ছোট গল্প
-

গোলদিঘি মাঠের কীর্তি
হুঁশ ফিরে এলে নামিয়া টের পায় তার শাড়ি ধরে কেউ টানছে। চোখ মেলে দেখে ফুলু, তাদের বাড়ির কুকুর। আগে দেখা তার পিঠের দিকের লোম হালকা হলুদ। এখন নিচ থেকে তার পেটের দিকটা চোখে পড়ে। সেখানকার লোম সাদা। নামিয়ার মুখটা ডানদিকে কাত করা। ফুলুও সেদিকে। তাই দেখা যায় তার মুখে শাড়ির আঁচল। সেটা নিয়ে সে পেছনের…
-

করোনা ও কফিন
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে আদ্রিয়ানার। সার্প সাতটা। বকের পালকের মতো শুভ্র লেপের তলা থেকে কচ্ছপের মতো মাথা ও শরীরটা ঈষৎ বের করে ক্রমাগত আর্তনাদরত ঘড়িটা এক হাতে বন্ধ করে সে। তারপর তন্দ্রাতুর শরীরটা আবার সুড়সুড় করে ঢুকে যায় কোয়েল্টের নিচে। এটা আদ্রিয়ানার চিরকালের অভ্যাস। একবারে কিছুতেই উঠতে পারে না সে। মিনিট পনেরো এভাবে শুয়ে থাকবে…
-

যন্ত্র ও জন্তু
জন্তু মল্লিকবাড়ি আর খোন্দকারবাড়ির মধ্যে যে-বাগানটা নিয়ে কয়েক বছর ধরে মামলা চলছে, সেখানেই এক বিকেলে শওকত আলমের নয় বছরের ছেলেটা একটা চতুষ্পদ জন্তু দেখে ভয় পেল। ছেলেটা চঞ্চল এবং অনভিজ্ঞ। গ্রামে আনাগোনা করার অভিজ্ঞতা না থাকলে অতি সাধারণ শব্দও চমকে দিতে পারে। পাতাঝরার শব্দে মনে হতে পারে জানালার পাশে কেউ হাঁটছে; মুরগি খাবার খোঁজার সময়…
-

শম্ভু ও তার মোবাইল
কালো বেড়ালটার জন্য শম্ভুচরণকে সকালবেলাতেই মাঝেমধ্যে পাঁচিল টপকাতে হয়। আর বেড়ালটাও তক্কেতক্কে থাকে। শম্ভু পাঁচ মিনিট দশ মিনিট আগেপিছু করে বেরিয়ে দেখেছে, মিচকে একটা হাসি নিয়ে বেড়ালটা টুক করে রাস্তাটা কেটে বসে থাকে। সারাদিনের ব্যবসা বলে কথা, অগত্যা শম্ভুকে পেছনের পাঁচিল টপকে সদর রাস্তায় উঠতে হয়। এমনিতে চায়ের দোকান মানে বারোভূতের আড্ডা। কেউ পয়সা না…
-

উজানগাঁওয়ের অমরনাথ
স্যার? সকালে হাসপাতালের ফোন দেখেই বাবুলনাথ রায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। কোনো দুঃসংবাদ? অবশ্য রাতে বাবা অমরনাথ রায়কে ভালোই দেখে এসেছে। অফিসে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুলনাথ। প্যান্ট-শার্ট পরা শেষ। টাইটা বাঁধার জন্য স্ত্রী পাপিয়ার সামনে মাত্র দাঁড়িয়েছে, পকেটে রাখা মোবাইল বেজে ওঠে। পাপিয়াকে অপেক্ষা করতে বলে বাবুলনাথ মোবাইল হাতে নেয়। হাসপাতালের সিনিয়র সিস্টার অমৃতা আহমেদের ফোন…
-

আমার হাতে একটা সুই বিঁধেছিল
কী কুক্ষণেই যে কাজটা করতে গিয়েছিলাম আমি! অফিসে যাওয়ার মুহূর্তে আবিষ্কার করলাম আমার শার্টের একটা বোতাম ছেঁড়া। বাড়তি বোতাম শার্টের সাইডে লাগানো আছে, ওটা খুলে নিয়ে বুকের কাছে স্থাপন করতে হবে। এজন্য সুই-সুতো প্রয়োজন। কাজটা অত সহজ নয় ভেবে আমি মীরার শরণাপন্ন হতে চাইলাম। রান্নাঘরে গিয়ে দেখা গেল, মীরা এক হাতে রন্ধন888sport live chatের বই ধরে অন্য…
-

