আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি রাজি?
পাগল! নাকি মাথা খারাপ?
এটা আমার প্রশ্নের জবাব হলো না।
আপনার প্রশ্নের কোনো জবাব হয় না।
তুমি রাজি কিনা!
না।
না? আমার চেয়ে যোগ্য পাত্র তুমি কোথায় পাবে?
আমি পাত্র খুঁজে বেড়াচ্ছি এ-কথা আপনাকে কে বলল?
বা রে! তোমার তো বিয়ে হয়নি।
সব কুমারী মেয়েই পাত্র খুঁজে বেড়ায় নাকি? তাদের আর কোনো কাজ নেই?
কী জানি! কুমারী মেয়েদের মনের খবর আমি রাখি না।
আপনি অসুস্থ। আমি কি আপনার মাথা টিপে দেবো?
আসল কথা থেকে তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছ।
কোনটা আপনার আসল কথা?
ওই যে বললাম, তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি কিনা!
আমি তো না বলেছি। যদিও এ-কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
কেন?
মাতালের প্রশ্নের কোনো জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
খবরদার! তুমি আমাকে মাতাল বলবে না।
মাতালকে মাতাল না বললে কী বলব?
আমি মাতাল নই।
তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
জানো, এটা আমার জীবনের থার্ড টাইম মদ খাওয়া।
তাই নাকি?
আপনার ভাষ্য-অনুযায়ী আরো দুবার আপনি মদ খেয়েছিলেন!
ওটাকে মদ খাওয়া বলে না।তাহলে কি ড্রিংক করা বলে? বেশ। আপনার বিগত দুবার ড্রিংক করার সময়ও কি আপনি আরো দুজন মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন?
তুমি কিন্তু আমাকে ভীষণ রাগিয়ে দিচ্ছ।
সরি! অনুরাগের মানুষ রেগে গেলে চলবে কেন?
তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।
নেশার ঘোরে অনেকে এমন কথা বলে।
আমি বারবার বলছি, আমার নেশা হয়নি। তারপরও তুমি –
আচ্ছা। আর বলব না। অন্ধকে অন্ধ বলা খুব খারাপ।
তুমি একটু খাও না।
আগেই বলেছি আমি এসব খাই না।
আমার জন্য একটু খাও।
আপনার জন্য কেন? খেলে নিজের জন্যই খেতাম।
তাহলে নিজের জন্য খাও।
জ্বি না। আমার এসব সয় না।
তুমি যে কী, আসলে তা আমি বুঝতে পারছি না।
আমাকে না বুঝেই আপনি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন? এটা ঠিক বুদ্ধিমানের মতো কাজ করলেন না। আমি রাজি হলে আপনার সর্বনাশ হয়ে যেত।
তুমি আসলে কী?
সেটা বোঝার জন্য সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় দুঘণ্টার বেশি হয়নি।
তোমার সঙ্গে পরিচিত হওয়াই আমার উচিত ছিল না।
এই প্রথম আপনার কাছ থেকে একটা বাস্তবসম্মত কথা শুনলাম।
তোমার যেন কী নাম?
ঝুমুর।
ভারি মিষ্টি নাম।
তা অবশ্য। আমি যত খারাপই হই, আমার নামটা বেশ ভালো।
আমি তোমাকে খারাপ বলিনি।
আমি আসলেই একজন খারাপ মেয়ে। আপনার বন্ধু কথাটা আগে বলে দেননি?
না তো! নিজেকে কোনো মেয়ে খারাপ বলে এটা আমার ধারণা ছিল না।
আপনার বন্ধু অতি সদাশয়। আমার সম্পর্কে কিছুই জানাননি আপনাকে?
না। আমি তাকে বলেছিলাম আমার স্ত্রী ডিভোর্স নিয়ে চলে যাওয়ার পর আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে সামলে উঠতে পারছি না। শুনে সে খুব দুঃখ করল।
তারপর?
তারপর সে তোমার ফোন নম্বর দিয়ে বলল আমি যেন তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করি।
কী কারণে যোগাযোগ করবেন, জিজ্ঞেস করেননি?
না। তবে সে ঠাট্টা করে বলেছিল –
কী বলেছিল?
তোমাকে ডাকলে তুমি সেবা করে দেবে।
সেটা কীসের বিনিময়ে, তা বলেননি?
না তো। আর কোনো কথা হয়নি।
আপনি ও আপনার বন্ধু দুজনেই অতিশয় বোকা লোক।
কেন?
একটা মেয়ে কেন সেবা করবে, কীসের বিনিময়ে, তা কারও মনে হলো না?
