ছোট গল্প
-

যুদ্ধ
প্রথমে তো ভেবেছিলাম পত্রিকায় গল্প লিখেই সময় কাটিয়ে দেবো। ঘরে ঢোকার বেশ অনেকক্ষণ পর এই কথাটা বললেন। এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ দেখছিলেন। কত সাহস দ্যাখো মেয়েগুলোর! কতটা প্রতিকূল পরিবেশ পার হতে পেরেছে। যতদূর জানি আপনাকেও এরকম প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়েছিল। আমি মুখ খুললাম। আমার আর এদের মধ্যে তো অনেক তফাৎ। কেন? আমার একটা…
-

প্রতীক্ষা
পাপিয়ার বিয়ের দিন শুকদেবের শরীরটা বিশেষ ভালো ছিল না, কিন্তু যার বিয়ের জন্য ও এত দৌড়ঝাঁপ করল তার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারুক অন্তত কাছ থেকে বিয়ের আয়োজন, ধুমধাম একটু না দেখে থাকতে পারল না ও। আর সেজন্যই অঞ্জলি শেষ পর্যন্ত ওদের দেবনগরের বাড়ির ঠিক উলটোদিকের বাড়ির চিলেকোঠায় শুকদেবের জায়গা করে দিলো একদিন-একরাতের জন্য। এ-ব্যবস্থা…
-

কাদম্বিনী বেঁচে আছে
কাদম্বিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে এঘর-ওঘরে। দৃষ্টি উদ্ভ্রান্ত। চলন এলোমেলো; বুঝতেই পারছে না, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে ঘরজুড়ে গিজগিজ করছে এত মানুষ। কোথাও ঠাঁই নেই দাঁড়াবার। চারপাশজুড়ে থমথমে পরিবেশ, কারো মুখে ছিটেফোঁটা হাসি পর্যন্ত নেই। পুরুষদের চোখ ছলছল, 888sport promo codeরা আঁচলচাপা দিয়ে কান্না লুকাচ্ছে। সর্বত্রই একটা বিষণœ সুর, ইনিয়ে-বিনিয়ে ভারি করে তুলছে পরিবেশ। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে কাদম্বিনীর…
-

তেলে বেগুনে
সৃজাকে দেখে গুঞ্জার মাথা গরম হয়ে গেলেও হাসিমুখে ঘরে ঢুকতে বলল। তার হাতে বেসন মাখা। সৃজা বলল, ‘তুমি আগে থেকেই ভেজে রেখেছ নাকি? তবে তো সব এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে।’ ‘না না, সবে তো বেসন মাখছি। বেগুন কেটে রেখেছি। গরম গরম ভেজে দেবো।’ সৃজা হাসল। ‘আমি ভাবতে পারিনি মায়ের পাঠানো বেগুনগুলি তুমি এত ভক্তিভরে নেবে।…
-

পুনরুদ্ধার
প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে মানস। দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াচ্ছে। পালাচ্ছে সে আগুন দেখে, মালিবাগের অগ্নিদগ্ধ বাড়ি দেখে, জগন্নাথ হলের আগুনে পোড়া লাশ দেখে। দাউদাউ করে জ্বলছে নিজের জামা, মাথার চুল, গায়ের চামড়া। চিৎকার করে বলতে চাইছে, আমি তোমাদের লোক, এই পাড়া আমার, এই শহর আমার। আগুনঝরা ওই কৃষ্ণচূড়া গাছ, সেটিও আমার। আমাকে কেন তোমরা মারতে চাইছ? গলা…
-

জন্মান্তরের ঋণ
রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। গাঢ় অন্ধকার এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। শীতের রাতের শেষে চারদিক জুড়ে কুয়াশার চাদর ছড়িয়ে আছে, যেন কান পাতলে জলের ফোঁটার মতো জমাট শিশির টুপটাপ ঝরে পড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে এখান-ওখান থেকে। পুবের আকাশে লাল আলোর আভা দেখা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে বাড়ছে। সূর্য উঠছে। কিছু পরেই লাল আলো ভোরের রোদ…
-

