2020

  • জোয়ারের জলে নতুন দৃশ্য

    জোয়ারের জলে নতুন দৃশ্য

    ক্ষেতচাষি সোহরাবের গানের নেশা বেশি। গান গাইতে গাইতে ক্ষেতের কাজ করে। কাজ না থাকলে রাবনাবাদ নদীর ধারে গিয়ে বসে গান গায়। বঙ্গোপসাগরের মোহনার সঙ্গে মিশেছে রাবনাবাদ নদী। নদীর ধারে গেলে দেখা যায় সাগরের সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে যায় নদীর স্রোত। দৃশ্যটি ভীষণ আনন্দের। ধানক্ষেতের কাজ কম থাকলে ও প্রতিদিন নদীর ধারে আসে। মনের সুখে গলা…

  • সময়

    সময়

    এক আশ্চর্য সন্ধ্যায় তোমার সঙ্গে আমার দেখা। সন্ধ্যার গা কেমন পিচ্ছিল আর সংক্ষিপ্ত। তুমি কালো গ্যাবার্ডিনের ওপর একটা লাল রঙের টপস পরেছ। গলায় কোনো ওড়না প্যাঁচানো নেই। তাতে তোমার বুকের ওঠানামা আমি দেখতে পেরেছিলাম। আমি নেহায়েত একটা দোকানদার। দোকানের কর্মচারী। তোমার সঙ্গের ছেলেটা আমার পূর্বপরিচিত। আবার দোকানে আমার সহকর্মীও তোমার পূর্বপরিচিত। অপরিচিত কেবল আমি আর…

  • চোখ

    চোখ

    একমাস পর অফিসে কাজ করতে এসে নিজাম সাহেব দেখলেন তিনি চোখে খুবই কম দেখছেন। বাসায় থাকতে এতটা খেয়াল করতে পারেননি। আজ অফিসে লেখালেখি করতে গিয়ে বুঝতে পারলেন বিষয়টা। অথচ দু-মাস আগেই তিনি ডাক্তার দেখিয়ে নতুন চশমা নিয়েছেন। চশমা নেওয়ার পর খুব ভালো দেখতেন চোখে। অফিসের লোকেরা একটু আগেও টেবিল ঘিরে ছিল, সবার মুখের দিকে তাকিয়ে…

  • রক্তের রোশনাই

    রক্তের রোশনাই

    আমি বাহাদুর শাহ পার্ক। প্রাক্তন ভিক্টোরিয়া পার্ক। তারও আগে আন্টাঘর। আমি যেমন ব্রিটিশ-ভারত, পাকিস্তান আর 888sport apps নামের তিন রাষ্ট্রের ক্রমবাসিন্দা তেমনি আমার গায়ে আছে আর্মেনিয়ান, ইংরেজ আর এদেশের বিপ্লবী সিপাহিদের নিহত নিশ্বাস। খুলেই বলি তাহলে। আঠারো শতকের শেষদিকে এই 888sport app শহরে আর্মেনিয়ান সম্প্রদায়ের বিলিয়ার্ড খেলার ক্লাব ছিলাম আমি। এদেশের মানুষের মুখে তো সব জিনিসই একটা…

  • ভূমিপুত্র

    ভূমিপুত্র

    আজ অমাবস্যা। সমস্ত আলো শিকার করে নিয়ে গেছে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ। রাত এখানে নির্জন, অচঞ্চল। স্থলচর আমরা কয়জন এখন জলের কাছাকাছি। গাঙচরা বিলে জয়নাল ভাই, উসমান আর আবেদ আলীর সঙ্গে মাছ মারা কিস্তি নাওয়ের গলুইয়ে বসে ওদের নিরলস কর্মকাণ্ড দেখি। এরা মাছ ধরার সময় কথা কয় না। যেন ধ্যানরত মুনিঋষি! বর্ষার শুরু কেবল। আজ সারাদিন মনের…

  • বেহুলার ভাঁটফুল

    বেহুলার ভাঁটফুল

    জয়গুনকে পাওয়া গেল সন্ধ্যার মুখে। চকের ভেতর পরিত্যক্ত বাড়িটার পুকুরঘাটেই ছিল সে। পুরনো আমলের বড় বড় ইটে করা ঘাটের সিঁড়ি। কোনোকালে ভূমিকম্পে ফেটে দেবে গিয়েছে মাঝখানে। সেই ফোকর থেকে উঠে এসেছে লতানো গাছ, উঁকি দিচ্ছে বটের চারা। ওর ভেতর দিয়ে সরসর করে চলে যায় ইঁদুর আর শব্দহীনভাবে মাটি ঘষে ঘষে তার পিছু নেয় হলুদ-কালোর ডোরাকাটা…

