April

  • ছায়াটি সরে গেল

    ছায়াটি সরে গেল

    ছয় দশকেরও আগে একষট্টিতে কবি সুফিয়া কামালের স্নেহচ্ছায়ায় সন্জীদা খাতুন ও ওয়াহিদুল হক, সঙ্গে আরো কয়েক সাহসী বাঙালি ‘ছায়ানট’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁরা প্রতিকূল পরিবেশে সদ্য পালন করে এসেছেন রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সর্বজনে যেন নিজেকে বাঙালি রূপে চিহ্নিত করে, বাঙালি জাতিসত্তাকে হৃদয়ে ধারণ করে। এ-কর্তব্য সাধনে তাঁদের অবলম্বন ছিল বাংলা গান তথা বাঙালি সংস্কৃতি। নিরানব্বইয়ে…

  • কিনু পুরুষ

    কিনু পুরুষ

    পু কুরে ঘাট হয়, ঘর হয় – এই কথা বোধহয় নতুন। বাপের ভিটায় জায়গা হয়নি কিনুর। তাই শাহজাহানদের পুকুরপাড়ে ঘর বেঁধেছে। রাস্তার পাশ দিয়ে লোকজন যাওয়ার সময় তাদের আর ঘাটের কথা মনে হয় না। কারণ ওই ঘর। চাঁচের বেড়া, কুটোর ছাউনি। পুকুরের চওড়া পাড় সবুজ ঘাসে এতটা মজবুত, কেউ কোনোদিন মাটি ভেঙে পড়তে দেখেনি। পুকুরটা…

  • বিসর্জনের রং

    বিসর্জনের রং

    ভোঁতা এবড়োখেবড়ো একটা রাস্তা হাজীগঞ্জের কাপড়িয়াপট্টি ধরে চলে গেছে ব্যাংকপাড়ার দিকে। যাওয়ার সময় ঝাপসা 888sport sign up bonusর মতো কুমোরবাড়ি ছুঁয়ে যায়। ব্যাংকপাড়ার পাশেই একটা খাল। বিকেল হলে স্বপ্না আন্টি খালপাড়ে বসে থাকে। জলে নিবদ্ধ চোখ স্থির হয়ে কী যেন দেখে। সুপ্রাচীন অন্ধকার ঠেলে ওই চোখে ভাঙা রোদ হরিয়ালের মতো দৌড়াতে থাকে। কাকে যেন খোঁজে আন্টি। পেছনে কুমোরদের…

  • সেই লোকটা আর মিঠুনের গল্প

    সেই লোকটা আর মিঠুনের গল্প

    মায়ের সঙ্গে হাঁটছি। মায়ের এক হাতে শক্ত করে আমার হাতটা ধরা। এভাবে হাঁটতে ভালোই লাগে, ঘুরে বেড়াতে। কত নতুন পথ। কত নতুন ঠিকানায় ঘোরাফেরা। অথচ হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। আবার যদি হারাইও – মা তো সঙ্গেই আছে। মাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে বেশ লাগে। কত অজানা গন্তব্য। এ-সময় মনে হয়, কোথায় আছি, কোথায় যেতে হবে –…

  • সার্ভিসিং কোম্পানি

    সার্ভিসিং কোম্পানি

    ‘আহা, এ-জায়গাটা একদম ক্ষয়ে গেছে আপনার। শুকিয়ে চিমসে গেছে, ভেতরে রসটস নেই তেমন।’ খুবই মোলায়েম কণ্ঠে বলছিলেন ডাক্তার সাহেব, কিন্তু আয়েশা বেগমের চোখমুখ শুকিয়ে যেতে শুরু করল; আর যেটুকু রস অবশিষ্ট ছিল, তাও উবে গিয়ে ফ্যাকাসে দেখাতে লাগল। কিন্তু সেদিকে তাকানোর ফুরসত ছিল না ডাক্তার সাহেবের, নিবিষ্ট মনে তিনি পরীক্ষা করে যাচ্ছিলেন দেহের জোড়াগুলি, অপুষ্ট…

  • বেহুলা বাংলা : সনেট

    আমি বন্দি সেন্টাওরের অতল পাতালে মুক্ত হতে চাই উদ্ধার হই যদি আরিয়েদনের মতো তোমার দেখা পাই আমার সাধন-ভজন সবই তাই বেহুলা তোমায় ঘিরে জানি কোনো শিউলীভোরে পাব তোমায় গাঙুর নদীর তীরে তাই জলের কিনারে বসত আমার ঘোর তুমি নদীপথে ভাসাও স্রোতে মান্দাসের ভেলা গ্রীষ্ম বর্ষা আর শীতে অকর্মা আমি বাঁধা থাকি শত গেরস্তকাজের ঘোরে এ…

