February

  • অশরীরী

    অশরীরী

    এখানে এসেই থেমে পড়ে সামিউল। প্রায় তিরিশ মিটার দূরের বাড়িটি ইথারে অদ্ভুত নিশ্চুপ কণ্ঠে ডেকে যায়। ‘আয় সামিউল, এখানে আয়। আয় রে।’ সামিউল সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে থাকে ক-মুহূর্ত। তারপর পুনরায় সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয়। অনেক কাজ। যেতে হবে বেশ দূর। একদিন সত্যি সত্যি ওই বাড়িতে যাবে। কী আছে সেখানে? কে ডাকে তাকে? অচেনা হিম হিম…

  • ফ্লাইওভার

    ফ্লাইওভার

    এক ফ্লাইওভার এই তল্লাটে নতুন এসেছে। ফ্লাইওভার আসার আগে এখানে শুধু রাস্তা ছিল – মাটির ওপর দিয়ে চলা একটা সরল জিনিস, যেখানে হাঁটতে গেলে পা লাগত মাটিতে, চোখ পড়ত সামনে, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের দেখা হতো প্রায় সমান উচ্চতায়; কিন্তু ফ্লাইওভার মানে হলো মাথার ওপর দিয়ে চলা রাস্তা, যেখানে আয়েশ করে হাঁটা যায় না, এমন…

  • মিতুর জন্মদিন ও একটি ছবি

    মিতুর জন্মদিন ও একটি ছবি

    রাতে খাবার সেরে স্ত্রীর হাতে যত্ন করে বানানো পানটা মুখে পুড়ে নতুন কেনা সোফায় হেলান দিয়ে হোসেন আলী বলে, ‘কী, কেমন লাগতাছে, ভালা না?’ স্বামীকে দেওয়ার পর এবার নিজের পানটা মুখে চালান করে দিলো শানু। পানটা বেশ ঢাউস সাইজের হওয়ায় মুখের ভেতরের প্রায় সবটা জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল। এমনিতে পান সে বেশ সময় নিয়ে আরাম…

  • দেল বকসের নবাবি খোয়াব

    দেল বকসের নবাবি খোয়াব

    মাঘ মাস সবে শুরু, শীতের কামড় ততটা নেই এবার। মানুষের চাঞ্চল্য কমতে থাকে। বাড়ে পরিযায়ী পাখিদের মেলা; বসে নানা জায়গায়, পৌষের চিরকেলে রূপ বদলে গিয়েছিল এবার। মাঘের শীত বাঘের গায়ে – এমন কথা বলার জো ছিল না এবার। হাড়কাঁপানো শীতে কাবু ছিল তামাম মানুষ। মাবুদ আর জার দিও না – এমন কথা বলছে অশীতিপর বাসমতি…

  • ইশতাহার

    ইশতাহার

    ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! অকস্মাৎ একদলা ঘৃণা আমার গায়ে এসে না পড়লে আমি বোধহয় কখনোই এ-গল্প লিখতে বসতাম না। যদিও চার বছর ধরে সময়ে-সময়ে রাগ, ঘৃণা, অপমানের নানা ছিটেফোঁটা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পেয়ে এসেছি; কিন্তু গায়ে মাখিনি। সম্ভবত এর কারণ ছিল, মানুষ যখন নিজের মনে জানে সে অপরাধী নয়, তখন তার মনে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেকে…

  • দ্বৈত

    এই যে এখানে এলে বাদামের খোসা পেলে        অবশিষ্ট হাতে যাকে ভাবলে বাওবাব সে একটি নৈশ ক্লাব        ফুরায় প্রভাতে সকালে এমনই তোর তৈরি হয়েছিল ঘোর        কীভাবে বেরোবি নতুন বর্ষ আসে ডোবা তাতে পোকা ভাসে        বিধ্বস্ত ছবি পদ্ম যে অবিচল তোর কী হয়েছে বল্       কালো দেখছিস পিরিচে সাজানো বেল নাগলিঙ্গমে উদ্বেল      …

  • কফি কাপ

    অবহেলায় পড়ে থাকা কফি-কাপ আমাকে নাড়িয়ে দিলো তা শুধু 888sport sign up bonus নয়, বরং এমন গল্প যা ফুরায় না কোনোদিন – আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এত নিঃসঙ্গ পড়ে আছো কেনো কাপ নড়েচড়ে বসলো – আর শুরু করলো অবরুদ্ধ সময়ের গল্প : সেই 888sport promo code যে ভালোবাসতো তোমাকে – সে তার ঠোঁটের তুলিতে রংধনু এঁকে ছিল কপালে ধূসর আকাশ…

