ছোট গল্প
-

শেখ সাবের লগে এক সকালে
ঘোর অন্ধকার। একে তো অজপাড়াগাঁ, তার ওপর পল্লিবিদ্যুতের আলো-আঁধারির লুকোচুরি। এই আসে, এই যায়। পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার ছোট্ট এক গ্রাম। গ্রামের নাম গাজীপুর। একই নামে 888sport appর পাশের একটি জেলা থাকায় অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। তাই কেউ কেউ গ্রামটিকে বলেন লোদের হাট। স্থানীয় এক হিন্দু ধনী পরিবারের অধিকর্তার নাম লোদমশাই। তাঁর নামেই এই ছোট্ট বাজারের নাম।…
-

শহীদ
সুতপা রোজকার মতো আজো ভোরবেলা উঠে পড়েছে। ঘুম থেকে উঠে পড়েছে বললে ভুল বলা হবে। সারারাত দু-চোখের পাতা সে এক করেনি। ক্লান্ত-অবসন্ন শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ঘুম আসার মতো মানসিক অবস্থায় সে ছিল না। সত্যি বলতে কী, বিগত তিন সপ্তাহ ধরে ঘুম বলতে আসলে যা বোঝায়, তা হয়নি সুতপার। এমনি আরো কত রাত…
-

এই যে আঁধার
পশ্চিম আকাশের লালিমা মিলিয়ে অচিন্ত্যপুরে অন্ধকার নেমেছে একটু আগেই। সেখানকার একটি বাড়ির উঠোনজুড়ে তখনো একজোড়া পথভুলো চামচিকা বিক্ষিপ্ত উড়ে বেড়াচ্ছে। উঠোনের এক কোণে ঘ্যাচর ঘ্যাচর শব্দ করে সবিতা টিউবওয়েল চেপে কাদামাটি-মাখা পা ধুতে-ধুতে বারান্দায় 888sport free bet login ছড়িয়ে বসে-থাকা আট বছরের বোনঝি ছটুকে বলে, ‘ইট্টু পড়ে নে মন দিয়ে তারপর ভাত দেব।’ আজকে হাঁটাহাঁটিটা বড্ড বেশি হওয়ায়…
-

আড়খেয়া
সমুদ্রে জোয়ার ঠেলা দিতে নোনা জলের তোড়। সরু খালে সেঁধিয়ে পাঁক-কাদা হোড়ের নরম দেহ খোল বেয়ে আরো ঢেউ ফাঁপিয়ে নর888sport promo codeর আবাসের দিকে। কিংবা গন্ধে। মজা গাঙপাড়ে দখলি জায়গায় বাস্তু। সীমানায় তেতুল বাঁশবাগান। দু-চারখানা মোটা গেঁমুয়া, একলা কেওড়া, নয়তো পাতার খাঁজে খাঁজে সরু ডগায় কাঁটা সাজিয়ে তিন-চার হাত উঁচু হড়কোচ ঝোপ। ঝোপের গা ধরে একদা প্রবল…
-

মরণোত্তর বিলাপ
আমি মরতে চাইনি। তবু আমাকে ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলা হয়েছে! আমি ছিলাম 888sport app বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই আমগাছ, যে তার পাতার নিচে, ডালের নিচে, রোদ, আলো, ছায়ার নাচনের ভেতরে থিরথির কাঁপন লেগে থাকা দু-চোখ মেলে যুগের পর যুগ ছাত্রদের আন্দোলন, তাদের ভাষাসংগ্রাম, তাদের সংবিৎ, তাদের স্বাধীনতার সংকীর্তন চোখভরে, কখনো আনন্দে উদ্বেল, কখনো অশ্রুভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাকিয়ে দেখেছিল –…
-

মাজু খাতুন
সুধা চুপিচুপি শতদ্রুর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলেন, ‘এই যে দ্রুভাই, তোমার দাদাভাই সারাবাজার চষেও খুঁজে পাননি তোমার নরেন মিত্তিরের রস।’ শতদ্রু তখন ঘুমের দেশ ছেড়ে ধীরে ধীরে তরী ভেড়াবে তীরে। সুধার কথাটা শুনে আচ্ছন্নের মতো বলে ওঠে সে, ‘আহা, বউমণি, দাদাভাইয়ের কি মাথা খারাপ হলো, বাজারে গেছে খুঁজতে, ওটা তো পাওয়া যাবে কলেজ স্ট্রিটে,…
-