  • কী যে চাওয়া কী যে পাওয়া

    নিঃসঙ্গতা জ্বেলে জ্বেলে অন্ধকারে পথ চলে কবি নৈঃসঙ্গ্যই তার ধ্যান আরাধনা সাধনার সিদ্ধি ও সুন্দর! একাকিত্ব, নিঝুম রোদন 888sport live chatতৃষ্ণা একবুক হাহাকার অতৃপ্তি ও অপমান কাঁটাগুল্ম তার অমøজান ও ক্লোরোফিল, ভাঙতে ভাঙতে বেদনায় নীল বেদনা ও মৃত্যুঝুঁকি পান করে করে বেঁচে থাকে ভাঙাপোড়া কবি, এঁকে যায় এক লপ্তে অপ্রাপ্তি ও বিরহের মনোলীনা ছবি!

  • রক্ত মৃত্যু ভালোবাসা

    জুলাই, তোমার কাছে বহু দেনা ঋণ শহিদের রক্তে পুষ্পে হয়েছো রঙিন। মøানতার স্পর্শ থেকে তোমাকে সরিয়ে হৃৎপিণ্ডের কোষে কোষে রেখেছি জড়িয়ে হঠিয়েছি অন্ধকার, পাশবতা কালো লাখো প্রাণ তোমাতেই আছে লীন, সর্বসত্তা দিয়ে            বেসেছো কী ভালো!

  • গ্রাম খুঁজি

    মাঝিয়াইল বলে কোনো এক গ্রামের নাম জেনে – গ্রাম খুঁজি দেশসুদ্ধ পাড়াগাঁয়ে কখনো সারিবদ্ধ কলাগাছের সন্ধানী দৃশ্যে শাদা বলদে হাল জুড়ে দেওয়ার আগপাছে দাড়িম্ব ফলের ক্রমপ্রসারমাণ সামাজিক ফলদবৃক্ষের স্ফূর্তিতে পকেটে লুকিয়ে রাখা ‘ভুলো না আমায়’ ফুলতোলা রুমালের ভাঁজে জসীমউদ্দীনের ‘রাখালিয়া’, ‘বালুচর’ কাব্যে – পাই খুঁজে নতুন ধানের ঘ্রাণে পল্লীর উঠোনে, গৃহে গৃহে উৎসবের বারোমাস।

  • পাখিজীবন

    কাকটি দুপুরবেলা রোদে ভিজে-ভিজে উড়ছিল স্নানশেষে ডানা ঝেড়ে ফেলে যায় ছায়ার ফসিল                দেখল না শস্যহীন মাঠের কৃষক সে কেবল আগাছাই ফেলে গেল রোদের ধাঁধায় এভাবেই দিনে-দিনে বড় হয় ছায়াবৃক্ষ নিজের ভেতরে মধ্যমাঠে টেকের পরিধি বাড়ে – জমির জ্যামিতি ডালপালা ঘেরা এই মায়াময় বৃত্তে বাসা বেঁধে নিয়ত যাপন করি পুরাণের পাখির জীবন উড়ে-উড়ে সারাদিন শুঁকি কড়া…

  • সহজ কথার গল্প

    বলি বলি করে তারে আর বলা হয়নি ছোঁয়া হয়নি নক্ষত্রের আলো, উজালা বসন্ত রাত ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ পৃথিবীতে এত সহজ কথা দ্বিতীয়টি নেই অথচ কী আশ্চর্য কঠিন – বলতে গেলেই তুমুল তুফান, বুক ভাঙে, হাঁটু কাঁপে, কান দপদপ করে আশেপাশে যে বৃক্ষগুলো সবুজ ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারাও শেকড় ছিঁড়ে ভেঙে পড়ে একে একে আশ্রয়হীন একটি…

  • কানাভোলা

    অবোধ্য দেখছি সব দুর্বোধ্য কোলাহল কলকাঠি হাতে কার কার হাতে প্রদীপ আলাদিনের? আয়নায় বিভ্রান্তি বড় ভেসে ওঠে কার মুখ কার কণ্ঠে বলছি কথা জ্ঞানশূন্য হিতাহিত! অচেনা পথের বাঁক চিনছি না কাউকে আমি ভয়ংকর কানাভোলা কোথায় যে গন্তব্য তার!