  • আলাপ

    – সীমাবদ্ধ গল্পের ভেতরে থেকে জীবনের মহিমা বুঝবে না। এর জন্যে প্রয়োজন উড্ডয়ন, প্রতিকারহীন সর্বজাল ছিন্ন করা অহমিকারিক্ত এক নম্র অভিযান, অভিমান-পরিত্যাগী বেদুইনের পরম              যাত্রা-পথ – বৃত্তভাঙা চাঁদের আলোর নিচে চোখ বন্ধ রাখা এক ধীমান প্রতিজ্ঞা, শূন্য হাতে শূন্য ক্রোধ শূন্য মুঠি শূন্য শোক-জাল আর বিস্তারিত অসীমের অবাধ ঠিকানা – আলো জ্বালো, আলো ফেলো…

  • বসন্তের উদার সৌন্দর্য

    ইটবাঁধানো কষ্ট নিয়ে          বসন্ত এলো,        কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ঘরে! বসন্তের অন্তরা খুলে ঘনিষ্ঠ হবো   অন্তরাত্মা শান্তি পাবে বলে     আমিও সবুজের মূলধন নিয়ে  নিজের হৃদয়ে সম্পাদকীয় লিখতে চেয়েছিলাম! কিন্তু এবারের বসন্তে –    যে কুঁড়ি ফুটতে চাইছিল,       তা আর ফুটল না –          পুষ্পবাগানও হতবাক হলো! বসন্তের দিনেও আত্মকলহ ও আত্মকর্তৃত্বে…

  • ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক

    ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশর্ত হয় ভোর  জলপতনের ধ্বনি। সবাই নিসর্গে যাবে  যেমন নিঃশর্ত যায় নদী  বীজপাতা খুলে দিয়ে যেমন উদ্ভিদ  হৃদয়ে ধরিত্রী মাখে। যেটুকু ধরেছো তুমি  লুকোছাপা-খেলা দুই হাতে  তারও বেশি  ঝরে পড়ে নীল নীলাকাশ হতে  পাখিদের মৌনতা ভাঙে রাতভোর, প্রাতে। ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশব্দ বাড়ায় হাত ঘুমছায়া বট গোধূলির আঙুল ছুঁয়ে চুপে  ঘন হয়ে নামে রাত আমাদের ঘরে যেমন নিঃশর্ত ছড়ানো এই ট্রপোস্ফিয়ার  হিরণ ধূলির পথ, পলি সমতল  আর আলো ফুটলেই আয়নায়  অবলীলায়িত কারো ছায়াপাত –  আমাদের বোধের ভেতরে  বীজফোটা দিন, ছায়াময় ব্যাকুলতা  নদী ও প্রভাত …

  • ঈশ্বরীয় বিশ্বাস ও অবিশ্বাস

    ঈশ্বর আছেন অথবা ঈশ্বর নেই – এ দুই এর মধ্যে ঝুলে আছি ঘড়ির পেন্ডুলাম হয়ে অথচ নিতান্ত মূর্খ এক হাটুরে বললো, দৃষ্টিগ্রাহ্য সবকিছুই বিশ্বাস করতে নেই, তেমনি অদৃশ্য যা কিছু, সবটুকু মিথ্যাও নয় আছেন অথবা নেই এর মধ্যেও ঈশ্বর খুঁজেছি, বিশ্বাসের মজবুত রজ্জুতে বন্দি ঈশ্বরের কালো চশমাটা খুলে দেখি আমারই প্রতিবিম্ব

  • জীবন বুনে

    কোথাও বোমা পড়লে কেঁপে উঠি, মনে হয়, তোমার কাছে যাওয়ার পথ কি ভেঙে পড়লো আগুনের ধাক্কায়! পথ ভরে আছে মিছিল আর মিছিলে, ক্রোধের বাইরে নয় এতটুকু জায়গাও যেখান দিয়ে আমরা হাত ধরে যাব পরস্পর। গোলাপ চাষ হচ্ছে না, চাষ হচ্ছে হত্যার, চাপাতির আঘাতে টুকরো টুকরো বিকাল তার ভেতর রান্না হয় শিশুদের আর্তনাদ। ভেঙে পড়া রাস্তা…