2024
-

ইহজাগতিকতা ও আহমদ শরীফ
শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সমাজ রূপান্তরকামী বুদ্ধিজীবী-বহুমাত্রিক পরিচয়ে ভূষিত আহমদ শরীফ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি চিন্তাবিদ। বর্তমান 888sport liveের লক্ষ্য তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয়ের স্বরূপ উন্মোচন নয়। এই 888sport liveের উদ্দেশ্য আহমদ শরীফের জীবনদর্শনের ভরকেন্দ্রটিকে চিহ্নিত করা। এই ভরকেন্দ্রের নাম ইহজাগতিকতা। সেক্যুলারিজম বা ইহজাগতিকতা রেনেসাঁসের মৌল বৈশিষ্ট্য। সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগ থেকে বাণিজ্যিক ধনতন্ত্রে উত্তরণের আর্থসামাজিক পটভূমিতে যে…
-

জলচিকিৎসা
তিপান্নতে পৌঁছে হাকিম আব্দুল্লাহর মনে হলো, শরীরটা যেন আর তার দখলে নেই, কথায় কথায় বিদ্রোহ করে। কাজের মাঝখানে অবসাদ উঁকি দেয়, অকারণ বিষণ্নতা মন দখলে নেয়। আরো বিপদ, তার শরীরে দেখা দিচ্ছে জইফ হওয়ার কিছু লক্ষণ। যেমন, তার 888sport sign up bonusরা এখন যেন তিলনা বিলের বাইন মাছ, ধরা দিতে দিতে দেয় না, তার পেটে কিছুই যেন হজম…
-

এ ঢাক নিয়ে রাজবিহারী এখন কী করবে…
না, শিবানন্দের মা, আর বুঝি পারলাম না। বুক-ভরা যন্ত্রণা নিয়ে মধুবালার মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল রাজবিহারী। আর পারছি না শিবানন্দের মা, আর পারছি না। – আবার কী হলো? এ-কথা বলে স্বামীর দিকে কৌতূহলী চোখে তাকালো মধুবালা। – কী আর হবে? তোমার সুপুত্র বলে দিয়েছে ও আর কোনোদিন ঢাক ধরবে না – বাজাবে না আর…
-

