2021
-
বাজনা
না, আমার কোনো ক্ষোভ নেই যথাস্থানে হয়েছে প্রবিষ্ট রাতের পেরেক জোনাকির গান তবু দেখি উড়ছে যথারীতি কেন এই বিষাক্ত তীর? আমি ব্যথা পাই ঘাসের শরীরে নিষ্পলক ঘড়ি না, আমার কোনো ক্ষোভ নেই! আমার শরীরে হাড় আর নুন আর কিছু উদ্ভিদ জলজ প্লাংকটন কালো হলে আমি ঘ্রাণ নিয়েছি মাটির। এখন একটা তরুণ গাছ আমার সঙ্গী হয়েছে…
-
তোমাকে দেখেছি একদিন
তোমাকে দেখেছি একদিন অষ্টাদশী আনমনে ব্যাকুল বাতাসে সৌরভ-বকুল হেসে তুমি করেছো রুক্ষ ধরণিরে স্নিগ্ধ-আকুল সজীব দুপুরে এখনো তোমার জন্য জেগে থাকে রাতের পূর্ণশশী তোমাকে দেখেছি একদিন অষ্টাদশী অনন্ত সম্ভাবনার অনন্য উষসী ভোরের আলোয় ধানের বুকে শিশিরবিন্দু ঝলমলে জ্যোতিতে তুমি ঢালো স্বপ্নের সিন্ধু তখনো নিঃসঙ্গ প্রান্তর জুড়ে সারস ডাকে উপোসী। তোমাকে একদিন দেখেছি অষ্টাদশী শান্ত পুকুর…
-
স্বৈরিণী
আমাকে স্বৈরিণী বললেও বলতে পারো কারণ গোপন প্রেমের কোনো ইঙ্গিত দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে দিইনি তোমাকে অগ্নিশপথ মেনে চলতে পারিনি আমি দুঃখের বিফলতার অপ্রাপ্তির ক্ষতগুলি ঠিকমতো ভাগ করে নিইনি তোমার সঙ্গে কেঁদেছি, বলেছি অভিমান করেছি সবই সেই ছন্দ-ছন্দহীনতার কাছে আজো যার সঙ্গে দেখা না হলে টনটন করে বুক আজো যার আলিঙ্গনের জন্য সহবাসের পরও আমি উন্মুখ
-
ইশতাহার : নতুন প্রেমের
১. বলেছি এসো না; শোনো, এতো কম শীতে ততোখানি জমবে না প্রেম; যদি না কঠোর হিমে হৃদয়ের ত্রসরেণু বরফে কঠিন হয়ে ওঠে। তাহলে অপেক্ষা করি চলো পথ ক্রমে ঢেকে যাক অবিরাম তুষারে তুষারে। যাতে, অবাধে চালাতে পারি স্লেজ ২ আজো যদি প্রেম কিছু বেঁচে থাকে, অবশিষ্ট থাকে নিজেদের ঘাড় মটকে, হৃৎপিণ্ড খুবলে খেয়ে বেঁচে থাকতে…
-
দরিয়া-গল্প
এই দরিয়া ওই দরিয়া মধ্যিখানে তুমি চারদিকেতে অকূল পাথার নাই পালানোর ভূমি জলের তলে অল্প আঁধার ডুবলে উপায় কি! নাই রে উপায় নাই রে পাগল বনে যাই রে এক দরিয়া তোমার যদি অন্য সাগর আমি কোনখানেতে থামি কোনখানে জল ঘূর্ণিমায়া কুহকভরা পাতালচুমুক সেচতে সেচতে থামি সাগর তুমি সাগর প্রকৃতিলীন বসুন্ধরার আর্তনাদেই জাগর রাত পোহালে একাকিত্বের…
-
আরো কিছুদিন
আরো কিছুদিন, আরো … টোটো চড়ে এসেছেন মৎস্য মহারাজ আমাদের নিভৃত নিবাসে, আনন্দ প্রদানে। প্রতিবেশী কৌতূহলী, তার সুখ কম কুঁচো চিংড়িতে দিন যায় তবু দ্যাখে, কে ওড়াচ্ছে ঘুড়ি, কোন বারান্দায়। এ-ওকে কাটছে আকাশে ওই আকারে সাকারে ফোটাচ্ছে খই, নিচে রেখা বক্র ও সরল। এখন তৃতীয় স্তর; নিভৃত নিবাসে আনন্দ ছটফট করে বড় শ্বাসকষ্ট তার।
-

