ছোট গল্প
-

সমাজের আবর্তে
এ-গলি সে-গলি ঘুরিয়ে কামালকে নিয়ে বিধান গেল বিরাট একটা দোতলা বাড়ির সামনে। ওপরে-নিচে কটা ঘর এক নিমেষে গোনা যায় না। একরাশ ভয় এসে জুটল কামালের মনে। বুকটা দুরুদুরু করে কেঁপে উঠল। এমন জায়গায় সে এসে পড়েছে, এখানে যদি হাড়কাঠে ফেলে কাউকে বলি দেয়, তাহলে কেউ টেরই পাবে না। লোকজন যে একেবারে নেই, তা নয়, দু-চারজন…
-

গরিবকাল
মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায়। একটু এপাশ-ওপাশ করি, তারপর আবার ঘুমিয়ে যাই। চৌকিতে বাবার সঙ্গে ঘুমাই। মেঝেতে মা আর অন্য চার ভাই-বোন। আমি বড় ছেলে। বাবা খুব ভালোবাসেন আমাকে। আমিও বাবা ছাড়া কিচ্ছু বুঝি না। ক্লাস সেভেনে পড়া ছেলেটি এখনো পারলে বাবার কোলে চড়ে। বাবাও পারলে তাকে কোলে নেন। সকালবেলা অফিসে যাওয়ার সময়…
-

ভদ্দা কুণ্ডলকেশা
নগরবাসী এমন নির্দয় দৃশ্য কখনো দেখনি। চৈত্রের আকাশ খুব যেন রাগ করে আছে। সূর্যের তীব্র আলো, উদ্ধত উত্তাপ। পুড়ে যাচ্ছে প্রকৃতির সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গ। নিদাঘের এমন দুপুরে মগধের রাজধানী রাজগৃহের রাজপথের দৃশ্য : পিছমোড়া বাঁধা এক যুবক, চোখে কালো ফেট্টি। চাবুকপেটা করে, টেনেহিঁচড়ে তাকে নিয়ে যাচ্ছে রাজার কয়েকজন সান্ত্রী। আধো কৌতূহল, আধো ভীতি। নিরাপদ দূরত্বে থাকা…
-

গোখরার ছোবল, কেউটের বিষ
সিদ্ধান্তটা নিতান্তই আমার। ‘ভাবিয়া করিও কাজ’ – এ-প্রবচনের মর্মার্থ মাথায় নিয়ে পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল কথা হচ্ছে একা থাকব। একা থাকার মধ্যে মগ্নতার ব্যাপার থাকে। নিজের মধ্যে তৈরি হয় নিজস্ব চাহিদা, অযৌক্তিক চাহিদা তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। আমার মধ্যে অযৌক্তিক চাহিদা নেই; অন্তত আমার দৃষ্টিতে আমি বিচার করে বলতে পারি সে-কথা। আমার স্বচ্ছতার…
-

বলাই ডাক্তারের ভিটেমাটি
‘যম নাকি শহরে আইসা গেছে, ডাক্তারবাবু…?’ ‘সে-তো এক মাসের বেশি। এপ্রিল মাসের তিন তারিখেই শহরের দখল নিয়েছে …।’ ‘গাঁও-গেরামেও নাকি ঢুকছে …?’ ‘হ্যাঁ। যাকে যেখানে পায়, পাখি-মারার মতো করে মারছে। ঘরবাড়ি পোড়াইয়া ছারখার করছে। শিবপুর জমিদারবাড়ি এখন দেখতে যেন ঠিক শ্মশানঘাট …।’ ‘তাইলে এহন বাঁচার উপায় কী, ডাক্তারবাবু? মাগ-ছাওয়াল নিয়া তো জানে মরণ লাগবো …।’…
-

আহীর আলমের বাম পা
আর ইকটু ইকটু …শরীরের নিচের অংশ খাটের ওপর রেখে কোমরের ওপরের অংশ শূন্যে ভাসিয়ে পাশের টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাসটা ধরার চেষ্টা করছেন আহীর আলম। বাঁ হাতে মাথার কাছের খাটের বাতা ধরে ঝুঁকে ডান হাত বাড়াচ্ছেন পানির গ্লাসটা ধরার জন্য। বারবার চেষ্টা করছেন; কিন্তু হাফ ইঞ্চির জন্য জলভরা জগটা পাচ্ছেন না নাগালে। চেষ্টা করে নাগালে…
-