আমার অবশ্য এখন মনে হচ্ছে তুমি টাকা নাও।
আমি নিশ্চয়ই আপনার সঙ্গে শুধু শুধু গল্প করতে আসিনি। আপনাকে আগেই বলেছিলাম মাথা টিপে দেবো কিনা! আপনি বললেন, আসল কথা থেকে আমি নাকি আপনাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এটাই তো আপনার আসল কথা।
যারা টাকার বিনিময়ে প্রেম করে তারা খুব খারাপ।
আপনাকে বারবার বোঝাতে চেষ্টা করছি আমি খারাপ মেয়ে। কিন্তু পৃথিবীতে টাকা ছাড়া কি কেউ প্রেম করে?
বিবাহিত স্ত্রী হলে কেউ টাকার বিনিময়ে প্রেম করে না।
তাই নাকি! বিবাহিত স্ত্রীদের বায়না কত জানেন? তাদেরকে বাড়ি-গাড়ি কিনে দিতে হয়। হিসাব করলে তাতে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়। তাদের কাছ থেকে বাড়তি কী পাওয়া যায় বলুন তো?
বিশ্বাস।
সেটা নিশ্চয় আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আপনিই তো বলছিলেন, আপনার স্ত্রী ডিভোর্স নিয়ে আরেকজনের সঙ্গে চলে গেছে। তিনি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।
বলেছিলাম নাকি! আসলে মাথাটায় তখন কেমন গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। আর কী বলেছিলাম?
অনেক কথা।
সে কি! বেফাঁস কিছু বলিনি তো?
কোনটা ফাঁস আর কোনটা বেফাঁস, আমি বুঝব কী করে? আমি কি অতশত বুঝি?
তা আমি আর কী বলছিলাম?
সেসব থাক।
থাকবে কেন? বলো।
ছ’ বছরের দাম্পত্য-জীবনে আপনাদের কোনো সন্তান হয়নি বলে আপনার স্ত্রী খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
এসব কথা বলেছি?
না বললে আমি জানলাম কী করে?
আমার সব বিষয় তুমি জানো। কিন্তু তোমার কোনো বিষয়ই আমার জানা নেই। তোমার কথা বলো।
আমার আবার কী কথা?
তোমার পারিবারিক প্রসঙ্গ। তোমার জীবনযাপন।
আমার পারিবারিক প্রসঙ্গে বলার মতো তেমন কিছু নেই। শুধু একটা বিষয় ছাড়া।
সেটা কী?
সেটা একান্ত নিজস্ব বিষয়। একান্ত গোপন কথা।
আমি জানতে চাই।
কিন্তু আমার একান্ত কথা আপনাকে বলব কেন?
তুমি আমার কৌতূহল বাড়িয়ে এখন পিছিয়ে যেতে চাচ্ছ। এটা ভারি অন্যায়।
আপনার সঙ্গে আমি কোনো অন্যায় আচরণ করিনি।
তুমি আমার জীবনের সব কথা জেনেছ। অথচ নিজের সামান্য একটা কথা বলতে চাচ্ছ না।
কথাটা সামান্য নয়।
এ-কথা বলে আমার শোনার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিলে।
আপনার এসব আগ্রহের দায় মিটানোর দায়িত্ব আমার নয়।
থাক তাহলে। আমি আর তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই না।
আপনার অভিযোগ আমার নিজস্ব কথা না বলার ব্যাপারে। আমার সঙ্গে কথা না বলতে চাওয়ার অভিমান কেন?
একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
ভণিতা না করে বলে ফেলুন।
সঠিক উত্তর দেবে তো?
নিশ্চয়ই দেবো। তবে যে-কথার সঠিক উত্তর দেওয়া যাবে না, তার উত্তর দেবো না।
তুমি কী করো? মানে, তোমার পেশা কী?
আমি একটা এনজিও-তে কাজ করি।
তাহলে এ-লাইনে এলে কেন?
এ-লাইনে মানে? আমি আপনার এ-কথার উত্তর দেবো না।
বারে! তুমি নিজেই তো বলেছ তুমি খারাপ মেয়ে। তাহলে রেগে যাচ্ছ কেন?
আমি খারাপ মেয়ে অবশ্যই। আমাদের সমাজে একজন কুমারী মেয়ে সন্তানের মা হলে সমাজ তাকে কি ভালো মেয়ে বলবে?
তুমি যে কুমারী মা তা জানতাম না।
কথাটা না বলে পারলাম না। রেগে গেছি বলেই বলতে হলো।
কিন্তু এমন একটা কাণ্ড তুমি করতে গেলে কেন?
কী কাণ্ড?
এই যে বিয়ে না করে মা হওয়া!
কী করা উচিত ছিল?
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাবধান হলেই পারতে।
যাক। তবু তো আপনি গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেননি।
আমার প্রশ্ন, তুমি সাবধান হলে না কেন?
যদি বলি, আমি ধর্ষিত হয়েছিলাম।
সে কি!
হ্যাঁ। সাবধান হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
তাহলে –
গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে পারতাম। কিন্তু তা পারিনি।
কেন?
