ছোট গল্প
-

কোজাগরি জ্যোৎস্না
দুপাশে ঘন জঙ্গল, মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পথ। পাকা সড়ক সমতল ছাড়িয়ে লাটিমের লেত্তির মতো পাক খেতে খেতে একেবারে উঠে গেছে পাহাড়ের মাথায়। সমন্বয় নিজেই ড্রাইভ করছে। যদিও সে খুব একটা পটু নয়, তবে মাঝেমধ্যে ড্রাইভার ছুটি নিলে এদিক-সেদিক যাওয়ার অভ্যাস আছে। শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় চালানো শক্ত, তার চাইতে হাইওয়েতে চালানো তুলনামূলকভাবে সোজা। আর ওয়ানওয়ে…
-

ইঁদুরের জন্য প্রার্থনা
মাঝরাতে ধড়াম করে কোনোকিছু পতনের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। রান্নাঘরে ইঁদুরের উৎপাত বেড়েছে, টের পাই। সানসাইডে দুটো ইঁদুরের হুটোপুটিতে প্লাস্টিকের বোতল বা বয়াম নিচে পড়ে গেছে। আগেও এমন হয়েছে। সাধারণত রাতের বেলায় ওরা আসে। দিনেও আসে, কদাচিৎ। অনিচ্ছুকভাবে বিছানা ছেড়ে রান্ন্নাঘরে যাই। নিচে পড়ে থাকা বয়াম ওপরে রাখার ছলে শব্দ করি, এই যাহ্। বেরিয়ে আয়।…
-

কাফির
888sport app download apk latest version : সারোয়ার জামীল মুখবন্ধ : অনূদিত ‘কাফির’ গল্পটি বিখ্যাত 888sport live footballিক ইসমত চুঘতাইয়ের লেখা বাচপান (‘ছেলেবেলা’) নামক উর্দু ছোটগল্প সংগ্রহের প্রথম গল্প। ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি ছোট শহরের এক হিন্দু ব্রাহ্মণের ছেলে ও এক মুসলমান মেয়ের প্রেমের ওপর ভিত্তি করে এই গল্প রচিত। কাফির ‘এই পুস্কার, তোর মহাদেবজীকে দেখতে একটা দৈত্যের মতো লাগছে। রাতে…
-

নিভে গেল সাঁঝবাতি
কলেজ স্কোয়ার। কলকাতা। গোত্রহীন এক পান্থনিবাস। আহার-ব্যবস্থাবিহীন। অনুজ-কবি মানিকের তবু এই ঠাঁই পছন্দের। কারণটা ধরে ফজল খুশি। কর্মীদের আহারে শামিল হলে ঘরোয়া খাবার মেলে। থালি সত্তর টাকা। খুব একটা বেশি কী? খাবারে আমিষ ও সবজির অনুপাত প্রায় হাসপাতাল-ব্যবস্থাপনার মতো। সবচেয়ে ভালো ডিমের ব্যঞ্জন। একজোড়া ডিম। এ কি রাজকীয় থেকে কিছু কম হলো! অনেকদিন ফজল একটা…
-

পরম্পরা
‘তোর আসবার দরকার ছিল না’, মৈত্রেয়ী বললেন। ‘আরে ঠিকাছে।’ ‘এই তোর এক রোগ। বছরের এই সময়টায় আসি, একটু নিজের মতো ঘুরবো বলে …’ ‘তো কী হলো?’ ‘তুই খাচ্ছিলি, খাচ্ছিলি। আমি বেরুবো শুনেই আধচিবানো খাবার কোনোমতে গিলে …’ ‘আচ্ছা বাবা, ঠিকাছে’, বাঁ গাল থেকে ডান গালে চুইংগামটা পাঠিয়ে দীপ আপস করে নেয়, ‘আমারও দরকার আছে, তাই…
-

আবার বছর কুড়ি পর
আমরা নিঃসন্তান দম্পতি। বিয়ের পনেরো বছর পর হানিমুন। মানে ওই ভারতে আর কি। আমি একরকম এক লেঠেল পরিবারের মেয়ে। খুব লেখাপড়া জানা ঘরের কেউ না। তবে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে আশুতোষ, ফাল্গুনী, নীহাররঞ্জন চুটিয়ে পড়তাম। আমার দুই চাচার একজন আদালতের দলিল লেখক (শুনেছি দলিল লেখার নামে তিনি অনেকের জমি কায়দা করে হাতিয়ে নিতেন), আরেকজন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের…
-

