2022
-
স্বপ্নের ভেনিস
জলে জলে জলময়, সূর্যালোকে শুয়ে থাকে ভেনিস নগরী জলকন্যা অপ্সরী কি? উঠেছিল কোনোদিন সাগর মন্থনে এমন সুন্দরী 888sport promo code? দিকে দিকে ফুলরেণু স্বর্ণময়ী তরী ভেসে যায় অনায়াস, সারিবদ্ধ মানুষের অপরূপ ধনে কিভাবে এ-অধিকার, যেন তারা কোনোদিন আগুনের আঁচে করেনি শরীর স্নিগ্ধ, যেন খুব শীতলতা ও জলসিঞ্চনে বাগানে গোলাপচারা যা যেন হবে না দগ্ধ, পুরোনো গ্যারেজে মোটরবোটের…
-
বেহুলা বাংলা – সনেট ১
বাল্যে গড়ে মাটির পুতুল খেলেছি তোমার শরীর নিয়ে দুরন্ত কৈশোরে মুছেছি ঘাম ওই শুভ্র আঁচল দিয়ে যৌবনে কাঁধে রাইফেল ঘুরেছি নদীর পারে পথে-প্রান্তরে ছুড়েছি গ্রেনেড তোমার জন্যে বিজাতীয় শত্রুর বাঙ্কারে প্রৌঢ়ে স্বজন নিয়ে গড়েছি পুতুলের একান্ত সংসার বার্ধক্যে তুমি হয়েছ বেহুলা আরো আপন আমার তোমাকে ছাড়া আর তো কোনো নিশিস্বপ্ন দেখিনি তোমাতেই পেয়েছি খুঁজে আমার…
-
নদী যখন নদীকে চুমো খায়
একটা নদী আর একটা নদীর কাছে জল চাইতেই পারে, নদীর সাথে নদীর মৈত্রী আছে বলেই সে খরস্রোতা বহমান উত্তাল-ঊর্মিমুখর ও হিন্দোলিত। একটি নদীর উৎসধারা কোনখানে থাকে নদী তা ভালো করেই জানে! নদীতে নদীতে স্বাভাবিক সখ্য! নদীর হিংসে নেই-আকচাআকচি করে না ঈর্ষাপরায়ণ তো নয়! হিংসালু হবে কীভাবে? জলের ভেতরÑহিংসার আগুন জ¦লতে…
-
ওহে মঙ্গলময়
ওহে মঙ্গলময় – মঙ্গল করো অমঙ্গল নাশি, বিশ্ব জগৎময়। আছে যত দুঃখ জরা, ক্লেশ কলুষিত আশ। করুণাসাগরে ভাসায়ে সবারে, পাপ-তাপ করো নাশ। আঁধার মোচন করো গো প্রভু, দেখাও আলোর দিশা। সৎপথে চলার সৎকথা বলার, জাগাও মনে তৃষা। নাহি হিংসা ক্রোধ শুধু মমত্ববোধ, বিরাজে সবার মনে। হানাহানি আর বিদ্বেষ প্রভু, দূর করো জনে জনে। জীবে প্রেম…
-
যোগ-বিয়োগের খতিয়ান
ক. বাঁধাধরা ইচ্ছেগুলো জটিল রাতের ঠিকানাতে, ডুব মেরে নম্রতা ভাঙে ; ঘুরতে থাকে ইঙ্গিতবহভাবে। বিশেষ ধরনের সীমিত প্রকাশবাদ ভিজে যায় নতুন দর্শনে – প্রচলিত সূত্র সব ক্রমান্বয়ে ভুলে যাচ্ছে রোজ। দোলাচলের খোরাকে খতিয়ান – জোড়া দিচ্ছে আশানিরাশার। – রসবাদ অসুখী বুঝি। দ্যোতকতা ছাড়া মন্ময় – তন্ময় খুঁজে পায় না রীতির কোনো…
-
জলচৌকি
ঢেউয়েরা কানে কানে কী যেন বলছে বটগাছ উড়ে গিয়ে মাঝনদীতে শেকড় গেড়ে বসলো, বটফল যেন প্রজাপতি … জলচৌকি পায়ে হেঁটে এসে গাছের নিচে থামলো একতারা হাতে ভেসে ওঠে, সাঁইজি জলচৌকির ’পর বসলেন, ধরলেন গান … মঞ্চ থেকে তেড়ে-আসা উচ্ছ্বাসের ঝাঁজে গানের সুর পুড়ে মরলো তিনি ইশারায় ডাকলেন, রাজঘাটে ভিড়লো সোনার ভেলা ভেলায় উঠতে গিয়ে পা…
-
সিজদামিতি
