2026

  • বসন্তের উদার সৌন্দর্য

    ইটবাঁধানো কষ্ট নিয়ে          বসন্ত এলো,        কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ঘরে! বসন্তের অন্তরা খুলে ঘনিষ্ঠ হবো   অন্তরাত্মা শান্তি পাবে বলে     আমিও সবুজের মূলধন নিয়ে  নিজের হৃদয়ে সম্পাদকীয় লিখতে চেয়েছিলাম! কিন্তু এবারের বসন্তে –    যে কুঁড়ি ফুটতে চাইছিল,       তা আর ফুটল না –          পুষ্পবাগানও হতবাক হলো! বসন্তের দিনেও আত্মকলহ ও আত্মকর্তৃত্বে…

  • ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক

    ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশর্ত হয় ভোর  জলপতনের ধ্বনি। সবাই নিসর্গে যাবে  যেমন নিঃশর্ত যায় নদী  বীজপাতা খুলে দিয়ে যেমন উদ্ভিদ  হৃদয়ে ধরিত্রী মাখে। যেটুকু ধরেছো তুমি  লুকোছাপা-খেলা দুই হাতে  তারও বেশি  ঝরে পড়ে নীল নীলাকাশ হতে  পাখিদের মৌনতা ভাঙে রাতভোর, প্রাতে। ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশব্দ বাড়ায় হাত ঘুমছায়া বট গোধূলির আঙুল ছুঁয়ে চুপে  ঘন হয়ে নামে রাত আমাদের ঘরে যেমন নিঃশর্ত ছড়ানো এই ট্রপোস্ফিয়ার  হিরণ ধূলির পথ, পলি সমতল  আর আলো ফুটলেই আয়নায়  অবলীলায়িত কারো ছায়াপাত –  আমাদের বোধের ভেতরে  বীজফোটা দিন, ছায়াময় ব্যাকুলতা  নদী ও প্রভাত …

  • ঈশ্বরীয় বিশ্বাস ও অবিশ্বাস

    ঈশ্বর আছেন অথবা ঈশ্বর নেই – এ দুই এর মধ্যে ঝুলে আছি ঘড়ির পেন্ডুলাম হয়ে অথচ নিতান্ত মূর্খ এক হাটুরে বললো, দৃষ্টিগ্রাহ্য সবকিছুই বিশ্বাস করতে নেই, তেমনি অদৃশ্য যা কিছু, সবটুকু মিথ্যাও নয় আছেন অথবা নেই এর মধ্যেও ঈশ্বর খুঁজেছি, বিশ্বাসের মজবুত রজ্জুতে বন্দি ঈশ্বরের কালো চশমাটা খুলে দেখি আমারই প্রতিবিম্ব

  • জীবন বুনে

    কোথাও বোমা পড়লে কেঁপে উঠি, মনে হয়, তোমার কাছে যাওয়ার পথ কি ভেঙে পড়লো আগুনের ধাক্কায়! পথ ভরে আছে মিছিল আর মিছিলে, ক্রোধের বাইরে নয় এতটুকু জায়গাও যেখান দিয়ে আমরা হাত ধরে যাব পরস্পর। গোলাপ চাষ হচ্ছে না, চাষ হচ্ছে হত্যার, চাপাতির আঘাতে টুকরো টুকরো বিকাল তার ভেতর রান্না হয় শিশুদের আর্তনাদ। ভেঙে পড়া রাস্তা…

  • কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে

    কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে শীতের রোদ্দুর গায়ে মাখি। তারপর ফিরে আসি কাঠবাদাম গাছের নিচে। মিষ্টি বউদি এসে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে আমাকে দেখেন। যেন আমি কোনোদিন একা একা কপোতাক্ষপাড়ে আসতে পারি না। যেন আমি রাজনারায়ণ দত্ত আর জাহ্ণবী দেবীর নামটা শুনিনি। যেন আমি মাইকেল মধুসূদন দত্তের টানে কখনো আসিনি সাগরদাঁড়িতে। যেন আমি কলকাতা আর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে গিয়ে…

  • কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ

    একটুখানি পানি জমতে শুরু করেছে কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ। ডিপ কালারের একটি স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাত বারোটার কিছু আছে বাকি; এই থাকা অর্থহীন নয়। চলো, উপলব্ধি করি কুয়াশা মোড়ানো এক বাংলো বাড়ি; যার কড়িবর্গা নেপালের সেগুনের ফাইবার পূর্ণ এক দোআঁশ মাটির অনুবর্তী হতে চায়। আমাদের দেহলি দরদ উথলায় যেখানে, সেখানে এক রাত্রি কুজ্ঝটিকা…

