2024

  • রেইকি

    কী নামে ডেকেছে লোকে আমি তা জানি না অন্যের কাছে তুমি কি চেয়েছো জানি না যতক্ষণ পাশে থাকো ছুঁয়ে থাকো প্রাণ কত নাম আসে যায়, কত নাম ঝরে তোমার বুকের পরে কত প্রিয় নাম একটি নামের ভাষা যদি মনে পড়ে প্রাণে দিও ঠাঁই – প্রাণ থেকে প্রাণে গেলে হারাবার ভয় নেই স্পর্শবিদ্যা অন্তহীন একবার ছুঁয়ে…

  • পাখি

    জাগাও পাখিকে যার ডানা ঝড় মুচড়ে ভেঙেছে মুছে দাও বিগত প্রেমিকদের চুমুচিহ্ন, কলস্বর বজ্রাহত, তবু দগ্ধ পালকেই যাই বজ্রের ভেতর খুলেছি শেকল, তার দাগ ছিল যেন দাসখত বহুদিন উড়তে না পেরে ভুলে গেছি ওড়ার কৌশল যখন হ্রদের বুক খুলে দেয় অদ্ভুত আয়না দেখি অন্ধকার গর্তে যাচ্ছি ছুটে উল্কার মতন  সেই গর্ত মায়াগুহা, এত তার জাদুটোনা…

  • মৌলিক

    গ্রাম্য অথবা শহুরে একটা প্রলেপ  থাকে দৃশ্য দৃশ্যান্তর এই হাবভাবে বেড়ে ওঠা ভিন্নতর দৃষ্টিভঙ্গি  প্রেক্ষাপট নিয়ে মহাজীবনকে উপভোগ করে তবু শূন্যতা এড়ানো সম্ভব হয় না যা দেখি তা সত্য কি না আর যা দেখি না তা কি মিথ্যা হয়ে যায়? নাড়িপোঁতা গ্রাম মনে এসে ভিড় করে  খোলা হাওয়ায় নিজেকে ছড়িয়ে দিই হাঁপানো শহর পার্কে গ্রাম্য পথঘাট…

  • চুকনগর ২০ মে ১৯৭১

    মানুষ হেঁটে যাচ্ছে চুকনগরের দিকে শতকে শতক হাজারে হাজার তারা ডুমুরিয়া, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, বাগেরহাট, রামপাল, মোল্লাহাট, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জের মানুষ। দাউ দাউ করে জ¦লছে সব বসতভিটা, স্বজনহারা মানুষ ঘন হয়ে ওঠে তারা সরসকাটী, কলারোয়া, ঝাউডাঙ্গার মাঝ দিয়ে বর্ডার পাড়ি দেবে। কেউ-বা ভদ্রা, ঘ্যাংরাইল, তেলিগাতি, শোলমারী পার হয়ে চুকনগরে আসছে করোটির ভিতরে চিন্তা চুকনগর…

  • শক্তি

    যুদ্ধ শেষ হলে চলে যায় শক্তি যোগাযোগহীন রাস্তা, উজাড় বেসাতি ক্ষতবিক্ষত শিশু। রক্তাক্ত ইতিহাস অস্ত্রের ভেতর দাগ কাটে অস্ত্র শামুক অস্ত্র পামুক শক্তি আবহমান যুদ্ধ সমকালীন যুদ্ধে জেতা ক্ষণস্থায়ী, হারা দীর্ঘকাল তবু মানুষ যুদ্ধ করেছে। অনন্ত করেছে যুদ্ধ টেকেনি শক্তি টিকেছে – আমাদের শক্তি চট্টোপাধ্যায় রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে যুদ্ধ না করে হেমন্তের অরণ্যে পোস্টম্যান হয়েছেন।

  • রাত্রি888sport slot gameের পর

    ভোর হলো, এই উন্মার্গগামী পথের কিনারে – সম্মুখে বিস্তৃত পটভূমি নিয়ে ছড়িয়ে আছে আরক্ত সূর্যসম্ভাষণ – হাওয়ায় দুলছে একগুচ্ছ মান্দারের ফুল – আরো কিছু সমুদ্র-পলাশ এইমাত্র চুষে নিল রাত্রি888sport slot gameের সমস্ত ক্লান্তি – এ কাদের দেশ – কেবলই ফুল আর পাখিদের মেলা, সর্বত্র শূন্যতা ও সমুদ্রগর্জন – স্তনবতী রমণীর কাঁখে রুপোর গাগরি – আসমুদ্র তার পবিত্র…

