ছোট গল্প
-

জাঙ্গুলী
নোনা বাতাসের ঝাপটা এসে লাগছে ওদের চোখেমুখে। জাঙ্গুলী আকাশের দিকে তাকিয়ে জলই দেখতে পেল। মেঘের রং ঘন কালো। পুরো আকাশই যেন একটা বিরাট কালো সাপের মতো ওদের মাথার ওপর দণ্ড তুলে দাঁড়িয়েছে। দূরে সাগরের জল স্থির, নদীর জলেই কেবল কাঁপন। নৌকায় দুজন মাত্র আরোহী। নৌকাটা বুড়োবুড়ির তট থেকে যাত্রা শুরু করেছে। গন্তব্য নামখানা। গতি একটু…
-

কুয়াশার হরিণ
জয়পুর গ্রাম। নামটা এমনিতে খুব নিরীহ শোনালেও এই গ্রামটির ঠিক পাশ দিয়ে ভারত ও 888sport appsের বিপজ্জনক সীমান্ত। বিপজ্জনক এই জন্য যে এদিকে বিজিবির কড়া পাহারা আর ওদিকে বিএসএফের নিñিদ্র নিরাপত্তা। তবে কথা হলো, সকল নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু না কিছু ছিদ্র মনে হয় থেকেই যায়। নইলে লখিন্দরের ঘরে সাপও ঢুকত না আর লখিন্দরকেও সর্পাঘাতে মরতে হতো…
-

খাঁচার পাখি বলে
কোনো একসময় কাঁটাবনে কাঁটাময় লতাগুল্ম ঝোপঝাড় হয়তো ছিল, নইলে অমন ধারালো নাম কেন? নগণ্য সেই পড়ো অঞ্চলটি শোভন সাজসজ্জা আর কংক্রিটের রম্য ঘাড় তুলে এখন দাঁড়ানো। রাস্তা লাগোয়া দৃষ্টিনন্দন এক বহুতল ভবনের নিচের স্পেসে বসেছে অনেক বইয়ের দোকান। পায়েলের পছন্দসই জয়তী নামের দোকানটি ওখানে আলো করে আছে। অসহ্য জ্যামের শহরে চলাচলে ভোগান্তি, যাই যাই করেও…
-

থুতু-সম্রাট
এক খুব সন্তর্পণে একটা মাকড়সা ঘুরে বেড়াচ্ছে ভেতরে। অস্থির ভঙ্গিতে এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত দৌড়াচ্ছে কখনো; কখনো মেপে মেপে পা ফেলছে ঢিমেতালে, আবার কখনো একদম স্থির বসে থাকছে ঘাপটি মেরে। তখন আর তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বেশ কিছুক্ষণ। এই অবস্থাটাই নাসিরের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। আচমকা কোন দিক থেকে ঝাঁপ দেবে সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে…
-

রোগ
গত তিনদিন ধরে শহিদুলের বউ কাঁদছে। যেনতেন কান্না নয়, চিৎকার করে বস্তি মাথায় ওঠানোর মতো কান্না। প্রথম প্রথম আশেপাশের লোকজন আহারে-উহারে করলেও এখন তারা আর ব্যাপারটা নিতে পারছে না। ফরিদা ডুকরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় চড়-ঘুষি দিয়ে মুখ খিস্তি করে গালাগাল করছে। ফরিদার অবশ্য তাতে কিছু আসে-যায় না। একমাত্র মেয়ের জন্য সে শোক করবেই। আহারে,…
-

রিবন
ম্যারিনা নাসরীন এক নভেম্বর মাসের 888sport cricket BPL rate তারিখ বিয়ের দিন ধার্য হয়েছে। হাতে আছে মাত্র দু-মাস। পল্টনে আড়াই কামরার ভাড়া করা বাসায় শফিকের সঙ্গে নাদিয়ার যুগলজীবন সেদিনই শুরু হবে। আড়াই কামরা বলতে দু-বেড আর ড্রইং কাম ডাইনিং। বিয়ের এক মাস আগে শফিক মেস ছেড়ে এই বাসায় এসে উঠবে, তেমনটাই ঠিক হয়েছে। নাদিয়ার কথা, নতুন সংসারের প্রতিটি…
-