এটি একটি প্রস্থান। ফেরার সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে খুব কাছ থেকে ধূলিময় বাতাসে রাত আরতির অনুপম হাতে কেউ দাঁড়াবে না আর উঠোনের বাগানে ভেজা ওঁশের পাতা ঝরার গন্ধে বৃষ্টির লিরিক মিশে গিয়ে উড়ে যাবে দূরের দিগন্তে; বিমূর্ত আকাশের রং আলো… টুপটুপ করে ঝরে পড়বে অদূর গাছের ঘন ছায়ায় কেউ দেখবে না – মাটির পৃথিবী ভেঙে…
-
অবনত চোখ জানে
অহ নওরোজ কী তোমাকে খুশি করে – মাথার নিকটে অথবা বিভাব রাখে – অথবা কখনো পেয়ারা গাছের পাশে নরম বিকেলে পড়ে থাকা মৃদু আওয়াজের ভেতর তোমাকে আমাকে বারবার নিয়ে যায় – অথবা কীভাবে চির হরিয়াল রঙে অগণন রোদে তরুণ পাতার ভেতর তোমাকে পাওয়া যায় নিবিড় মেজাজে – সেসবের ইতিহাস বহু দিন আগে হাওয়ার পিঠে চড়ে…
-
কেল্লা
যা কিছু মাটি ফুঁড়ে ওঠে তাই হলো পাথরের কেল্লা গাছ হোক টিলা হোক সুখী ঘরবাড়ি হোক ওপর থেকে ছুটে আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে তীর প্রাকার থেকে ঢেলে দেবে জ্বলন্ত তেল যদি তুমি কাছে যাও অস্ত্র হাতে নিয়ে যা কিছু আঘাত করে তাই হলো পাথরের কেল্লা প্রেম হোক ঘৃণা হোক সন্তানসন্ততি হোক হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসবে রাশিরাশি…
-
বর্ণাশ্রম
তুমি-আমি শুয়ে আছি হঠাৎ দেখে মনে হবে সেতুর ওপর চওড়া নদী উঠে এলো এখন সেতুর গাম্ভীর্য ভেঙে ছুটে যাচ্ছে জল এখন দূরে দিগন্ত খুব গম্ভীর হয়ে আছে দিগন্ত থেকে রেলিং ওঠে রেলিং পেরিয়ে গেলে বামুন আরো বেশি বামুন হয় কায়েত আরো কায়েত শরীরের একফোঁটা রক্ত না মিশিয়ে তুমি-আমি যথাসাধ্য প্রেম করে যাচ্ছি
-

উদ্বাস্তুর স্বপ্নযাত্রা
খবরটা কে আনে, জানি না। তবে আমি জানি এ-সময় কী করতে হবে। বোনকে একটা মাটির গর্তে লুকিয়ে রেখে নিজে ঢুকে যাই গভীর জঙ্গলে। বর্বরদের হাত থেকে আগে জীবন রক্ষা করতে হবে। জমাট অন্ধকার। আকাশ দেখা যায় না। দেখা গেলে হয়তো আলো আসত। গভীর বনের ভেতর রাতে এগিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না? রাতটা কোনো রকমে একটা…
-

স্থান পরিবর্তন
হাশেম আলীর সকালটা শুরু হয়েছে চরম বিরক্তি দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে মধু দিয়ে লেবু-পানি খেতে গিয়ে দেখলেন, মধুর বয়াম কিচেন ক্যাবিনেটে তার নির্ধারিত জায়গায় নেই। খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে দেখা মেলে, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয় না। বয়াম একদম খালি। কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন তারও উপায় নেই। সবাই ঘুমাচ্ছে। শুধু লেবু দিয়ে পানি খাওয়ার কথা ভাবলেন…
