ধারাবাহিক 888sport alternative link
-

পর
আট মুক্তিযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, অক্টোবরের ৬ তারিখ, সকালবেলা এক কাণ্ড ঘটল। সেই কানাগলির ভেতরকার আমাদের বন্ধ গেটে হঠাৎ ধামাধাম করে লাথি মারতে লাগল কেউ। আব্বা কিংবা আজাদ কেউ বাড়িতে নেই। আমি জানালার সামনে গিয়ে উঁকি দিলাম। বাইরে তিনজন মিলিশিয়া নিয়ে দাঁড়িয়ে সেই কাবলিঅলাটা। আমাকে দেখেই উর্দু-বাংলা মিশিয়ে প্রথমে দরজা খুলতে বলল, তারপর জিজ্ঞেস করল আব্বার…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৮ ॥ দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এক মুখপাত্র টেলিফোন করলেন সকালবেলা। অতি আকর্ষণীয় প্রস্তাব। 888sport appsের সাধারণ নির্বাচন হবে পরের সপ্তাহেই। সেজন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্ক-অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর একটা কোটা আছে। ভারত থেকে পাঠানো হবে দশজনকে। আমি সেই দশের অন্যতম হতে রাজি আছি কিনা। অরাজি হবার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। 888sport appsে…
-

পর
সাত চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে কোনও রকমের কোনও বিপদ-আপদ কিংবা ঝামেলায় পড়ে গেলে, কিংবা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেজাল খাঁকে দিয়ে জ্বিন ডাকাতেন আব্বা। আব্বার কেতাবি নাম ছিল গিয়াসউদ্দিন খান। ডাকনাম গগন। পয়শার আত্মীয়স্বজনরা ডাকত গগনা। তো সেবারও বোধহয় মিউনিসিপ্যালিটিতে চাকরির ক্ষেত্রে কিছু একটা ঝামেলা আব্বার হয়েছিল। চাকরি যায় যায় অবস্থা। আমরা সবাই তখন মেদিনী মণ্ডলে। বিকেলবেলা…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৭ ॥ বাকি সন্ধেটা আমাদের কাটলো অন্যরকমভাবে। বৃষ্টির বিরাম নেই, বাতাস এমন ঠান্ডা হয়ে গেছে যে গায়ে একটা চাদর দিলে যেন ভালো হয়। কথার স্রোত এদিক-সেদিক যেতে যেতে একসময় শুরু হলো গান। নীলোফার নামের তরুণীটি শুধু রূপসী এবং বিদুষী, তাই-ই নয়, সে খুব ভালো গানও করে। এক-একজনের গুণের অন্ত থাকে না। হিন্দিতে একটা কথা…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৬ ॥ এরপর বুঢ্ঢা আমাদের একটা নৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দিল। এক আনোয়ারাকে খুঁজতে এসেছি, তাকে না পেলে অন্য আনোয়ারাকে সাহায্য করা হবে না কেন? সেও তো একইরকম অসহায়। সে এসে বুঢ্ঢার হাত জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল। শ্রীমতী চন্দ্রভারকরও সমর্থন করলেন ওকে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, আপনারা বেঙ্গলি, আপনাদের উচিত এই বেঙ্গলি মেয়েদের পুনর্বাসনে সাহায্য…
-

পর
ছয় এমনও তো হয়, জীবনের কোনো কোনো মুহূর্তে অতীত এবং বর্তমান একাকার হয়ে যায়। একাকার হয়ে তৈরি করে আশ্চর্য রকমের এক ঘোর! সেই সকালে আমার কিন্তু তা-ই হলো। অতীত এবং বর্তমানের মিশেলে তৈরি হওয়া ঘোরে আচ্ছন্ন হলাম আমি। নিজের অজান্তেই কথাটা বললাম ডালুকে। শুনে একটু যেন বেশিই অবাক হলো ডালু, একটু যেন বেশি জোরেই বলল,…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৫ ॥ পুলিশের একজন বড়কর্তা হয়েও আমাদের লাচ্চুদা যেমন শেক্সপিয়ার নিয়ে বিভোর হয়ে থাকেন, রশিদ যেমন স্বপ্ন দেখে সিনেমার পরিচালক হবার, এখানকার এই রাহুল মুখোপাধ্যায়েরও বিশেষ উৎসাহ ফিল্মের জগৎ নিয়ে। পরিচালনা কিংবা অভিনয়ের কথা ভাবে না, কিন্তু বিদেশি ও এ-দেশি live chat 888sport-বিষয়ে অনেক খুঁটিনাটি খবর রাখে। ফিল্ম বাফ্ যাকে বলে। এর মধ্যে দু’খানা বইও লিখে…
-