  • তোমার বাগান ছেড়ে

    ভুল পথে হেঁটে হেঁটে তোমার বাগান ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি। কুয়াশার অন্ধকারে-888sport app দীর্ঘ পথ। কেউ জানে না, বাগানবাড়ির ঠিকানা; তবে কী সব ফুল ঝরে গেছে? এখন এক বিষবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে আছি একা সব মানুষ খুব ব্যস্ত অস্থির – আমি কি ডালভাঙা জীর্ণ-শীর্ণ মৃত গাছ – আমাকে দেখে না কেউ! এই বৃক্ষের নিশ্বাসও সর্পিলছোবল হয়ে…

  • বারুদ

    একটু হাওয়া দিক তারপর জানলাটা খুলো, বিরহের পর কাঁদে যতনে মানুষ – ভেজে তুলো পুরনো ডায়েরি পড়ে আছে, ব্যথা সকল পাতায়, একটি লাইন শুধু কালিহীন বুকের ছাতায়। ধরে রাখি শ্বাসমূলে, ঋতু আসে-যায় অলৌকিক বাঁশিতে লেগেছে ঘ্রাণ, সুরগুলো মায়ার অধিক আহা রে শ্রাবণ! সাদা-কালো মেঘগুলো দূরকামী, আমার চোখের ’পরে আসে তারা বেহায়া বেনামি। ভিজে যাচ্ছে ভুলগুলো,…

  • বকুল ফুটেছে কোথাও

    বকুল ফুটেছে কোথাও, বুঝি শোনা যায় পদধ্বনি বসন্তের এইখানে ধূলি-ধূসরিত পথ, বাতাস এখানে ভারী মৃদু ক্রন্দনে ঝরাপাতাদের। অবশিষ্ট কিছু শীত হচ্ছে জড়ো সন্ধ্যায় গোল হয়ে আগুন পোহাবে বলে ছোট একটা মাছ পেয়ে মাছরাঙা উড়ে গেছে কোথাও, খড়কা বিলের ধারে পানকৌড়ি বসে আছে সেই সকাল থেকে! বকুল ফুটেছে কোথাও গাছে গাছে মুকুল এসেছে আমের। শিশুরা নতুন…

  • কথা

    এত কথা কেন বলো তুমি? করো মৌনতার চাষাবাদ ভিতরে-বাহিরে হও কসমিক এনার্জি হও প্রকৃতির মতো গাছ কোনো কথা বলে না গাছ সুন্দর পাখি কোনো কথা বলে না পাখি সুন্দর – নদী কোনো কথা বলে না নদী সুন্দর তুমি কেন বৃথাই         করো কলরব করো শব্দ সন্ত্রাস – হও সূর্যের আলো হও সোনালি বাতাস পাথরের নদী,…

  • শেষ কথা

    যাকে আনন্দের মাধ্যমে এতদূর নিয়ে এলাম তাকে ছেড়ে দিতে হবে দুঃখের মাধ্যমে কষ্টের নিয়মে। যে গাছ নিজ অঙ্গে ফোটালো ফুল উৎসাহের আলোক বরণে তাকেই দেখতে হলো দিনবেলা শেষে ফুলের অমোঘ মৃত্যু – সকরুণ রঙে। পথ শেষ হয়। রং শেষ হয়। সুখের নদীতে নামে ভাটা। একই জল দেহের উল্টো দিকে ফেরা। ফেরায় বোনা সন্ধ্যা ফেরায় বোনা…

  • পিয়ানো

    কুয়াশা পড়ছে খুব অরণ্যের শাখায় শাখায় কুয়াশার তন্তু এমন আলগা হয়ে পড়ে আছে, মনে হয় মায়ের মুষ্টিচালের কৌটা থেকে সুতাগুটি চুরি করে এলোমেলো ছড়িয়ে রাখছে এখানে-ওখানে! হাটফেরা মানুষের এত এত তাড়া মনে হচ্ছে নেকড়ের ভয়ে পায়ে জড়িয়ে নিয়েছে দৌড় এই মুহূর্তগুলোও আমরা হারিয়ে ফেলি বেপারির খুতি হতে পড়ে যাওয়া খুচরো পয়সার মতো। আহা – প্রতিটি…