আকালির করোনাকাল
গমগম আওয়াজে আকালির ঘুম ভেঙে গেল। ঠিক গমগম নয়, খেলার মাঠে দর্শকদের উত্তেজনামুখর আওয়াজের মতো কিছু। আর তার মনে হলো নিশ্চয় কোথাও ফুটবল খেলা হচ্ছে! নিশ্চয় সেখানে প্রচুর দর্শকের সমাগম। খেলাও তাহলে খুব জমে উঠেছে! না হলে এমন আওয়াজ তার কানে ভেসে আসবে কেন? আকালি বিছানায় উঠে বসল। আওয়াজটা ভালো করে কানে নিল এবং বুঝতে…
-

স্টেপ ব্রাদার
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান অস্ট্রেলিয়া থেকে চাচার জন্য একটা মোবাইল সেট পাঠিয়েছে। চাচা সেই সেটটা বুকপকেটে রাখেন। সেটটা লম্বা। বুকপকেটে রাখলে সেটার আগা বের হয়ে থাকে। অফিসের কলিগরা দাম জানতে চান, মডেল জানতে চান, অপশন নতুন কী কী আছে জানতে চান। চাচা উদাস মুখে বলেন, ‘কী জানি!’ কলিগরা তখন বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘কিনেছেন – জানেন না! তাহলে…
-

জাঙ্গুলী
নোনা বাতাসের ঝাপটা এসে লাগছে ওদের চোখেমুখে। জাঙ্গুলী আকাশের দিকে তাকিয়ে জলই দেখতে পেল। মেঘের রং ঘন কালো। পুরো আকাশই যেন একটা বিরাট কালো সাপের মতো ওদের মাথার ওপর দণ্ড তুলে দাঁড়িয়েছে। দূরে সাগরের জল স্থির, নদীর জলেই কেবল কাঁপন। নৌকায় দুজন মাত্র আরোহী। নৌকাটা বুড়োবুড়ির তট থেকে যাত্রা শুরু করেছে। গন্তব্য নামখানা। গতি একটু…
-

কুয়াশার হরিণ
জয়পুর গ্রাম। নামটা এমনিতে খুব নিরীহ শোনালেও এই গ্রামটির ঠিক পাশ দিয়ে ভারত ও 888sport appsের বিপজ্জনক সীমান্ত। বিপজ্জনক এই জন্য যে এদিকে বিজিবির কড়া পাহারা আর ওদিকে বিএসএফের নিñিদ্র নিরাপত্তা। তবে কথা হলো, সকল নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু না কিছু ছিদ্র মনে হয় থেকেই যায়। নইলে লখিন্দরের ঘরে সাপও ঢুকত না আর লখিন্দরকেও সর্পাঘাতে মরতে হতো…
-

খাঁচার পাখি বলে
কোনো একসময় কাঁটাবনে কাঁটাময় লতাগুল্ম ঝোপঝাড় হয়তো ছিল, নইলে অমন ধারালো নাম কেন? নগণ্য সেই পড়ো অঞ্চলটি শোভন সাজসজ্জা আর কংক্রিটের রম্য ঘাড় তুলে এখন দাঁড়ানো। রাস্তা লাগোয়া দৃষ্টিনন্দন এক বহুতল ভবনের নিচের স্পেসে বসেছে অনেক বইয়ের দোকান। পায়েলের পছন্দসই জয়তী নামের দোকানটি ওখানে আলো করে আছে। অসহ্য জ্যামের শহরে চলাচলে ভোগান্তি, যাই যাই করেও…
-

থুতু-সম্রাট
এক খুব সন্তর্পণে একটা মাকড়সা ঘুরে বেড়াচ্ছে ভেতরে। অস্থির ভঙ্গিতে এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত দৌড়াচ্ছে কখনো; কখনো মেপে মেপে পা ফেলছে ঢিমেতালে, আবার কখনো একদম স্থির বসে থাকছে ঘাপটি মেরে। তখন আর তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বেশ কিছুক্ষণ। এই অবস্থাটাই নাসিরের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। আচমকা কোন দিক থেকে ঝাঁপ দেবে সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে…