কস্তুরমঞ্জরীর ঘাট
রোদের রং এখন অনেকটা নদীর মতো, মানে গঙ্গামাটি মেশা নদীর জলের যে-রং। এরকম একটা রোদ যখন ওঠে, তখন অনেক আশ্চর্য ব্যাপার ঘটতে পারে। হলোও তাই। একটি ছেলে জেটিঘাট থেকে নেমে টোটো স্ট্যান্ডে যেতে যেতে থমকে তাকাল ডানদিকে। একটা ভেঙেপড়া স্তম্ভের গায়ে লেখা ডাফ সাহেবের স্কুল ১৮৪৯। এই শহরে সবই দেখছি খুব পুরনো। সালটা দেখলে কেমন…
-

গোলদিঘি মাঠের কীর্তি
হুঁশ ফিরে এলে নামিয়া টের পায় তার শাড়ি ধরে কেউ টানছে। চোখ মেলে দেখে ফুলু, তাদের বাড়ির কুকুর। আগে দেখা তার পিঠের দিকের লোম হালকা হলুদ। এখন নিচ থেকে তার পেটের দিকটা চোখে পড়ে। সেখানকার লোম সাদা। নামিয়ার মুখটা ডানদিকে কাত করা। ফুলুও সেদিকে। তাই দেখা যায় তার মুখে শাড়ির আঁচল। সেটা নিয়ে সে পেছনের…
-

করোনা ও কফিন
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে আদ্রিয়ানার। সার্প সাতটা। বকের পালকের মতো শুভ্র লেপের তলা থেকে কচ্ছপের মতো মাথা ও শরীরটা ঈষৎ বের করে ক্রমাগত আর্তনাদরত ঘড়িটা এক হাতে বন্ধ করে সে। তারপর তন্দ্রাতুর শরীরটা আবার সুড়সুড় করে ঢুকে যায় কোয়েল্টের নিচে। এটা আদ্রিয়ানার চিরকালের অভ্যাস। একবারে কিছুতেই উঠতে পারে না সে। মিনিট পনেরো এভাবে শুয়ে থাকবে…
-

যন্ত্র ও জন্তু
জন্তু মল্লিকবাড়ি আর খোন্দকারবাড়ির মধ্যে যে-বাগানটা নিয়ে কয়েক বছর ধরে মামলা চলছে, সেখানেই এক বিকেলে শওকত আলমের নয় বছরের ছেলেটা একটা চতুষ্পদ জন্তু দেখে ভয় পেল। ছেলেটা চঞ্চল এবং অনভিজ্ঞ। গ্রামে আনাগোনা করার অভিজ্ঞতা না থাকলে অতি সাধারণ শব্দও চমকে দিতে পারে। পাতাঝরার শব্দে মনে হতে পারে জানালার পাশে কেউ হাঁটছে; মুরগি খাবার খোঁজার সময়…
-

শম্ভু ও তার মোবাইল
কালো বেড়ালটার জন্য শম্ভুচরণকে সকালবেলাতেই মাঝেমধ্যে পাঁচিল টপকাতে হয়। আর বেড়ালটাও তক্কেতক্কে থাকে। শম্ভু পাঁচ মিনিট দশ মিনিট আগেপিছু করে বেরিয়ে দেখেছে, মিচকে একটা হাসি নিয়ে বেড়ালটা টুক করে রাস্তাটা কেটে বসে থাকে। সারাদিনের ব্যবসা বলে কথা, অগত্যা শম্ভুকে পেছনের পাঁচিল টপকে সদর রাস্তায় উঠতে হয়। এমনিতে চায়ের দোকান মানে বারোভূতের আড্ডা। কেউ পয়সা না…
-

উজানগাঁওয়ের অমরনাথ
স্যার? সকালে হাসপাতালের ফোন দেখেই বাবুলনাথ রায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। কোনো দুঃসংবাদ? অবশ্য রাতে বাবা অমরনাথ রায়কে ভালোই দেখে এসেছে। অফিসে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুলনাথ। প্যান্ট-শার্ট পরা শেষ। টাইটা বাঁধার জন্য স্ত্রী পাপিয়ার সামনে মাত্র দাঁড়িয়েছে, পকেটে রাখা মোবাইল বেজে ওঠে। পাপিয়াকে অপেক্ষা করতে বলে বাবুলনাথ মোবাইল হাতে নেয়। হাসপাতালের সিনিয়র সিস্টার অমৃতা আহমেদের ফোন…
