February

  • ন্যায়বিচারের দেবী

    কোথায় রয়েছো তুমি – কতকাল তোমাকে দেখি না আজ তর্জনী তুলেছে কাল ডেকে গেছে কালের তক্ষক, এই দুর্দিনে তুমি কোথায় লুকোলে বলো? বহুকাল কেটে গেছে বীভৎস কদর্য পা অবশ্যই ফেলে ছিল ওরা তোমার পৃথিবী জোড়া – হন্তারকের পদচ্ছাপ তবে এতই বিশাল? তবু এখনো হয় না বিশ্বাস প্রকৃত বাঙালি পারে ওরকম মহীরুহ ঝাড়ে-বংশে উপড়ে ফেলে দিতে!…

  • মুমু

    বিলাপ করিনে আর ‘পথে হেঁটে চলি মনে মনে বলি’ কী হবে বিলাপ করে। বাড়িটির ছাদে মাঝে মাঝে দেখি কার যেন চুল উড়ছে বাতাসে কি জানি কি ভেবে চুল এসেছিলো উড়ে পথিকের বাড়ি। বাড়িটির বিশতলা ছাদে ঝুলে থাকে কার যেন শাড়ির আঁচল বারবার তাকিয়ে আমার দিকে করুণার চোখে। পথে এসে মনে মনে বলি, কী হবে বিলাপ…

  • জীববৈচিত্র্যের জার্নাল

    বঁটিতে মাছ কুটতে থাকলে আমার জিভে মশলার ঘ্রাণ পাই স্ফুলিঙ্গের শিখায় শিখায় ধৃত বিবিধ ব্যঞ্জন এসো হে তাবৎ মীন মানুষের জন্যে নিজেদের উৎসর্গ করো জীববৈচিত্র্যের কথা কস্মিনকালেও তুলো না হাওরের কুবাতাস ঘুরে ঘুরে আছড়ে পড়ে তীরে বজরাতেই হাছন রাজার বাড়ি তামাক ঘুম ও নর্তকী ছিল কোনো এককালে কোনো এক বহুজাতিক জীবনে কালান্তরে সেই ধূম্রজাল ছিন্ন…

  • একা কেবলই কাঁদার

    একা থাকার জন্য প্রস্তুতি সবসময় কাজ দেয় না আবার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই একা হ’য়ে যেতে হয় একা হওয়া একটি প্রণালি তার জন্য নানান চাহিদা এসে ধরনা দেয় বৃক্ষটি একা হ’য়ে গেলো গতকাল ওর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে জড়াজড়ি দাঁড়িয়ে তারা ঢেউ ও জ্যোৎস্নার খেলা দেখছিলো নির্বিবাদে করাতের দাঁতে রক্তাক্ত হ’লো ভোল্ট বন্ধ ক’রে ব্যাংকার বাড়ি ফিরে…

  • এখন সুখময় দিন

    বিষন্ন সংসারে ভেসে যায় হলুদ ত্রিভুজ ডোবাগুলো পচাপ্রেমে ডুবে নদী হতে চায় সামনে জলের পাহাড় কালো অরণ্যে ফোটে ধূসর গোলাপ শিমুলের লাল জবা ফুলের সেই একশ নব্বই হাত কাপড়ে কজন কুমারীর আব্রু আবৃত হবে কার্পাসের তুলো সুতোহীন সাদা ঘুড়ি হয়ে ওড়ে নিষিদ্ধ পল্লি নিয়মানুগ হয়ে ওঠে চাহিদানুযায়ী বেগুনি ছিল মাত্র দুদিন দুর্দিন একদিন খুব ভোরে…

  • আঁধার কেটে যাবে

    আঁধার কেটে যাবে

    এক একাদশ শতাব্দী। ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দ। রামাবতি। পালরাজধানী। দ্বিতীয় মহীপালের রাজপ্রাসাদ। দ্বিতীয় মহীপাল পালরাজবংশের দ্বাদশ রাজা। পিতা তৃতীয় বিগ্রহপাল মারা গেলে তাঁর পুত্র মহীপাল রাজা হন। রাজা হয়ে নামের শ্রীবৃদ্ধি ঘটান। নাম ধারণ করেন দ্বিতীয় মহীপাল। প্রথম মহীপাল পালবংশের অত্যন্ত খ্যাতিমান রাজা ছিলেন। প্রথম মহীপালের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করলে কী হবে, ব্যক্তি হিসেবে দ্বিতীয় মহীপাল…

