয়          শীর্ণকায় ছায়াপথ 888sport free bet login          পুরানো ঠিকানা। মানুষের সম্বন্ধ সুখ্যাতি লোভ হিংসা ভয় আগুনে পোড়ে না! উড়োমেঘ ছায়া ফেলে মানুষের চোখে দিনভর, এই চোখ –         দেখে দগ্ধ পৃথিবীর রূপ পূর্বাপর         দেখে নীলছায়া         দেখে যাপিত জীবন মানুষের।…

  • সময়ের কাছে নতজানু যত মেধা

    সময়ের কাছে নতজানু হয় মেধা আলোকের মাঝে তীব্র অন্ধকার মেঘ নয় তবে মেঘের উপমা যত তত ঢেলে দেয় শুভ্র চাদরে কালি উজানের সাথে দূরপালস্নার ঢেউ সংক্ষুব্ধ শরীরের কোষগুলো অনতিক্রান্ত বৃত্তের ঘুরপাকে মেধা ও মনন পাশ ফিরে শুয়ে থাকে সময়ের কাছে নতজানু যত মেধা পরিপূরকের বিপরীতে হয় নীল একজীবনের হালখাতা খুলে দেখে দ্বৈরথে শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি।

  • রীনা ভিলা

    [আবদুলস্নাহ আবু সায়ীদ 888sport apk download apk latest versionভাজনেষু] মাকিদ হায়দার অনেক কিছু বদলে ফেলি মাঝে, মাঝে নিজ আবরণ।             ভীষণ রকম ভয়ে থাকি,             এই বুঝি কেউ বলবে এসে : লাগছে             ভীষণ চেনা চেনা, কাল দুপুরে             দেখেছিলাম রীনা ভিলায়             সামনে ছিলেন             কাল সারাদিন। সেদিন থেকেই অনেক কিছু বদলে ফেলি। মাঝে মাঝে নাম ঠিকানা, পিতার দেয়া…

  • চৈত্রে যখন বৃষ্টি ঝরে

    আসাদ মান্নান আলো মুখে তার যাত্রা; গোল চাকতির অর্ধাংশে ঘুরতে ঘুরতে দিবসের শেষ হাসি চোখের নিমিষে মহাশূন্যতার গহন অতলে কী নিঃশব্দে নেমে যায়! এমন অপূর্ব সন্ধ্যা যেন বুকে নিয়ে বহে যায় আমাদের নদীগুলো। আকাশের ছায়া থেকে তারপর নিবিড় রাত্রির আঁচল জড়িয়ে গায়ে হাওয়ার ডানায় চড়ে বৃষ্টি নামে; সীমাহীন দিগন্তের বাঁকে অগণিত শাস্তির বেলুন ওড়ে প্রতিটি…

  • শুভেন্দু শোনো

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত জীবনানন্দ সভাঘরে তোমায় ডেকেছি সমাদরে তারপর ভিড় হতেই দুজন বসেছি বারান্দায় শুভেন্দু শোনো, এছাড়া আর আমাদের কোনো তীর্থ নেই।

  • গভীর অশ্রু

    গভীর অশ্রু

    দোতলা বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে আছেন মঞ্জুর সাহেব। তার দৃষ্টি নিচে গলির দিকে। তার ক্লান্ত চোখদুটো কী যেন খুঁজছে। তার বাসার ঠিক সামনেই তিনতলা বাড়ির ছায়া এসে পড়েছে রাসত্মায়। সেখানে একদল ছেলে ক্রিকেট খেলছে। শহরে আজকাল খেলার মাঠ হয়ে গেছে দুর্লভ বস্ত্তর মতো। মঞ্জুর সাহেবের প্রায়ই এদের দেখে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে। তাদের সময়…

  • দড়ি

    দড়ি

     রানু হাঁটছে। সবার নজর তার সরু সরু দুটো পায়ে জড়িয়ে থাকা সাদা টাইটসের দিকে। তার হাঁটায় যেমন অনায়াস আছে, তেমনি সতর্কতাও আছে – বোঝা যায়, অনেকদিন ধরে এর অভ্যাস করেছে সে। যেখানে এক পা পড়ে, অন্য পা-টি সেই বরাবর সামনে পড়ে, একটুও ডানে বা বাঁয়ে পড়ে না, কোমর দুলতে গিয়েও দোলে না। ও হেঁটে কুড়ি…