খালি ভেঙে যায়

বাড়ি যদি বলি,
শান্তি তবে ওখানে থাকে না।
সংসার ভর্তি বহু আগুনের ফুল,
ভাঙি-ভাঙি চীনামাটি আছাড়ে উন্মুখ।
অবস্থা এমন –
প্লেটে নিয়ে মাছ-ভাত-ডাল, আসার সময়
হাত ফসকে যা হওয়ার হলো।
ছিটকে পড়া খাবারের সাথে,
কর্ত্রীর আগুন আর কাজের মেয়ের থরোথরো মিলেমিশে
কুড়ানো খিচুড়ি হলো।
বেড়াল বেড়াতে গেছে,
খাদ্য থেকেও নেই,
প্লেট নেই, ফেভিকলও নেই ।

প্রাথমিকে নদী ছিল পাশে,
মেঠোপথ ছিল, এখন তা ভাঙনে বিলীন
ফলে, পা দুটো দাঁড়িয়ে –
সংসার ভাঙার দৃশ্যে দর্শকও ফ্যালফ্যাল!
এখন আমার ভাই
মাথায় বরফ নিয়ে অডজবে যায়,
তার স্ত্রী বাসন মাজে, ঘরদোর মোছে,
আমার বোনও খালি ইউরো জমায়।
মা-চাচিরা চাইলেও
দু-চুলায় ব্যর্থ হয়ে যেত,
অথচ আমরা সবাই আজ দূরে দূরে,
ভেঙে ভেঙে গেছি।
একান্নবর্তী ঘরে শীতলপাটিতে বসে
বেলা যায়, খাবারের দেখা নাই।

অনেক মানুষ ভেঙে, আমি হলে
আমিহীনও হই।
আমার আনন্দ যারা পকেটে রেখেছে,
তাদের কষ্টেও ছিল
আমাদের মলম-বোলানো হাত,
আজকাল কেউ আর কাউকে চিনি না।