পর
পাঁচ কী যে সুন্দর একটা ছেলেবেলা ছিল আমার! মেদিনী মণ্ডল গ্রাম, মাওয়ার বাজার, কালীরখিলের মাঠ, মনীন্দ্র ঠাকুর, হাজামবাড়ি আর কাজির পাগলা হাইস্কুল। আমার কখনও প্রাইমারি স্কুলে পড়া হয়নি। যদিও খাইগ বাড়িতে প্রাইমারি স্কুল একটা ছিল, গ্রামের অনেকের সঙ্গে আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা সেখানে পড়ত, কিন্তু আমার পড়া হয়নি। বাষট্টি সালে আব্বা আমাকে কাজির পাগলা হাইস্কুলে ভর্তি…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৪ ॥ কয়েকদিনের মধ্যেই মেয়ে-পাচারকারীদের সম্পর্কে আমার অনেক কিছু জানা হয়ে গেল। কয়েকজনকে দেখলামও স্বচক্ষে। সাধারণ চোর-ডাকাতদের সঙ্গে এদের কোনো মিল নেই। এরা ছুরি-ছোরা, বন্দুক- পিস্তলের কারবার করে না। সঙ্গে কোনো অস্ত্রই রাখে না বলতে গেলে। সমাজের নানাস্তরে এরা অন্যপরিচয়ে মিশে থাকে। সামান্য বিপদের সম্ভাবনা দেখলেই এরা আস্তানা বদল করে, কখনো দুঃসাহসিক কোনো কাণ্ড…
-

পর
চার লালুবাবুর অবাক হওয়াটা খেয়াল করলেন না পুলিশ অফিসার। আগের মতোই বিনীত গলায় হাসি হাসি মুখে বললেন, আপনি বসুন না স্যার! বসুন, প্লিজ। লালুবাবু কথা না বলে চেয়ার টেনে বসলেন। এবার অফিসার তার চা-টোস্ট বিস্কুট খাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে লজ্জা পেলেন। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়ার পরও টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়োগাড়া লেগে থাকে ঠোঁটের কোণে। ডানহাতের চেটোয় লাজুক ভঙ্গিতে…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৩ ॥ ত্রনাট্যটি সেদিন আর পড়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি ডাক পেয়ে রশিদকে তক্ষুনি বেরিয়ে যেতে হলো। কখন ফিরতে পারবে তার ঠিক নেই। পুলিশের চাকরি, চব্বিশ ঘণ্টার। রশিদের বাড়িতে রশিদকে বাদ দিয়েই চলতে লাগলো পার্টি। ওর স্ত্রী নাসিম বড়ই নরম প্রকৃতির, সে কিছুই সামলাতে পারে না, শক্তি সব দায়িত্ব নিয়ে নিল। এবং শক্তিই আমাকে বাঁচিয়ে…
-

পর
তিন মানিব্যাগ বাইর করেন। কথাটা বুঝতে পারলেন না লালুবাবু! বললেন, কী বার করবো? অন্য এক যুবক বলল, বোজেন নাই? মানিব্যাগ বাইর করেন। লালুবাবু কথা বলবার আগেই চানমিয়া আপনমনে বলল, কারবার হইয়া গেছে। তৃতীয় যুবকটি শীতল, নৃশংস চোখে চানমিয়ার দিকে তাকাল। ওই হৌরের পো, কী কইলি? চানমিয়া ভয়ে একটা ঢোক গিলল। না না আমি কিছু কই…