‘বাবা, নিচু হও’
আমি কিছু কথা বলতে চাই। আর সেটা হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা। আপনারা হয়তো বলবেন, এতদিন বাদে আবার এখন মুক্তিযুদ্ধের কথা হচ্ছে কেন, সেসব তো এই ৫০ বছরে অনেক বলা হয়েছে। তার উত্তরে আমি বলতে চাই, না, এখনো সব বলা হয়নি। এবং আমার ধারণায় এক হাজার বছরেও সব বলা হবে কি না, সন্দেহ। কারণ এ ছিল…
-

কোভিড ১৯-এ কবি ও অকবি
শুনেই চমকে ঘাড় ফেরালেন শিবেন্দু করগুপ্ত। ‘আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে, সুয্যি গেছে পাটে’। বাঃ! পরের লাইনটা? মনে আছে? বলো দেখি! পাল্লায় খদ্দেরের ঝিঙে মাপতে মাপতে লোকটার মাথা কাত। ঠোঁটে সলজ্জ হাসির ঝিলিক। ‘খুকু গ্যাছে জল আনতে পদ্মদিঘির ঘাটে।’ মুগ্ধ বিস্মিত, বাহ্! বাহ্! বাহ্! কয়েকটি অব্যয় প্রকাশ করে শিবেন্দু থলে হাতে এগোলেন। হৃদপিণ্ডে অজানা মোচড় এবং…
-

দূর দিগন্তে অন্ধকার
বৈকুণ্ঠ। এখানে দুঃখ অপমান নিরাশা প্ররোচনা লালসা রিরংসার বড় অভাব। এখানে যা আছে, তা শুধু ভালোবাসাবাসি, শুধু সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্য। বৈকুণ্ঠে কারো প্রতি কারো পক্ষপাতিত্ব নেই, নেই আবার ঔদাসীন্যও। সবাই সবাইকে ভালোবাসে, আবার সবাই সবার প্রতি নির্মোহ। এখানে কারো প্রতি কারো হিংসা নেই, নেই কোনো বিতৃষ্ণাও। ক্রোধ বৈকুণ্ঠ থেকে চিরতরে নির্বাসিত। এখানকার অধিবাসীদের লোভ-ভোগেচ্ছা একেবারেই…
-

নায়িকার অটোগ্রাফ
বিশ্বজিৎ চৌধুরী সকাল ঠিক নয়টায় ডাইনিং হলে প্রবেশ করলেন তিনি। বিশাল দরজা ঠেলে ঢুকেই দু-পা এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। সুপরিসর কক্ষটির ভেতর চোখ বুলিয়ে নিলেন একবার। প্রাতরাশ সাজানো গরম পাত্রগুলো কোন দিকে রাখা আছে এবং নিজের জন্য প্লেটে খাবার নিয়ে কোথায় গিয়ে বসবেন তা ঠিক করে নিলেন বোধহয় ওখানে দাঁড়িয়েই। তারপর ধীর অথচ দৃপ্ত পায়ে এগোলেন।…
-

কালো ভোর
ভোরে এই বাসায় কেউ ঘুম থেকে ওঠে না আমি ছাড়া। আমি উঠি, উঠে বারান্দায় বসে থাকি একা একা, তারপর অঙ্ক কষি আর ভোর দেখি। আজকে ভোরে উঠেছে আম্মা, ভোর মানে অন্ধকার থাকতে। আব্বার কড়া নাড়ার শব্দে জেগে উঠেছি আমি আর আম্মা। আব্বা হাত-মুখ ধুয়ে এলে কিছু খাবেন কি না জিজ্ঞাসা করল আম্মা। আব্বা মাথা হেলিয়ে…
-

বিসর্জন
ডাকুকে আমি ক্ষ্যাপা বলেই জানতাম। বছর-পঁয়ত্রিশের ডাকু পাশের পাড়ার ছেলে হলেও সে আমাদের পাড়াতেই দিনমান কাটায়। আমাদের পাড়াতে যেসব দোকান আছে, ডাকু সেইসব দোকানদারদের ফাইফরমায়েশ খাটে। ফাইফরমায়েশ বলতে কাউকে চা এনে খাওয়ায়। কাউকে বিড়ি-সিগারেট এনে দেয়। আমার কাউকে বিকেলবেলা চপমুড়ি এনে খাওয়ায়। সঙ্গে নিজেও খায়। আমাদের পাড়ায় হরেকরকমের দোকান আছে। মুদিখানা, ফার্মেসি, জুতোর দোকান, মিষ্টির…