মাধু বাসন্তী
অবশেষে আমি এক আকাশ নি-িদ্র অন্ধকার পান করতে থাকি আকণ্ঠ। টের পেতে থাকি, আমার বুক বেয়ে নামছে তরল আগুন। অতৃপ্তির উদ্গিরণে ঢেঁকুর তুলতে থাকি অনবরত। অসুখের নিস্তেজ আরামবোধে আমি নেতিয়ে পড়ি। আমার পাকস্থলী ফুটো হয়ে হয়ে অস্থিমজ্জা তন্ত্রীতে শুরু করছে তুমুল আন্দোলন! আমার মাথার খুব কাছে কোথাও বাজতে থাকে ঝনঝন শব্দ। আমি প্রস্তুত হই। এই…
-

বহিরাগত
অনেক কিছু ছাড়তে পারলেও ব্ল্যাক কফি আর ইজি ব্ল্যাক ছাড়তে পাড়ছে না শিলু। টানা তিন মাসের জন্য মানুষের বসতি ছেড়ে এই নিবিড় নির্জনে ছুটি কাটাতে এসেছে তবু লাভলি সিগারেট আর ডারলিং কফি সঙ্গে করে আনতে ভোলেনি। এমনকি দু-প্যাকেট কনডমও সঙ্গে এসেছে। বলা তো যায় না তিন মাসের এই ছুটিতে প্রেম জুটিয়ে ফেলে যদি! প্রেমের কথা…
-

জীবন
বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে থুতু ফেলতে গিয়ে তারিক টের পেল, তার মুখটা বেঁকে গেছে। দ্রুত সে ওয়াশরুমে ঢুকে বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়াল। হাসল। একি! বাঁয়ের ঠোঁটটা বেঁকে কিনা নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে! কল ছেড়ে কুলি করার জন্য যেই না মুখে পানি নিল, অমনি ঠোঁটের ফাঁকে গড়িয়ে পড়তে লাগল পানি। আয়নায় ভালো করে…
-

খেয়া
নোটিফিকেশনে নামটা দেখেই কৌতূহলী হয়ে উঠেছিল ইমরান। মেঘলা আকাশ নামের একটি মেয়ে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। বাস্তব জীবনে এমন কাব্যিক নামের কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব তো দূরের কথা, পরিচয়ও নেই, রাস্তাঘাটে – অফিসে-আদালতে – বিপণিবিতানে, কোথাও এই নামের কারো সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছিল বলেও তার মনে পড়ছে না। তবে ও জানে, উদাস দুপুর কিংবা…
-

দগ্ধ চাঁদ ও অচেনা উপগ্রহের গল্প
সাতাশ বছর বয়সী সুদর্শন ও চৌকস যুবক শাকিল রাইয়ান একটি ভালো স্পন্সর পেয়ে প্যারিসের আন্তর্জাতিক live chat 888sport উৎসবে ৩০ মিনিটের শর্টফিল্মটা নিয়ে গিয়েছিলেন অনেকটা শখের বশেই। তার মানে এই নয়, ফিল্ম নিয়ে তার কোনো উচ্চাশা ছিল না। ভারতের এক ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে দু-বছরের একটি কোর্সও করা আছে। কিন্তু এই সামান্য জ্ঞান আর অভিজ্ঞতায় নির্মিত তার লাইট…
-

শূন্যের কারবার
এ্যাই এ্যাই … তেড়ে এলেন সিরাজ মিয়া আমাদের দিকে। সিরাজ মিয়ার তাড়ায় আমরা চারজনে দরজা ঠেলে বাইরে এসে দাঁড়াই। হাসি। কিন্তু সিরাজ মিয়ার চোখেমুখে ক্রোধ। ঘরটার মধ্যে হাঁটছে আর ফুঁসছে। রুমটার মধ্যে দুটো খাট। পুবের দেয়াল ঘেঁষে বড় খাটটার নিচে সিরাজ মিয়ার বড় একটা টিনের ট্রাঙ্ক। ট্রাঙ্কের সামনে ঝুলছে বড় একটা তালা। বড় না কেবল,…