অনাগতকে হত্যা করতে চাইনি আমি।
সেটাই তো স্বাভাবিক ছিল।
হয়তো ছিল। কিন্তু যার দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলাম, তাকে একসময়ে ভালোবাসতাম আমি।
তাকে বিয়ে করলেই তো সব ঠিক হয়ে যেত। এতে অসুবিধা কী ছিল?
একটু ছিল। সে পূর্বেই বিবাহিত ছিল।
তুমি জেনেশুনে একজন বিবাহিত লোকের সঙ্গে প্রেম করলে?
জেনেশুনে নয়। সে যে বিবাহিত, তা আমাকে কখনো বলেনি। দেশে তার স্ত্রী আছে, ছেলেমেয়ে আছে, আমি জানতাম না।
এসব কথা কখন জানলে?
ধর্ষিত হওয়ার পর আমি যখন তাকে চাপ দিলাম। সে সন্তান নষ্ট করতে চেয়েছিল। আমার জেদাজেদিতে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতারণার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হলো।
বিষয়টা বেশ দুঃখজনক।
কার জন্য? আমার জন্য, না পুরুষটির জন্য?
তুমি কি সহজভাবে কথা বলতে পার না?
কী বলতে হবে বলুন।
এটাও কোনো স্বাভাবিক কথা নয়।
ঠিক আছে। আমি স্বাভাবিক কথা বলছি।
তোমার প্রেমিকের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর তোমার কীরকম অনুভূতি হলো?
মনে হলো, পৃথিবীর সকল পুরুষ মানুষের প্রতি প্রতিশোধ নিই। তসলিমা নাসরিনের লেখা পড়ে তাবৎ পুরুষজাতিকে ঘৃণা করতে শিখেছিলাম।
কিন্তু তসলিমা তো –
কী বলবেন বুঝতে পারছি। তসলিমা পুরুষজাতির প্রতি ঘৃণা জানাতে বা প্রতিশোধ নিতে চেয়েও ক্রমাগত পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আমিও অন্ধ আক্রোশবশত অন্যরকম কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পারলাম না।
কেন?
আমার সব আক্রোশ একজন কেড়ে নিল।
কে?
আমার ছেলে। আমার সন্তান। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমি সব ভুলে গেলাম।
তারপর?
তারপরের কথা আমি আর বলতে চাই না। আমার খুব কষ্ট হয়।
আমি শুনতে চাই।
বললাম তো, এসব কথা আমার বলতে ইচ্ছা করে না।
তুমি সব কথা বলবে বলেছ। তারপর কী হলো?
আমার ছেলেটা পনেরো দিনের দিন মারা গেল।
কী বলছ তুমি!
জন্ম থেকেই একটা কঠিন অসুখে পড়ায় ওকে আর বাঁচানো গেল না। ডাক্তারদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও।
আই অ্যাম রিয়েলি সরি। খুবই দুঃখজনক।
এর চেয়ে মৃত সন্তান হলেও আমার এত কষ্ট হতো না। শত প্রতিকূলতার মধ্যে পৃথিবীতে এনেও ওকে আমি পৃথিবীটা দেখাতে পারলাম না।
জীবনে তুমি দুটো বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছ। ভাবতে আমারও খারাপ লাগছে।
তাই বলে আমাকে করুণা দেখাবেন না। আমি কারও করুণার প্রত্যাশী নই।
একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
করুন। আগেই বলেছি কোনোরকম ভণিতার দরকার নেই।
তুমি আমার এখানে এলে কেন? কেন এলে?
সেবা করতে। আপনার বন্ধু বলে দিয়েছেন না?
এটা সঠিক উত্তর হলো না। তুমি না জেনে না শুনে আমার বাসায় চলে এলে। আমি তো খারাপ লোকও হতে পারতাম।
আপনি যে ভালো লোক, এ-কথা আমাকে বলে দেওয়া হয়নি।
কিন্তু না জেনেশুনে –
কে বলল আমি জেনেশুনে আসিনি!
কী জেনে এসেছ? আমি একজন উচ্চপদস্থ
আমলা? আমার বিস্তর পৈতৃক সম্পত্তি আছে – এসব?
না।
তাহলে কী?
আপনি সুইসাইড করতে গিয়েছিলেন। আকস্মিকভাবে বেঁচে গেছেন।
এটা জেনেই তুমি এখানে চলে এলে?
বউ চলে গেলে কেউ সুইসাইড করতে চায়, এটা আমার জানা ছিল না।
তুমি যেমন পুরুষদের ওপর ক্ষুব্ধ, আমিও তেমনি 888sport promo codeজাতির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তোমার ওপর অত্যাচার চালাতে পারতাম।
না, পারতেন না।
কেন?
সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় না। আমি এসেই দেখলাম আপনি মদ খাচ্ছেন।
সেটা তো আরো বিপদজনক। নেশার ঘোরে আমি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারি।
একটু আগেই যে বলছিলেন, আপনি নেশাগ্রস্ত নন।
সেসব কথার কথা। আমি কিন্তু সত্যি একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারি। এখনো নিশ্চয় পারি।
তা ঠিক। পুরুষমানুষ, একজন 888sport promo codeকে একা পেয়ে অত্যাচার করতেই পারে।
তাহলে তুমি কী করবে?
প্রতিরোধ করব। আমাকে যতটা দুর্বল ভেবেছেন, আমি ততটা দুর্বল নই।
যদি আমাকে ঠেকাতে না পারো, তখন কী হবে?
কী আর হবে? জীবনে আরেকবার ধর্ষিত হবো। আমি তো নষ্ট মেয়েমানুষ। কপালে তো এসবই লেখা থাকবে।
কিন্তু তুমি কেন আমার ফাঁদে পা দিতে এলে?
ফাঁদ!
হ্যাঁ।
কীসের ফাঁদ, কেমন ফাঁদ, কেন ফাঁদ, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
তুমি কি বুঝতে পারোনি, আমার বন্ধু কেন তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে?
না।
টাকা উপার্জনের জন্য নিশ্চয়ই।
তেমন কথা তিনি আমাকে বলেননি। তিনি একজন ডাক্তার, সাইকিয়াস্ট্রিস্ট। আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলে আমি তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম।
কীসের চিকিৎসা?
অসুস্থতা। হতাশা বলতে পারেন।
কী আশ্চর্য! সে তো আমারও ডাক্তার।
হতে পারে।
তাহলে সে কি মানসিক হতাশা কাটাবার জন্য তোমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছে?
কার মানসিক হতাশা?
তোমার কিংবা আমার।
জানি না।
আচ্ছা, তোমার কি মনে হয় তোমার হতাশা কেটে গেছে?
না।
আমার হতাশা কেটে গেছে?
আপনার কথা আমি কীভাবে বলব?
তাই তো! কিন্তু আমাকে কি এখনো তোমার নেশাগ্রস্ত মনে হয়?
আপনার নেশা আর আগের মতো নেই।
গুড। এখন আমি যা কিছু বলব তা নিশ্চয়ই মাতালের প্রলাপ বলে মনে হবে না।
না
ভেরি গুড। আমি তোমাকে একটা মূল্যবান কথা বলতে চাই।
কী?
আমি তোমাকে ভালোবাসি।
মাতালের প্রলাপ না হলেও এটা পাগলের প্রলাপ।
আমি সত্যি বলছি। বিশ্বাস করো।
এতে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কী আছে? আপনি চাইলে ভালোবাসার কত মেয়েমানুষ জুটে যাবে আপনার। আমার মতো একজন খারাপ মেয়েকে কেন ভালোবাসতে যাবেন আপনি?
তোমার খারাপ-ভালো সব মিলিয়েই আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি না।
কেন?
সব কেন-র কোনো জবাব নেই। আপনাকে ভালোবাসতে হবে, এমন কোনো কথা আছে নাকি?
তা অবশ্য নেই। তোমার যাকে ইচ্ছা তাকে তুমি ভালোবাসতে পার। আসলে কি তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো?
না।
তাহলে?
আপনার সঙ্গে ঘণ্টা তিনেকের পরিচয়। আপনাকে দেখামাত্রই গড়গড় করে ভালোবাসতে শুরু করলাম, তা হতে পারে না।
তবে উপায় কী?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা জন্মাতে পারে, তা পুঞ্জীভূত হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে তেমন সম্ভাবনা দেখছি না।
কেন? আমি কি যোগ্য পাত্র নই?
ভালোবাসার মধ্যে আবার যোগ্যতা-অযোগ্যতা কীসের?
আপনি কি ভালোবাসতে চান, না বিয়ে করতে চান?
ভালোবেসে বিয়ে করতে চাই আর বিয়ে করে ভালোবাসতে চাই। এবার বলো তুমি আমাকে বিয়ে করবে কিনা?
উঁহু!
তার মানে, না? তুমি আমাকে বিয়ে করবে না?
না।
না?
না।
তাহলে সব কথা শেষ?
হ্যাঁ। কথা শেষ।
ও কি! চলে যাচ্ছ কেন?
আপনি কিছুই বোঝেন না। আপনার সঙ্গে কথা বলে লাভ কী? মেয়েরা যে অনেক সময় না বললে হ্যাঁ বোঝায়, তা বোঝেন?
না বোঝালে বুঝব কী করে? কিন্তু তুমি যাচ্ছ কোথায়? দাঁড়ান। দরজার র্পদাটা সরে গেছে। ঠিক করে আসি।


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.