  • একটা মৃত কুকুর অথবা সূর্যোদয়ের গল্প

    একটা মৃত কুকুর অথবা সূর্যোদয়ের গল্প

    আমাদের শুরুটা বেশ ছিল, অনেকটা সত্তর বা আশির দশকের সিনেমার মতো, ধরতে গেলে নিজের হাতেই সাজানো-গোছানো স্ক্রিপ্ট। যেসময় পার্কে রাত কাটানোর অভ্যেস অথবা নিরুপায়তা আমার ছিল; সে-সময়ের ঘটনা। ‘কুকুর হইতে সাবধান’ এই নীতিতে বিশ্বাস করে পার্কের পাশে ঘেউ-ঘেউ করা দুই কুকুরের উত্তেজিত বাকবিতণ্ডায় নিজ দায়িত্বে রাস্তা হতে সরে গিয়েছিলাম অনেকটা। নিরাপদ বলতে যতটা দূরত্ব বোঝায়…

  • শরফুন ও এক শহরের বৃত্তান্ত

    শরফুন ও এক শহরের বৃত্তান্ত

    ধরমপুর-দোয়ালিয়া রেললাইন ধরে সরকারি নিচু জমি। বর্ষাকাল বাদেও সারাবছর জল ধরে রাখে এক হাঁটু। ধরমপুর কোর্ট ইস্টিশনের কাছে যেখানে শহিদবেদি দম্ভ নিয়ে দাঁড়ানো, তার পেছনে বেশ কয়েকটা কৃষ্ণচূড়ার গাছ। চৈত-ফাগুনের হাওয়ায় আগুনমুখার ফুল জলে সাঁতার কাটে। মায়ের কাছে শুনেছিল শরফুন, টাকি মাছের ঝাঁক এমন লালপানা হয়ে শ্যাওলার বুকে আতিপাতি করে মুখ ডোবায়। তাই দেখে সে…

  • লকডাউন

    লকডাউন

    মহল্লাটাই যেন একটা গোরস্তান। চারপাশে কোনো শব্দই নেই। বাসাবাড়িতে সবাই ঝিমুচ্ছে, না-হয় রান্নায় ব্যস্ত। কাকটা ডেকে উঠল। ঠিক দুপুর। পাশেই ব্যাপটিস্ট খ্রিষ্টানদের কবরস্থান। সেগুন, মেহগনি আর শিরিষের ডালে বসে আছে ওরা। স্বরে ক্লান্তি নেমেছে। ভয়-ধরানো স্বরে ডেকে চুপ মেরে আছে। এ-কদিনে ওদের কোনো ডাক শোনা যায়নি। মনে হয় কোনো নতুন লাশ নামছে। গত চারদিন যাবত…

  • খোয়ানোর উৎসবে

    খোয়ানোর উৎসবে

    থমথমে বাড়িটাতে কান পাতলে সামান্য বিরতিতে ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। উঠোনের শেষপ্রান্তে বেড়ার পাঁচিলটা বাইরের দিকে নুয়ে পড়েছে। হয়তো কঞ্চিগুলোর দুর্বলতা নয়তো বাঁধনের তারে জং ধরে পড়েছে ছিঁড়ে। পাঁচিলটা উঠিয়ে ঠিক করার তাগিদ নেই কারো – মোল্লাবাড়ির কারো তো নয়ই, ভাঙা পাঁচিলের পাশে উঠোনের এককোণে যে-খোদেজা বেগম তার তিনটা ছাগলসমেত আশ্রয় নিয়েছে, তারও নয়। পাঁচিলের…

  • লকডাউনের পর

    লকডাউনের পর

    আমরা ভুলে গিয়েছিলাম এই শহর যে শুধু মানুষের নয়। চারশো বছরের প্রাচীন এই শহরকে তিলে তিলে করে তোলা হয় মেগাশহর। একশ চৌত্রিশ বর্গমাইলের এই মহানগরীকে ভরিয়ে তোলা হয়েছিল মানুষে মানুষে। যেদিকেই চোখ যেত কেবল মানুষ আর মানুষ। রাস্তায় বেরোলেই আমরা ভাসতে থাকতাম মানবস্রোতে। রাস্তাগুলো ঢেকে থাকত কফ-থুতু আর আবর্জনায়। বাতাসে ভাসত ধুলা আর ধুলা, সিসা…

  • ঠগিবাজ তৈফুর

    ঠগিবাজ তৈফুর

    হোটেল দিলশাদে এসে প্রথমে মনে পড়ল সারাতুনের কথা, সে ব্যাংক কর্মকর্তা, ভালো পরামর্শক হতে পারে। তারপর কালবিলম্ব না করে ছুটবে মেয়েকে আনতে কুমারখালি। হোটেল দিলশাদ তার পছন্দের হোটেল কারণ এখানে নিজের মতো বাস করতে পারে – পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আন্তরিক পরিবেশ। বস্তুত নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ খুবই অপছন্দ তার। প্রতিদিন দুবার স্নানে ঘণ্টাখানেক এই কাজে ব্যয় চিত্তে আনন্দ…