ফ্ল্যাট নম্বর ৭/সি
রাজাবাজার তেরো নম্বর রোডে গিয়েছিলেন কখনো? যাননি মনে হয়। ওদিকের বাসিন্দা না হলে কে যায় ওই ঘিঞ্জি এলাকায়। কোনো অফিস-আদালত নেই, ভালো কোনো মার্কেট বা রেস্তোরাঁ নেই – কেন যাবেন? কখনো গেলে দেখবেন ওই রোডের মাথায় পানির পাম্পটির পাশেই একটি আটতলা বাড়ি। গেটের ওপর লেখা ‘একরাম ভিলা’। বাড়ির কোনায় একটি নারিকেল গাছ মরি মরি করেও…
-

ব্ল্যাকবোর্ড
পাঁচ ফুট উচ্চতার দেয়ালের ঠিক ওপাশে দু-জোড়া চোখ স্থির তাকিয়ে থাকে স্কুলভবনটির দিকে। তাদের দৃষ্টিতে গীতা মাসির চলে যাওয়ার অপেক্ষা। গীতা মাসি বড়নখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়া। প্রতিদিন সকাল নয়টার পর স্কুলে আসে, শিক্ষকদের বসার রুমের তালা খুলে রুম পরিষ্কার করে। রুমের সামনেই রঙ্গন ফুলের কয়েকটি কচি গাছ, প্রতীক্ষা করছে লালচে আলো ছড়ানোর। গাছগুলোতে প্রতিদিন…
-

অপূর্ব নিবিড় নিদ্রা
চেতনা ফিরে আসার সময়ে আমি দূরাগত কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল, কেন মনে হয়েছিল জানি না, জলার ধারে একটা ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিরুপদ্রব মুহূর্তে উচ্ছ্বসিত পাখিদের কাকলি। কিন্তু পরমুহূর্তে মনে হলো, না, এটা মানুষেরই কণ্ঠস্বর। তবে টেপ রেকর্ডারে ধারণ করা কথা ফার্স্ট ফরোয়ার্ড করে দিলে যেমন শব্দগুলো ভেঙেচুরে কিছু অর্থহীনতা ছড়িয়ে দেয়, অনেকটা সেরকম।…
-

মেঘের মতো কোমল
‘মানুষ এমুন ক্যানে লালু?’ চোখভরা জল নিয়ে হিল্লি প্রশ্নটা করে ওকে। উত্তরটা লালুর জানা নেই। সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে হিল্লির দিকে। নারকীয় দৃশ্যগুলো এ-সময় চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। সেদিকে মুহ্যমান লালুর হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। মনে মনে সে-ও হিল্লির মতো কাকে যেন অসহায়ের মতো একই প্রশ্ন করে, ‘মানুষ…
-

স্বাধিকার
অগ্রহায়ণের শুরু। মাঠের ফসল উঁচু খামারে উঠতে শুরু করেছে। ঝাড়া-মাড়াইয়ের পরে সেই সম্পদ কয়েকদিন গেলেই গোলায় উঠবে। মুন্না ছোটখাটো চাকরি করে। সকালে বের হলে ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যায়। তাই বিঘেদুই জমি থাকলেও মাঠে যাওয়ার সুযোগ পায় না, যদিও জীবনের মূলস্রোতে সে চাষিবাড়ির ছেলে। তাই কি অগ্রহায়ণ এলেই মনের পরতে পরতে এতো বেশি খুশির আমেজে…
-

তর্জনীটি বাতাসে দুলে উঠলে
গলিপথে স্লোগান শুনে রান্নাঘরের জানালা থেকে উঁকি দিলো রাত্রি। মিছিল যাচ্ছে। খুব ইচ্ছে করল বারান্দায় গিয়ে গলির সেই শেষ মাথা পর্যন্ত লম্বা মিছিলটা দেখে। ‘জেলের তালা ভেঙেছি, শেখ মুজিবকে এনেছি’ বলতে বলতে হাঁটছে মিছিল। সেøাগানের আওয়াজে পাড়ার গলিটা যেন গমগম করছে। কালকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ রেসকোর্স ময়দানে…