  • পুব-পশ্চিম

    আমার উঠোন ভর্তি মুঠো মুঠো সোনা খুঁটে খুঁটে খায় সুখের পায়রা! পাখিদের আনাগোনা একে অপরের পাশাপাশি – গা ঘেঁষাঘেঁষি! খোশগল্প, আড্ডা ও আনন্দে মত্ত – সুখের পায়রা শুকপাখি, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাথি। ২ আমার উঠোন ভর্তি ময়লা নেই দূর্বাদল, গুল্মলতাপাতা জাপটানো মায়া আবরণ ওঠে না রোদ, ডুবেছে যে সূর্য! আহা! ওই চান্দের সাথে পূর্ণিমার আলাপন – এখন…

  • পেটমোটা বাড়ি

    পেটমোটা বাড়িটার দোষ ছিল না কোন তবু সবসময় মনে হতো মায়েরা আলাদা হয়ে কোথাও চলে গেলে পারতেন … এইরকম একটা মনে হওয়া নিয়ে বেড়ে উঠতে উঠতে প্রেমিকদের সাথে বাবারা মিলে যেতে থাকেন। দশক দশক পরের পুরুষও কী প্রাচীন অর্বাচীন ওই আদিম পুরুষেরই মতো – ভাবতে ভাবতে প্রেমিক ছাড়তে ছাড়তে আমরা বড় হতে থাকি … মায়েরা…

  • আজকাল অকস্মাৎ

    আজকাল অকস্মাৎ ছুটে যেতে ইচ্ছে করে ওই মাঠটায় চারপাশে ঘেরা শক্ত দেয়াল ছাই রঙের; এত সুন্দর তোরণ কোনো প্রবেশদ্বারে দেখা যায় না। গেটের দুপাশে বয়োবৃদ্ধ বৃক্ষ দুজন বিশ^স্ত দারোয়ানের মতো পাহারা দিয়ে যাচ্ছে যেন কেউ উঠে দাঁড়িয়ে আবার কষ্টের কাছে না ছোটে যা জুটেছে সেখানে, সে-জীবনে কিছুই তো প্রশান্ত করেনি হৃদয় ফিরে এসেছে তাই সে…

  • কবির প্রতি

    একদিন চলে যাবে তুমি, এ হৃদয় হবে মরুভূমি,           ভেবে মনে জাগে বড় ভয়! সব 888sport sign up bonus পিছে পড়ে রবে, সব লেখা পুরাতন হবে,           ভালোবাসা হবে না তো ক্ষয়! সেই দিন কেঁদে হবো সারা, বই হাতে হবো দিশেহারা,           লেখা ছুঁয়ে খুঁজে পাব আলো! সেই দিন বৃথা যাবে বেলা, শেষ হবে ছন্দের খেলা,           আকাশের…

  • জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে

    জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে

    শেষ পর্যন্ত ভাগ্য যেন সহায় হলো অনিমেষের। আগে থেকেই কিছু লোক দাঁড়িয়ে ছিল। অনিমেষ এসেছিল ঘণ্টাখানেক পরে। তার পরও আর কেউ কেউ এসেছে। ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও আছে। সবাই লম্বা বোরখায় আবৃত। লঞ্চঘাটে এতগুলো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে সেই কখন থেকে। সবার মুখে চোখে উৎকণ্ঠা, আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। গলায় তেমন জোর নেই। কথাবার্তা হচ্ছে খুবই কম।…

  • আয়েশাপাগলির গর্ভফুল 

    আয়েশাপাগলির গর্ভফুল 

    স্কুলে যাওয়ার সময় দেখি আয়েশাপাগলি রাস্তার ড্রেনের পাশে বসে বমি করছে। পথযাত্রীরা যাওয়ার সময় বকে বকে যাচ্ছে। কেউ নাকে রুমাল চেপে চলে যাচ্ছে। আমরা কয়েক বান্ধবী একটু নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলে গেলাম। আমার বয়স তখন বারো কী তেরো বছর। সেদিন স্কুল থেকে ফিরেই দেখি সবাই যেন কীসব বলাবলি করছে। জিজ্ঞেস করলে কেউ কিছু বলে না।…