বিশ্বাসঘাতকগণ : বিশ্বাস-অবিশ্বাসের এক চৈতন্যময় উপাখ্যান
১৯৬৭ সালের ২৪ আর ২৫ মে। পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়িতে ঘটে যাওয়া এক তুমুল বিস্ফোরণ গোটা ভারতবর্ষকে যেন নাড়িয়ে দিয়েছিল। কৃষিজীবী-শ্রমজীবী মানুষগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর যে-লড়াই, তাকে কমরেড চারু মজুমদার বলেছিলেন ‘স্বতঃস্ফূর্ত’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবেই শ্রমিক-কৃষক রাষ্ট্রের সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে হামলা করে রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণই দেখিয়েছে। কিন্তু এবারে তো সবাই মিলে প্রস্তুত-শক্তির সামনে লড়তে পারবে…
-

888sport app download for androidে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
আফগানিস্তানের কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের এক রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করছেন এক বাঙালি অধ্যাপক। তাঁর উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট ট্রেনটিতে দেশে ফেরা, কিন্তু ট্রেনে ভয়ানক ভিড়, তিল ধারণের স্থানটুকু নেই, ছিল না রিজার্ভেশন। স্যুটকেস নিয়ে লম্বা-চওড়া পাঠানদের ভিড়ে তাঁর তখন রীতিমতো দিশাহারা অবস্থা। তিনি যখন বিপর্যস্ত বোধ করছেন সে-সময় হঠাৎ ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখলেন একটি…
-

করোনা ও কফিন
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে আদ্রিয়ানার। সার্প সাতটা। বকের পালকের মতো শুভ্র লেপের তলা থেকে কচ্ছপের মতো মাথা ও শরীরটা ঈষৎ বের করে ক্রমাগত আর্তনাদরত ঘড়িটা এক হাতে বন্ধ করে সে। তারপর তন্দ্রাতুর শরীরটা আবার সুড়সুড় করে ঢুকে যায় কোয়েল্টের নিচে। এটা আদ্রিয়ানার চিরকালের অভ্যাস। একবারে কিছুতেই উঠতে পারে না সে। মিনিট পনেরো এভাবে শুয়ে থাকবে…
-

যন্ত্র ও জন্তু
জন্তু মল্লিকবাড়ি আর খোন্দকারবাড়ির মধ্যে যে-বাগানটা নিয়ে কয়েক বছর ধরে মামলা চলছে, সেখানেই এক বিকেলে শওকত আলমের নয় বছরের ছেলেটা একটা চতুষ্পদ জন্তু দেখে ভয় পেল। ছেলেটা চঞ্চল এবং অনভিজ্ঞ। গ্রামে আনাগোনা করার অভিজ্ঞতা না থাকলে অতি সাধারণ শব্দও চমকে দিতে পারে। পাতাঝরার শব্দে মনে হতে পারে জানালার পাশে কেউ হাঁটছে; মুরগি খাবার খোঁজার সময়…
-

শম্ভু ও তার মোবাইল
কালো বেড়ালটার জন্য শম্ভুচরণকে সকালবেলাতেই মাঝেমধ্যে পাঁচিল টপকাতে হয়। আর বেড়ালটাও তক্কেতক্কে থাকে। শম্ভু পাঁচ মিনিট দশ মিনিট আগেপিছু করে বেরিয়ে দেখেছে, মিচকে একটা হাসি নিয়ে বেড়ালটা টুক করে রাস্তাটা কেটে বসে থাকে। সারাদিনের ব্যবসা বলে কথা, অগত্যা শম্ভুকে পেছনের পাঁচিল টপকে সদর রাস্তায় উঠতে হয়। এমনিতে চায়ের দোকান মানে বারোভূতের আড্ডা। কেউ পয়সা না…
-

উজানগাঁওয়ের অমরনাথ
স্যার? সকালে হাসপাতালের ফোন দেখেই বাবুলনাথ রায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। কোনো দুঃসংবাদ? অবশ্য রাতে বাবা অমরনাথ রায়কে ভালোই দেখে এসেছে। অফিসে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুলনাথ। প্যান্ট-শার্ট পরা শেষ। টাইটা বাঁধার জন্য স্ত্রী পাপিয়ার সামনে মাত্র দাঁড়িয়েছে, পকেটে রাখা মোবাইল বেজে ওঠে। পাপিয়াকে অপেক্ষা করতে বলে বাবুলনাথ মোবাইল হাতে নেয়। হাসপাতালের সিনিয়র সিস্টার অমৃতা আহমেদের ফোন…