  • উড়ন্ত অন্তর্বাস

    উড়ন্ত অন্তর্বাস

    তিনি ছিলেন তাদের হোস্টেল সুপার। আঁশবঁটিতে কোপানো একটা লাশের ছবির দিকে তাকিয়ে আধাআধি বিশ্বাস করে সে। নামটাও আধাআধি মনে ছিল – সুরমা …। তখনো তিনি অবিবাহিত। মৃত মহিলার নাম সুরমা রহমান। স্বামীর নাম মিজানুর রহমান। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে বিয়ের পর বিদেশ চলে গেছে। ছেলে বিদেশি ব্যাংকের কর্মকর্তা, দেশেই থাকে। সম্ভবত বিয়ের পরপর…

  • অচিন ফুলের গন্ধ

    অচিন ফুলের গন্ধ

    ‘তৃতীয় সন্তান জন্ম দিতে গিয়া আমার মায়ের অকালমৃত্যু হইল। সেই সন্তানটিও ছিল পুত্র। অর্থাৎ আমার আর একটি ভাই। মাতৃগর্ভেই তাহার মৃত্যু হইয়া ছিল। জন্মিবার আগেই মৃত্যু। পৃথিবীর আলো-হাওয়ায় আসিবার আগেই মৃত্যু। আমরা সকলে মিলিয়া খুবই শোক করিলাম। বাবাও করিলেন। তাহার পর সংসার ছাড়িয়া গেলেন। গ্রামের লোকে বলাবলি করিত, ফজল সংসার-বিলাবী হইয়াছে। বাবার নাম ফজলুর রহমান।…

  • আমার পলায়নপর পিতা

    আমার পলায়নপর পিতা

    গত শতাব্দীর চুয়াল্লিশ কি পঁয়তাল্লিশ সাল, আমার জন্মের পরপরই বাবা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর নয়! অনেক অর্থ উপার্জন হলো, জেলায় জেলায় ঘুরে, এবার দেশের বাড়ি গিয়ে থিতু হতে হবে। জমি, পুকুর, কন্ট্রোলের ব্যবসা খুলে, বাকি জীবন ভিটের ভাত খেয়ে দিব্যি জমিয়ে কাটাবেন। জন্মভিটে বলে কথা। আমাদের যৌথ পরিবার। বরিশাল জেলার শোলনা গ্রামে। মনে আছে, ধুলো আর…

  • সালামতের সমস্যা

    সালামতের সমস্যা

    আটত্রিশ বছর আগে 888sport appর তখনো সেকেলে চেহারা, ওই জংধরা সময়ে হালকা গড়নের আটপৌরে জীবনের নিরীহ সালামতের সঙ্গে আমার পরিচয় ধীরে ধীরে জমাট হয়। বয়সে আমার চেয়ে খানিক বড় হলেও সে কিছুতেই তা মেনে নিতে রাজি না। অনিচ্ছায় আমি তাকে নাম ধরে ডাকি, সালামত আমাকে দাদা বলে। এই সালামতকে কাজ দেওয়ার পর তাকে একাধিকবার পইপই বোঝাতে…

  • ঘুমপাহাড়ের মেয়ে

    ঘুমপাহাড়ের মেয়ে

    ভোরে নেমেছিলাম মধুগঞ্জে। এখান থেকে মাইল দেড় অশ্রুনদী। অশ্রুনদীর ওপারে, উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড় আছে। ঘুমপাহাড়। পুরাকালে পাহাড় হেঁটে বেড়াত। হাঁটতে হাঁটতে এই অশ্রুনদীর ধারে এসে দাঁড়ায়। গাঙের অশ্রুপাতে সে গাঙ পার হতে পারে না। মস্ত হাতির মতো পাহাড়েরও বুক ফাটল সেই অশ্রুধারায়। সে দাঁড়িয়েই থাকল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমপাহাড় ঘুমের ভেতরই একটু নাকি পিছিয়ে…

  • আমাদের রানি

    আমাদের রানি

    আমার নাম বারবারা মরাল। আমি কানাডার অধিবাসী। আমার স্বামীর নাম ডক্টর রবিন মরাল। আমাদের বিবাহিত জীবন খুব সুখের ছিল। আমরা ইচ্ছে করে আমাদের বিয়ের আট বছর বাদে সংসারে প্রথম সন্তানটি এনেছিলাম। সন্তানটি ছেলে ছিল। তাই শখ করে তার নাম দিয়েছিলাম, জন। জন মরাল। ষাটের দশকে পৃথিবী যখন লোক888sport free betর বিস্ফোরণে চিন্তিত, তখন আমরা দুজনে মনে মনে…