May
-

একটু যদি খোলা আকাশ
পা ফেলতে থাকি। উদ্ভ্রান্ত পথিকের ইচ্ছেমাফিক দৃষ্টি কিংবা দৃষ্টির বিভ্রম নিয়ে থানার ঘাটে গাভীর দুধ চায়ে চুকচুক করতে থাকি। একটা প্রশ্ন মন থেকে কিছুতেই তাড়ানো যাচ্ছে না। কাল রাতে আমি কি স্বপ্ন দেখেছিলাম? স্বপ্ন, নাকি স্বপ্নবিভ্রম? জেগে জেগে নির্ঘুমে অবিকল বাস্তব প্রতিচ্ছবি। একজন কিশোরীর রাঙা লাজুক মুখের ওপর থোকা থোকা রক্তজবা পড়েছিল কি? রক্তজবাগুলো পালটে…
-

ঝরা পাতা
পঁচিশ বছর পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছি। উদ্দেশ্য ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী স্কুলে আমাদের ব্যাচের পঞ্চাশ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা। শুধু এজন্যেই দেশে ফেরা। বাবা-মা কেউ আর বেঁচে নেই। ভাইবোনরাও পৃথিবীর নানান দেশে ছড়ানো-ছিটানো। স্কুলজীবনের বান্ধবী শেফালী সবাইকে ধরেবেঁধে এক করাচ্ছে। শেফালী এ-বছরই 888sport app বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিল। মনো888sport apkের শিক্ষক বলে হয়তো মনস্তত্ত্ব বুঝে…
-

গন্তব্য
খুব ভোরে ঘুম ভাঙে অর্পিতার। যৌবনের পুরনো আলস্য একেবারে ঝেড়েমুছে বিদায় করেছে গত এক দশক আগে। গৃহকর্মী এক মগ ঈষদুষ্ণ জলে লেবুর রস মিশিয়ে টেবিলে রেখেছে, এইটুকু পান করে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। বড় মনোরম হেমন্তের সকাল। ভোরের কোমল মিঠে রোদ চারদিকে ঝলমল করছে। মৃদুমন্দ বাতাসে গাছের পাতায় মৃদু কাঁপন। দোতলার বারান্দা ছেড়ে বাড়ির আঙিনায় এসে…
-

যতিচিহ্নের খোঁজে
মেয়েটা তার বাঁ-ভ্রু খানিকটা কাঁপিয়ে চোখটা বাইরে আকাশের দিকে ফেরালে যে-দৃশ্যটার জন্ম হয় তার ব্যাখ্যা হাবিব দিতে পারে না; অনুভব করে, বুকের মধ্যে একটা হাহাকার জাতীয় স্বরহীন শব্দ হয় – খানিকটা উত্তেজনাও একে বলা যায়। বাঁ-চোখের তারার মধ্যে যে-সৌন্দর্যময় রং খেলা করছে বিদ্যুৎপ্রভার মতো, তাকে সে কী বলবে? পঞ্চাশের পরে খানিকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জীবন অতিবাহিত…
-

বাঘিনী-সুন্দরী ও সওদাগর ট্র্যাজেডি
নিজেকে বুদ্ধিমান বিশ্বাসে যতই আমি আত্মবিশ্বাসী হই না কেন আমাকে বোকা বানিয়ে এক বাঘিনীর অবিশ্বাস্য কাণ্ডকীর্তির তথ্যটা আমাকে প্রথম দেয় ঈশানা – বাঘ প্রজাতির বিপন্নতার দিনে এই বাঘিনী শুধু অন্য প্রাণীর রক্ত-মাংস-হাড়গোড় নয়, নিজের গায়ে তেমন কোনো আঁচড় না লাগিয়ে খেয়ে চলছে ঘাস-খড়-কাগজ – কাগজ বলতে দলিলপত্রও। উপকথার বাঘ ঘাস, খড়, দলিলপত্র খেতেই পারে কিন্তু…
-

কামিলা
যেদিন কামিলা লুন্ড এ-বাড়িতে এসে ঢোকে তখন তাকে দেখায় উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত। তার নামের শেষাংশ বিশ্বের একটি সেরা এয়ারপোর্ট সুইডেনের লুন্ডের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এবং আমরা সংগতভাবেই জিজ্ঞেস না করেও বুঝতে পারি ওর দেশ সুইডেন। সে যখন তার প্রিয় বান্ধবী স্পেনের ফিওনা ভেলভেডিয়ারের সঙ্গে উচ্ছলতা ছড়িয়ে গল্প করে তখন অক্টোবরের শীত-শীত দিনের বিষণ্ন…
-