আশ্চর্য অসুখ ও একটি চার মাসের ভ্রুণ
সাত্যকি হালদার শতরূপার বিয়ে ভালোবেসে হয়নি। শতরূপা ভালোবেসে বিয়ে করতে পারেনি। বলা যায়, শতরূপা যাকে ইউনিভার্সিটির শেষদিক থেকে ভালোবাসত তার সঙ্গে ওর বিয়ে হয়নি। ও এমন একজনকে বিয়ে করেছিল যাকে ও আগে ভালোবাসার সুযোগই পায়নি। অথচ সেই বিয়েটাকে প্রবল ভালোবেসেছিল শতরূপা। এমন অনেক ভালোবাসা না-ভালোবাসা আঁকড়েই ওর চারপাশের জীবন। বিক্রমজিতের চেহারা-চরিত্র-রুচি, কোনো কিছুর সঙ্গে মিল…
-

চোরাকাঁটা
888sport live chatী নাজনীন পাশের ঘরে রেবু কাঁদছে। ফ্যানের আওয়াজ ছাপিয়ে ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে কানে। তীরের মতো বিঁধছে। প্রতিদিনের এই অভ্যস্ততা হাঁপ ধরিয়ে দেয় মাঝে মাঝেই। দম বন্ধ লাগে তখন। রেবু তবু কাঁদে। রেবুকে অসহ্য লাগে আজকাল। প্রকাশ করি না। করতে পারি না। করা যায় না আদতে। অভিনয়ের এই ঘৃণ্য পারঙ্গমতা ধীরে ধীরে আমার ভেতরে কেমন…
-

সোঁদা মাটির ঘ্রাণ
এক সন্ধেবেলায় কোত্থেকে ফিরে এসে মা বলল, ‘এভাবে আর যে চলে না রে শুভ। এখানে থেকে আর কী হবে? তার চেয়ে চল আমরা গ্রামেই ফিরে যাই।’ হঠাৎ মায়ের মুখে গ্রামের কথা শুনে মনে হয়েছিল ভুল শুনছি বোধহয়। ফের একবার শোনার জন্য জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোথায়?’ মা বলেছিল, ‘গ্রামে।’ আমি যেন একটা ঘোরে পড়ে গিয়েছিলাম, ‘গ্রাম? কোন…
-

কবি লিখলেন মেঘ
যেন অর্ধশান্ত নদীর ঢেউ। কবির মনে পড়ছে কয়েক মাস আগে দেখা যুবকটির কথা। উজ্জয়িনীর পাশঘেঁষে বয়ে চলা শিপ্রা নদীসৈকতের এই এলাকাটি কবির খুব প্রিয়। প্রকৃতির প্রতিটি অঙ্গ এখানে প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ। আর কবি যখন আসেন, রাত্রির শেষ ছায়া আর দিনের প্রথম আলোর সন্ধিক্ষণ। কৃত্রিম কোলাহল নেই, সবুজের নৈঃশব্দ্য, পাখির গান, শিপ্রার ওপারে নেমে থাকা আকশ; যে-কারো…
-

তিন নম্বর ফুসফুস
মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অচেনা নম্বর। এইসব ফোন ধরবার কোনো মানে হয় না। ধরলেই যে কথাবার্তা হবে তা এইরকম … – আপনি কি শ্রী সুনীল তলাপাত্র? – হ্যাঁ। – আমি সোনালী মজুমদার, নিউ কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে বলছি … আপনার সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতে চাই, বলা যাবে? – হুঁ, বলুন … একটু তাড়াতাড়ি … –…
-

অকিঞ্চিতের ঈশ্বর
এ -গল্পে অপুই মারা গেল বর্ষার টইটম্বুর পুকুরে নাইতে গিয়ে। ওর নাম আসলে অপু ছিল না, ছিল শ্রীমান অতুল কুমার দত্ত। অতটুকু নাম অতুল, তাকে আরো ছোট করে অতু বলে ডাকতো সবাই। ওর বড় বোনের নাম দুর্গা বলে আমি অতু না ডেকে অপু ডাকতাম। ছ-সাত বছরের অপু আমার অনেক কাজে লাগতো। ‘অপু, বাবলা গাছের কাঁটাআলা…