ছিঃ
প্রেম দিয়েই শুরু হয়েছিল সম্পর্ক। ক্যাম্পাস-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তছনছ করে প্রেমের পাগলা ঘোড়া ছুটিয়ে তারপর বিয়ে করে ক্ষান্ত হলো ওরা দুজন। দুজন বলতে ধ্বনি আর আশরাফ। তাদের কথাই এখানে বলা হচ্ছে। যে-সময়ে প্রেমিক-যুগল হিসেবে ক্যাম্পাসে ওদের নিরন্তর দৌড়ঝাঁপ, সেটা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিককার সময়। ওরা সে-সময়ের নায়ক-নায়িকা। খুল্লামখুল্লা প্রেমের জন্য রীতিমতো বৈরী সময়; তবু দেশি…
-
অজানা অন্ধকার পথে
শাশ্বতীর যাত্রাপথে সঙ্গী ছিলো না কেউ ছিলো ক্ষুরধার অন্ধকার চারপাশে অনিশ্চিত কালের আঁধারে এগিয়েছি একা একা কণ্টকিত পথে, নিঃসঙ্গতা ফেল্টের টুপির মতো শুষেছে মাথার ঘাম ছিলো তবু বুকে সৃষ্টির তীব্র অনল দহন করেছে যা রক্তমাংস এবং হৃদয়; যা ছিলো সুদূর আলোর রেখা তাও শেষে প্রেতের মতন ছড়িয়েছে নারকী কুহক তবু ছিলো দূর চক্রবালের…
-
আলপনা
একটি ছবি আঁকব বলে ক্যানভাস নিয়ে বসে আছি। চিত্রকরদের মতো আমার সামনে কোনো মডেল নেই, প্রকৃতির কোনো প্রান্তে বসে দেখছি না প্রকৃতির লীলা কিন্তু আমি তো জানি না, কোনোদিন না-দেখা কারো ছবি কেমন করে আঁকব! তাই কল্পনার ওপর ভর করে তুলি চালাবার কথা মনে পড়ে, এখন আকাশ-বাতাস নদী-সমুদ্র, মেঘ-বৃষ্টি-রোদ, সবুজ শ্যামল প্রান্তর আর বাংলার মাটি…
-
নাম
(উৎস : জীবনানন্দ দাশ) একবার ভালোবেসে, অন্যবার অবহেলা করে কখনো-বা ঘৃণা করে মেয়েদের দেখেছেন তিনি মেঘের নকশার মতো মুগ্ধকর অনেক দেখায় সেই মেয়ে – স্তন যার প্রবাহিত জলের উচ্ছ্বাস বরফকুচির মতো শীতল ও সাদা, ছড়ায়ে শিশিরশব্দ, আঁচলের চোরকাঁটা বেছে যে-যুবতী হাসিমুখে দ্রুত চেয়ে থাকে, কোনো কোনো মহিলাকে ভালোবেসে পাওয়া যায় জ্ঞান, যদি মেয়েমানুষের দেখা…
-
ভাষা : রৌদ্রদিনের সংস্কৃতি
ভাষা মানে সভ্যতার সংবিধান ভাষা মানে রাষ্ট্রচিন্তা ভাষা মানে মুক্তির সনদ ভাষা মানে রৌদ্রদিনের সংস্কৃতি ভাষা মানে প্রফুল্ল দুপুর ভাষা মানে হলুদ বিকেল স্নিগ্ধ রোদের কোলাহল ভাষা মানে সন্ধের তুলসীতলা – ভোরের আজান ভাষা মানে ভালোবাসার নিবিড় আলোপড়া – গভীর গোপন তীব্র মুখর মুগ্ধতা ভাষা মানে লাবণ্য-888sport app download apk …
-
শীতসন্ধ্যা
বাদুরের ডানার মতো ক্রমাগত ধূসর হয়ে ওঠে দিন তার ছায়া পড়ে আকাশেও পাতায় পাতায় জড়িয়ে থাকে ঘন কুয়াশার জাল পথে নেমেছে কত নবীন নৃজন – কতজন হেঁটে যায় তবু মানুষের যাতায়াত ক্রমে শ্লথ হয়ে আসে এই শীতে; কয়েকটি বাদলা-পোকা উড়ে উড়ে বেড়ায় ঘুরে ইলেকট্রিকের হলুদ আলোর ভেতর ক্রমশ কমে আসে মানুষের যাতায়াত মাটির…
-
আয়না
কেন ফিরিয়ে দিচ্ছো আমাকে ক্রূর বর্তমান এখন সকালবেলা তুমি দেখতে না পেলেও এখনো সবুজ দেখো আমার পেছনে এখনো বাতাস আমাকে দোলা দিয়ে যায় চাঁদনী রাতের মতো মুখরিত আমার শরীর তবু কেন ফিরিয়ে দিচ্ছো আমাকে শনপাপড়ির মতো চুল বলে? খরায় চৌচির হওয়া জমির মতো এই মুখ আমার তো নয় আমি তো সময়কে বাঁধতে চেয়েছি নদীর স্রোতের…
-
ঘরে ফেরা
ঘরে ফিরে মনে হয় স্বয়ংক্রিয় আলো জ্বলে উঠবে স্বপ্ননীল, ঘরে ফিরে রোজ মনে হয় কেউ আসবে, নিয়ে যাবে খোঁজ বেঁচে আছি কিংবা আমি মরে গেছি কি না প্রিয় বন্ধু কেউ এলে খুবই হয় ভালো বন্ধু যদি নাও আসে অন্তত শত্রুরা ঘরে এসে কথাচ্ছলে করে যাক ঘৃণা আমার তুচ্ছাতিতুচ্ছ দুঃখ ব্যথা সুখ ঘরের আসবাব ছাড়া কেউ…
-
মাতাল মহুয়া
ইমেজের অন্তহীন কুয়াশায় বিভোর রহস্য রূপের আঁধার খুঁটে খুঁটে আয়না বসায় এক মাতাল মহুয়া তামারং ক্যানভাসে আঁকে পাতার সবুজধ্বনি, লাল নীল ফুলের আহ্বান পাখিদের ডানার কম্পন চারদিকে টুপটাপ ঝরে পড়ে নিসর্গের শব্দ ধ্যানমগ্নতায় কখনো কুড়ায় আবার কখনো অনন্তের চোখে মুখে মাখে রং
