অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

  • অমূর্তের সম্ভাবনা

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ভাবতে পারা শক্ত যে, বছর কয়েক আগেও এ-ধরনের বিতর্কের শামিল হতে হতো আমাদের। কেননা পেশাদারি রঙ্গমঞ্চের একচেটিয়া আধিপত্যের জমানা কবেই তো নিরস্ত্র হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং রবীন্দ্র-নাট্যের মঞ্চোপযোগিতা নিয়ে সংশয় উত্থাপনের দাবি ক্রমশই ক্ষীয়মাণ হয়ে এসেছিল। ফলত তার স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিয়েই রক্তকরবীর মতো নাটক কলকাতার প্রোসিনিয়াম ঋদ্ধ ও বিনোদনময় করে তুলতে পেরেছিল, যেজন্য অবশ্যই শম্ভু…

  • দুটি 888sport app download apk

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত পাখিদের খাবারদাবার দীঘা থেকে আমি ঝিনুকের জালবোনা চারু888sport live chatের একখানি আলপনা তুলে এনে যেই বাগানে শিরীষডালে টাঙিয়ে দিলাম, শালিখেরা জানত না তার আস্বাদে কীরকম সান্ত্বনা গচ্ছিত আছে, ফলত উঁচকপালে উড়ে গেল ওরা দূরের এক তমালে। আমিও ছিলাম কাছেপিঠে অনাবাসী Ñ তিন ঋতু পরে মালঞ্চে ফিরে দেখি ঝুলে আছে জাল, ঝিনুকেরা সুনসান, আমি বেঁচে নেই…

  • দুটি 888sport app download apk

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত সুদীপ্তের একতারাটা সুদীপ্ত বিদায় নিতেই আমার আবাসন ভেঙে পড়তে থাকে। ইংল্যান্ডে কোন্ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়বিদ্যা পড়ায়। বার্লিন থেকে লালন ফকির নিয়ে কাজ করার জন্যে ডাক পড়েছিল। যাবার মুখে এসে হাজির আমার শহরতলির ডেরায়। এসেই জুড়ে দিলো একটার পর একটা লালন, বাড়িটা তখন থৈ থৈ কান্নার সমুদ্র। ফেরার সময় পুঁথিপত্তরের জন্য যতটা এক্সট্রা লাগেজ…

  • না, শোকগাথা নয় (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে উৎসর্গিত)

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত কখনোই তুমি চাওনি তোমার মৃত্যুসংবাদ চৌদিকে চাউর হয়ে যাক, সেজন্যেই বুঝি তোমার চলে-যাওয়ার সময়টায় পর-পর চারদিন জুড়ে কলকাতায় কোনো কাগজ বেরোয়নি, বেরোলেও বিলি হয়নি, আর হকারের সেই অপ্রত্যাশিত ছুটির উল্লাসে সুন্দরবনের আশেপাশে সপরিবারে বেরিয়ে পড়েছিল সবুজে সুনীলে পিকনিকের মহানন্দে Ñ তুমি যেরকম চেয়েছিলে। আমি তখন এলাহাবাদে প্রবাসী বাঙালিদের পূজার মণ্ডপে তোমার 888sport app download apk নিয়ে…

  • শূন্যতা যখন পূর্ণ

    আমার মায়ের মৃত্যুর পর কাতারে কাতারে লোক যখন সান্ত্বনা দিতে এল মুখ ফুটে একটিও কথা বলতে পারল না। দুয়েকজন মূর্খ সুপণ্ডিত এরই মধ্যে শাস্ত্র ছেনে স্তোকবাক্য সাজাতে গিয়ে স্মিত তোতলামি করলেন খুব, সে এক মহান বিড়ম্বনা। তাদের থামিয়ে দিতে গিয়ে ঘামে নেয়ে উঠি, আর অতঃপর অনর্গল আমি কথার ঝরনায় বাকি সকলের সন্তাপ জুড়িয়ে নিঃশব্দে গ্রহণ…

  • দুরকম চলা

    দুরকম চলা

    অরুণাংশু আজ বিকেলে চা খেতে ডেকেছে। আকস্মিক এই আহ্বান এমন-কিছু আপত্তিজনক নয়, তবু আমার ব্রহ্মতালুতে আগুন ধরে গেল। এর কার্যকারণ বিশ্লেষণ করতে বসে, আমার উষ্মার সপক্ষে, একাধিক যুক্তি খুঁজে পেলাম। প্রথমত, কেমব্রিজ থেকে দু-পাতা ইংরেজি পড়ে এসে ঝলমলিয়ে ‘ফাইভ-ও-ক্লক টি’-র জন্য আমাকে ই-মেইলে নেমন্তন্ন করতে গেল কেন? চায়ের সঙ্গে টা থাকবে কিনা সেটাই বা কী…

  • কলগার্ল

    কলগার্ল বুদ্ধকে দিয়েছে তার আজকের দিনের উপার্জন। কারুণিক সঙ্গে-সঙ্গে তাকে দেখালেন সমস্ত ভুবন জুড়ে ব্যাপ্ত এক অনন্তনাগের ফণায় ফণায় জ্যোৎøা সমবিতরিত হয়ে আছে। অথচ দু-গজ দূরে ওৎ পেতে রয়েছে বৈমাত্রেয় ভাই-টাই – যাকে বলে আত্মীয়স্বজন – তাদের নগদ পাওনা লুফে নেবে ব’লে; অনন্তনাগের তুলনায় এরা ছোটখাটো সাপ, এদের ফণায় অন্ধকার টায়টায় হয়েছে বণ্টন। দু-চারজন তবু…