এ-আঁধার যামিনী
888sport promo codeর অতৃপ্ত বাসনা থেকে প্রতিটি পরকীয়া সম্পর্কের শুরু, কিন্তু শেষ হয় পুরুষের অসহিষ্ণুতা থেকে। ঠিক দুশো আটাত্তর দিনের মাথায় মাহমুদ আর সীমন্তিনীর সম্পর্কটা ভেঙে গেলে এই কথাটাই মনে এসেছিল মাহমুদের। কীভাবে শুরু হয়েছিল সম্পর্কটা? মাহমুদ ভাবতে চেষ্টা করে। একটা জমজমাট অনুষ্ঠানশেষে মঞ্চ থেকে নেমে আসছিল। তখনই এক তরুণী সামনে এসে পথ আগলে দাঁড়ায়। পাশ কাটাতে…
-

হাওয়াকলের গাড়ি
দুপুরবেলার এই সময়টা তোজাম্মেলের কাছে একেবারে আপদের মতো ঠেকে। একে তো পেটের ভিতর তীব্র খিদার মোচড় – অন্যদিকে কাস্টমারের ভিড় – এই দুই সামলে সোজা হতে না হতেই লু হাওয়ার প্রকোপ তাকে একেবারে কাহিল করে ফেলে। চামড়া চিড়বিড়ানো চোতমাসের গরম উড়ে এলে তোজাম্মেলের হাঁসফাঁস ধরে যায়। তা চোতের ভাঁপেতাপে হাঁসফাঁস ধরলেই কি আর খিদায় পেট…
-

জলের জীবন
প্রায় চার দশক আগে, তখনো খরজলের হিংস্র নোনা গন্ধময় রূপসার শরীরে পরানো হয়নি ব্রিজ-অলংকার। যাত্রীপারাপারে না ছিল ডিজেলচালিত পরিচ্ছন্ন ফেরির ইস্পাত-মেশিনের ক্রীড়া। কাজ উদ্ধারে ছিল নিকৃষ্ট লক্কড়মার্কা কলযান – ওই তখন গালভরা নামের ফেরি। ভয়ংকর স্রোত পাড়ি দিয়ে আদৌ সহজ ছিল না এপার-ওপার যাত্রা। রূপসার গর্জনতোলা শত ঢেউয়ের ফণায় মোচার খোলার মতো তুচ্ছ হয়ে থাকে…
-

আমি শ্রী বিমলকান্তি গুহ
এই বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় আপনারা 888sport app থেকে এসেছেন। এত কষ্ট করে এসেছেন। কেন এসেছেন? এতদিন পরে কেন এসেছেন? এখন এসে আপনারা কী আর দেখবেন? মুক্তিযুদ্ধের সেসব আঘাত তো আমরা এখন সামলে উঠেছি। অতীত এখন আমাদের কাছে একটা দুঃস্বপ্ন বই আর কিছু নয়। দেশের স্বাধীনতার পরপর আরো কত কিছুর আঘাত আমাদের সহ্য করতে হয়েছে। রাজাকারদের দাপট দেখতে…
-

যুগল দাসী
আমার নাম যুগল বিন্দু। নামের শেষাংশ দেখে আপনারা নিশ্চয়ই কিছু একটা ভাবছেন। ইসমাত আরা শাওন, সুরভি বিশ্বাস নদী; ভাবছেন এই শাওন বা নদীর মতো বিন্দুও বুঝি নামের লেজুড়। না না, বিন্দু আমার নামের লেজ নয় কোনো। বিন্দু আমার সম্প্রদায়গত পদবি। বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি? না হওয়ারই কথা! কত কত পদবির নাম শুনেছেন আপনারা – দত্ত,…
-

আলোককন্যা
জিল্লু এরকমই। যে-কোনো কথা শুরু করে ‘না’ দিয়ে। এই যেমন এখন। আমাকে ফোন করেই বলল, না না, তোকে ফোন করেছি অন্য একটা কারণে। চা শেষ করে সিগ্রেট ধরিয়েছি। বড় করে টান দিয়ে বললাম, কারণটা বল বাপ! জিল্লু হাসল। না না, ব্যাপারটা হলো তুই তো জানিসই আমি সুইডেনের 888sport apps সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি। সুইডেন নরওয়ের সব বাঙালিই…
